ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

মা'রা গেলেন জেমস

বিনোদন ডেস্ক

  ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:০০ পিএম

মার্কিন অভিনেতা জেমস স্লোয়েন মারা গেছেন। ‘দ্য স্টিং’ ও ‘জ্যানাডু’র মতো জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয়ের পাশাপাশি ‘স্টার ট্রেক’ সিরিজের বিভিন্ন পর্বে কাজ করে পরিচিতি পাওয়া এই অভিনেতার মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।

বুলেটিন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন


‘দ্য হলিউড রিপোর্টার’-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি জেমস স্লোয়েনের মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসে। সপ্তাহের শেষ দিকে তার পরিবারের পক্ষ থেকে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

‘স্টার ট্রেক’ ভক্তদের কাছে স্লোয়েন বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন ‘স্টার ট্রেক: দ্য নেক্সট জেনারেশন’, ‘ডিপ স্পেস নাইন’ ও ‘ভয়েজার’-এ অভিনয়ের জন্য। ‘দ্য নেক্সট জেনারেশন’-এ তিনি একজন রোমুলান অ্যাডমিরালের চরিত্রে অভিনয় করেন। পরে ক্লিঙ্গন চরিত্র ওয়ার্কের ছেলের ভূমিকাতেও দেখা যায় তাকে।

‘ডিপ স্পেস নাইন’-এ বিজ্ঞানী ড. মোরা এবং ‘ভয়েজার’-এ হাকোনিয়ান বিজ্ঞানী মা’বোর জেটরেল চরিত্রে অভিনয় করেন স্লোয়েন।

১৯৭৩ সালে জর্জ রয় হিল পরিচালিত অস্কারজয়ী সিনেমা ‘দ্য স্টিং’-এ মোটোলা চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। সিনেমাটিতে অপরাধী ডয়েল লনেগানের হয়ে জুয়া পরিচালনাকারী এক কর্মীর ভূমিকায় দেখা যায় তাকে। একই বছর অলিভিয়া নিউটন-জন অভিনীত মিউজিক্যাল ফ্যান্টাসি সিনেমা ‘জ্যানাডু’তেও অভিনয় করেন স্লোয়েন।


১৯৪১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানাপোলিসে জন্মগ্রহণ করেন জেমস স্লোয়েন। চার ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট। তার বাবা জেমস ছিলেন নির্মাণ প্রকৌশলী।

বিদেশে এবং নিউইয়র্কের অ্যালবানিতে কিছু সময় কাটানোর পর দ্য আমেরিকান একাডেমি অব ড্রামেটিক আর্টস থেকে গ্র্যাজুয়েশন করেন তিনি। পরে তিন বছর মার্কিন সেনাবাহিনীতেও দায়িত্ব পালন করেন।

সেনাবাহিনী থেকে অবসর নিয়ে নিউইয়র্কে ফিরে জোসেফ প্যাপের নিউইয়র্ক শেক্সপিয়ার ফেস্টিভ্যালে অভিনয়ের পাশাপাশি লড়াইয়ের দৃশ্যের কোরিওগ্রাফার হিসেবেও কাজ করেন। ১৯৬৯ সালে আর্থার কপিটের ‘ইন্ডিয়ান’ নাটকের মাধ্যমে ব্রডওয়েতে অভিষেক হয় তার। পরের বছর ‘দ্য ট্রাভেলিং এক্সিকিউশনার’ সিনেমার মাধ্যমে বড়পর্দায় অভিষেক ঘটে।

১৯৭৩ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় চলে যান স্লোয়েন। এরপর ‘দ্য গ্যাং দ্যাট কুডন্ট শুট স্ট্রেইট’, ‘দ্য ডক্টরস’, ‘দ্য স্ট্রিটস অব সান ফ্রানসিসকো’, ‘কোজাক’ ও ‘ডেলভেকিও’-সহ বিভিন্ন সিনেমা ও টেলিভিশন সিরিজে অভিনয় করেন। ১৯৭৭ সালে এবিসির নাটক ‘ওয়েস্টসাইড মেডিকেল’-এ নিয়মিত চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পান।


