ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

এবার নোবেল শান্তি পুরস্কারে ট্রাম্পসহ আলোচনায় যারা

অনলাইন ডেস্ক

  ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:২৫ পিএম
ছবি:সংগৃহীত

এ বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কার কে পাচ্ছেন, তা নিয়ে তুমুল জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। নরওয়ের নোবেল কমিটি আগামী ৯ অক্টোবর অসলোতে বিজয়ীর নাম ঘোষণা করবে।এ বছর পুরস্কারের জন্য মোট ২৮৭ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান মনোনীত হয়েছেন। এর মধ্যে ২০৮ জন ব্যক্তি এবং ৭৯টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

বুলেটিন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

তবে নোবেল কমিটি সাধারণত মনোনয়ন পাওয়া ব্যক্তিদের তালিকা প্রকাশ করে না। ফলে বিজয়ীর নাম আগেভাগে অনুমান করা অনেকটাই অনিশ্চিত। অতীতে কমিটি অনেক সময় এমন ব্যক্তিকেও পুরস্কার দিয়েছে, যাদের নাম ঘোষণার আগে খুব একটা আলোচনায় ছিল না।

আলোচনায় আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন
এবারের সবচেয়ে চমকপ্রদ সম্ভাবনার একটি হলো আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন বা আইএসএস। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নোবেল শান্তি পুরস্কারের পূর্বাভাসদাতাদের কেউ কেউ আইএসএসকে সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে দেখছেন।
শান্তি গবেষণা ইনস্টিটিউট অসলোর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হাকন গেরলভ এই সম্ভাবনার কথা বলেছেন। তার মতে, বিভিন্ন দেশের মানুষ ও প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে কাজ করার বিরল প্রতীক হলো আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যখন নিজেদের জাতীয় স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে, তখন মহাকাশ স্টেশন আন্তর্জাতিক সহযোগিতার একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, নোবেল কমিটি সাধারণত এমন উদ্যোগ বিবেচনায় নেয়, যা দীর্ঘস্থায়ী শান্তি তৈরি করে, দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করে।

ট্রাম্পসহ আলোচনায় যারা

এবারের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। ট্রাম্প নিজেই একাধিকবার নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা তাকে মনোনয়ন দেওয়ার কথা প্রকাশ্যে বলেছেন। তবে নোবেল কমিটি কোনো নির্দিষ্ট মনোনয়নের বিষয় নিশ্চিত করে না। এপি বলছে, ট্রাম্পের প্রার্থিতা বিতর্ক তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিষয়ক চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তার শান্তি পুরস্কার পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। উপসালা কনফ্লিক্ট ডেটা প্রোগ্রামের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক শন ডেভিসও ট্রাম্পের জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।

আলোচনায় রয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও।

চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ও শুল্কসংক্রান্ত নানা বিষয়ে ট্রাম্পের অবস্থানের বিরুদ্ধে তুলনামূলক দৃঢ় অবস্থান নেওয়ায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কার্নি আলোচনায় এসেছেন।তবে কানাডার সাবেক অধ্যাপক নেলসন ওয়াইজম্যান মনে করেন, কার্নি পুরস্কার পেলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডার সম্পর্ক আরও খারাপ হতে পারে। তার মতে, পুরস্কার যেই পান না কেন, ট্রাম্প তাতে খুশি না-ও হতে পারেন।

নোবেল শান্তি পুরস্কারের সম্ভাব্য প্রার্থীদের আলোচনায় ইউক্রেনের শিশু অধিকারকর্মী মাইকোলা কুলেবা এবং সেভ দ্য চিলড্রেনের নাম রয়েছে। সুদানের স্থানীয় ত্রাণ নেটওয়ার্ক ‘ইমার্জেন্সি রেসপন্স রুমস’ও রয়েছে আলোচনায়। যুদ্ধকবলিত সুদানে সাধারণ মানুষের জন্য জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কাজে যুক্ত এই নেটওয়ার্ক। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টসের নামও আলোচনায় এসেছে। গত দুই বছরে রেকর্ডসংখ্যক সাংবাদিক নিহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে সংগঠনটির নাম সামনে এসেছে।

আলোচনায় রয়েছে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। দুই আদালতের নাম একসঙ্গে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে উঠে এসেছে। বিশেষ করে, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বিভিন্ন দেশের নেতাদের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের কারণে আইসিসি বিশ্বজুড়ে আলোচনায় রয়েছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।

