
কুকুর বা বিড়ালের কামড়কে অনেকেই ছোটখাটো আঘাত মনে করে অবহেলা করেন। কিন্তু প্রাণীটি জলাতঙ্কে আক্রান্ত হলে সামান্য কামড় বা আঁচড় থেকেও মানুষের শরীরে রেবিস ভাইরাস প্রবেশ করতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—জলাতঙ্কের লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার পর রোগটি প্রায় সব ক্ষেত্রেই প্রাণঘাতী। তাই কোনো কুকুর বা বিড়াল কামড়ালে ভ্যাকসিন নেওয়ার ক্ষেত্রে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
কামড়ের কতক্ষণ পর ভ্যাকসিন নিতে হবে?
কুকুর বা বিড়াল কামড়ানোর পর যত দ্রুত সম্ভব, সম্ভব হলে একই দিনেই রেবিসের ভ্যাকসিন নেওয়ার জন্য চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। কামড়ের পর কয়েক দিন অপেক্ষা করে ভ্যাকসিন নেওয়া উচিত নয়। তবে কোনো কারণে কামড়ের পরপরই চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব না হলেও ভ্যাকসিন নেওয়া থেকে বিরত থাকা যাবে না। দেরি হয়ে গেলেও দ্রুত হাসপাতালে বা রেবিস ভ্যাকসিন কেন্দ্রে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
প্রথমেই ক্ষত ধুয়ে ফেলুন
কামড়ের পর ভ্যাকসিন নেওয়ার পাশাপাশি ক্ষত পরিষ্কার করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আক্রান্ত স্থানটি দ্রুত সাবান ও প্রবাহমান পানি দিয়ে প্রায় ১৫ মিনিট ভালোভাবে ধুতে হবে। এরপর প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জীবাণুনাশক ব্যবহার করা যেতে পারে। ক্ষতটি খুব ছোট হলেও বা রক্তপাত না হলেও বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। কারণ প্রাণীর লালার মাধ্যমে রেবিস ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করতে পারে।
সব কামড়ের ক্ষেত্রে কি একই চিকিৎসা?
না। কামড় বা আঁচড়ের ধরন, ক্ষতের গভীরতা, শরীরের কোন স্থানে আঘাত লেগেছে এবং আক্রান্ত প্রাণীটির অবস্থা—এসব বিষয় বিবেচনা করে চিকিৎসক সিদ্ধান্ত নেন কী ধরনের চিকিৎসা প্রয়োজন। চামড়া ভেদ করে কামড়, রক্তপাত, একাধিক কামড় বা মুখ-গলা, মাথা ও ঘাড়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আঘাত হলে ঝুঁকি বেশি হতে পারে। এসব ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া বিশেষ জরুরি। কিছু ক্ষেত্রে রেবিস ভ্যাকসিনের পাশাপাশি রেবিস ইমিউনোগ্লোবুলিন (RIG) দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। এটি ক্ষতের আশপাশে প্রয়োগ করে দ্রুত ভাইরাসের বিরুদ্ধে সুরক্ষা তৈরিতে সহায়তা করা হয়। RIG সাধারণত গুরুতর ধরনের সংস্পর্শের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে দেওয়া হয়।
পোষা প্রাণী কামড়ালেও কি ভ্যাকসিন লাগে?
পোষা প্রাণী হলেও ঝুঁকি একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। প্রাণীটির নিয়মিত রেবিস টিকা দেওয়া হয়েছে কি না, তার বর্তমান স্বাস্থ্য ও আচরণ এবং চিকিৎসকের মূল্যায়নের ওপর পরবর্তী ব্যবস্থা নির্ভর করে। কামড়ানোর পর প্রাণীটিকে নিরাপদভাবে পর্যবেক্ষণে রাখা সম্ভব হলে সেটিও চিকিৎসকের সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করতে পারে। তবে প্রাণীটিকে ধরতে গিয়ে নিজেকে ঝুঁকিতে ফেলা উচিত নয়।
দেরি হয়ে গেলে কী করবেন?
কামড়ের পর এক-দুই দিন বা তার বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও চিকিৎসা নেওয়া বন্ধ করা যাবে না। যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। বিশেষ করে জলাতঙ্কের লক্ষণ দেখা দেওয়ার আগে প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিজে থেকে ভ্যাকসিনের ডোজ বা সময়সূচি নির্ধারণ না করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পুরো কোর্স সম্পন্ন করতে হবে।
কুকুর বা বিড়ালের কামড়ের পর ‘ক্ষত ছোট’, ‘রক্ত বের হয়নি’ বা ‘পোষা প্রাণী’—এসব কারণে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। দ্রুত ক্ষত ধুয়ে ফেলা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী রেবিস ভ্যাকসিন ও অন্যান্য প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা নেওয়াই নিরাপদ পদক্ষেপ।




