
রাতে ঘুমের মধ্যে কিংবা হাঁটা-চলার সময় হঠাৎ পায়ের মাংসপেশিতে টান ধরলে বেশ তীব্র ব্যথা হতে পারে। কয়েক সেকেন্ড থেকে কয়েক মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হওয়া এই সমস্যাকে সাধারণভাবে মাসল ক্র্যাম্প বলা হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এটি সাময়িক হলেও বারবার হলে এর পেছনে কোনো শারীরিক কারণ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
পায়ের মাংসপেশিতে টান ধরার কারণ
বিভিন্ন কারণে পায়ের পেশিতে ক্র্যাম্প হতে পারে। যেমন—
• শরীরে পর্যাপ্ত পানি না থাকা বা অতিরিক্ত ঘামের কারণে পানিশূন্যতা।
• পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম বা ম্যাগনেশিয়ামের ভারসাম্যে পরিবর্তন।
• দীর্ঘ সময় হাঁটা, দৌড়ানো বা অতিরিক্ত ব্যায়াম করা।
• দীর্ঘক্ষণ একই ভঙ্গিতে বসে বা দাঁড়িয়ে থাকা।
• ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রমের আগে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না নেওয়া।
• ঠান্ডা পরিবেশে পেশিতে অতিরিক্ত সংকোচন হওয়া।
• বয়স বাড়ার সঙ্গে পেশির পরিবর্তন।
• গর্ভাবস্থায়, বিশেষ করে শেষের দিকে, কিছু নারীর পায়ে ক্র্যাম্প বেশি হতে পারে।
• ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের সমস্যা বা কিছু স্নায়বিক ও রক্তসঞ্চালনজনিত সমস্যার সঙ্গে এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
• কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেও মাংসপেশিতে টান হতে পারে।
তবে প্রতিবার পেশিতে টান লাগার কারণ যে পানিশূন্যতা বা কোনো ভিটামিন-মিনারেলের ঘাটতি—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
হঠাৎ টান ধরলে কী করবেন?
পায়ে হঠাৎ ক্র্যাম্প শুরু হলে আতঙ্কিত না হয়ে আক্রান্ত পেশিটিকে ধীরে ধীরে প্রসারিত করার চেষ্টা করুন।
পায়ের পেছনের পেশিতে টান ধরলে পা সোজা করে বসে পায়ের পাতার আঙুল নিজের দিকে ধীরে টেনে আনতে পারেন। দাঁড়িয়ে থাকলে প্রয়োজনে দেয়াল বা অন্য কোনো স্থানে ভর নিয়ে আক্রান্ত পেশি আলতোভাবে স্ট্রেচ করুন।
এ সময় আক্রান্ত স্থানে হালকা হাতে ম্যাসাজ করলেও কিছুটা আরাম পাওয়া যেতে পারে। পেশি শক্ত হয়ে থাকলে উষ্ণ সেঁক আরাম দিতে পারে। আবার ব্যথা বা অস্বস্তির ধরন অনুযায়ী ঠান্ডা সেঁকও উপকারী হতে পারে।
শরীরে পানিশূন্যতার সম্ভাবনা থাকলে পানি পান করুন। অতিরিক্ত ঘাম, বমি বা ডায়রিয়ার কারণে শরীরে পানি ও লবণের ঘাটতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন বা ইলেকট্রোলাইটযুক্ত তরল নেওয়া যেতে পারে।
ব্যথার জন্য ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজন হলে নিজের ইচ্ছায় নিয়মিত ব্যথানাশক না খেয়ে চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
ক্র্যাম্প প্রতিরোধে যা করবেন
পায়ের মাংসপেশিতে বারবার টান ধরার প্রবণতা থাকলে দৈনন্দিন কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করতে পারেন।
• পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
• নিয়মিত হালকা স্ট্রেচিং করুন।
• ব্যায়ামের আগে ও পরে পেশি প্রসারিত করার অভ্যাস করুন।
• অতিরিক্ত পরিশ্রম বা হঠাৎ খুব বেশি ব্যায়াম করা এড়িয়ে চলুন।
• দীর্ঘক্ষণ একই অবস্থানে বসে বা দাঁড়িয়ে থাকলে মাঝেমধ্যে নড়াচড়া করুন।
• পায়ের সঙ্গে মানানসই আরামদায়ক জুতা ব্যবহার করুন।
• খাবারে শাকসবজি, ফল, ডাল, দুধজাত খাবার ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার রাখুন।
• ঘাটতি নিশ্চিত না হয়ে নিজের ইচ্ছায় পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম বা ম্যাগনেশিয়ামের সাপ্লিমেন্ট শুরু করবেন না।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
মাঝেমধ্যে পায়ে টান ধরা সাধারণত গুরুতর সমস্যা নয়। তবে যদি ঘন ঘন ক্র্যাম্প হয়, দীর্ঘ সময় ধরে ব্যথা থাকে বা স্বাভাবিক কাজকর্মে বাধা সৃষ্টি করে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এ ছাড়া পায়ে ফোলা, লালচে বা অস্বাভাবিক গরম হয়ে যাওয়া, দুর্বলতা, অসাড়তা, তীব্র ব্যথা কিংবা হাঁটতে সমস্যা হলে বিষয়টি অবহেলা করবেন না। বিশেষ করে হঠাৎ এক পা ফুলে যাওয়া ও ব্যথার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট বা বুকব্যথা হলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।




