ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

টিনিটাস : কানে শোঁ শোঁ শব্দ হলে কি করবেন

লাইফস্টাইল ডেস্ক

  ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪:১৭ পিএম
সংগৃহীত ছবি

নীরব পরিবেশে হঠাৎ কানে শোঁ শোঁ, টেলিভিশনের ঝিরঝির, ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক কিংবা ঘণ্টার মতো শব্দ শুনতে পাওয়া অনেকেরই পরিচিত অভিজ্ঞতা। আশপাশে এমন কোনো শব্দের উৎস না থাকলেও কানে এ ধরনের শব্দ শোনা গেলে তাকে টিনিটাস বলা হয়।

বুলেটিন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন


টিনিটাস নিজে কোনো নির্দিষ্ট রোগ নয়; বরং এটি বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার একটি উপসর্গ হতে পারে। কখনো সাময়িকভাবে এ সমস্যা দেখা দিতে পারে, আবার কারও ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনও স্থায়ী হতে পারে। তাই বারবার বা দীর্ঘস্থায়ীভাবে কানে অস্বাভাবিক শব্দ হলে বিষয়টি অবহেলা না করে কারণ খুঁজে বের করা জরুরি।


টিনিটাসে কেমন শব্দ শোনা যায়?
টিনিটাসের শব্দ সবার ক্ষেত্রে এক রকম হয় না। কেউ ঝিঁঝিঁ পোকার ডাকের মতো শব্দ শুনতে পারেন, আবার কারও কাছে এটি ঘণ্টা বাজা, হিসহিস, সমুদ্রের গর্জন কিংবা যন্ত্রের শব্দের মতো মনে হতে পারে। শব্দের তীব্রতাও ব্যক্তি ও কারণভেদে ভিন্ন হতে পারে। এক কানে বা দুই কানেই এই শব্দ অনুভূত হতে পারে। কারও ক্ষেত্রে এটি সারাক্ষণ থাকে, আবার কারও ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময় পরপর দেখা দেয়।
দীর্ঘস্থায়ী টিনিটাসের কারণে মনোযোগে সমস্যা, ঘুমের ব্যাঘাত, বিরক্তি, উদ্বেগ ও দৈনন্দিন কাজে অসুবিধা হতে পারে।


টিনিটাসের সম্ভাব্য কারণ
কানের সংক্রমণ বা অতিরিক্ত ময়লা: সর্দি, সাইনাস বা কানের সংক্রমণের কারণে কানের ভেতরে চাপ তৈরি হতে পারে। আবার অতিরিক্ত কানের ময়লা বা খৈল জমে শ্রবণপথে বাধা তৈরি হলেও টিনিটাস হতে পারে।
মাথায় আঘাত: মাথায় আঘাত বা কনকাশনের পরও কানে অস্বাভাবিক শব্দ শোনা যেতে পারে। বিশেষ করে মাথার এক পাশে আঘাত লাগলে এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
মাইগ্রেন: মাইগ্রেনের সঙ্গে কিছু মানুষের কান বন্ধ লাগা, শ্রবণশক্তির পরিবর্তন কিংবা টিনিটাসের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
চোয়ালের সমস্যা: কানের কাছের টেম্পোরোম্যান্ডিবুলার জয়েন্টে (টিএমজে) সমস্যা বা আঘাতের কারণেও টিনিটাস হতে পারে। টিনিটাসের পাশাপাশি চোয়াল বা দাঁতে সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
ওষুধের সমস্যা: নির্দিষ্ট কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবেও কানে অস্বাভাবিক শব্দ হতে পারে। বিশেষ করে কিছু ওষুধ বেশি মাত্রায় গ্রহণের সঙ্গে টিনিটাসের সম্পর্ক থাকতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবন করা উচিত নয়।
কানের হাড়ের সমস্যা: অটোস্ক্লেরোসিসের মতো কিছু সমস্যায় মধ্যকানের হাড়ে অস্বাভাবিক পরিবর্তন হতে পারে। এর ফলে শ্রবণশক্তি কমে যাওয়ার পাশাপাশি টিনিটাসও দেখা দিতে পারে।
মানসিক চাপ: অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও উদ্বেগের সঙ্গে টিনিটাসের তীব্রতা বাড়তে পারে। নিয়মিত অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণও কিছু মানুষের ক্ষেত্রে উপসর্গকে প্রভাবিত করতে পারে।


