ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

এআই অপব্যবহার ঠেকাতে আদালতে মনোজ বাজপেয়ী

অনলাইন ডেস্ক

  ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৯ এএম
ছবি:সংগৃহীত

রূপালী পর্দায় অনবদ্য অভিনয়শৈলী দিয়ে বিশ্বজুড়ে কোটি দর্শকের মন জয় করেছেন প্রখ্যাত ভারতীয় অভিনেতা মনোজ বাজপেয়ী। তবে এবার তাকে নামতে হয়েছে এক ভিন্নধর্মী আইনি লড়াইয়ে। নিজের নাম, চেহারা, এবং কণ্ঠস্বরের অবৈধ বাণিজ্যিক ব্যবহার বন্ধে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অপব্যবহার ঠেকাতে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন অভিনেতা।

বুলেটিন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

৫৭ বছর বয়সী এই জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী তারকা নিজের ‘পার্সোনালিটি রাইটস’ বা ব্যক্তিত্বের অধিকার সুরক্ষার আবেদন জানিয়ে সম্প্রতি দিল্লি হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেছেন।
ভারতীয় আইনি সংবাদমাধ্যম এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিটে অভিযোগ করা হয়, বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান মনোজ বাজপেয়ীর সম্মতি ছাড়াই তার ছবি বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে। এমনকি এআই প্রযুক্তি দিয়ে তার কণ্ঠস্বর হুবহু নকল করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন এআই চ্যাটবটে তার ব্যক্তিত্বের নানাদিক বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

আদালতে পেশ করা নথিতে একটি ফ্যাশন ব্র্যান্ডের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি অভিনেতার ছবি এমনভাবে ব্যবহার করেছে যাতে সাধারণ মানুষের মনে হয় মনোজ বাজপেয়ী তাদের তৈরি স্যুট বা পোশাকের প্রচার করছেন। এছাড়া অন্য একাধিক বিবাদী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তার কণ্ঠ রূপান্তর করে বাণিজ্যিক ফায়দা লুটছে বলে রিটে উল্লেখ করা হয়।

প্রযুক্তি ও এআইয়ের প্রসারের এই যুগে তারকাদের চেহারা ও কণ্ঠ নকলের প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। এর আগেও অমিতাভ বচ্চন, তাবু, আল্লু অর্জুন, মোহনলাল, কাজল, আর মাধবন, জুনিয়র এনটিআর, ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন, সালমান খান এবং ক্রিকেটার সুনীল গাভাস্কার ও যুবরাজ সিংয়ের মতো তারকারা নিজেদের ব্যক্তিত্বের অধিকার রক্ষায় দিল্লি হাইকোর্ট থেকে একই ধরনের অন্তর্বর্তীকালীন আইনি সুরক্ষা পেয়েছেন। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন ‘ফ্যামিলি ম্যান’ খ্যাত মনোজ বাজপেয়ী।

পরীমনির ৫১ সেকেন্ডের নতুন ভিডিও ভাইরাল
ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনিকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা যেন থামছেই না। সম্প্রতি একটি টেলিভিশন চ্যানেলের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজে তাকে নিয়ে বিকৃত ভিডিও প্রকাশের অভিযোগ ঘিরে তৈরি হয় বিতর্ক। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশের পাশাপাশি প্রকৃত ভিডিও চেনার উপায়ও তুলে ধরেছিলেন অভিনেত্রী। সেই আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন এক রূপে হাজির হয়ে নতুন করে নজর কাড়লেন তিনি। এবারের ভিডিওতে পরীমনিকে দেখা গেছে দেবীর সাজে। শারদীয় দুর্গাপূজার আবহে তার এই ব্যতিক্রমী উপস্থিতি ভক্ত-অনুরাগীদের মধ্যে তৈরি করেছে বাড়তি আগ্রহ। ভিডিওর সঙ্গে দেওয়া ছোট্ট অথচ তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা—‘শুভ শক্তির জয় হোক...’—নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে আলোচনা। রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ৫১ সেকেন্ডের ভিডিওটি প্রকাশ করেন পরীমনি। পোস্টটি সামনে আসতেই তার অনুসারীদের মধ্যে দেখা যায় নানা প্রতিক্রিয়া। মন্তব্য ও প্রতিক্রিয়ার মধ্য দিয়ে অনেকেই অভিনেত্রীর নতুন সাজের প্রশংসা করেছেন। কেউ মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন তার উপস্থিতিতে, আবার কেউ আলাদা করে উল্লেখ করেছেন তার মিষ্টি হাসির কথা। সাম্প্রতিক বিতর্কের আবহে পরীমনির এই নতুন উপস্থিতি যেন আলোচনায় যোগ করেছে ভিন্ন মাত্রা। একদিকে বিকৃত ভিডিও প্রকাশের ঘটনায় তার প্রতিবাদ, অন্যদিকে শুভ শক্তির জয় কামনা করে উৎসবের আবহে নতুন সাজে আত্মপ্রকাশ—দুটি বিষয়ই তাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আগ্রহ বাড়িয়েছে। তবে ভিডিওটি নিয়ে অনুরাগীদের উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি আলোচনায় এসেছে এর বার্তাও। ‘শুভ শক্তির জয় হোক’—এই কথার মধ্য দিয়ে ইতিবাচকতার যে আহ্বান উঠে এসেছে, তা অনেকের কাছেই বিশেষভাবে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। এদিকে কাজের ক্ষেত্রেও ব্যস্ত সময় পার করছেন পরীমনি। সম্প্রতি গিয়াস উদ্দিন সেলিম পরিচালিত ওয়েব ফিল্ম ‘সেপারেশন’-এর শুটিং শেষ করেছেন তিনি। এতে তার সঙ্গে অভিনয় করেছেন ইমতিয়াজ বর্ষণ। পাশাপাশি বিশেষ একটি চরিত্রে দেখা যাবে চিত্রনায়ক নিরবকে। বিতর্কের মধ্যেও নিজের উপস্থিতি ও নতুন সাজে আলোচনায় রয়েছেন পরীমনি। এবার দেবীরূপে তার আবির্ভাব ভক্তদের মনে কতটা জায়গা করে নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
পরীমনির ৫১ সেকেন্ডের নতুন ভিডিও ভাইরাল
শৈশবের মতো পূজায় ঘুরে বেড়াতে পারি না : বিদ্যা সিনহা মিম
দুর্গাপূজা মানেই নতুন পোশাক, সাজসজ্জা, মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে বেড়ানো আর প্রিয়জনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি। উৎসবের এই আনন্দে মেতে ওঠেন শোবিজ তারকারাও। প্রতিবছরের মতো এবারো শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে নানা পরিকল্পনা রয়েছে জনপ্রিয় অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা মিমের। পূজার দিনগুলোতে নিজের মতো করে সাজতে ভালোবাসেন তিনি। ষষ্ঠী থেকে দশমী, প্রতিদিনই থাকে ভিন্ন পোশাকের আয়োজন। এর আগে দেবীর অবতারে হাজির হয়ে ভক্তদের চমকে দিয়েছিলেন এই অভিনেত্রী। এবার পূজার প্রস্তুতি, উৎসবের পরিকল্পনা ও শৈশবের স্মৃতি নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। পূজার দিনগুলো সবার সঙ্গে আনন্দে কাটাতে চান মিম। এ সময় মন্দিরে যাওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে তার। কখনো কখনো পূজায় রাজশাহীতে যান এই অভিনেত্রী। সেখানে পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে সময় কাটাতে ভালো লাগে তার। এবারের পূজার পরিকল্পনা নিয়ে মিম বলেন, ‘প্রত্যাশা করছি, সবাই মিলে অনেক সুন্দরভাবে এবং সুন্দর পরিবেশে যেন পূজার দিনগুলো কাটাতে পারি। একা নয়, সবাই মিলে যেন আনন্দ করতে পারি। পূজা এলেই উৎসব শুরু হয়ে যায়। তা যেন অব্যাহত থাকে। পূজায় মন্দিরে যাওয়ার পরিকল্পনা প্রতিবছর থাকে, এবারো আছে। পূজার সময় কখনো কখনো রাজশাহীতে যাই। সেখানে গেলে সুন্দর সময় কাটে। পূজার সময় উপহার যেমন পাই, আবার উপহার দিতেও হয়। দুটোতেই আনন্দ পাই। দুর্গাপূজার আনন্দ ও উৎসব আমাদের সবার হোক।’ শৈশবে পূজার আনন্দ ছিল অন্য রকম। তখন বন্ধু ও স্বজনদের সঙ্গে ঘুরে বেড়ানো, উৎসবে মেতে ওঠার সুযোগ ছিল বেশি। সময়ের সঙ্গে বদলেছে সেই অভিজ্ঞতা। এখন পরিচিতির কারণে গ্রামে গেলেও আগের মতো নিজের ইচ্ছেমতো ঘুরে বেড়াতে পারেন না তিনি। ছোটবেলার পূজার স্মৃতিচারণা করে মিম বলেন, ‘ছোটবেলায় অনেক আনন্দ করতাম, ঘুরে বেড়াতাম। কিন্তু, এখন আর সেই আনন্দটা নেই। এখন গ্রামে গেলে বাসা থেকে বের হতে পারি না, কারণ বের হলেই সবাই ঘিরে ধরে। হয়তো আত্মীয়স্বজনদের বাসায় যাই, সেখানেও লোকজন ভিড় করে থাকে। এতে খারাপ লাগে না আমার। কারণ আমাদের গ্রামেরই তো মানুষ। কিন্তু ওই যে বললাম, শৈশবের মতো ঘুরে বেড়াতে পারি না।’  
শৈশবের মতো পূজায় ঘুরে বেড়াতে পারি না : বিদ্যা সিনহা মিম
ধারাবাহিকে ফিরলেন রিচি সোলায়মান
একসময় টিভি নাটকের নিয়মিত মুখ ছিলেন রিচি সোলায়মান। মাঝে পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করায় অভিনয়ে হয়ে পড়েছিলেন অনিয়মিত। কয়েক বছর ধরে দেশেই থাকছেন রিচি। ফলে টিভি পর্দায়ও বেড়েছে তার উপস্থিতি। রিচি এবার নাম লেখালেন নতুন দীর্ঘ ধারাবাহিক নাটকে। নজরুল ইসলাম রাজু পরিচালিত ‘এআই জুনিয়র’ নাটকে দেখা যাবে তাকে। এ বছরের শুরুতে ‘অপূর্ণতা’ নামের সাত পর্বের মিনি সিরিজে অভিনয় করলেও অনেক বছর পর এআই জুনিয়র দিয়ে দীর্ঘ ধারাবাহিকে ফিরলেন রিচি। ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে ধারাবাহিকটির শুটিং। তবে চ্যানেল কর্তৃপক্ষের বিধিনিষেধ থাকায় এখনই বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চাইলেন না অভিনেত্রী। তিনি বলেন, ‘এআই জুনিয়র ধারাবাহিকে অভিনয় করছি, এটি সত্যি। এর বেশি এখন কিছু বলা যাবে না। সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর বিস্তারিত বলব।’ জানা গেছে, শিগগিরই দীপ্ত টিভিতে শুরু হবে এআই জুনিয়রের প্রচার। ২৫ অক্টোবর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ধারাবাহিকটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে। এটি লিখেছেন আহমেদ খান হিরক। বিভিন্ন চরিত্রে আরও অভিনয় করছেন রওনক হাসান, জিনাত শানু স্বাগতা, নরেশ ভূঁইয়া, সুজাত শিমুল, শিশুশিল্পী রাই রাজন্যা প্রমুখ। এদিকে এ বছরেই মুক্তির কথা রয়েছে রিচি সোলায়মান অভিনীত প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা ‘রবি ইন ঢাকা’। তিন দশকের অভিনয় ক্যারিয়ারে এটি রিচির প্রথম সিনেমা। সমকালীন গল্পের এ সিনেমা পরিচালনা করেছেন রাজীব সালেহীন। শুটিং শেষে এখন চলছে পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ। এতে আরও আছেন ইমতিয়াজ বর্ষণ। ধারাবাহিকের মতো সিনেমাটি নিয়েও এখন কথা বলতে নারাজ রিচি সোলায়মান। তিনি বলেন, ‘আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তির ঘোষণা দেওয়ার পর কথা বলতে চাই। এটি আমার প্রথম সিনেমা, তাই অবশ্যই আমার কাছে বিশেষ কিছু। আগামী নভেম্বরে মুক্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে, এরপর শুরু হবে প্রচার।’  
