ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

জার্মানিতে যেতে চান, ভিসা-খরচ ও আবেদনের নিয়ম জেনে নিন

অনলাইন ডেস্ক

  ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬:১৪ পিএম
ছবি:সংগৃহীত

উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যেতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের কাছে জার্মানি অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য। তুলনামূলক কম শিক্ষাব্যয়, উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের সহায়তা, পড়াশোনা শেষে চাকরির সুযোগ এবং জীবনযাত্রার মান—সব মিলিয়ে প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে শিক্ষার্থীরা জার্মানিতে পড়তে যান।

বুলেটিন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

কিউএসের সেরা শিক্ষার্থী শহরের তালিকায় জার্মানির তিনটি শহরও রয়েছে। এর মধ্যে মিউনিখ সবচেয়ে ওপরে, এরপর রয়েছে রাজধানী বার্লিন ও স্টুটগার্ট। শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ, বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি এবং বসবাসের উপযোগিতার কারণে এসব শহর আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছে আকর্ষণীয়।

জার্মান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষাব্যবস্থাতেও ব্যবহারিক জ্ঞানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা শুধু শ্রেণিকক্ষে পড়াশোনা নয়, বাস্তব কর্মক্ষেত্রে সেই জ্ঞান প্রয়োগের সুযোগও পান। দেশটির বেশ কিছু সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্যও তুলনামূলক কম বা কোনো টিউশন ফি নেই। তবে বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রদেশভেদে ফি-এর নিয়ম আলাদা হতে পারে।

জার্মানিতে শিক্ষার্থী ভিসার ধরন
ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে বসবাসকারী শিক্ষার্থীদের জন্য জার্মানিতে পড়াশোনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের ভিসার ব্যবস্থা রয়েছে।

সাধারণ শিক্ষার্থী ভিসা: স্নাতক, স্নাতকোত্তর বা গবেষণা কর্মসূচিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা এই ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সন্ধানের ভিসা: যারা জার্মানিতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ খুঁজতে চান, তাদের জন্য এই ভিসা।

ভাষা শেখার ভিসা: জার্মান ভাষার নিবিড় কোর্সে ভর্তি শিক্ষার্থীদের জন্য এই ভিসা দেওয়া হয়।

এ ছাড়া জার্মান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করা শিক্ষার্থীরা চাকরি খোঁজার জন্য নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত দেশটিতে থাকার অনুমতিও পেতে পারেন।

ভিসার জন্য যেসব কাগজ লাগবে
জার্মানির শিক্ষার্থী ভিসার আবেদনের ক্ষেত্রে সাধারণত প্রয়োজন হয়—বৈধ পাসপোর্ট, স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি বা গ্রহণপত্র, পর্যাপ্ত অর্থের প্রমাণ, স্বাস্থ্যবিমার প্রমাণ, জার্মান বা ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার প্রমাণ (যদি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান তা চায়), বায়োমেট্রিক ছবি, জার্মানিতে থাকার ঠিকানার প্রমাণ, ভিসা আবেদনের ফি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক বছরের জন্য অন্তত ১১ হাজার ৯০৪ পাউন্ড সমপরিমাণ অর্থের আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ দেখাতে হতে পারে। এটি ব্যাংক হিসাব, বৃত্তি বা স্পনসরের মাধ্যমে দেখানো যেতে পারে। তবে আবেদনকারীর দেশ ও ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে পরিবর্তন হতে পারে।

ভাষা জানার শর্ত
জার্মান শিক্ষার্থী ভিসার জন্য সবার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো ভাষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক নয়। তবে দৈনন্দিন জীবনযাপনে সুবিধার জন্য জার্মান সরকার অন্তত বি১ পর্যায়ের জার্মান ভাষাজ্ঞান থাকার পরামর্শ দেয়।

বিশ্ববিদ্যালয় বা নির্দিষ্ট কোর্সে ভর্তির ক্ষেত্রে জার্মান অথবা ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার প্রমাণ চাওয়া হতে পারে। জার্মান ভাষার দক্ষতা যাচাইয়ের জন্য গোয়েথে-জার্টিফিকেট ও টেস্টডাফের মতো পরীক্ষা প্রচলিত।