অন্যদিকে, ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে আইসিসির সমালোচনা করে আসছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জুলাইয়ে আইসিসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এবার নোবেল শান্তি পুরস্কারে নারীদের প্রতিনিধিত্ব নিয়েও আলোচনা রয়েছে। ১২৫ বছরের ইতিহাসে ১১২ জন নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন। তাদের মধ্যে নারী মাত্র ২০ জন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতি কিছুটা বদলেছে। গত ১৫ বছরে ছয়জন পুরুষের বিপরীতে আটজন নারী এককভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন। ১৯৯৭ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী জোডি উইলিয়ামস আরও বেশি নারীকে পুরস্কৃত করার আশা প্রকাশ করেছেন।

এবার সম্ভাব্য নারী প্রার্থীদের মধ্যে গাজার সার্জন সারা আল-সাক্কা এবং রাশিয়ার বিরোধী রাজনীতিক ও প্রয়াত আলেক্সেই নাভালনির স্ত্রী ইউলিয়া নাভালনায়ার নাম রয়েছে।

যুদ্ধের মধ্যেই এবারের শান্তির পুরস্কার

এবারের নোবেল শান্তি পুরস্কার এমন সময়ে দেওয়া হচ্ছে, যখন বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধ ও সংঘাত বেড়েছে। সুদান, ইউক্রেন, ইয়েমেন, ইরানসহ পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটছে। বিশ্ব রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। এই পরিস্থিতিতে নোবেল কমিটি কাকে শান্তি পুরস্কার দেয়, সেটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তথ্যসূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