আরও যেসব সমস্যার সঙ্গে টিনিটাসের সম্পর্ক থাকতে পারে
মেনিয়ার্স ডিজিজ, ইউস্টেশিয়ান টিউবের সমস্যা, উচ্চ রক্তচাপ, রক্তনালির কিছু সমস্যা, ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের সমস্যা, অ্যানিমিয়া এবং কিছু অটোইমিউন রোগের সঙ্গেও টিনিটাসের সম্পর্ক থাকতে পারে। বিরল ক্ষেত্রে মাথা বা ঘাড়ের কিছু টিউমারের সঙ্গেও এটি যুক্ত হতে পারে।
তাই দীর্ঘদিন টিনিটাস থাকলে শুধু শব্দ বন্ধ করার চেষ্টা না করে এর প্রকৃত কারণ শনাক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ।


কারা বেশি ঝুঁকিতে?
যে কারও টিনিটাস হতে পারে। তবে কিছু কারণে ঝুঁকি বাড়তে পারে। যেমন—
• দীর্ঘসময় উচ্চ শব্দের মধ্যে থাকা
• উচ্চ শব্দে গান বা অন্য অডিও শোনা
• ভারী যন্ত্রপাতির শব্দের মধ্যে কাজ করা
• বয়স বাড়ার সঙ্গে শ্রবণশক্তির পরিবর্তন
• ধূমপান ও অ্যালকোহল গ্রহণ
• উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদ্রোগসহ কিছু শারীরিক সমস্যা
• মাথায় আঘাতের ইতিহাস
উচ্চ শব্দ থেকে কানকে সুরক্ষিত রাখা তাই গুরুত্বপূর্ণ। কর্মক্ষেত্রে অতিরিক্ত শব্দ থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী কানের সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার করা যেতে পারে।


টিনিটাস হলে কী করবেন?
প্রথমেই আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। কারণ টিনিটাসের অনেক কারণই চিকিৎসাযোগ্য। তবে শব্দটি বারবার হলে, দীর্ঘস্থায়ী হলে বা এর সঙ্গে শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া, মাথা ঘোরা, কানে ব্যথা কিংবা অন্য কোনো উপসর্গ থাকলে নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
কানের ভেতর অতিরিক্ত ময়লা জমেছে কি না, কানের সংক্রমণ রয়েছে কি না কিংবা শ্রবণশক্তিতে কোনো পরিবর্তন হয়েছে কি না—চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী এসব পরীক্ষা করতে পারেন।


নিজে থেকে কানের ভেতর কাঠি, কটনবাড বা অন্য কোনো সরু বস্তু ঢুকিয়ে ময়লা পরিষ্কার করা উচিত নয়। এতে কানের ক্ষতি হতে পারে এবং ময়লা আরও ভেতরে চলে যেতে পারে।


উচ্চ শব্দ এড়িয়ে চলা, অতিরিক্ত ক্যাফেইন কমানো, ধূমপান এড়িয়ে চলা এবং পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখাও উপকারী হতে পারে।


কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

  • হঠাৎ এক কানে টিনিটাসের সঙ্গে শ্রবণশক্তি কমে গেলে
  • মাথা ঘোরা বা ভারসাম্যহীনতার সঙ্গে টিনিটাস হলে
  • কানে ব্যথা, পুঁজ বা অন্য কোনো অস্বাভাবিকতা থাকলে
  • মাথায় আঘাত পাওয়ার পর কানে অস্বাভাবিক শব্দ শুরু হলে
  • শুধু এক কানে দীর্ঘদিন ধরে শব্দ হলে
  • হৃদ্‌স্পন্দনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ধুকধুক বা স্পন্দনের মতো শব্দ শুনলে
  • টিনিটাসের কারণে ঘুম, মনোযোগ বা দৈনন্দিন কাজে উল্লেখযোগ্য সমস্যা হলে

চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী কানের ভেতর পরীক্ষা, শ্রবণশক্তি পরীক্ষা বা অন্যান্য পরীক্ষা করতে পারেন। কানে অতিরিক্ত ময়লা, সংক্রমণ, শ্রবণশক্তির সমস্যা, কোনো ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা অন্য কোনো শারীরিক কারণ আছে কি না, তা দেখে চিকিৎসার পরামর্শ দেওয়া হয়।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, টিনিটাসের কারণ সবার ক্ষেত্রে এক নয়। তাই নিজের মতো করে ওষুধ খাওয়া, কানের ভেতর কটনবাড বা কোনো বস্তু ঢোকানো কিংবা নির্দিষ্ট কোনো ব্যায়ামকে সবার জন্য চিকিৎসা হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়। উপসর্গ দীর্ঘস্থায়ী হলে কারণ অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়াই নিরাপদ।

হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ জনের মৃত্যু, চলতি বছরে প্রাণহানি ১১৯৬
দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর হামের উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯২ জনে। একই সময়ে নিশ্চিত হামে মারা গেছেন আরও ১০৪ জন। সব মিলিয়ে চলতি বছরে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৯৬ জনে। রোববার (১৮ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর পাশাপাশি নিশ্চিত হামে মৃত্যুর ঘটনাও জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগ তৈরি করছে। চলতি বছরে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্কতা ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বুলেটিনে বলা হয়, শনিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগে ৩ জন, সিলেট বিভাগে ২ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১ জন এবং খুলনা বিভাগে ১ জন মারা গেছেন। এ সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ৩১৯ জন রোগী এসেছে। বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে ৫৩৮ জন, রাজশাহীতে ৩৭, সিলেটে ১২৩ , চট্টগ্রামে ২২১ জন, বরিশালে ২০৫, ময়মনসিংহে ৭৩, খুলনায় ৭৫, এবং রংপুরে ৪৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৮৯ হাজার ৪৮৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৮১ হাজার ৭৫৬ জন চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে সন্দেহজনক হামের রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৩ হাজার ২৪৪ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছেন ২৩ হাজার ১২২ জন।
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ জনের মৃত্যু, চলতি বছরে প্রাণহানি ১১৯৬
ডেঙ্গুতে এক দিনে আরও ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজার ৮৮
দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ উদ্বেগজনকভাবে অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত ২ হাজার ৮৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। রোববার (১৮ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪৮ জনে। এর মধ্যে শুধু অক্টোবরের প্রথম ১৭ দিনেই ১০৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর চলতি বছরের মাসভিত্তিক হিসাবে সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়। এ ছাড়া আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন এবং মে মাসে একজন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে। বছরের শুরুতে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি—প্রতি মাসে দুজন করে ডেঙ্গুতে মারা যান। বুলেটিনে বলা হয়, শনিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২ হাজার ৮৮ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২ হাজার ৪০০ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ হাজার ৮২৭ জন। এ পর্যন্ত মোট ৯৮ হাজার ৮৯৯ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে ১ হাজার ৫৮ জন। এছাড়া চট্টগ্রামে ১৬১ জন, খুলনায় ২৯০ জন, বরিশালে ১৯৯ জন, রাজশাহীতে ২০০ জন, ময়মনসিংহে ৯৩ জন এবং রংপুরে ৭২ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের প্রথম ১৭ দিনেই ডেঙ্গুতে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে গত ২৪ ঘণ্টায় দুই হাজারের বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
ডেঙ্গুতে এক দিনে আরও ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজার ৮৮
তৃণমূল পর্যায়ে স্তন ক্যান্সার স্ক্রিনিং চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