জার্মানিতে পড়তে কত খরচ?
জার্মানিতে শিক্ষার্থীদের প্রধান খরচের মধ্যে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফি এবং জীবনযাত্রার ব্যয়। অনেক সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্যও টিউশন ফি নেই। তবে সব বিশ্ববিদ্যালয় বা সব প্রদেশে একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়।

জার্মান একাডেমিক এক্সচেঞ্জ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, একজন শিক্ষার্থীর মাসে গড়ে প্রায় ৯০০ থেকে ১ হাজার ২০০ পাউন্ড পর্যন্ত খরচ হতে পারে। এর মধ্যে বাসাভাড়া, খাবার, স্বাস্থ্যবিমা, যাতায়াত, ফোন ও ইন্টারনেট, পড়াশোনার উপকরণ এবং বিনোদনের খরচ অন্তর্ভুক্ত।

কীভাবে আবেদন করবেন?
প্রথমে জার্মানির পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্স নির্বাচন করে আবেদন করতে হবে। ভর্তি নিশ্চিত হলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রহণপত্র নিতে হবে।

এরপর আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ প্রস্তুত করতে হবে। এর মধ্যে এক বছরের খরচের জন্য ব্লকড ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, বৃত্তির প্রমাণ অথবা জার্মানিতে থাকা কোনো ব্যক্তির আর্থিক দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা থাকতে পারে।

সব প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে কনস্যুলার সার্ভিসেস পোর্টাল অথবা সংশ্লিষ্ট জার্মান দূতাবাসে আবেদন করতে হবে। ভিসা সাক্ষাৎকারে পড়াশোনা, অর্থের উৎস এবং পড়াশোনা শেষে পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হতে পারে।

ভিসা অনুমোদন হলে জার্মানিতে গিয়ে নতুন ঠিকানা নিবন্ধন করতে হবে, স্বাস্থ্যবিমা সক্রিয় করতে হবে এবং ব্যাংক হিসাব খুলতে হবে। প্রবেশ ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে স্থানীয় বিদেশি নাগরিক দপ্তর থেকে আবাসিক অনুমতিও নিতে হবে।

শিক্ষার্থীরা কী করতে পারবেন?
জার্মান শিক্ষার্থী ভিসাধারীরা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করতে পারেন। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সেমিস্টার চলাকালে সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা কাজ এবং ছুটির সময়ে পূর্ণকালীন কাজের সুযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া বৈধ জার্মান ভিসা থাকলে শেনজেন এলাকার বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করা যায় এবং নিজ দেশেও যাওয়া-আসা করা যায়।

তবে অনুমোদিত সময়ের বেশি কাজ করা বা পড়াশোনা বন্ধ করে দেওয়া যাবে না। স্থায়ী বাসিন্দা বা নাগরিকদের জন্য নির্দিষ্ট কিছু সরকারি সুবিধাও শিক্ষার্থী ভিসাধারীরা পাবেন না।

জার্মানির কয়েকটি শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়
কিউএসের তালিকা অনুযায়ী জার্মানির উল্লেখযোগ্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রয়েছে—

১. টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি অব মিউনিখ

২. লুডভিগ ম্যাক্সিমিলিয়ান ইউনিভার্সিটি অব মিউনিখ

৩. হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়

৪. ফ্রি ইউনিভার্সিটি অব বার্লিন

৫. আরডব্লিউটিএইচ আচেন বিশ্ববিদ্যালয়

৬. কার্লসরুহে ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি

৭. হামবোল্ট ইউনিভার্সিটি অব বার্লিন

৮. টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি অব বার্লিন

৯. টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি অব ড্রেসডেন

বন বিশ্ববিদ্যালয়
ভিসা ও অভিবাসন সংক্রান্ত নিয়ম সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে জার্মান সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও স্থানীয় জার্মান দূতাবাসের সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করা জরুরি।
সূত্র: এনডিটিভি

