
শ্রেণিকক্ষের অপ্রতুলতা, পর্যাপ্ত শিক্ষকের অভাব আর আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি—এতসব সীমাবদ্ধতাকে পেছনে ফেলে আবারও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) আইন ও বিচার বিভাগের শিক্ষার্থীরা। ১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় সহকারী জজ (সিভিল জজ) পদে নিয়োগের জন্য বিভাগটি থেকে চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েছেন ১০ জন শিক্ষার্থী।
গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন সচিবালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর থেকে এই পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
পরীক্ষায় জাবির ৪৫তম ব্যাচ থেকে ৫ জন—পলাশ সরকার, হাসেল শেখ, মাহমুদ আফনান, তুহিন আক্তার তুলি ও লাইবা তাসনিয়া সুপারিশপ্রাপ্ত হন। এ ছাড়া ৪৬তম ব্যাচের মাহবুব সাঈদী, ৪৭তম ব্যাচের আশরাফুন্নাহার রুপালী, ৪৮তম ব্যাচের তারিকুল ইসলাম ও সাবিকুন নাহার এবং ৪৯তম ব্যাচের আফিয়া জামান চূড়ান্তভাবে মনোনীত হয়েছেন।
আইন ও বিচার বিভাগের শিক্ষক হুমায়ুন কবির শিক্ষার্থীদের এই অনন্য অর্জনে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “ভৌত অবকাঠামোর অপ্রতুলতা ও শিক্ষক-স্বল্পতার মতো নানাবিধ সীমাবদ্ধতাকে জয় করে আমাদের শিক্ষার্থীরা আজ দেশের আইন ও বিচার অঙ্গনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। মাত্র ৩ জন শিক্ষক এবং সীমিত সুযোগ-সুবিধা নিয়ে পথ চলে বিচারক, আইনজীবী কিংবা আইন কর্মকর্তা হিসেবে তাদের এই দেশজোড়া সাফল্য আমাদের গর্বিত করে। ১৮তম বিজেএসে ১০ জন শিক্ষার্থীর এই ঐতিহাসিক অর্জন প্রমাণ করে যে, সুযোগ পেলে এই বিভাগের শিক্ষার্থীরা আরও বহুদূর যেতে পারবে। আমরা প্রত্যাশা করি, উপাচার্য মহোদয় ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই বিভাগের সম্ভাবনাকে অগ্রাধিকার দিয়ে অতি দ্রুত একটি পৃথক ভবন ও আধুনিক শিক্ষাদানের আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেবেন।”
শিক্ষার্থীদের এই সাফল্যে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম জানান, কম শিক্ষার্থী নিয়ে পথচলা এই বিভাগ থেকে এ পর্যন্ত অর্ধশত শিক্ষার্থী বিচারক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। তবে সাফল্য অর্জিত হলেও বিভাগের অবকাঠামোগত অবহেলার চিত্র তুলে ধরে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন।
এই অধ্যাপক আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “আমাদের বিভাগটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম অবহেলিত একটি জায়গা। শিক্ষক মাত্র ৩ জন, নেই নিজস্ব অফিস রুম, মুট কোর্ট কিংবা সেমিনার লাইব্রেরি। অন্যান্য ফ্যাকাল্টির জন্য একাধিক ভবন বরাদ্দ থাকলেও আমাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা আজও নেওয়া হয়নি। এত সীমাবদ্ধতা ও অভাবের মধ্যেও ছেলেমেয়েদের এমন অর্জন দেখে শ্রদ্ধায় মাথা নত হয়ে আসে, একইসঙ্গে তাদের উপযুক্ত সুযোগ-সুবিধা দিতে না পারার লজ্জা ও অনুশোচনা কাজ করে।”




