ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

তুরস্কের ইস্তাম্বুল এখন বিশ্বের সেরা বিমানবন্দর

অনলাইন ডেস্ক

  ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৩ এএম

দুই মহাদেশের সংযোগস্থলে অবস্থানের কারণে ইস্তাম্বুল বহু শতাব্দী ধরেই বৈশ্বিক যোগাযোগ ও বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। একসময় সিল্ক রোড ও কৃষ্ণসাগর থেকে ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত নৌপথ নিয়ন্ত্রণের কারণে বাইজেন্টিয়াম ও পরে কনস্টান্টিনোপল হিসেবে শহরটির গুরুত্ব ছিল ব্যাপক। রেলপথের যুগে বিখ্যাত ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেসেরও শেষ গন্তব্য ছিল এই শহর।

বুলেটিন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

একবিংশ শতাব্দীতে সেই ঐতিহাসিক সংযোগের নতুন রূপ দেখা যাচ্ছে আকাশপথে। তুরস্কের আইজিএ ইস্তাম্বুল বিমানবন্দর বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ভালো যোগাযোগ-ব্যবস্থা সম্পন্ন বিমানবন্দর হিসেবে লন্ডনের হিথ্রোকে পেছনে ফেলেছে।

বৈশ্বিক ভ্রমণ তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ওএজির ২০২৬ সালের ‘মেগাহাবস ইনডেক্স’-এ শীর্ষস্থান দখল করেছে ইস্তাম্বুল বিমানবন্দর। বিশ্বের বড় বিমানবন্দরগুলোর আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের নির্ধারিত সংযোগ এবং সেখান থেকে পৌঁছানো যায় এমন গন্তব্যের সংখ্যা তুলনা করে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এ বছরের ব্যস্ততম দিনের তথ্য হিসেবে ২ আগস্টের কার্যক্রম বিবেচনায় নেওয়া হয়।

ওএজির প্রধান বিশ্লেষক জন গ্রান্ট বলেন, ইস্তাম্বুল বিমানবন্দর শেষ পর্যন্ত বিশ্বের এক নম্বর অবস্থান অর্জন করেছে। তার মতে, আগামী বছরগুলোতে বিমানবন্দরটির অবস্থান আরো শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আইজিএ ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলাহাত্তিন বিলগেন বলেন, বিশ্বের শীর্ষ সংযুক্ত বিমানবন্দর হওয়া তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। বর্তমানে বিমানবন্দরটি বিশ্বের প্রায় ৩৫০টি গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করছে এবং আরো সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।

২০২৬ সালের তালিকায় ইস্তাম্বুলের পর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে লন্ডন হিথ্রো। তৃতীয় আমস্টারডাম শিফল, চতুর্থ কুয়ালালামপুর এবং পঞ্চম শিকাগো ওহেয়ার বিমানবন্দর। ২০১৮ সালে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে ইস্তাম্বুলের ইউরোপীয় অংশে চালু হয় বিমানবন্দরটি। শহর থেকে প্রায় ২০ মাইল দূরে নির্মিত এই বিশাল স্থাপনা শুরু থেকেই বড় পরিসরে সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে তৈরি করা হয়। বিমানবন্দরটির টার্মিনালের আয়তন প্রায় ১৪ লাখ বর্গমিটার, যা এক ছাদের নিচে বিশ্বের সবচেয়ে বড় টার্মিনাল। পুরো বিমানবন্দর এলাকার আয়তন প্রায় ৭ কোটি ৬৫ লাখ বর্গমিটার—অর্থাৎ নিউইয়র্কের ম্যানহাটন দ্বীপের চেয়েও বড়।

প্রতি বছর ৮ কোটি ৪০ লাখের বেশি যাত্রী এই বিমানবন্দর ব্যবহার করেন। বর্তমানে এটি বিশ্বের অষ্টম ব্যস্ততম বিমানবন্দর। তবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় যাত্রী ধারণক্ষমতা বছরে ২০ কোটিতে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। এই সংখ্যা বিশ্বের বর্তমান ব্যস্ততম বিমানবন্দর আটলান্টার হার্টসফিল্ড-জ্যাকসনের বার্ষিক যাত্রীসংখ্যার প্রায় দ্বিগুণ। বিমানবন্দরটির সম্প্রসারণ পরিকল্পনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ রানওয়ে। সম্প্রতি এর চতুর্থ প্রধান রানওয়ে চালু হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ছয়টি প্রধান ও তিনটি রিজার্ভ—মোট নয়টি রানওয়ে তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