আকাশে দরজা খুলে গেল ভারতের এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের: অতপর
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলা থেকে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা যাওয়ার পথে মাঝআকাশে একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের দরজা খুলে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে থাকা রোগীর স্বজনরা সাহসিকতার সঙ্গে দরজাটি ধরে রাখেন। পরে ফ্লাইটটি ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। রবিবার (১৮ অক্টোবর) বিকেলের দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।  বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, ছোট আকারের এই এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি ভারতের ‘এসকেবি ইনফ্র্যাকন প্রাইভেট লিমিটেড’-এর মালিকানাধীন। জরুরি অবতরণের পর দ্রুত বিমানবন্দর থেকে অসুস্থ রোগী অঞ্জনা ভৌমিককে ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানে মারা যান তিনি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালকের মুখপাত্র মো. রিয়াজ উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এটি ভারতের একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট। বাংলাদেশের ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ছোট্ট উড়োজাহাজটির দরজা খুলে গেলে এটি ঢাকার কন্ট্রোল টাওয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঢাকায় অবতরণের অনুমতি চায়। পরে যানটিতে থাকা রোগীকে ঢাকার কুর্মিটোলা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। ফ্লাইটটিতে পাইলট হিসেবে ছিলেন, ক্যাপ্টেন পূন্য অনূপ ও ক্যাপ্টেন তনুজ শর্মা। এছাড়া এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটিতে রোগীসহ মোট সাতজন আরোহী ছিলেন। যাত্রীদের মধ্যে ছিলেন, অঞ্জনা ভৌমিক (রোগী), তার দুই স্বজন শান্তা ভৌমিক ও দ্বীপ জয়তি মুশরিপ, চিকিৎসক ডা. ফিরোজ খান এবং প্যারামেডিকস আজিম খান।  বিমানবন্দর সূত্র জানিয়েছে, ফ্লাইটে থাকা অন্যরা সুস্থ আছেন। এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট ছিল। তাই তাদের কোনো পাসপোর্ট বা ভিসা নেই। বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাদের দেশে পাঠানো হবে। 
আকাশে দরজা খুলে গেল ভারতের এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের: অতপর
হুথি হামলার আশঙ্কা, রিয়াদে অফিস বন্ধের নির্দেশ; সতর্ক যুক্তরাষ্ট্র
ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিদের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের অন্যতম প্রধান আকাশচুম্বী ভবন কিংডম সেন্টারের সব অফিসে হোম অফিসের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রোববার থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ভবনটির সব অফিসের কার্যক্রম বাসা থেকে পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে ভবনটির নিচতলার শপিংমল খোলা রয়েছে। ভবনটির ভাড়াটিয়াদের কাছে পাঠানো এক ই-মেইল বার্তায় অফিস ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সময়ে কর্মীদের অফিসে না আসার অনুরোধ জানিয়েছে। ৯৯ তলাবিশিষ্ট কিংডম সেন্টার রিয়াদের অন্যতম পরিচিত বাণিজ্যিক ও স্থাপত্য নিদর্শন। এদিকে, সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে হুথিদের সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে নিজ দেশের নাগরিকদের সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় আকাশপথে ভ্রমণের ক্ষেত্রে মার্কিন নাগরিকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শনিবার জারি করা এক নিরাপত্তা সতর্কবার্তায় সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন মিশন দেশটিতে অবস্থানরত আমেরিকানদের সম্ভাব্য বিমানবন্দর হামলার বিষয়ে সতর্ক করে। একই সঙ্গে আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাওয়া, ফ্লাইট বাতিল এবং অন্যান্য ভ্রমণসংক্রান্ত বিঘ্নের আশঙ্কার কথাও জানানো হয়। নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে সৌদি আরবে কর্মক্ষেত্র ও বিমান চলাচল নিয়ে সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ভ্রমণকারীদের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মার্কিন মিশন বলেছে, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম এখনও স্থগিত রয়েছে। তবে জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালু রয়েছে। যদিও এই দুই বিমানবন্দরে কিছু ফ্লাইটের উড্ডয়ন এবং অবতরণ বিলম্ব ও বাতিল অব্যাহত রয়েছে। সতর্কবার্তায় যেসব আমেরিকান সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলো দিয়ে ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাদের ভ্রমণের আগে অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন এবং সরাসরি এয়ারলাইন্স ও বিমানবন্দরগুলোর কাছ থেকে ফ্লাইটের অবস্থা যাচাই করে নিতে বলা হয়েছে। যাত্রীদের আরও হামলার সম্ভাবনা এবং ফ্লাইটের সময়সূচি বা আকাশসীমার প্রাপ্যতার আকস্মিক পরিবর্তনের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নাগরিকদের মোবাইল ফোন অ্যালার্টের মাধ্যমে সৌদি আরবের সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষের জারি করা জাতীয় জরুরি সতর্কতা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে মার্কিন মিশন।
হুথি হামলার আশঙ্কা, রিয়াদে অফিস বন্ধের নির্দেশ; সতর্ক যুক্তরাষ্ট্র