অভিনয়ের পাশাপাশি বিজ্ঞাপনচিত্রেও দীর্ঘদিন কাজ করেছেন জেমস স্লোয়েন। ১৯৮৯ সাল থেকে প্রায় ১৮ বছর টয়োটার বিলাসবহুল ব্র্যান্ড লেক্সাসের বিজ্ঞাপনে ভয়েসওভার শিল্পী হিসেবে কাজ করেন তিনি।

শৈশবের মতো পূজায় ঘুরে বেড়াতে পারি না : বিদ্যা সিনহা মিম
দুর্গাপূজা মানেই নতুন পোশাক, সাজসজ্জা, মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে বেড়ানো আর প্রিয়জনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি। উৎসবের এই আনন্দে মেতে ওঠেন শোবিজ তারকারাও। প্রতিবছরের মতো এবারো শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে নানা পরিকল্পনা রয়েছে জনপ্রিয় অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা মিমের। পূজার দিনগুলোতে নিজের মতো করে সাজতে ভালোবাসেন তিনি। ষষ্ঠী থেকে দশমী, প্রতিদিনই থাকে ভিন্ন পোশাকের আয়োজন। এর আগে দেবীর অবতারে হাজির হয়ে ভক্তদের চমকে দিয়েছিলেন এই অভিনেত্রী। এবার পূজার প্রস্তুতি, উৎসবের পরিকল্পনা ও শৈশবের স্মৃতি নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। পূজার দিনগুলো সবার সঙ্গে আনন্দে কাটাতে চান মিম। এ সময় মন্দিরে যাওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে তার। কখনো কখনো পূজায় রাজশাহীতে যান এই অভিনেত্রী। সেখানে পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে সময় কাটাতে ভালো লাগে তার। এবারের পূজার পরিকল্পনা নিয়ে মিম বলেন, ‘প্রত্যাশা করছি, সবাই মিলে অনেক সুন্দরভাবে এবং সুন্দর পরিবেশে যেন পূজার দিনগুলো কাটাতে পারি। একা নয়, সবাই মিলে যেন আনন্দ করতে পারি। পূজা এলেই উৎসব শুরু হয়ে যায়। তা যেন অব্যাহত থাকে। পূজায় মন্দিরে যাওয়ার পরিকল্পনা প্রতিবছর থাকে, এবারো আছে। পূজার সময় কখনো কখনো রাজশাহীতে যাই। সেখানে গেলে সুন্দর সময় কাটে। পূজার সময় উপহার যেমন পাই, আবার উপহার দিতেও হয়। দুটোতেই আনন্দ পাই। দুর্গাপূজার আনন্দ ও উৎসব আমাদের সবার হোক।’ শৈশবে পূজার আনন্দ ছিল অন্য রকম। তখন বন্ধু ও স্বজনদের সঙ্গে ঘুরে বেড়ানো, উৎসবে মেতে ওঠার সুযোগ ছিল বেশি। সময়ের সঙ্গে বদলেছে সেই অভিজ্ঞতা। এখন পরিচিতির কারণে গ্রামে গেলেও আগের মতো নিজের ইচ্ছেমতো ঘুরে বেড়াতে পারেন না তিনি। ছোটবেলার পূজার স্মৃতিচারণা করে মিম বলেন, ‘ছোটবেলায় অনেক আনন্দ করতাম, ঘুরে বেড়াতাম। কিন্তু, এখন আর সেই আনন্দটা নেই। এখন গ্রামে গেলে বাসা থেকে বের হতে পারি না, কারণ বের হলেই সবাই ঘিরে ধরে। হয়তো আত্মীয়স্বজনদের বাসায় যাই, সেখানেও লোকজন ভিড় করে থাকে। এতে খারাপ লাগে না আমার। কারণ আমাদের গ্রামেরই তো মানুষ। কিন্তু ওই যে বললাম, শৈশবের মতো ঘুরে বেড়াতে পারি না।’  
শৈশবের মতো পূজায় ঘুরে বেড়াতে পারি না : বিদ্যা সিনহা মিম
ধারাবাহিকে ফিরলেন রিচি সোলায়মান
