
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিদ্যুৎ চলে গেলে বিকল্প হিসেবে জেনারেটর ও আইপিএস থাকলেও মিলছে না এর সুফল। দুটি আইপিএস দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট। আর জেনারেটর থাকলেও জ্বালানি তেলের বরাদ্দ না থাকায় সেটিও চালানো হচ্ছে না। ফলে বিদ্যুৎ চলে গেলে বন্ধ হয়ে যায় যন্ত্রনির্ভর গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সেবা।
এক্স-রে, প্যাথলজি পরীক্ষা ও নেবুলাইজারের মতো জরুরি সেবাও ব্যাহত হচ্ছে। গত দুই থেকে তিন মাস ধরে লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ায় রোগীদের দুর্ভোগ আরও চরমে পৌঁছেছে।
সরজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম প্রধান ভরসাস্থল রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। প্রতিদিন গড়ে ৭০ থেকে ৮০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। কখনো কখনো এ সংখ্যা ছাড়িয়ে যায় শতাধিক। তবে বিদ্যুৎ চলে গেলেই চরম বিপাকে পড়তে হয় রোগী, স্বজন, চিকিৎসক ও নার্সদের। পুরুষ ও নারী ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় বিদ্যুৎ না থাকলে রোগীদের অন্ধকারেই থাকতে হয়। গরমে একটু স্বস্তির আশায় অনেক রোগী ও স্বজনকে বারান্দায় বসে থাকতে দেখা যায়। বিশেষ করে হাম ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের ভোগান্তি বাড়ছে। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের শ্বাসকষ্ট কমাতে নেবুলাইজার অত্যন্ত জরুরি হলেও বিদ্যুৎ না থাকলে সময়মতো এ সেবা দেওয়া সম্ভব হয় না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, জেনারেটরের জ্বালানি তেলের বরাদ্দের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। পাশাপাশি নষ্ট আইপিএস মেরামতের জন্যও উদ্যোগ নেওয়া হলেও পর্যাপ্ত অর্থের সংস্থান না থাকায় তা সম্ভব হচ্ছে না।
ফলে সরকারি হাসপাতালে বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা থাকার পরও কার্যত কোনো কাজে আসছে না এসব যন্ত্র। এতে একদিকে যেমন চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন রোগীরা।
ভর্তি রোগীরা জানান, লোডশেডিংয়ের কারণে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে তাদের। বিশেষ করে ছোট শিশুদের নিয়ে আসা স্বজনদের দুর্ভোগ বেশি। বিদ্যুৎ চলে গেলে মোবাইলের আলোই একমাত্র ভরসা। প্রচণ্ড গরমে শিশুরা আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছে।
রায়পুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মোশারফ হোসেন বলেন, “দৈনিক চাহিদার তুলনায় প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ কম বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে লোডশেডিং হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি পৌর শহর ও হাসপাতালে লোডশেডিং কম দেওয়ার জন্য।”
ভারপ্রাপ্ত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ পলাশ বলেন, “বিদ্যুৎ না থাকলে চিকিৎসাসেবায় সমস্যা হয়। রোগীদের দুর্ভোগও বাড়ে। হাসপাতালে জেনারেটর আছে। কিন্তু জেনারেটর চালানোর জন্য জ্বালানি প্রয়োজন। জ্বালানি বরাদ্দ না থাকায় জেনারেটর চালানো সম্ভব হচ্ছে না। তারপরও আমরা রোগীদের সেবা দিতে সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছি।”




