ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

ঘন ঘন মাথাব্যথা, এটা কি জটিল কোন রোগের ইঙ্গিত?

অনলাইন ডেস্ক

  ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩:৪১ পিএম
প্রতীকি ছবি

সারাদিনের কাজ শেষে বাসায় ফিরেছেন। শরীরজুড়ে ক্লান্তি, কিন্তু একটু বিশ্রাম নেওয়ারও যেন সুযোগ নেই—কারণ শুরু হয়েছে মাথাব্যথা। কখনো কপালের দুই পাশে চাপ চাপ অনুভূতি, কখনো মাথার এক পাশে ধুকপুক ব্যথা। আবার এমনও হয়, অফিসে গুরুত্বপূর্ণ কাজের মাঝেই মাথাব্যথা শুরু হয়ে যায়। ব্যথার কারণে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে, ব্যাহত হয় স্বাভাবিক কাজকর্ম।

বুলেটিন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

অনেকের ক্ষেত্রেই মাথাব্যথা নিয়মিত দেখা দেয়। আর মাথাব্যথা বারবার হলে স্বাভাবিকভাবেই মনে প্রশ্ন জাগে—এটি কি কোনো বড় বা জটিল রোগের লক্ষণ?

চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য বলছে, বেশির ভাগ মাথাব্যথাই গুরুতর কোনো রোগের কারণে হয় না। স্ট্রেস, ঘুমের অনিয়ম, পানিশূন্যতা, নিয়মিত খাবার না খাওয়া, চোখের ওপর অতিরিক্ত চাপ, ভুল অঙ্গভঙ্গি, অতিরিক্ত ক্যাফেইন বা কিছু ক্ষেত্রে ব্যথানাশক ওষুধের অতিরিক্ত ব্যবহারও মাথাব্যথার কারণ হতে পারে। তবে মাথাব্যথার ধরন, তীব্রতা বা সঙ্গে থাকা অন্য উপসর্গে পরিবর্তন দেখা দিলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

কেন বারবার মাথাব্যথা হয়?

মাথাব্যথার কারণ একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম হতে পারে। সবচেয়ে পরিচিত কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে টেনশন বা মানসিক চাপজনিত মাথাব্যথা এবং মাইগ্রেন।

দীর্ঘ সময় কাজ করা, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, ঘুমের ঘাটতি, ভুল ভঙ্গিতে বসে থাকা কিংবা ঘাড় ও মাথার পেশিতে টান থেকেও মাথাব্যথা হতে পারে। টেনশনজনিত মাথাব্যথায় সাধারণত মাথার দুই পাশে চাপ বা শক্ত করে বাঁধার মতো অনুভূতি হয়।

এ ছাড়া দীর্ঘ সময় কম্পিউটার বা মোবাইলের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা, চোখের সমস্যা, পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া, সময়মতো খাবার না খাওয়া, অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ কিংবা হঠাৎ ক্যাফেইন কমিয়ে দেওয়াও মাথাব্যথার কারণ হতে পারে। অনেক সময় মাথাব্যথার সঙ্গে অন্য কোনো শারীরিক সমস্যাও সম্পর্কিত থাকতে পারে। তাই নিয়মিত মাথাব্যথা হলে শুধু ব্যথা কমানোর ওষুধ খেয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়।

মাইগ্রেন হলে কেমন মাথাব্যথা হয়?

মাইগ্রেন সাধারণ মাথাব্যথার চেয়ে কিছুটা আলাদা। এতে অনেক সময় মাথার এক পাশে তীব্র বা ধুকপুক ধরনের ব্যথা হয়। আলো, শব্দ বা কখনো গন্ধে অস্বস্তি বাড়তে পারে। বমি বমি ভাব বা বমিও হতে পারে। নড়াচড়া করলে ব্যথা আরও বেড়ে যেতে পারে। একটি মাইগ্রেনের আক্রমণ চিকিৎসা না করলে সাধারণত কয়েক ঘণ্টা থেকে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