ধারাবাহিকে ফিরলেন রিচি সোলায়মান
দ্বিতীয় সিজন নিয়ে ফিরছে ‘ফেউ’
সুকর্ণ সাহেদ ধীমানের ওয়েব সিরিজ ‘ফেউ’। প্রথম সিজন প্রকাশের পর থেকেই সিরিজটির দ্বিতীয় সিজনের অপেক্ষায় ছিলেন দর্শক। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও পরবর্তী অংশ মুক্তি না পাওয়ায় এ নিয়ে তৈরি হয়েছিল অনিশ্চয়তা। এবার চলতি বছরেই দ্বিতীয় সিজন মুক্তি দেয়ার পরিকল্পনা করছে ওটিটি প্লাটফর্ম চরকি। নির্মাতাও এ বছর সিরিজটির পুরোটা প্রকাশের প্রত্যাশা করছেন। তবে মুক্তির তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। গত বছরের ৩০ জানুয়ারি চরকিতে মুক্তি পায় সিরিজটির প্রথম সিজন। সে সময় জানা গিয়েছিল, দুই সিজনের শুটিং একটানা শেষ করা হয়েছে। প্রথম সিজন মুক্তির কয়েক মাসের মধ্যেই দ্বিতীয় সিজন প্রকাশের পরিকল্পনাও ছিল। তবে সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী সিরিজটির পরবর্তী অংশ প্রকাশিত হয়নি। কয়েক মাস আগে এ নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেন সিরিজের অভিনেতা মোস্তাফিজুর নূর ইমরান। দ্বিতীয় সিজনের মুক্তি প্রসঙ্গে নির্মাতা সুকর্ণ সাহেদ ধীমান বলেন, ‘আমিও অপেক্ষায় আছি ফেউ সিরিজের বাকি অংশের জন্য। এ বছর আমরা ফেউয়ের পুরোটা মুক্তি দিতে চাই। তবে পুরো পরিকল্পনা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়নি। চূড়ান্ত হলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেয়া হবে।’ এ বিষয়ে চরকি কর্তৃপক্ষ জানায়, চলতি বছরেই সিরিজটি মুক্তি দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। এ নিয়ে আলোচনা চলছে। শিগগিরই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হবে। ১৯৭৯ সালের মরিচঝাঁপি হত্যাকাণ্ডের ছায়া অবলম্বনে নির্মিত ‘ফেউ’-এর গল্পে উঠে এসেছে দেশভাগ ও মুক্তিযুদ্ধের নানা ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে ডুমুরঝাঁপিতে আশ্রয় নেয়া একদল হিন্দু ধর্মাবলম্বী শরণার্থীর জীবনসংগ্রাম। তাদের উচ্ছেদ করতে খাবার ও পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেয়া হয়, ঘরে আগুন ধরানো হয়, নৌকা ডুবিয়ে দেয়া হয় এবং চালানো হয় হত্যাযজ্ঞ। এসব নৃশংসতা সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরতে চেয়েছিলেন মোংলা চার্চের রেভারেন্ড ও ফটোগ্রাফার সুনীল। তবে তাকে নানা বাধার মুখে পড়তে হয়। একপর্যায়ে জীবন বাঁচাতে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণে রাজি হওয়া দুই নারীকে চার্চে পৌঁছে দেয়ার দায়িত্ব পান সুনীল। এরপর তিনি নিখোঁজ হন। পরে জানা যায়, পুলিশের গুলিতে তার মৃত্যু হয়েছে। দুই যুগ পর বাবার তোলা ছবির খোঁজে নামে ছেলে ড্যানিয়েল। অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, সেদিন কবর দেয়া হয়েছিল সুনীলকে নয়, একটি গাছের গুঁড়ি। এরপর বাবার প্রকৃত পরিণতি জানতে মরিয়া হয়ে ওঠে ড্যানিয়েল। সিরিজটিতে অভিনয় করেছেন তারিক আনাম খান, চঞ্চল চৌধুরী, মোস্তাফিজুর নূর ইমরান, তাহমিনা অথৈ, তানভীর অপূর্ব, হোসেন জীবন, রিজভি রিজু ও এ কে আজাদ সেতুসহ অনেকে।  
দ্বিতীয় সিজন নিয়ে ফিরছে ‘ফেউ’
