
সিরাজগঞ্জ শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্বজনেরা হাসপাতালটিতে ভাঙচুর চালিয়েছেন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে শহরের মুজিব সড়কের পুরাতন কমিউনিটি হাসপাতাল কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় দুই চিকিৎসক ও হাসপাতালের পরিচালকের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন নিহতের ভাই পান্না সেখ।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার শিয়ালকোল ইউনিয়নের উত্তর সারটিয়া গ্রামের মাহিমের স্ত্রী শিউলী খাতুন (২০) প্রসববেদনা উঠলে ওই হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে চিকিৎসক সুলতান মাহমুদের নেতৃত্বে তার সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়।
স্বজনদের দাবি, অপারেশনের পর বেডে নেওয়া হলে শিউলী খাতুন বুকে তীব্র ব্যথার কথা জানান। বিষয়টি হাসপাতালের পরিচালক কামাল তালুকদার ও চিকিৎসকদের জানানো হয়। পরে পরিস্থিতির অবনতি হলে ওইদিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাকে আবারও অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়।
স্বজনদের ভাষ্য, প্রায় আট ঘণ্টা পর রাত ২টার দিকে অচেতন অবস্থায় তাকে ওটি থেকে বের করে দ্রুত বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে রেফার্ড করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সেখানে নেওয়ার পর জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মৃত্যুর খবর সিরাজগঞ্জে পৌঁছালে নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা ওই হাসপাতালে গিয়ে ভাঙচুর করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
নিহতের ভাই পান্না সেখ অভিযোগ করে বলেন, ‘ভুল চিকিৎসার কারণেই আমার বোনের মৃত্যু হয়েছে। সিজারিয়ান অপারেশনের পরই তার বুকে তীব্র ব্যথা শুরু হয়। আমরা হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের পাশাপাশি দুই চিকিৎসক ও পরিচালককে দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’
এ বিষয়ে হাসপাতালের চিকিৎসক বা কর্তৃপক্ষের কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল হাসান বলেন, প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনায় একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