আকাশে দরজা খুলে গেল ভারতের এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের: অতপর
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলা থেকে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা যাওয়ার পথে মাঝআকাশে একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের দরজা খুলে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে থাকা রোগীর স্বজনরা সাহসিকতার সঙ্গে দরজাটি ধরে রাখেন। পরে ফ্লাইটটি ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। রবিবার (১৮ অক্টোবর) বিকেলের দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।  বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, ছোট আকারের এই এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি ভারতের ‘এসকেবি ইনফ্র্যাকন প্রাইভেট লিমিটেড’-এর মালিকানাধীন। জরুরি অবতরণের পর দ্রুত বিমানবন্দর থেকে অসুস্থ রোগী অঞ্জনা ভৌমিককে ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানে মারা যান তিনি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালকের মুখপাত্র মো. রিয়াজ উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এটি ভারতের একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট। বাংলাদেশের ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ছোট্ট উড়োজাহাজটির দরজা খুলে গেলে এটি ঢাকার কন্ট্রোল টাওয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঢাকায় অবতরণের অনুমতি চায়। পরে যানটিতে থাকা রোগীকে ঢাকার কুর্মিটোলা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। ফ্লাইটটিতে পাইলট হিসেবে ছিলেন, ক্যাপ্টেন পূন্য অনূপ ও ক্যাপ্টেন তনুজ শর্মা। এছাড়া এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটিতে রোগীসহ মোট সাতজন আরোহী ছিলেন। যাত্রীদের মধ্যে ছিলেন, অঞ্জনা ভৌমিক (রোগী), তার দুই স্বজন শান্তা ভৌমিক ও দ্বীপ জয়তি মুশরিপ, চিকিৎসক ডা. ফিরোজ খান এবং প্যারামেডিকস আজিম খান।  বিমানবন্দর সূত্র জানিয়েছে, ফ্লাইটে থাকা অন্যরা সুস্থ আছেন। এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট ছিল। তাই তাদের কোনো পাসপোর্ট বা ভিসা নেই। বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাদের দেশে পাঠানো হবে। 
আকাশে দরজা খুলে গেল ভারতের এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের: অতপর
হুথি হামলার আশঙ্কা, রিয়াদে অফিস বন্ধের নির্দেশ; সতর্ক যুক্তরাষ্ট্র
ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিদের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের অন্যতম প্রধান আকাশচুম্বী ভবন কিংডম সেন্টারের সব অফিসে হোম অফিসের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রোববার থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ভবনটির সব অফিসের কার্যক্রম বাসা থেকে পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে ভবনটির নিচতলার শপিংমল খোলা রয়েছে। ভবনটির ভাড়াটিয়াদের কাছে পাঠানো এক ই-মেইল বার্তায় অফিস ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সময়ে কর্মীদের অফিসে না আসার অনুরোধ জানিয়েছে। ৯৯ তলাবিশিষ্ট কিংডম সেন্টার রিয়াদের অন্যতম পরিচিত বাণিজ্যিক ও স্থাপত্য নিদর্শন। এদিকে, সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে হুথিদের সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে নিজ দেশের নাগরিকদের সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় আকাশপথে ভ্রমণের ক্ষেত্রে মার্কিন নাগরিকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শনিবার জারি করা এক নিরাপত্তা সতর্কবার্তায় সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন মিশন দেশটিতে অবস্থানরত আমেরিকানদের সম্ভাব্য বিমানবন্দর হামলার বিষয়ে সতর্ক করে। একই সঙ্গে আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাওয়া, ফ্লাইট বাতিল এবং অন্যান্য ভ্রমণসংক্রান্ত বিঘ্নের আশঙ্কার কথাও জানানো হয়। নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে সৌদি