একসময় টিভি নাটকের নিয়মিত মুখ ছিলেন রিচি সোলায়মান। মাঝে পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করায় অভিনয়ে হয়ে পড়েছিলেন অনিয়মিত। কয়েক বছর ধরে দেশেই থাকছেন রিচি। ফলে টিভি পর্দায়ও বেড়েছে তার উপস্থিতি। রিচি এবার নাম লেখালেন নতুন দীর্ঘ ধারাবাহিক নাটকে। নজরুল ইসলাম রাজু পরিচালিত ‘এআই জুনিয়র’ নাটকে দেখা যাবে তাকে। এ বছরের শুরুতে ‘অপূর্ণতা’ নামের সাত পর্বের মিনি সিরিজে অভিনয় করলেও অনেক বছর পর এআই জুনিয়র দিয়ে দীর্ঘ ধারাবাহিকে ফিরলেন রিচি। ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে ধারাবাহিকটির শুটিং। তবে চ্যানেল কর্তৃপক্ষের বিধিনিষেধ থাকায় এখনই বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চাইলেন না অভিনেত্রী। তিনি বলেন, ‘এআই জুনিয়র ধারাবাহিকে অভিনয় করছি, এটি সত্যি। এর বেশি এখন কিছু বলা যাবে না। সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর বিস্তারিত বলব।’ জানা গেছে, শিগগিরই দীপ্ত টিভিতে শুরু হবে এআই জুনিয়রের প্রচার। ২৫ অক্টোবর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ধারাবাহিকটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে। এটি লিখেছেন আহমেদ খান হিরক। বিভিন্ন চরিত্রে আরও অভিনয় করছেন রওনক হাসান, জিনাত শানু স্বাগতা, নরেশ ভূঁইয়া, সুজাত শিমুল, শিশুশিল্পী রাই রাজন্যা প্রমুখ। এদিকে এ বছরেই মুক্তির কথা রয়েছে রিচি সোলায়মান অভিনীত প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা ‘রবি ইন ঢাকা’। তিন দশকের অভিনয় ক্যারিয়ারে এটি রিচির প্রথম সিনেমা। সমকালীন গল্পের এ সিনেমা পরিচালনা করেছেন রাজীব সালেহীন। শুটিং শেষে এখন চলছে পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ। এতে আরও আছেন ইমতিয়াজ বর্ষণ। ধারাবাহিকের মতো সিনেমাটি নিয়েও এখন কথা বলতে নারাজ রিচি সোলায়মান। তিনি বলেন, ‘আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তির ঘোষণা দেওয়ার পর কথা বলতে চাই। এটি আমার প্রথম সিনেমা, তাই অবশ্যই আমার কাছে বিশেষ কিছু। আগামী নভেম্বরে মুক্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে, এরপর শুরু হবে প্রচার।’  
ধারাবাহিকে ফিরলেন রিচি সোলায়মান
দ্বিতীয় সিজন নিয়ে ফিরছে ‘ফেউ’
সুকর্ণ সাহেদ ধীমানের ওয়েব সিরিজ ‘ফেউ’। প্রথম সিজন প্রকাশের পর থেকেই সিরিজটির দ্বিতীয় সিজনের অপেক্ষায় ছিলেন দর্শক। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও পরবর্তী অংশ মুক্তি না পাওয়ায় এ নিয়ে তৈরি হয়েছিল অনিশ্চয়তা। এবার চলতি বছরেই দ্বিতীয় সিজন মুক্তি দেয়ার পরিকল্পনা করছে ওটিটি প্লাটফর্ম চরকি। নির্মাতাও এ বছর সিরিজটির পুরোটা প্রকাশের প্রত্যাশা করছেন। তবে মুক্তির তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। গত বছরের ৩০ জানুয়ারি চরকিতে মুক্তি পায় সিরিজটির প্রথম সিজন। সে সময় জানা গিয়েছিল, দুই সিজনের শুটিং একটানা শেষ করা হয়েছে। প্রথম সিজন মুক্তির কয়েক মাসের মধ্যেই দ্বিতীয় সিজন প্রকাশের পরিকল্পনাও