মার্কিন নাগরিক সেজে ভোট দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় গ্রেপ্তার
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বলে মিথ্যা দাবি করে ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অভিযোগে ভারতীয় নাগরিক মুকেশকুমার সোমাভাই চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা (আইসিই)। তার বিরুদ্ধে ভোটসংক্রান্ত মিথ্যা তথ্য দেওয়া এবং ভোট দিতে নাগরিকত্বের মিথ্যা দাবি করার অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে প্রতিটি অভিযোগে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের ১৬ অক্টোবর প্রকাশিত বিবৃতির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর মিনেসোটার একটি ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি চৌধুরীর বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগে অভিযোগপত্র দাখিল করে। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ২০২৪ সালের ৫ নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ভোট দেওয়ার জন্য মিনেসোটার আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় একটি সনদে স্বাক্ষর করেন চৌধুরী। ওই সনদে তাকে শপথ করে বা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করতে হয়েছিল যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। তবে সরকারি আইনজীবীদের অভিযোগ, মার্কিন নাগরিক না হয়েও বিষয়টি জেনেশুনে নাগরিকত্বের মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে ভোট দেন তিনি। চৌধুরীর বিরুদ্ধে ভোটের ক্ষেত্রে মিথ্যা তথ্য দেওয়া এবং ভোটার হিসেবে নিবন্ধন বা ভোট দেওয়ার উদ্দেশ্যে মার্কিন নাগরিকত্বের মিথ্যা দাবি করার অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে প্রতিটি অভিযোগে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড হতে পারে। তবে তার প্রকৃত সাজা নির্ধারণ করবেন ফেডারেল বিচারক। এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সাজা নির্দেশিকা ও অন্যান্য আইনি বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হবে। মামলাটির তদন্ত করছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস। তদন্তে সহায়তা করছে মিনেসোটার ফিলমোর কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়। বিচার বিভাগের নাগরিক অধিকার বিভাগের অপরাধবিষয়ক শাখা মামলাটি পরিচালনা করছে। সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
মার্কিন নাগরিক সেজে ভোট দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় গ্রেপ্তার
ক্যালিফোর্নিয়ার ৩ শহরে কাউন্সিলর পদে লড়ছেন ৩ বাংলাদেশি
যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের তিনটি শহরের নগর পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তিন প্রার্থী। তারা হলেন লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির মন্টেবেলো শহরে শাজিয়া হক, রিভারসাইড কাউন্টির পেরিস শহরে মোহাম্মদ রহমান এবং সান বার্নার্ডিনো কাউন্টির চিনো শহরে এম এস আলম। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচন সামনে রেখে তিন প্রার্থীই প্রচার চালাচ্ছেন। স্থানীয় বাংলাদেশি-আমেরিকান সম্প্রদায়ের অনেকে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। কেউ আর্থিক সহায়তা দিচ্ছেন, কেউ নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহে সহযোগিতা করছেন, আবার কেউ উৎসাহ ও নৈতিক সমর্থন জোগাচ্ছেন। মূলধারার রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ চান শাজিয়া লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির মন্টেবেলো শহরের ১ নম্বর ওয়ার্ড থেকে নগর পরিষদ নির্বাচনে লড়ছেন শাজিয়া হক। এ পদে তার প্রতিদ্বন্দ্বী জর্জিনা তামায়ো, কিম্বারলি কোবোস ক্যাথর্ন ও রাফায়েল সান্তোয়া। ব্যবসা, লেখালেখি ও সামাজিক নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্ত শাজিয়ার দাবি, ব্যবসা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে তার প্রায় ২০ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে। নির্বাচিত হলে নগর প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি, দায়িত্বশীল বাজেট ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ পাড়া এবং স্থানীয় ব্যবসার বিকাশে কাজ করতে চান তিনি। নগর কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে বাসিন্দাদের মতামত নিশ্চিত করাও তার লক্ষ্য। গণমাধ্যমকে শাজিয়া বলেন, বাংলাদেশি-আমেরিকান নারী হিসেবে তিনি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের অন্য জাতিগোষ্ঠীর তুলনায় তাদের প্রতিনিধিত্ব পিছিয়ে রয়েছে। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের সুযোগ ও সুবিধা কাজে লাগাতে হলে মূলধারার রাজনীতিতে যুক্ত হতে হবে এবং পরবর্তী প্রজন্মের জন্য পথ তৈরি করতে হবে। জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী মোহাম্মদ রহমান রিভারসাইড কাউন্টির পেরিস শহরের ১ নম্বর ওয়ার্ড থেকে প্রার্থী হয়েছেন মোহাম্মদ রহমান। তার প্রতিদ্বন্দ্বী গুয়াদালুপে গোমেজ ও হুয়ান কার্লোস ফ্রাঙ্কো। যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগে ২৭ বছর কাজ করেছেন মোহাম্মদ রহমান। দীর্ঘ কর্মজীবনে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের অভিজ্ঞতা নির্বাচনী প্রচারে তাকে সহায়তা করছে বলে মনে করেন তিনি। কর্মজীবনের সুবাদে অনেক ভোটার তাকে আগে থেকেই চেনেন, যা জয়ের ব্যাপারে তাকে আশাবাদী করে তুলেছে। তার নির্বাচনী অঙ্গীকারের মধ্যে রয়েছে জননিরাপত্তা, সাশ্রয়ী আবাসন, ক্ষুদ্র ব্যবসার বিকাশ এবং তরুণদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি। পাশাপাশি পাড়ায় নজরদারি, পর্যাপ্ত সড়কবাতি, উন্নত ফুটপাত ও জননিরাপত্তা জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। প্রকৌশল অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চান এম এস আলম সান বার্নার্ডিনো কাউন্টির চিনো শহরের ৩ নম্বর ওয়ার্ড থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন প্রকৌশলী এম এস আলম। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান নগর পরিষদ সদস্য মার্ক লুসিও। এম এস আলম ক্যালিফোর্নিয়ার পরিবহন বিভাগের সপ্তম জেলায় পূর্ণকালীন প্রকল্প ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করেন। পাশাপাশি তিনি ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি, লং বিচে খণ্ডকালীন শিক্ষকতা করেন। লস অ্যাঞ্জেলেসের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবহন প্রকৌশল নিয়ে গবেষণা ও পিএইচডি পর্যায়ের কাজের অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার। তিনি চিনো শহরে বসবাস করছেন ১৮ বছর ধরে। নির্বাচিত হলে পরিকল্পিত নগরায়ণ, উন্নত গণপরিবহন, শক্তিশালী অবকাঠামো, দায়িত্বশীল উন্নয়ন এবং মানসম্মত নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে চান এম এস আলম। তার লক্ষ্য, বর্তমান বাসিন্দাদের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করা। নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কঠোর পরিশ্রম করবেন বলেও গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশিদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর লড়াই তিন প্রার্থীর নির্বাচনী অঙ্গীকারে পার্থক্য থাকলেও তাদের লক্ষ্য এক—যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় রাজনীতিতে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো। শাজিয়া হক নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণে গুরুত্ব দিচ্ছেন, মোহাম্মদ রহমান আবাসন ও জননিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। আর এম এস আলম প্রকৌশল ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে পরিকল্পিত নগর উন্নয়নের কথা বলছেন। যুক্তরাষ্ট্রে নগর পরিষদের সিদ্ধান্ত সরাসরি বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলে। সড়ক, গণপরিবহন, আবাসন, জননিরাপত্তা, নগর পরিকল্পনা ও স্থানীয় ব্যবসার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে এসব পরিষদের ভূমিকা রয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বর মন্টেবেলো, পেরিস ও চিনো শহরের ভোটাররা তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন। তিন বাংলাদেশি-আমেরিকান প্রার্থীর জন্য এই লড়াই শুধু নির্বাচনে জয়ী হওয়ার নয়; স্থানীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব প্রতিষ্ঠারও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা।
ক্যালিফোর্নিয়ার ৩ শহরে কাউন্সিলর পদে লড়ছেন ৩ বাংলাদেশি
কানাডার সেনাঘাঁটিতে ভয়াবহ আগুন
কানাডার অন্যতম ব্যস্ত সামরিক ঘাঁটি হলো আলবার্টার সেনাঘাঁটি। যেখানে আগুনে লেগে বেশ কয়েকজন নিহত ও আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় শনিবার রাতে (১৭ অক্টোবর) এ তথ্য জানিয়েছেন কানাডার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ জানিয়েছে, বিকাল ৪টার দিকে ঘাঁটি থেকে তাদের কাছে সহায়তা চাওয়া হয়। আগুন লাগলেও ওই শহরের বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার জন্য কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে এলাকাটি এড়িয়ে চলা, সড়ক খোলা রাখা এবং ওয়াইনরাইটের স্বাস্থ্যকেন্দ্র খুব বেশি প্রয়োজন না হলে না যাওয়ার অনুরোধ করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডেভিড ম্যাকগুইন্টি এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ নিয়ে বলেন, আমি দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি সেখানে নিহত ও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হলো এবং কতজন আহত ও নিহত হয়েছেন সেটি স্পষ্ট করেননি ডেভিড ম্যাকগুইন্টি। তিনি শুধু বলেছেন, আগুনটি সক্রিয় এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। উচ্চ বাতাসের কারণে আগুনটি দ্রুত ছড়াচ্ছে। আলবার্টার প্রাদেশিক রাজধানী এডমন্টন থেকে ২১০ কিলোমিটার দক্ষিণপূর্বাঞ্চলে অবস্থিত ওয়াইনরাইট শহর। সেখানকার সেনাঘাঁটিতে কানাডিয়ান ম্যানুভার ট্রেনিং সেন্টার এবং থার্ড কানাডিয়ান ডিভিশন ট্রেনিং সেন্টার অবস্থিত। এছাড়া এডমন্ডের আর্মি ফিল্ড ফোর্স ইউনিটের ট্রেনিং গ্রাউন্ড হিসেবেও ব্যবহৃত হয় এ ঘাঁটি। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানিয়েছেন, গুরুতর ঘটনা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মতো তিনিও জানাননি কীভাবে আগুন লেগেছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
কানাডার সেনাঘাঁটিতে ভয়াবহ আগুন
আরও পড়ুন
নোবেল নিয়ে ট্রাম্পের বড় আশা, শেষ পর্যন্ত কী হবে?
পদার্থবিদ্যায় নোবেল পুরস্কার পেলেন ফ্রান্সিস হেলজেন
চিকিৎসাবিজ্ঞানে অবদান রেখে নোবেল পেলেন যারা
৫ অক্টোবর থেকে শুরু নোবেল পুরস্কার ঘোষণা, বাড়ল পুরস্কারের অর্থমূল্য 
X