আরবে কর্মক্ষেত্র ও বিমান চলাচল নিয়ে সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ভ্রমণকারীদের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মার্কিন মিশন বলেছে, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম এখনও স্থগিত রয়েছে। তবে জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালু রয়েছে। যদিও এই দুই বিমানবন্দরে কিছু ফ্লাইটের উড্ডয়ন এবং অবতরণ বিলম্ব ও বাতিল অব্যাহত রয়েছে। সতর্কবার্তায় যেসব আমেরিকান সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলো দিয়ে ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাদের ভ্রমণের আগে অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন এবং সরাসরি এয়ারলাইন্স ও বিমানবন্দরগুলোর কাছ থেকে ফ্লাইটের অবস্থা যাচাই করে নিতে বলা হয়েছে। যাত্রীদের আরও হামলার সম্ভাবনা এবং ফ্লাইটের সময়সূচি বা আকাশসীমার প্রাপ্যতার আকস্মিক পরিবর্তনের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নাগরিকদের মোবাইল ফোন অ্যালার্টের মাধ্যমে সৌদি আরবের সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষের জারি করা জাতীয় জরুরি সতর্কতা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে মার্কিন মিশন।
হুথি হামলার আশঙ্কা, রিয়াদে অফিস বন্ধের নির্দেশ; সতর্ক যুক্তরাষ্ট্র
মার্কিন নাগরিক সেজে ভোট দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় গ্রেপ্তার
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বলে মিথ্যা দাবি করে ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অভিযোগে ভারতীয় নাগরিক মুকেশকুমার সোমাভাই চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা (আইসিই)। তার বিরুদ্ধে ভোটসংক্রান্ত মিথ্যা তথ্য দেওয়া এবং ভোট দিতে নাগরিকত্বের মিথ্যা দাবি করার অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে প্রতিটি অভিযোগে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের ১৬ অক্টোবর প্রকাশিত বিবৃতির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর মিনেসোটার একটি ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি চৌধুরীর বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগে অভিযোগপত্র দাখিল করে। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ২০২৪ সালের ৫ নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ভোট দেওয়ার জন্য মিনেসোটার আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় একটি সনদে স্বাক্ষর করেন চৌধুরী। ওই সনদে তাকে শপথ করে বা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করতে হয়েছিল যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। তবে সরকারি আইনজীবীদের অভিযোগ, মার্কিন নাগরিক না হয়েও বিষয়টি জেনেশুনে নাগরিকত্বের মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে ভোট দেন তিনি। চৌধুরীর বিরুদ্ধে ভোটের ক্ষেত্রে মিথ্যা তথ্য দেওয়া এবং ভোটার হিসেবে নিবন্ধন বা ভোট দেওয়ার উদ্দেশ্যে মার্কিন নাগরিকত্বের মিথ্যা দাবি করার অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে প্রতিটি অভিযোগে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড হতে পারে। তবে তার প্রকৃত সাজা নির্ধারণ করবেন ফেডারেল বিচারক। এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সাজা নির্দেশিকা ও অন্যান্য আইনি বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হবে। মামলাটির তদন্ত করছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস। তদন্তে সহায়তা করছে মিনেসোটার ফিলমোর কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়। বিচার বিভাগের নাগরিক অধিকার বিভাগের অপরাধবিষয়ক শাখা মামলাটি পরিচালনা করছে। সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
মার্কিন নাগরিক সেজে ভোট দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় গ্রেপ্তার
ক্যালিফোর্নিয়ার ৩ শহরে কাউন্সিলর পদে লড়ছেন ৩ বাংলাদেশি
যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের তিনটি শহরের নগর পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তিন প্রার্থী। তারা হলেন লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির মন্টেবেলো শহরে শাজিয়া হক, রিভারসাইড কাউন্টির পেরিস শহরে মোহাম্মদ রহমান এবং সান বার্নার্ডিনো কাউন্টির চিনো শহরে এম এস আলম। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচন সামনে রেখে তিন প্রার্থীই প্রচার চালাচ্ছেন। স্থানীয় বাংলাদেশি-আমেরিকান সম্প্রদায়ের অনেকে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। কেউ আর্থিক সহায়তা দিচ্ছেন, কেউ নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহে সহযোগিতা করছেন, আবার কেউ উৎসাহ ও নৈতিক সমর্থন জোগাচ্ছেন। মূলধারার রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ চান শাজিয়া লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির মন্টেবেলো শহরের ১ নম্বর ওয়ার্ড থেকে নগর পরিষদ নির্বাচনে লড়ছেন শাজিয়া হক। এ পদে তার প্রতিদ্বন্দ্বী জর্জিনা তামায়ো, কিম্বারলি কোবোস ক্যাথর্ন ও রাফায়েল সান্তোয়া। ব্যবসা, লেখালেখি ও সামাজিক নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্ত শাজিয়ার দাবি, ব্যবসা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে তার প্রায় ২০ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে। নির্বাচিত হলে নগর প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি, দায়িত্বশীল বাজেট ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ পাড়া এবং স্থানীয় ব্যবসার বিকাশে কাজ করতে চান তিনি। নগর কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে বাসিন্দাদের মতামত নিশ্চিত করাও তার লক্ষ্য। গণমাধ্যমকে শাজিয়া বলেন, বাংলাদেশি-আমেরিকান নারী হিসেবে তিনি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের অন্য জাতিগোষ্ঠীর তুলনায় তাদের প্রতিনিধিত্ব পিছিয়ে রয়েছে। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের সুযোগ ও সুবিধা কাজে লাগাতে হলে মূলধারার রাজনীতিতে যুক্ত হতে হবে এবং পরবর্তী প্রজন্মের জন্য পথ তৈরি করতে হবে। জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী মোহাম্মদ রহমান রিভারসাইড কাউন্টির পেরিস শহরের ১ নম্বর ওয়ার্ড থেকে প্রার্থী হয়েছেন মোহাম্মদ রহমান। তার প্রতিদ্বন্দ্বী গুয়াদালুপে গোমেজ ও হুয়ান কার্লোস ফ্রাঙ্কো। যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগে ২৭ বছর কাজ করেছেন মোহাম্মদ রহমান। দীর্ঘ কর্মজীবনে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের অভিজ্ঞতা নির্বাচনী প্রচারে তাকে সহায়তা করছে বলে মনে করেন তিনি। কর্মজীবনের সুবাদে অনেক ভোটার তাকে আগে থেকেই চেনেন, যা জয়ের ব্যাপারে তাকে আশাবাদী করে তুলেছে। তার নির্বাচনী অঙ্গীকারের মধ্যে রয়েছে জননিরাপত্তা, সাশ্রয়ী আবাসন, ক্ষুদ্র ব্যবসার বিকাশ এবং তরুণদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি। পাশাপাশি পাড়ায় নজরদারি, পর্যাপ্ত সড়কবাতি, উন্নত ফুটপাত ও জননিরাপত্তা জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। প্রকৌশল অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চান এম এস আলম সান বার্নার্ডিনো কাউন্টির চিনো শহরের ৩ নম্বর ওয়ার্ড থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন প্রকৌশলী এম এস আলম। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান নগর পরিষদ সদস্য মার্ক লুসিও। এম এস আলম ক্যালিফোর্নিয়ার পরিবহন বিভাগের সপ্তম জেলায় পূর্ণকালীন প্রকল্প ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করেন। পাশাপাশি তিনি ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি, লং বিচে খণ্ডকালীন শিক্ষকতা করেন। লস অ্যাঞ্জেলেসের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবহন প্রকৌশল নিয়ে গবেষণা ও পিএইচডি পর্যায়ের কাজের অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার। তিনি চিনো শহরে বসবাস করছেন ১৮ বছর ধরে। নির্বাচিত হলে পরিকল্পিত নগরায়ণ, উন্নত গণপরিবহন, শক্তিশালী