ছিল। তবে সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী সিরিজটির পরবর্তী অংশ প্রকাশিত হয়নি। কয়েক মাস আগে এ নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেন সিরিজের অভিনেতা মোস্তাফিজুর নূর ইমরান। দ্বিতীয় সিজনের মুক্তি প্রসঙ্গে নির্মাতা সুকর্ণ সাহেদ ধীমান বলেন, ‘আমিও অপেক্ষায় আছি ফেউ সিরিজের বাকি অংশের জন্য। এ বছর আমরা ফেউয়ের পুরোটা মুক্তি দিতে চাই। তবে পুরো পরিকল্পনা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়নি। চূড়ান্ত হলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেয়া হবে।’ এ বিষয়ে চরকি কর্তৃপক্ষ জানায়, চলতি বছরেই সিরিজটি মুক্তি দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। এ নিয়ে আলোচনা চলছে। শিগগিরই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া হবে। ১৯৭৯ সালের মরিচঝাঁপি হত্যাকাণ্ডের ছায়া অবলম্বনে নির্মিত ‘ফেউ’-এর গল্পে উঠে এসেছে দেশভাগ ও মুক্তিযুদ্ধের নানা ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে ডুমুরঝাঁপিতে আশ্রয় নেয়া একদল হিন্দু ধর্মাবলম্বী শরণার্থীর জীবনসংগ্রাম। তাদের উচ্ছেদ করতে খাবার ও পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেয়া হয়, ঘরে আগুন ধরানো হয়, নৌকা ডুবিয়ে দেয়া হয় এবং চালানো হয় হত্যাযজ্ঞ। এসব নৃশংসতা সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরতে চেয়েছিলেন মোংলা চার্চের রেভারেন্ড ও ফটোগ্রাফার সুনীল। তবে তাকে নানা বাধার মুখে পড়তে হয়। একপর্যায়ে জীবন বাঁচাতে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণে রাজি হওয়া দুই নারীকে চার্চে পৌঁছে দেয়ার দায়িত্ব পান সুনীল। এরপর তিনি নিখোঁজ হন। পরে জানা যায়, পুলিশের গুলিতে তার মৃত্যু হয়েছে। দুই যুগ পর বাবার তোলা ছবির খোঁজে নামে ছেলে ড্যানিয়েল। অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, সেদিন কবর দেয়া হয়েছিল সুনীলকে নয়, একটি গাছের গুঁড়ি। এরপর বাবার প্রকৃত পরিণতি জানতে মরিয়া হয়ে ওঠে ড্যানিয়েল। সিরিজটিতে অভিনয় করেছেন তারিক আনাম খান, চঞ্চল চৌধুরী, মোস্তাফিজুর নূর ইমরান, তাহমিনা অথৈ, তানভীর অপূর্ব, হোসেন জীবন, রিজভি রিজু ও এ কে আজাদ সেতুসহ অনেকে।  
দ্বিতীয় সিজন নিয়ে ফিরছে ‘ফেউ’
অভিনয়ের পাশাপাশি নির্মাণেও নিজের গল্প বলতে চান নওশাবা
গত বছর কলকাতায় মুক্তি পেয়েছিল কাজী নওশাবা আহমেদ অভিনীত সিনেমা ‘যত কাণ্ড কলকাতাতেই’। এবার দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে তার অভিনীত নতুন সিনেমা ‘চিরকুট’। পূজা উপলক্ষে শুক্রবার মুক্তি পেয়েছে সিনেমাটি। এতে অতিথি চরিত্রে অভিনয় করেছেন নওশাবা। পর্দায় তার উপস্থিতি সময়ের হিসাবে হয়তো খুব বেশি নয়, তবে চরিত্রটি গল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নব্বই দশকের স্মৃতিমাখা গল্প, রাজশাহী শহরের আবহ এবং নির্মাতার