
এক ব্যবসায়ীকে মারধর করে তার কাছ থেকে ৫ লাখ ৫০ হাজার রুপি চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে এক অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তে ওই অভিনেত্রীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অভিযোগসংশ্লিষ্ট অর্থের লেনদেনের প্রমাণও পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) পুলিশ এ তথ্য জানায়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্রেপ্তার অভিনেত্রীর নাম বর্ষিণী ভেঙ্কট। তার বয়স ২৮ বছর।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্ষিণী ভেঙ্কট ও তার কয়েকজন বন্ধু তরুণ নামের এক ব্যবসায়ীকে তাদের প্রস্তাবিত একটি শর্টফিল্মে অর্থ বিনিয়োগের জন্য অনুরোধ করেছিলেন। তবে ব্যবসায়ী ওই প্রস্তাবে রাজি হননি।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২২ আগস্ট ভোরে বাইরে থেকে নিজের ছোট ঘরে ফিরে আসেন ওই ব্যবসায়ী। এ সময় সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন বর্ষিণী, তার বন্ধু সঞ্জয় এবং আরও দুজন। তারা ব্যবসায়ীকে মারধর করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
একপর্যায়ে তার কাছ থেকে জোরপূর্বক ৫০ হাজার রুপি নগদ নিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে ওই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মোট ৫ লাখ ৫০ হাজার রুপি চাঁদা আদায়ের অভিযোগ সামনে আসে। তদন্তে অর্থ লেনদেনের কিছু তথ্য-প্রমাণও পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এরপর সঞ্জয়ের কাছ থেকে চাঁদাবাজির ফোন পেয়ে ব্যবসায়ী তরুণ বর্ষিণীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে তিন লাখ এবং সঞ্জয়ের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আরও দুই লাখ রুপি পাঠাতে বাধ্য হন। মোট ৫ লাখ ৫০ হাজার রুপি দেয়ার পরও তাকে ভয়ভীতি দেখাতে থাকেন সঞ্জয়। পাশাপাশি আরও ২৭ লাখ রুপি চাঁদা দাবি করেন।
এ ঘটনায় ব্যবসায়ী তরুণ অভিযোগ দায়ের করলে গুইন্ডি থানা পুলিশ একটি মামলা করে ঘটনাটি তদন্ত শুরু করে। অভিযোগকারীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য যাচাই করে অভিনেত্রী বর্ষিণীর অ্যাকাউন্টে অর্থ স্থানান্তরের সত্যতা পাওয়া যায়। পরবর্তীতে গত ২২ সেপ্টেম্বর মাইলাপুরের বাসিন্দা অভিযুক্ত অভিনেত্রী বর্ষিণীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে একটি আইফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়।
অভিনেত্রীকে পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয় এবং বিচারক তাকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠায়। আর এর সঙ্গে জড়িত অভিনেত্রীর সহযোগীদের গ্রেপ্তার করার জন্য অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।