অবকাঠামো, দায়িত্বশীল উন্নয়ন এবং মানসম্মত নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে চান এম এস আলম। তার লক্ষ্য, বর্তমান বাসিন্দাদের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করা। নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কঠোর পরিশ্রম করবেন বলেও গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশিদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর লড়াই তিন প্রার্থীর নির্বাচনী অঙ্গীকারে পার্থক্য থাকলেও তাদের লক্ষ্য এক—যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় রাজনীতিতে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো। শাজিয়া হক নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণে গুরুত্ব দিচ্ছেন, মোহাম্মদ রহমান আবাসন ও জননিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। আর এম এস আলম প্রকৌশল ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে পরিকল্পিত নগর উন্নয়নের কথা বলছেন। যুক্তরাষ্ট্রে নগর পরিষদের সিদ্ধান্ত সরাসরি বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলে। সড়ক, গণপরিবহন, আবাসন, জননিরাপত্তা, নগর পরিকল্পনা ও স্থানীয় ব্যবসার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে এসব পরিষদের ভূমিকা রয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বর মন্টেবেলো, পেরিস ও চিনো শহরের ভোটাররা তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন। তিন বাংলাদেশি-আমেরিকান প্রার্থীর জন্য এই লড়াই শুধু নির্বাচনে জয়ী হওয়ার নয়; স্থানীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব প্রতিষ্ঠারও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা।
ক্যালিফোর্নিয়ার ৩ শহরে কাউন্সিলর পদে লড়ছেন ৩ বাংলাদেশি
কানাডার সেনাঘাঁটিতে ভয়াবহ আগুন
কানাডার অন্যতম ব্যস্ত সামরিক ঘাঁটি হলো আলবার্টার সেনাঘাঁটি। যেখানে আগুনে লেগে বেশ কয়েকজন নিহত ও আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় শনিবার রাতে (১৭ অক্টোবর) এ তথ্য জানিয়েছেন কানাডার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ জানিয়েছে, বিকাল ৪টার দিকে ঘাঁটি থেকে তাদের কাছে সহায়তা চাওয়া হয়। আগুন লাগলেও ওই শহরের বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার জন্য কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে এলাকাটি এড়িয়ে চলা, সড়ক খোলা রাখা এবং ওয়াইনরাইটের স্বাস্থ্যকেন্দ্র খুব বেশি প্রয়োজন না হলে না যাওয়ার অনুরোধ করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডেভিড ম্যাকগুইন্টি এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ নিয়ে বলেন, আমি দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি সেখানে নিহত ও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হলো এবং কতজন আহত ও নিহত হয়েছেন সেটি স্পষ্ট করেননি ডেভিড ম্যাকগুইন্টি। তিনি শুধু বলেছেন, আগুনটি সক্রিয় এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। উচ্চ বাতাসের কারণে আগুনটি দ্রুত ছড়াচ্ছে। আলবার্টার প্রাদেশিক রাজধানী এডমন্টন থেকে ২১০ কিলোমিটার দক্ষিণপূর্বাঞ্চলে অবস্থিত ওয়াইনরাইট শহর। সেখানকার সেনাঘাঁটিতে কানাডিয়ান ম্যানুভার ট্রেনিং সেন্টার এবং থার্ড কানাডিয়ান ডিভিশন ট্রেনিং সেন্টার অবস্থিত। এছাড়া এডমন্ডের আর্মি ফিল্ড ফোর্স ইউনিটের ট্রেনিং গ্রাউন্ড হিসেবেও ব্যবহৃত হয় এ ঘাঁটি। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানিয়েছেন, গুরুতর ঘটনা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মতো তিনিও জানাননি কীভাবে আগুন লেগেছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
কানাডার সেনাঘাঁটিতে ভয়াবহ আগুন
আরও পড়ুন
জার্মানিতে সাড়ে ৬ লাখ দক্ষ কর্মীর চাকরির সুযোগ, আবেদন করবেন যেভাবে
জার্মানিতে মার্কিন এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত
বাংলাদেশে জার্মান বিনিয়োগ বাড়াতে বিজিসিসিআই-রাষ্ট্রদূতের আলোচনা
ভিসা ছাড়াই জার্মানিতে যেতে পারবেন যে ৮ দেশের নাগরিকরা
X