কিছু মানুষের ক্ষেত্রে মাথাব্যথা শুরু হওয়ার আগে ‘অরা’ নামে পরিচিত কিছু সাময়িক উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে চোখের সামনে ঝিলিক বা জিগজ্যাগ রেখা দেখা, দৃষ্টিতে পরিবর্তন, হাত-পায়ে ঝিনঝিন অনুভূতি, মাথা ঘোরা কিংবা কথা বলতে সাময়িক অসুবিধা থাকতে পারে। সাধারণত এসব উপসর্গ এক ঘণ্টার মধ্যে চলে যায়। মাইগ্রেনের ক্ষেত্রে স্ট্রেস, ক্লান্তি, ঘুমের পরিবর্তন, সময়মতো খাবার না খাওয়া, অতিরিক্ত ক্যাফেইন, হরমোনের পরিবর্তনসহ বিভিন্ন বিষয় ট্রিগার হিসেবে কাজ করতে পারে। তবে সবার ক্ষেত্রে একই কারণ কাজ করে না।

মাথাব্যথা হলেই কি ব্রেন টিউমার?

ঘন ঘন মাথাব্যথা হলেই ব্রেন টিউমার বা অন্য কোনো ভয়ংকর রোগ হয়েছে—এমন ধারণা ঠিক নয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য অনুযায়ী, বেশির ভাগ মাথাব্যথা গুরুতর কোনো অন্তর্নিহিত রোগের লক্ষণ নয়। তবে নতুন ধরনের মাথাব্যথা, আগের চেয়ে দ্রুত বাড়তে থাকা ব্যথা বা মাথাব্যথার ধরনে হঠাৎ বড় পরিবর্তন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

বিশেষ করে কোনো ব্যক্তির আগে নিয়মিত মাথাব্যথার ইতিহাস না থাকলেও হঠাৎ নতুন ধরনের ব্যথা শুরু হলে সেটিকে গুরুত্ব দিতে হবে। একইভাবে বয়স বাড়ার পর নতুন করে মাথাব্যথা শুরু হলেও চিকিৎসকের মূল্যায়ন প্রয়োজন হতে পারে। অর্থাৎ, মাথাব্যথা নিয়ে অতিরিক্ত আতঙ্কিত হওয়ার যেমন প্রয়োজন নেই, তেমনি বারবার হওয়া বা অস্বাভাবিক ধরনের ব্যথাকে অবহেলাও করা উচিত নয়।

অতিরিক্ত ব্যথানাশকও কি মাথাব্যথার কারণ?

মাথাব্যথা হলেই অনেকেই নিজের মতো করে ব্যথানাশক ওষুধ খেয়ে নেন। এতে সাময়িকভাবে ব্যথা কমলেও নিয়মিত ও অতিরিক্ত ব্যবহারের ক্ষেত্রে উল্টো মাথাব্যথা আরও ঘন ঘন হতে পারে। এটিকে ‘মেডিকেশন ওভারইউজ হেডেক’ বা ওষুধের অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে হওয়া মাথাব্যথা বলা হয়।

তাই ঘন ঘন মাথাব্যথা হলে প্রতিবার নিজের মতো করে ওষুধ খাওয়ার পরিবর্তে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। বিশেষ করে সপ্তাহে একাধিকবার মাথাব্যথা হলে এর কারণ চিহ্নিত করা জরুরি। মাইগ্রেনের ক্ষেত্রেও ঘন ঘন আক্রমণ হলে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রতিরোধমূলক চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

মাথাব্যথা যদি নিয়মিত হয়, আগের তুলনায় বেশি তীব্র হয়, কাজ বা ঘুমে বাধা সৃষ্টি করে কিংবা সাধারণ ব্যবস্থায় কমতে না চায়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে মাথাব্যথার ধরনে পরিবর্তন দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়।

চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার আগে একটি ‘হেডেক ডায়েরি’ রাখা উপকারী হতে পারে। কখন ব্যথা শুরু হচ্ছে, কতক্ষণ থাকছে, মাথার কোন অংশে হচ্ছে, ব্যথার তীব্রতা কেমন, তার আগে কী খাওয়া হয়েছিল, কত ঘণ্টা ঘুম হয়েছে, মানসিক চাপ ছিল কি না এবং কোনো ওষুধ নেওয়া হয়েছিল কি না—এসব লিখে রাখলে মাথাব্যথার সম্ভাব্য কারণ বা ট্রিগার শনাক্ত করতে চিকিৎসককে সহায়তা করতে পারে।

কোন লক্ষণে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন?