প্রতি ভালোবাসা-সব মিলিয়ে সিনেমাটিতে যুক্ত হওয়ার পেছনে রয়েছে অভিনেত্রীর বিশেষ কিছু কারণ। ‘চিরকুট’-এ অভিনয়ের প্রস্তাব পাওয়ার অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে নওশাবা জানান, সিনেমাটির নির্মাতা আকিবের প্রতি স্নেহ থেকেই প্রথমে কাজটি করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। আকিব তার খুব আদরের ছোট ভাই। নির্মাতার প্রথম সিনেমা বলেও কাজটির প্রতি আলাদা টান অনুভব করেছেন। তবে তাকে সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করেছে সিনেমার সময়কাল ও গল্পের পটভূমি। নওশাবার ভাষ্যে, ‘চিরকুট’ নব্বই দশকের গল্প। ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে জড়িয়ে আছে রাজশাহী শহর, যে শহরটি তার খুব পছন্দের। সেখানকার মানুষ, খাবারদাবার-সবকিছুর প্রতিই রয়েছে তার আলাদা ভালোলাগা। নির্মাতা যখন তাকে জানান, সিনেমাটির গল্প নব্বই দশকের প্রেক্ষাপটে তৈরি, তখন আর নিজেকে সামলে রাখতে পারেননি অভিনেত্রী। এমনকি চিত্রনাট্য না পড়ে অভিনয়ে সম্মতি দেন।  নওশাবা বলেন, ‘কাজটি খুব গুছিয়ে করেছেন নির্মাতা। তার এই প্রথম সিনেমাকে সমর্থন জানানোও ছিল অভিনয়ে যুক্ত হওয়ার অন্যতম উদ্দেশ্য। তবে শুধু ব্যক্তিগত সম্পর্ক নয়, গল্পের ধরনও তাকে আগ্রহী করেছে। সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত মিষ্টি প্রেমের গল্প ‘চিরকুট’। এতে নেই সহিংসতার উপস্থাপন; বরং রয়েছে পরিবার নিয়ে উপভোগ করার মতো একটি গল্প। নওশাবার প্রত্যাশা, সব বয়সী দর্শক সিনেমাটি একসঙ্গে বসে দেখতে পারবেন। নব্বই দশকের গল্পে ফিরে যাওয়ার মধ্যে তাই নওশাবার কাছে রয়েছে এক ধরনের নস্টালজিয়া। সময় বদলেছে, মানুষের জীবনযাপন বদলেছে, বদলেছে সম্পর্কের প্রকাশভঙ্গিও। সেই পরিবর্তনের ভেতর অতীতের কোনো সময়কে পর্দায় ফিরে দেখা দর্শকের জন্য হয়ে উঠতে পারে অন্যরকম অভিজ্ঞতা। বিশেষ করে রাজশাহীর মতো একটি শহর যখন গল্পের আবহ নির্মাণে ভূমিকা রাখে, তখন স্থানটির সঙ্গে পরিচিত দর্শকরা নিজেদের স্মৃতির সঙ্গেও মিল খুঁজে পেতে পারেন। ‘চিরকুট’ নিয়ে নওশাবার আগ্রহে এই স্মৃতিময়তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। এমনটিই জানিয়েছেন নওশাবা।  অভিনেত্রী হিসেবে নওশাবার ক্যারিয়ার বরাবরই বৈচিত্র্যময় চরিত্র ও ভিন্নধর্মী গল্পের প্রতি আগ্রহের পরিচয় বহন করে। টেলিভিশন, চলচ্চিত্র, ওটিটি ও মঞ্চ-বিভিন্ন মাধ্যমে কাজ করেছেন তিনি। ২০২২ সালে ‘পাপবাজার’ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করে প্রশংসা পান। পরে নুহাশ হুমায়ূনের ‘২ ষ’-এর ‘অন্তরা’ গল্পে অভিনয় তাকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে আসে। এ ছাড়া সাদাত হাসান মান্টোর গল্প থেকে অনুপ্রাণিত ‘ঠান্ডা গোশত ২.