নতুন রানওয়েটির দৈর্ঘ্য ২ হাজার ৮২০ মিটার এবং এটিই বিমানবন্দরটির প্রথম পূর্ব-পশ্চিমমুখী রানওয়ে। এর ফলে পশ্চিমমুখী উড়োজাহাজের ট্যাক্সি ও আকাশপথের সময় কমবে, একই সঙ্গে জ্বালানি সাশ্রয় হবে।

ওএজির বিশ্লেষক গ্রান্টের মতে, একই সময়ে তিনটি রানওয়ে ব্যবহারের অনুমোদন থাকা বিশ্বের একমাত্র বিমানবন্দর ইস্তাম্বুল। এর ফলে ব্যস্ত সময়ে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি পরিচালনায় বাড়তি নমনীয়তা পাওয়া যায় এবং সময়মতো ফ্লাইট পরিচালনার সক্ষমতাও বাড়ে।

এই বিমানবন্দরের সাফল্যের পেছনে বড় ভূমিকা রয়েছে টার্কিশ এয়ারলাইনসের। ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরের প্রায় ৮০ শতাংশ ফ্লাইটই এই বিমান সংস্থার। ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিশ্বের অন্য যেকোনো এয়ারলাইনসের তুলনায় সবচেয়ে বেশি—১৩০টি দেশে—ফ্লাইট পরিচালনার রেকর্ডও রয়েছে তাদের। টার্কিশ এয়ারলাইনসের বহরে ৫০০টির বেশি বোয়িং ও এয়ারবাস উড়োজাহাজ রয়েছে। আধুনিক ও তুলনামূলক নতুন উড়োজাহাজ ব্যবহারের ফলে যাত্রীসেবার মান বাড়ার পাশাপাশি জ্বালানি খরচও কমে। ফলে উচ্চ জ্বালানি মূল্যের সময়ে টিকিটের দাম প্রতিযোগিতামূলক রাখার সুযোগ পায় সংস্থাটি।

ব্রিটেনের ক্র্যানফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এয়ার ট্রান্সপোর্ট ম্যানেজমেন্টের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক ভিক্টোরিয়া মাইরোনিউক বলেন, আধুনিক উড়োজাহাজ যাত্রীদের কাছে ভালো অভিজ্ঞতা তৈরি করে। টার্কিশ এয়ারলাইনস সম্প্রতি ইউরোপের সেরা এয়ারলাইনসের পুরস্কারও পেয়েছে।

ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরের অবস্থান ও অবকাঠামোও এর সংযোগ সক্ষমতাকে বাড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন বিমানবন্দর ও বিমান চলাচল নেটওয়ার্কে পরিবর্তন এসেছে। এই পরিস্থিতিতে তুরস্কের ভৌগোলিক অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ইস্তাম্বুলকে বাড়তি সুবিধা দিয়েছে।

লন্ডন হিথ্রোর তৃতীয় রানওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কের মধ্যে রয়েছে। অন্যদিকে আমস্টারডাম শিফল বছরে ৪ লাখ ৮৮ হাজার ফ্লাইট চলাচলের সীমার মধ্যে রয়েছে। ইস্তাম্বুল বিমানবন্দর শহরের কিছুটা বাইরে হওয়ায় সেখানে ২৪ ঘণ্টা কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব।

টার্কিশ এয়ারলাইনসের ‘স্টপওভার’ কর্মসূচিও বিমানবন্দরটির আকর্ষণ বাড়িয়েছে। দীর্ঘ ট্রানজিটের যাত্রীরা চাইলে ইস্তাম্বুলে অবস্থান করে শহর ঘুরে দেখতে পারেন এবং বিশেষ ক্ষেত্রে হোটেলে বিনামূল্যে থাকার সুবিধাও পান।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ব্যবস্থা যাত্রীদের দ্রুত সংযোগ বদলের বদলে স্থানীয় সংস্কৃতি ও শহরকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ দেয়। ফলে বিমানবন্দরটি শুধু ট্রানজিট কেন্দ্র নয়, পর্যটনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বারে পরিণত হচ্ছে।