সব মাথাব্যথা জরুরি নয়। তবে কিছু লক্ষণ থাকলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন। যেমন—হঠাৎ বজ্রপাতের মতো অত্যন্ত তীব্র মাথাব্যথা শুরু হওয়া, মাথায় আঘাতের পর মাথাব্যথা, মাথাব্যথার সঙ্গে শরীরের এক পাশে দুর্বলতা বা অবশভাব, কথা বলতে সমস্যা, দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তন, খিঁচুনি, বিভ্রান্তি বা অচেতন হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেওয়া।

এ ছাড়া উচ্চ জ্বর ও ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়ার সঙ্গে মাথাব্যথা, হাঁটা বা ভারসাম্য রাখতে সমস্যা, বারবার বমি কিংবা হঠাৎ নতুন ধরনের তীব্র মাথাব্যথাও জরুরি মূল্যায়নের কারণ হতে পারে। এসব উপসর্গ দেখা দিলে শুধু সাধারণ মাথাব্যথা ভেবে বাড়িতে বসে থাকা উচিত নয়; দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।

মাথাব্যথা কমাতে কী করা যায়?

মাথাব্যথার কারণ অনুযায়ী চিকিৎসা আলাদা। তবে সাধারণভাবে পর্যাপ্ত পানি পান করা, নিয়মিত খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম, অতিরিক্ত ক্যাফেইন এড়িয়ে চলা এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা উপকারী হতে পারে। দীর্ঘ সময় একটানা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে বিরতি নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

মাইগ্রেনের ক্ষেত্রে অন্ধকার ও শান্ত ঘরে বিশ্রাম নেওয়া এবং ব্যক্তিগত ট্রিগারগুলো এড়িয়ে চলা অনেকের জন্য উপকারী হতে পারে। কারও ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট খাবার, ঘুমের পরিবর্তন, স্ট্রেস বা অন্য কোনো বিষয় মাইগ্রেনের আক্রমণ বাড়াতে পারে। তাই নিজের ক্ষেত্রে কোন বিষয়গুলো মাথাব্যথা বাড়ায়, তা শনাক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ।

আতঙ্ক নয়, সচেতনতাই গুরুত্বপূর্ণ:

ঘন ঘন মাথাব্যথা হওয়া মানেই বড় কোনো রোগের ইঙ্গিত—এমন নয়। অনেক ক্ষেত্রেই এর পেছনে থাকে মাইগ্রেন, টেনশন, ঘুমের অনিয়ম, পানিশূন্যতা, খাবারের অনিয়ম কিংবা দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন অভ্যাস। তবে মাথাব্যথার ধরন বদলে গেলে, ব্যথা ক্রমেই বাড়তে থাকলে বা এর সঙ্গে স্নায়বিক কিংবা অন্যান্য অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—নিজে থেকে রোগ নির্ণয় না করে মাথাব্যথার ধরন ও নিয়মিততা পর্যবেক্ষণ করা। বিশেষ করে যারা নিয়মিত মাইগ্রেনে ভোগেন, তাদের জন্য মাথাব্যথার সময়, তীব্রতা, সম্ভাব্য ট্রিগার এবং ব্যবহৃত ওষুধের হিসাব রাখা কার্যকর হতে পারে।

