
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) দ্বিতীয় সমাবর্তনের নিবন্ধন ফি নির্ধারণ এবং নিয়মিত শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি প্রফেশনাল ও সান্ধ্যকালীন প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীদের একই সমাবর্তনে অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমালোচনা দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফি বৃদ্ধি ও প্রশাসনের সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ এবং ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অনেকে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে দ্বিতীয় সমাবর্তনের নিবন্ধন ফি ও রেজিস্ট্রেশনের সময়সীমা প্রকাশ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, স্নাতক (সম্মান) ও বিবিএ ডিগ্রিধারীদের নিবন্ধন ফি ৫ হাজার টাকা এবং মূল সনদ ফি ৫০০ টাকা, অর্থাৎ মোট ৫ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। স্নাতকোত্তর ও এমবিএ শিক্ষার্থীদের জন্য নিবন্ধন ফি ৬ হাজার এবং মূল সনদ ফি ৫০০ টাকা, মোট ৬ হাজার ৫০০ টাকা। এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রিধারীদের জন্য নিবন্ধন ফি ৬ হাজার ৫০০ এবং সনদ ফি ১ হাজার টাকা, মোট ৭ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর স্নাতকোত্তর প্রফেশনাল ও সান্ধ্যকালীন প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীদের জন্য নিবন্ধন ফি ৮ হাজার ও মূল সনদ ফি ৮০০ টাকা, মোট ৮ হাজার ৮০০ টাকা ধার্য করা হয়েছে। এর সঙ্গে ক্ষেত্রবিশেষে অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জও যুক্ত হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন ২০২৭ সালের ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদন আহ্বান করা হয়েছে।
প্রথম সমাবর্তনের তুলনায় এবার প্রায় প্রতিটি ক্যাটাগরিতে নিবন্ধন ফি ২ হাজার টাকা এবং মূল সনদ ফি ১০০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। প্রথম সমাবর্তনে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের নিবন্ধন ফি ছিল যথাক্রমে ৩ হাজার ও ৪ হাজার টাকা এবং মূল সনদ ফি ছিল ৪০০ টাকা। এছাড়া প্রথম সমাবর্তনে সার্ভিস চার্জ ছিল ১ শতাংশ।
পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৩তম সমাবর্তনে ব্যাংক চার্জসহ মূল সনদ ও নিবন্ধন ফি বাবদ মোট ৩ হাজার ৩২০ টাকা নেওয়া হয়েছিল বলে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করছেন। এর তুলনায় জবিতে নির্ধারিত ফি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা করছেন অনেকে।
শিক্ষার্থীদের একাংশের দাবি, সমাবর্তন বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয় আয়োজন হলেও বাড়তি ফি নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি প্রফেশনাল ও সান্ধ্যকালীন প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীদের সমাবর্তনে অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
উম্মে হাবিবা নামে এক জবি শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দেশের সম্ভবত একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় যারা প্রফেশনাল বা ইভেনিংয়ের শিক্ষার্থীদেরও টাকা দরকার বলে সমাবর্তন দিচ্ছে। আমরা যারা নিয়মিত শিক্ষার্থী, তাদের সাথে প্রফেশনালে ডিগ্রি কেনা শিক্ষার্থীদেরও একসাথে মিলিয়ে সমাবর্তন দিতে চাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সমাবর্তন গ্র্যাজুয়েটদের সম্মান, তা অপমান ডেকে আনুক আমরা চাই না। সংস্কার না আনলে শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এতে অংশ নেবে না।”
আরেক শিক্ষার্থী ইব্রাহিম ব্যঙ্গাত্মক পোস্টে লেখেন, “মনে হচ্ছে হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় সমাবর্তনের খরচা এবার বেশি। সমাবর্তনের টুপির জাহাজ আটকে গেছে, তাই টাকা বেশি লাগবে।”
এ বিষয়ে জবির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন জানান, মুদ্রাস্ফীতি ও ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই সেন্ট্রাল কমিটি ও একাডেমিক কাউন্সিলের মাধ্যমে ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। সেন্ট্রাল কমিটির অনুমোদিত সিদ্ধান্ত হওয়ায় ফি পুনর্বিবেচনা বা কমানোর সুযোগ নেই বলেও তিনি জানান।
ফি বৃদ্ধি ও প্রফেশনালদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দিন বলেন, “ছয় বছর আগের তুলনায় বর্তমানে সবকিছুর দাম ও সমাবর্তন আয়োজনের খরচ বহুগুণ বেড়েছে। একাডেমিক কাউন্সিল, সিন্ডিকেট, ডিন ও চেয়ারম্যানদের সর্বসম্মত পর্যালোচনার ভিত্তিতেই ২০০০ টাকা ফি বাড়ানো হয়েছে। এটি একক কোনো সিদ্ধান্ত নয়।”
প্রফেশনালদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে উপাচার্য বলেন, “প্রথম সমাবর্তনেও প্রফেশনাল ও সান্ধ্যকালীন প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়েছিল। এবার তাদের বাদ দিলে তা নিয়ে আলাদা বিতর্ক তৈরি হতে পারতো। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।”
উল্লেখ্য, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২০ সালের ১১ জানুয়ারি। দ্বিতীয় সমাবর্তন আগামী ৩০ জানুয়ারি ২০২৭ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।