অভিনয়ের পাশাপাশি নির্মাণেও নিজের গল্প বলতে চান নওশাবা
গত বছর কলকাতায় মুক্তি পেয়েছিল কাজী নওশাবা আহমেদ অভিনীত সিনেমা ‘যত কাণ্ড কলকাতাতেই’। এবার দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে তার অভিনীত নতুন সিনেমা ‘চিরকুট’। পূজা উপলক্ষে শুক্রবার মুক্তি পেয়েছে সিনেমাটি। এতে অতিথি চরিত্রে অভিনয় করেছেন নওশাবা। পর্দায় তার উপস্থিতি সময়ের হিসাবে হয়তো খুব বেশি নয়, তবে চরিত্রটি গল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নব্বই দশকের স্মৃতিমাখা গল্প, রাজশাহী শহরের আবহ এবং নির্মাতার প্রতি ভালোবাসা-সব মিলিয়ে সিনেমাটিতে যুক্ত হওয়ার পেছনে রয়েছে অভিনেত্রীর বিশেষ কিছু কারণ। ‘চিরকুট’-এ অভিনয়ের প্রস্তাব পাওয়ার অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে নওশাবা জানান, সিনেমাটির নির্মাতা আকিবের প্রতি স্নেহ থেকেই প্রথমে কাজটি করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। আকিব তার খুব আদরের ছোট ভাই। নির্মাতার প্রথম সিনেমা বলেও কাজটির প্রতি আলাদা টান অনুভব করেছেন। তবে তাকে সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করেছে সিনেমার সময়কাল ও গল্পের পটভূমি। নওশাবার ভাষ্যে, ‘চিরকুট’ নব্বই দশকের গল্প। ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে জড়িয়ে আছে রাজশাহী শহর, যে শহরটি তার খুব পছন্দের। সেখানকার মানুষ, খাবারদাবার-সবকিছুর প্রতিই রয়েছে তার আলাদা ভালোলাগা। নির্মাতা যখন তাকে জানান, সিনেমাটির গল্প নব্বই দশকের প্রেক্ষাপটে তৈরি, তখন আর নিজেকে সামলে রাখতে পারেননি অভিনেত্রী। এমনকি চিত্রনাট্য না পড়ে অভিনয়ে সম্মতি দেন।  নওশাবা বলেন, ‘কাজটি খুব গুছিয়ে করেছেন নির্মাতা। তার এই প্রথম সিনেমাকে সমর্থন জানানোও ছিল অভিনয়ে যুক্ত হওয়ার অন্যতম উদ্দেশ্য। তবে শুধু ব্যক্তিগত সম্পর্ক নয়, গল্পের ধরনও তাকে আগ্রহী করেছে। সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত মিষ্টি প্রেমের গল্প ‘চিরকুট’। এতে নেই সহিংসতার উপস্থাপন; বরং রয়েছে পরিবার নিয়ে উপভোগ করার মতো একটি গল্প। নওশাবার প্রত্যাশা, সব বয়সী দর্শক সিনেমাটি একসঙ্গে বসে দেখতে পারবেন। নব্বই দশকের গল্পে ফিরে যাওয়ার মধ্যে তাই নওশাবার কাছে রয়েছে এক ধরনের নস্টালজিয়া। সময় বদলেছে, মানুষের জীবনযাপন বদলেছে, বদলেছে সম্পর্কের প্রকাশভঙ্গিও। সেই পরিবর্তনের ভেতর অতীতের কোনো সময়কে পর্দায় ফিরে দেখা দর্শকের জন্য হয়ে উঠতে পারে অন্যরকম অভিজ্ঞতা। বিশেষ করে রাজশাহীর মতো একটি শহর যখন গল্পের আবহ নির্মাণে ভূমিকা রাখে, তখন স্থানটির সঙ্গে পরিচিত দর্শকরা নিজেদের স্মৃতির সঙ্গেও মিল খুঁজে পেতে পারেন। ‘চিরকুট’ নিয়ে নওশাবার আগ্রহে এই স্মৃতিময়তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। এমনটিই জানিয়েছেন নওশাবা।  অভিনেত্রী হিসেবে নওশাবার ক্যারিয়ার বরাবরই বৈচিত্র্যময় চরিত্র ও ভিন্নধর্মী গল্পের প্রতি আগ্রহের পরিচয় বহন করে। টেলিভিশন, চলচ্চিত্র, ওটিটি ও মঞ্চ-বিভিন্ন মাধ্যমে কাজ করেছেন তিনি। ২০২২ সালে ‘পাপবাজার’ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করে প্রশংসা পান। পরে নুহাশ হুমায়ূনের ‘২ ষ’-এর ‘অন্তরা’ গল্পে অভিনয় তাকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে আসে। এ ছাড়া সাদাত হাসান মান্টোর গল্প থেকে অনুপ্রাণিত ‘ঠান্ডা গোশত ২.