তাই প্রতিবার মাথাব্যথা হলেই ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই। আবার নিয়মিত মাথাব্যথাকে স্বাভাবিক ভেবে বছরের পর বছর চিকিৎসা ছাড়াও থাকা উচিত নয়। মাথাব্যথা শরীরের একটি সংকেত—তার ধরন বুঝে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ জনের মৃত্যু, চলতি বছরে প্রাণহানি ১১৯৬
দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর হামের উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯২ জনে। একই সময়ে নিশ্চিত হামে মারা গেছেন আরও ১০৪ জন। সব মিলিয়ে চলতি বছরে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৯৬ জনে। রোববার (১৮ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর পাশাপাশি নিশ্চিত হামে মৃত্যুর ঘটনাও জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগ তৈরি করছে। চলতি বছরে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্কতা ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বুলেটিনে বলা হয়, শনিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগে ৩ জন, সিলেট বিভাগে ২ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১ জন এবং খুলনা বিভাগে ১ জন মারা গেছেন। এ সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ৩১৯ জন রোগী এসেছে। বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে ৫৩৮ জন, রাজশাহীতে ৩৭, সিলেটে ১২৩ , চট্টগ্রামে ২২১ জন, বরিশালে ২০৫, ময়মনসিংহে ৭৩, খুলনায় ৭৫, এবং রংপুরে ৪৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৮৯ হাজার ৪৮৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৮১ হাজার ৭৫৬ জন চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে সন্দেহজনক হামের রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৩ হাজার ২৪৪ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছেন ২৩ হাজার ১২২ জন।
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ জনের মৃত্যু, চলতি বছরে প্রাণহানি ১১৯৬
ডেঙ্গুতে এক দিনে আরও ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজার ৮৮
দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ উদ্বেগজনকভাবে অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত ২ হাজার ৮৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। রোববার (১৮ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪৮ জনে। এর মধ্যে শুধু অক্টোবরের প্রথম ১৭ দিনেই ১০৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর চলতি বছরের মাসভিত্তিক হিসাবে সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়। এ ছাড়া আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন এবং মে মাসে একজন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে। বছরের শুরুতে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি—প্রতি মাসে দুজন করে ডেঙ্গুতে মারা যান। বুলেটিনে বলা হয়, শনিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২ হাজার ৮৮ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২ হাজার ৪০০ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ হাজার ৮২৭ জন। এ পর্যন্ত মোট ৯৮ হাজার ৮৯৯ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে ১ হাজার ৫৮ জন। এছাড়া চট্টগ্রামে ১৬১ জন, খুলনায় ২৯০ জন, বরিশালে ১৯৯ জন, রাজশাহীতে ২০০ জন, ময়মনসিংহে ৯৩ জন এবং রংপুরে ৭২ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের প্রথম ১৭ দিনেই ডেঙ্গুতে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে গত ২৪ ঘণ্টায় দুই হাজারের বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
ডেঙ্গুতে এক দিনে আরও ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজার ৮৮
তৃণমূল পর্যায়ে স্তন ক্যান্সার স্ক্রিনিং চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
