
নেকাব পরা এক ছাত্রীকে ‘মৌলবাদী’, ‘জঙ্গি’ ও ‘বোমা মারতে পারে’- এমন মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের বিরুদ্ধে। শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ওই শিক্ষককে সব ধরনের ক্লাস থেকে অব্যাহতি দিয়ে তার কোর্সগুলো অন্য শিক্ষকদের মধ্যে পুনর্বণ্টনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিভাগীয় একাডেমিক কমিটি।
ইংরেজি বিভাগের ১৫তম ব্যাচের (২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষ) একটি ক্লাসে ঘটনাটি ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। পরে কয়েকজন শিক্ষার্থী লিখিতভাবে বিভাগীয় চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে জরুরি একাডেমিক কমিটির সভা ডেকে ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. তাজিন আজিজ চৌধুরী বলেন, শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে জরুরি একাডেমিক কমিটির সভা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ও সাম্প্রতিক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সভায় একটি রেজুলেশন নেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের কোর্সগুলো পুনর্বণ্টন করে অন্য শিক্ষকদের দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। বিভাগীয় চেয়ারম্যান বা একাডেমিক কমিটির এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নেই।
অধ্যাপক তাজিন আজিজ চৌধুরী আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী এ ধরনের বিষয়ে উপাচার্য, একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেট প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে। বিভাগ থেকে ঘটনাটি তাদের অবহিত করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হবে।
শিক্ষার্থীর অভিযোগ
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মল্লিকার ভাষ্য, ঘটনার দিন তাসনিম সিরাজ মাহবুবের একটি কোর্সের ক্লাস চলছিল। ক্লাসের শুরুতে তিনি শিক্ষকের ডেস্কের বাম পাশে বসেছিলেন। এ সময় শিক্ষকের সঙ্গে দুইবার চোখাচোখি হওয়ার পর শিক্ষক তাঁকে ওই জায়গায় বসে থাকলে অস্বস্তি ও অনিরাপদ বোধ করছেন বলে জানান এবং অন্য শিক্ষার্থীদের ভিড়ের মধ্যে গিয়ে বসতে বলেন।
মল্লিকা বলেন, “শিক্ষক আমাকে একপর্যায়ে বলেন, ‘তুমি এখানে বসে থাকলে আমার আনকমফোর্টেবল ফিল হচ্ছে, আমার আনসেফ ফিল হইতেছে। আমি চাচ্ছি যে তুমি ক্রাউডের মধ্যে গিয়ে বসো।’ এরপর তিনি ক্লাস থেকে বের হয়ে যান।’’