দেশের তৃণমূল পর্যায়ে স্তন ক্যান্সার স্ক্রিনিং কার্যক্রম চালু করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এ লক্ষ্যে স্বাস্থ্যসেবার অবকাঠামো উন্নয়ন, নতুন চিকিৎসক ও মিডওয়াইফ নিয়োগ এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, নারীদের মধ্যে স্তন ক্যান্সার বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করে চিকিৎসা নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। আজ রোববার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ‘স্তন ক্যান্সার সচেতনতা মাস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে স্তন ক্যান্সারের প্রকোপ বাড়ছে। শহরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলের নারীরাও এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। সচেতনতার অভাব ও চিকিৎসাসেবা গ্রহণে বিলম্বের কারণে অনেক নারী সময়মতো রোগ শনাক্ত করতে পারছেন না। এতে তাঁরা যথাযথ চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। স্তন ক্যান্সার নারীদের শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক সুস্থতা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রায়ও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সচেতনতা বাড়াতে চিকিৎসকদের আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, শুধু সভা-সেমিনার কিংবা টেলিভিশনে প্রচার চালিয়ে মানুষের মধ্যে কার্যকর সচেতনতা তৈরি করা সম্ভব নয়। এ জন্য চিকিৎসকদের সরাসরি জনগণের কাছে যেতে হবে। চিকিৎসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা দেশের সবচেয়ে মেধাবী সন্তান। বছরে অন্তত দুই-তিন দিন নিজের গ্রামে ফিরে যান। স্থানীয় নারীদের একত্র করে স্তন ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ এবং কীভাবে স্তন সম্পর্কে সচেতন থাকতে হয়, তা শেখান। এটি মানবতার সেবা এবং মহৎ কাজ।’ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, একসময় দেশে সংক্রামক ব্যাধিতে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটলেও বর্তমানে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ থেকে ৭৩ শতাংশের জন্য দায়ী অসংক্রামক রোগ। হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস ও ক্যান্সারের মতো রোগ মোকাবিলায় প্রতিরোধ, প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ এবং সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি জানান, দেশে প্রতি এক লাখ নারীর মধ্যে ১৫ জনের স্তন ক্যান্সার শনাক্ত হয়। আক্রান্ত নারীদের প্রায় ৬৩ শতাংশ কোনো ধরনের স্ক্রিনিংয়ের আওতায় আসেন না। ফলে অনেক ক্ষেত্রে রোগটি দেরিতে শনাক্ত হয় এবং চিকিৎসা জটিল হয়ে পড়ে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও স্ক্রিনিং কার্যক্রম সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাছির উদ্দীন। এ সময় ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) মহাসচিব ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম ফরহাদ হোসেনসহ স্বাস্থ্য খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
তৃণমূল পর্যায়ে স্তন ক্যান্সার স্ক্রিনিং চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
যেসব ভুলে কমছে পুরুষের প্রজনন হরমোন, করণীয় কী?
পুরুষের শরীরে এমন একটি হরমোন রয়েছে, যা শুধু যৌনস্বাস্থ্য নয়, পেশি গঠন, শুক্রাণু উৎপাদন ও প্রজননক্ষমতার সঙ্গেও সরাসরি জড়িত। সেই টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রা গত পাঁচ দশকে উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে বলে উঠে এসেছে এক গবেষণায়। ১৯৭২ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা জানিয়েছেন, এ সময়ে পুরুষদের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমেছে প্রায় ৫৪ শতাংশ। এ প্রবণতা পুরুষের প্রজননস্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অনুষ্ঠিত ইউরোপিয়ান সোসাইটি অব হিউম্যান রিপ্রোডাকশন অ্যান্ড এমব্রায়োলজির বার্ষিক সভায় গবেষণাটির ফলাফল তুলে ধরা হয়। এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান। কেন কমছে টেস্টোস্টেরন? টেস্টোস্টেরন পুরুষের প্রধান যৌন হরমোন। বয়ঃসন্ধিকালে শারীরিক পরিবর্তন, পেশি ও হাড়ের গঠন, শুক্রাণু উৎপাদন এবং যৌন আকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণে এ হরমোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে গেলে যৌন আকাঙ্ক্ষা হ্রাস, ক্লান্তি, পেশির শক্তি কমে যাওয়া এবং প্রজননস্বাস্থ্যে সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে এসব লক্ষণের অন্য কারণও থাকতে পারে। গবেষকদের ধারণা, টেস্টোস্টেরন কমে যাওয়ার পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। এর মধ্যে অতিরিক্ত ওজন, ডায়াবেটিস ও বিপাকীয় সমস্যার প্রভাব থাকতে পারে। পাশাপাশি পরিবেশে থাকা কিছু রাসায়নিক উপাদানও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন গৃহস্থালি পণ্য ও প্লাস্টিকে ব্যবহৃত কিছু রাসায়নিক শরীরের হরমোন নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে। এ ধরনের উপাদানকে বলা হয় এন্ডোক্রাইন-বিঘ্নকারী রাসায়নিক। এ ছাড়া বৈশ্বিক উষ্ণতা ও পরিবেশগত পরিবর্তনের সঙ্গে হরমোনের মাত্রার সম্পর্ক থাকতে পারে বলে গবেষকেরা ধারণা করছেন। তবে টেস্টোস্টেরন কমে যাওয়ার ক্ষেত্রে এসব কারণের প্রত্যেকটির ভূমিকা কতটা, তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। পুরুষের প্রজননস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ অবশ্য নতুন নয়। এর আগে বিভিন্ন গবেষণায় গত কয়েক দশকে পুরুষদের শুক্রাণুর সংখ্যা কমে যাওয়ার প্রবণতা উঠে এসেছে। টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমার তথ্য সেই উদ্বেগকে আরও জোরালো করেছে। ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের হরমোন বিশেষজ্ঞ চান্না জয়সেনা বলেন, বিভিন্ন সময়ের তথ্য নিয়ে গবেষণা করায় ফলাফলগুলোর মধ্যে ধারাবাহিকতা দেখা গেছে। তাঁর মতে, পুরুষের প্রজননস্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছে এবং সময়ের সঙ্গে এ প্রবণতা আরও বাড়ছে। তিনি বিষয়টিকে পুরো মানবজাতির জন্য একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা’ হিসেবে দেখার পরামর্শ দিয়েছেন। কী করণীয়? টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে যাওয়ার ঝুঁকি কমাতে শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা, নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং ডায়াবেটিসসহ দীর্ঘমেয়াদি রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। তবে জীবনযাপনের এসব অভ্যাস সব ক্ষেত্রে হরমোনের মাত্রা স্বাভাবিক রাখবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। অস্বাভাবিক ক্লান্তি, যৌন আকাঙ্ক্ষা কমে যাওয়া বা প্রজননসংক্রান্ত সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজন হলে চিকিৎসক উপসর্গ ও পরীক্ষার ফল বিবেচনা করে হরমোনের মাত্রা যাচাই করতে পারেন। শুধু একটি পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে নিজে থেকে টেস্টোস্টেরন গ্রহণ করা ঠিক নয়।
যেসব ভুলে কমছে পুরুষের প্রজনন হরমোন, করণীয় কী?
গোপনে দানা বাঁধছে পুরুষদের বন্ধ্যাত্ব, যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন!
বিশ্বজুড়ে প্রজনন সমস্যায় ভোগা দম্পতিদের প্রায় অর্ধেকের ক্ষেত্রে পুরুষের শরীরেও কোনো না কোনো ত্রুটি পাওয়া যায়। পুরুষের বন্ধ্যত্বের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এর কোনো স্পষ্ট লক্ষণ থাকে না। সাধারণত সন্তান ধারণে ব্যর্থ হওয়ার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেই এটি ধরা পড়ে। তবে কিছু ক্ষেত্রে শরীর আগেভাগেই ইঙ্গিত দেয়। নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে সতর্ক হওয়া জরুরি: ১. যৌন ইচ্ছা কমে যাওয়া ২. উত্থানের সমস্যা ৩. বীর্যপাতের সমস্যা ৪. অণ্ডকোষে ব্যথা বা ফোলা ভাব ৫. শরীরে হরমোনজনিত পরিবর্তন ৬. মুখ বা শরীরের লোম কমে যাওয়া   কীভাবে নির্ণয় করা হয় সঠিক চিকিৎসার জন্য আগে কারণ জানা দরকার। চিকিৎসকেরা সাধারণত চারটি পরীক্ষা করান: বীর্য পরীক্ষা: এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এতে শুক্রাণুর সংখ্যা, গতি, আকার ও গুণগত মান যাচাই করা হয়। রক্ত পরীক্ষা: বিভিন্ন হরমোনের মাত্রা দেখে হরমোনজনিত সমস্যা শনাক্ত করা হয়। আলট্রাসনোগ্রাফি: ভেরিকোসিল বা অন্য কোনো শারীরিক ত্রুটি আছে কি না, তা দেখা হয়। জিনগত পরীক্ষা: জিনগত কারণ সন্দেহ হলে বিশেষ ক্ষেত্রে এটি করা হয়।   কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন ১. এক বছর নিয়মিত অসুরক্ষিত যৌন সম্পর্কের পরও সন্তান না হলে ২. অণ্ডকোষে ব্যথা বা ফোলা ভাব থাকলে ৩. যৌনক্ষমতায় সমস্যা দেখা দিলে ৪. আগে অণ্ডকোষে আঘাত লাগলে বা অস্ত্রোপচার হয়ে থাকলে ৫. ক্যানসারের চিকিৎসা নিয়ে থাকলে
মশিউর অর্ণব
আরও পড়ুন
বারোবাজারে বিনামূল্যে ৩১০ চক্ষু রোগীকে চিকিৎসাসেবা
বিনামূল্যে চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে বাবা-মায়ের কোলে ফিরল খাদিজা
ডা. মুজিব নিউবর্ন ফাউন্ডেশনের বিনামূল্যে সেবায় শিশু খাদিজা এখন সুস্থ
চিকিৎসাসেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জনপ্রশাসন উপদেষ্টার
X