০’ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন তিনি। এসব কাজের পাশাপাশি এবার ‘চিরকুট’-এর মতো পারিবারিক আবহের প্রেমের গল্পে তাকে দেখা যাচ্ছে। শুধু অভিনয়ে অবশ্য থেমে নেই নওশাবার ব্যস্ততা। সম্প্রতি ‘ঝামেলা’ নামে একটি সিনেমার শুটিং শেষ করেছেন তিনি। সিনেমাটি আসন্ন ঈদে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। অন্যদিকে, তার পরিচালিত প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘সোমেশ্বরী’ রয়েছে সম্পাদনার টেবিলে। সুনামগঞ্জের মধ্যনগর ও আশপাশের এলাকায় এর শুটিং হয়েছে। স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণও ছিল উল্লেখযোগ্য। নির্মাতা হিসেবেও নিজের ভাবনা দর্শকের কাছে পৌঁছে দিতে চান নওশাবা। তবে চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রযোজক পাওয়া বড় চ্যালেঞ্জ বলে জানিয়েছেন তিনি।  পরিচালনা ও অভিনয় প্রসঙ্গে নওশাবার ভাষায়, ‘সোমেশ্বরী’ প্রকৃতিকে সঙ্গে নিয়ে প্রকৃতির গল্প বলার চেষ্টা। পরিবেশ দূষণ, নদীকেন্দ্রিক জনপদের জীবন ও মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতাকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই চলচ্চিত্রে আমি নতুন নির্মাতা হিসেবে নিজের ভাবনাকে তুলে ধরেছি। আর গ্রামীণ জীবন ও মানুষের সঙ্গে ছোটবেলা থেকে পরিচয় থাকায় চরিত্রটি নিয়ে খুব বেশি বেগ পেতে হয়নি। মধ্যনগরের মানুষের সহযোগিতা কাজটিকে আরও সহজ করেছে।  নওশাবা আরও বলেন, ‘২০১৮ সাল থেকে মঞ্চে নির্দেশনা দিচ্ছি, কিন্তু চলচ্চিত্রে এটিই আমার প্রথম পরিচালনা। এটি নির্মিত হয়েছে গ্রিন ফিল্মসের ব্যানারে, যা ইন্টারন্যাশনাল একাডেমি ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়ার আওতাধীন একটি প্রকল্প। এ রকম একটি প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পেরে ভালো লাগছে।’ আন্তর্জাতিক উৎসবের পাশাপাশি দেশের মানুষ, বিশেষ করে হাওর অঞ্চলের মানুষ যেন সিনেমাটি দেখতে পারে, সে ব্যবস্থাও করা হবে বলে জানিয়েছেন নওশাবা। নিয়মিত সিনেমা নির্মাণের ইচ্ছা থাকলেও সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রয়োজন পৃষ্ঠপোষকতা। এর বাইরে তথ্যচিত্র ‘আগুনী’ নিয়েও কাজ করেছেন এই অভিনেত্রী। মঞ্চের জন্য নিজের সংগঠন ‘টুগেদার উই ক্যান’-এর উদ্যোগে তৈরি করছেন ‘ধরনীর গান’। এটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সংগীতের আয়োজন, যেখানে বিভিন্ন ধরনের মানুষকে একসঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে কাজটি এগিয়ে নিতে সমস্যায় পড়ছেন বলে জানিয়েছেন নওশাবা। এত সব ব্যস্ততার মধ্যেও আপাতত তার অভিনীত ‘চিরকুট’ ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন আগ্রহ। নব্বই দশকের আবহে নির্মিত প্রেমের কাহিনি কতটা ছুঁতে পারে দর্শকের মন, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।  
অভিনয়ের পাশাপাশি নির্মাণেও নিজের গল্প বলতে চান নওশাবা
হাইকোর্টের দ্বারস্থ কৃতি শ্যানন