দেশের তৃণমূল পর্যায়ে স্তন ক্যান্সার স্ক্রিনিং কার্যক্রম চালু করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এ লক্ষ্যে স্বাস্থ্যসেবার অবকাঠামো উন্নয়ন, নতুন চিকিৎসক ও মিডওয়াইফ নিয়োগ এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, নারীদের মধ্যে স্তন ক্যান্সার বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করে চিকিৎসা নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। আজ রোববার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ‘স্তন ক্যান্সার সচেতনতা মাস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে স্তন ক্যান্সারের প্রকোপ বাড়ছে। শহরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলের নারীরাও এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। সচেতনতার অভাব ও চিকিৎসাসেবা গ্রহণে বিলম্বের কারণে অনেক নারী সময়মতো রোগ শনাক্ত করতে পারছেন না। এতে তাঁরা যথাযথ চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। স্তন ক্যান্সার নারীদের শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক সুস্থতা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রায়ও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সচেতনতা বাড়াতে চিকিৎসকদের আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, শুধু সভা-সেমিনার কিংবা টেলিভিশনে প্রচার চালিয়ে মানুষের মধ্যে কার্যকর সচেতনতা তৈরি করা সম্ভব নয়। এ জন্য চিকিৎসকদের সরাসরি জনগণের কাছে যেতে হবে। চিকিৎসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা দেশের সবচেয়ে মেধাবী সন্তান। বছরে অন্তত দুই-তিন দিন নিজের গ্রামে ফিরে যান। স্থানীয় নারীদের একত্র করে স্তন ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ এবং কীভাবে স্তন সম্পর্কে সচেতন থাকতে হয়, তা শেখান। এটি মানবতার সেবা এবং মহৎ কাজ।’ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, একসময় দেশে সংক্রামক ব্যাধিতে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটলেও বর্তমানে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ থেকে ৭৩ শতাংশের জন্য দায়ী অসংক্রামক রোগ। হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস ও ক্যান্সারের মতো রোগ মোকাবিলায় প্রতিরোধ, প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ এবং সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি জানান, দেশে প্রতি এক লাখ নারীর মধ্যে ১৫ জনের স্তন ক্যান্সার শনাক্ত হয়। আক্রান্ত নারীদের প্রায় ৬৩ শতাংশ কোনো ধরনের স্ক্রিনিংয়ের আওতায় আসেন না। ফলে অনেক ক্ষেত্রে রোগটি দেরিতে শনাক্ত হয় এবং চিকিৎসা জটিল হয়ে পড়ে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও স্ক্রিনিং কার্যক্রম সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাছির উদ্দীন। এ সময় ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) মহাসচিব ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম ফরহাদ হোসেনসহ স্বাস্থ্য খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
তৃণমূল পর্যায়ে স্তন ক্যান্সার স্ক্রিনিং চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
যেসব ভুলে কমছে পুরুষের প্রজনন হরমোন, করণীয় কী?
পুরুষের শরীরে এমন একটি হরমোন রয়েছে, যা শুধু যৌনস্বাস্থ্য নয়, পেশি গঠন, শুক্রাণু উৎপাদন ও প্রজননক্ষমতার সঙ্গেও সরাসরি জড়িত। সেই টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রা গত পাঁচ দশকে উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে বলে উঠে এসেছে এক গবেষণায়। ১৯৭২ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা জানিয়েছেন, এ সময়ে পুরুষদের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমেছে প্রায় ৫৪ শতাংশ। এ প্রবণতা পুরুষের প্রজননস্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অনুষ্ঠিত ইউরোপিয়ান সোসাইটি অব হিউম্যান রিপ্রোডাকশন অ্যান্ড এমব্রায়োলজির বার্ষিক সভায় গবেষণাটির ফলাফল তুলে ধরা হয়। এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান। কেন কমছে টেস্টোস্টেরন? টেস্টোস্টেরন পুরুষের প্রধান যৌন হরমোন। বয়ঃসন্ধিকালে শারীরিক পরিবর্তন, পেশি ও হাড়ের গঠন, শুক্রাণু উৎপাদন এবং যৌন আকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণে এ হরমোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে গেলে যৌন আকাঙ্ক্ষা হ্রাস, ক্লান্তি, পেশির শক্তি কমে যাওয়া এবং প্রজননস্বাস্থ্যে সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে এসব লক্ষণের অন্য কারণও থাকতে পারে। গবেষকদের ধারণা, টেস্টোস্টেরন