০’ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন তিনি। এসব কাজের পাশাপাশি এবার ‘চিরকুট’-এর মতো পারিবারিক আবহের প্রেমের গল্পে তাকে দেখা যাচ্ছে। শুধু অভিনয়ে অবশ্য থেমে নেই নওশাবার ব্যস্ততা। সম্প্রতি ‘ঝামেলা’ নামে একটি সিনেমার শুটিং শেষ করেছেন তিনি। সিনেমাটি আসন্ন ঈদে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। অন্যদিকে, তার পরিচালিত প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘সোমেশ্বরী’ রয়েছে সম্পাদনার টেবিলে। সুনামগঞ্জের মধ্যনগর ও আশপাশের এলাকায় এর শুটিং হয়েছে। স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণও ছিল উল্লেখযোগ্য। নির্মাতা হিসেবেও নিজের ভাবনা দর্শকের কাছে পৌঁছে দিতে চান নওশাবা। তবে চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রযোজক পাওয়া বড় চ্যালেঞ্জ বলে জানিয়েছেন তিনি।  পরিচালনা ও অভিনয় প্রসঙ্গে নওশাবার ভাষায়, ‘সোমেশ্বরী’ প্রকৃতিকে সঙ্গে নিয়ে প্রকৃতির গল্প বলার চেষ্টা। পরিবেশ দূষণ, নদীকেন্দ্রিক জনপদের জীবন ও মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতাকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই চলচ্চিত্রে আমি নতুন নির্মাতা হিসেবে নিজের ভাবনাকে তুলে ধরেছি। আর গ্রামীণ জীবন ও মানুষের সঙ্গে ছোটবেলা থেকে পরিচয় থাকায় চরিত্রটি নিয়ে খুব বেশি বেগ পেতে হয়নি। মধ্যনগরের মানুষের সহযোগিতা কাজটিকে আরও সহজ করেছে।  নওশাবা আরও বলেন, ‘২০১৮ সাল থেকে মঞ্চে নির্দেশনা দিচ্ছি, কিন্তু চলচ্চিত্রে এটিই আমার প্রথম পরিচালনা। এটি নির্মিত হয়েছে গ্রিন ফিল্মসের ব্যানারে, যা ইন্টারন্যাশনাল একাডেমি ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়ার আওতাধীন একটি প্রকল্প। এ রকম একটি প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পেরে ভালো লাগছে।’ আন্তর্জাতিক উৎসবের পাশাপাশি দেশের মানুষ, বিশেষ করে হাওর অঞ্চলের মানুষ যেন সিনেমাটি দেখতে পারে, সে ব্যবস্থাও করা হবে বলে জানিয়েছেন নওশাবা। নিয়মিত সিনেমা নির্মাণের ইচ্ছা থাকলেও সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রয়োজন পৃষ্ঠপোষকতা। এর বাইরে তথ্যচিত্র ‘আগুনী’ নিয়েও কাজ করেছেন এই অভিনেত্রী। মঞ্চের জন্য নিজের সংগঠন ‘টুগেদার উই ক্যান’-এর উদ্যোগে তৈরি করছেন ‘ধরনীর গান’। এটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সংগীতের আয়োজন, যেখানে বিভিন্ন ধরনের মানুষকে একসঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে কাজটি এগিয়ে নিতে সমস্যায় পড়ছেন বলে জানিয়েছেন নওশাবা। এত সব ব্যস্ততার মধ্যেও আপাতত তার অভিনীত ‘চিরকুট’ ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন আগ্রহ। নব্বই দশকের আবহে নির্মিত প্রেমের কাহিনি কতটা ছুঁতে পারে দর্শকের মন, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।  
অভিনয়ের পাশাপাশি নির্মাণেও নিজের গল্প বলতে চান নওশাবা
আরও পড়ুন
এআইয়ের হাত ধরে অর্থনীতিতে সিঙ্গাপুরের বাজিমাত
সরকারি খাতে এআই ব্যবহারে আস্থা, সক্ষমতা ও সহযোগিতার ওপর জোর ডাক-টেলিযোগাযোগ মন্ত্রীর
এআইয়ের ঝুঁকি কমাতে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রযুক্তি নির্বাহীদের চুক্তি 
নিরাপত্তাঝুঁকিতে নতুন এআই মডেল বাতিল
X