নিজের ব্যক্তিত্ব ও প্রচারের অধিকার রক্ষায় এবার দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী কৃতি শ্যানন। তার নাম, ছবি, অবয়ব ও পরিচিতির অন্যান্য বৈশিষ্ট্য অনুমতি ছাড়া ব্যবহারের অভিযোগ তুলে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বিষয়বস্তু এবং ডিজিটাল মাধ্যমে তার পরিচয়ে ছদ্মবেশ ধারণের বিষয়গুলোও রয়েছে আবেদনে। এ ধরনের মামলা বাড়তে থাকায় ব্যক্তিত্বের অধিকারের আইনি ভিত্তি ও পরিধি নিয়ে আরও বিস্তারিত পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছে আদালত। বিচারপতি পুরুষেন্দ্র কুমার কৌরভের একক বেঞ্চে মামলাটি উত্থাপিত হলে অভিনেত্রীর আইনজীবীকে এ বিষয়ে প্রাসঙ্গিক রায়, গবেষণাপত্র ও অন্যান্য নথি জমা দিতে বলা হয়। দিল্লি হাইকোর্ট জানিয়েছে, জমা দেওয়া নথিপত্র পর্যালোচনা করে পূর্ণাঙ্গ আদেশ দেওয়া হবে। মামলাটির পরবর্তী শুনানি আগামী ২৯ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে দিল্লি হাইকোর্টে ব্যক্তিত্বের অধিকার নিয়ে বিরোধের সংখ্যা বাড়ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে ভুয়া পরিচয় তৈরি, ডিপফেক, মিথ্যা প্রচারণা এবং পরিচিতির অননুমোদিত বাণিজ্যিক ব্যবহার থেকে সুরক্ষা চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছেন বিভিন্ন ক্ষেত্রের পরিচিত ব্যক্তিরা। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এ ধরনের আইনি সুরক্ষা চেয়েছেন সাবেক ক্রিকেটার গৌতম গম্ভীর ও সুনীল গাভাস্কার, আধ্যাত্মিক গুরু শ্রী শ্রী রবিশঙ্কর এবং অভিনেতা অর্জুন কাপুর, আল্লু অর্জুন, নাগার্জুন, বরুণ ধাওয়ান, কাজল, ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন, অভিষেক বচ্চন ও নাগা চৈতন্য। এ তালিকায় আরও রয়েছেন গায়ক জুবিন নৌটিয়াল, চলচ্চিত্র নির্মাতা করণ জোহর, পডকাস্টার রাজ শামানি এবং কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর। তাদের পরিচিতি ও অবয়বের অননুমোদিত ব্যবহার, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তৈরি নকল বিষয়বস্তু থেকে সুরক্ষা চেয়ে তারা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন বা আইনি সুরক্ষা পেয়েছেন। সম্প্রতি অভিনেত্রী ও বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাউতও নিজের ব্যক্তিত্ব ও প্রচারের অধিকার রক্ষায় মামলা করেছেন। ডিজিটাল মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অশ্লীল ও পর্নোগ্রাফিক বিষয়বস্তুতে তার পরিচিতি অনুমতি ছাড়া ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন তিনি। তার অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত নোটিশও জারি করেছে।  
হাইকোর্টের দ্বারস্থ কৃতি শ্যানন
আরও পড়ুন
দীর্ঘদিন পর এক মঞ্চে ফিরছেন জেমস-হাসান
অভিনেতা সমু চৌধুরীকে পিটিয়ে জখমের ঘটনায় গ্রেপ্তার ১
মৌসুমীকে ঘিরে ফেসবুকে গুঞ্জন, যা জানালেন ওমর সানী
ময়নাতদন্তে জানা গেল নানা পাটেকরের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ
X