কমে যাওয়ার পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। এর মধ্যে অতিরিক্ত ওজন, ডায়াবেটিস ও বিপাকীয় সমস্যার প্রভাব থাকতে পারে। পাশাপাশি পরিবেশে থাকা কিছু রাসায়নিক উপাদানও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন গৃহস্থালি পণ্য ও প্লাস্টিকে ব্যবহৃত কিছু রাসায়নিক শরীরের হরমোন নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে। এ ধরনের উপাদানকে বলা হয় এন্ডোক্রাইন-বিঘ্নকারী রাসায়নিক। এ ছাড়া বৈশ্বিক উষ্ণতা ও পরিবেশগত পরিবর্তনের সঙ্গে হরমোনের মাত্রার সম্পর্ক থাকতে পারে বলে গবেষকেরা ধারণা করছেন। তবে টেস্টোস্টেরন কমে যাওয়ার ক্ষেত্রে এসব কারণের প্রত্যেকটির ভূমিকা কতটা, তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। পুরুষের প্রজননস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ অবশ্য নতুন নয়। এর আগে বিভিন্ন গবেষণায় গত কয়েক দশকে পুরুষদের শুক্রাণুর সংখ্যা কমে যাওয়ার প্রবণতা উঠে এসেছে। টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমার তথ্য সেই উদ্বেগকে আরও জোরালো করেছে। ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের হরমোন বিশেষজ্ঞ চান্না জয়সেনা বলেন, বিভিন্ন সময়ের তথ্য নিয়ে গবেষণা করায় ফলাফলগুলোর মধ্যে ধারাবাহিকতা দেখা গেছে। তাঁর মতে, পুরুষের প্রজননস্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছে এবং সময়ের সঙ্গে এ প্রবণতা আরও বাড়ছে। তিনি বিষয়টিকে পুরো মানবজাতির জন্য একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা’ হিসেবে দেখার পরামর্শ দিয়েছেন। কী করণীয়? টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে যাওয়ার ঝুঁকি কমাতে শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা, নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং ডায়াবেটিসসহ দীর্ঘমেয়াদি রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। তবে জীবনযাপনের এসব অভ্যাস সব ক্ষেত্রে হরমোনের মাত্রা স্বাভাবিক রাখবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। অস্বাভাবিক ক্লান্তি, যৌন আকাঙ্ক্ষা কমে যাওয়া বা প্রজননসংক্রান্ত সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজন হলে চিকিৎসক উপসর্গ ও পরীক্ষার ফল বিবেচনা করে হরমোনের মাত্রা যাচাই করতে পারেন। শুধু একটি পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে নিজে থেকে টেস্টোস্টেরন গ্রহণ করা ঠিক নয়।
যেসব ভুলে কমছে পুরুষের প্রজনন হরমোন, করণীয় কী?
গোপনে দানা বাঁধছে পুরুষদের বন্ধ্যাত্ব, যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন!
বিশ্বজুড়ে প্রজনন সমস্যায় ভোগা দম্পতিদের প্রায় অর্ধেকের ক্ষেত্রে পুরুষের শরীরেও কোনো না কোনো ত্রুটি পাওয়া যায়। পুরুষের বন্ধ্যত্বের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এর কোনো স্পষ্ট লক্ষণ থাকে না। সাধারণত সন্তান ধারণে ব্যর্থ হওয়ার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেই এটি ধরা পড়ে। তবে কিছু ক্ষেত্রে শরীর আগেভাগেই ইঙ্গিত দেয়। নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে সতর্ক হওয়া জরুরি: ১. যৌন ইচ্ছা কমে যাওয়া ২. উত্থানের সমস্যা ৩. বীর্যপাতের সমস্যা ৪. অণ্ডকোষে ব্যথা বা ফোলা ভাব ৫. শরীরে হরমোনজনিত পরিবর্তন ৬. মুখ বা শরীরের লোম কমে যাওয়া   কীভাবে নির্ণয় করা হয় সঠিক চিকিৎসার জন্য আগে কারণ জানা দরকার। চিকিৎসকেরা সাধারণত চারটি পরীক্ষা করান: বীর্য পরীক্ষা: এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এতে শুক্রাণুর সংখ্যা, গতি, আকার ও গুণগত মান যাচাই করা হয়। রক্ত পরীক্ষা: বিভিন্ন হরমোনের মাত্রা দেখে হরমোনজনিত সমস্যা শনাক্ত করা হয়। আলট্রাসনোগ্রাফি: ভেরিকোসিল বা অন্য কোনো শারীরিক ত্রুটি আছে কি না, তা দেখা হয়। জিনগত পরীক্ষা: জিনগত কারণ সন্দেহ হলে বিশেষ ক্ষেত্রে এটি করা হয়।   কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন ১. এক বছর নিয়মিত অসুরক্ষিত যৌন সম্পর্কের পরও সন্তান না হলে ২. অণ্ডকোষে ব্যথা বা ফোলা ভাব থাকলে ৩. যৌনক্ষমতায় সমস্যা দেখা দিলে ৪. আগে অণ্ডকোষে আঘাত লাগলে বা অস্ত্রোপচার হয়ে থাকলে ৫. ক্যানসারের চিকিৎসা নিয়ে থাকলে
মশিউর অর্ণব
আরও পড়ুন
মাইগ্রেনের ব্যথা কমাতে ১১টি ঘরোয়া উপায়
X