আগামী বছরগুলোতে ইস্তাম্বুলের শীর্ষ অবস্থান ধরে রাখার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন ওএজির গ্রান্ট। তবে তিনি মনে করেন, আগামী তিন থেকে চার বছরে চীনের বিমানবন্দরগুলোও আন্তর্জাতিক সংযোগের ক্ষেত্রে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারে। চীনা এয়ারলাইনসগুলোর আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণ বাড়লে দেশটির বড় বিমানবন্দরগুলোও মেগাহাব তালিকায় আরো ওপরে উঠতে পারে।

একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিমান চলাচল স্বাভাবিক হলে ওই অঞ্চলের বিমানবন্দরগুলোও আবার শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। তবে ইউরোপের হিথ্রো, শিফল ও প্যারিসের মতো বড় বিমানবন্দরগুলোর সক্ষমতা সীমার কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় ইস্তাম্বুলের জন্য প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা বজায় রাখার সুযোগ থাকছে।

সূত্র: সিএনএন

আকাশে দরজা খুলে গেল ভারতের এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের: অতপর
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলা থেকে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা যাওয়ার পথে মাঝআকাশে একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের দরজা খুলে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে থাকা রোগীর স্বজনরা সাহসিকতার সঙ্গে দরজাটি ধরে রাখেন। পরে ফ্লাইটটি ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। রবিবার (১৮ অক্টোবর) বিকেলের দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।  বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, ছোট আকারের এই এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি ভারতের ‘এসকেবি ইনফ্র্যাকন প্রাইভেট লিমিটেড’-এর মালিকানাধীন। জরুরি অবতরণের পর দ্রুত বিমানবন্দর থেকে অসুস্থ রোগী অঞ্জনা ভৌমিককে ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানে মারা যান তিনি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালকের মুখপাত্র মো. রিয়াজ উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এটি ভারতের একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট। বাংলাদেশের ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ছোট্ট উড়োজাহাজটির দরজা খুলে গেলে এটি ঢাকার কন্ট্রোল টাওয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঢাকায় অবতরণের অনুমতি চায়। পরে যানটিতে থাকা রোগীকে ঢাকার কুর্মিটোলা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। ফ্লাইটটিতে পাইলট হিসেবে ছিলেন, ক্যাপ্টেন পূন্য অনূপ ও ক্যাপ্টেন তনুজ শর্মা। এছাড়া এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটিতে রোগীসহ মোট সাতজন আরোহী ছিলেন। যাত্রীদের মধ্যে ছিলেন, অঞ্জনা ভৌমিক (রোগী), তার দুই স্বজন শান্তা ভৌমিক ও দ্বীপ জয়তি মুশরিপ, চিকিৎসক ডা. ফিরোজ খান এবং প্যারামেডিকস আজিম খান।  বিমানবন্দর সূত্র জানিয়েছে, ফ্লাইটে থাকা অন্যরা সুস্থ আছেন। এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট ছিল। তাই তাদের কোনো পাসপোর্ট বা ভিসা নেই। বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাদের দেশে পাঠানো হবে। 
আকাশে দরজা খুলে গেল ভারতের এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের: অতপর
হুথি হামলার আশঙ্কা, রিয়াদে অফিস বন্ধের নির্দেশ; সতর্ক যুক্তরাষ্ট্র
ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিদের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের অন্যতম প্রধান আকাশচুম্বী ভবন কিংডম সেন্টারের সব অফিসে হোম অফিসের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রোববার থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ভবনটির সব অফিসের কার্যক্রম বাসা থেকে পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে ভবনটির নিচতলার শপিংমল খোলা রয়েছে। ভবনটির ভাড়াটিয়াদের কাছে পাঠানো এক ই-মেইল বার্তায় অফিস ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সময়ে কর্মীদের অফিসে না আসার অনুরোধ জানিয়েছে। ৯৯ তলাবিশিষ্ট কিংডম সেন্টার রিয়াদের অন্যতম পরিচিত বাণিজ্যিক ও স্থাপত্য নিদর্শন। এদিকে, সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে হুথিদের সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে নিজ দেশের নাগরিকদের সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় আকাশপথে ভ্রমণের ক্ষেত্রে মার্কিন নাগরিকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শনিবার জারি করা এক নিরাপত্তা সতর্কবার্তায় সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন মিশন দেশটিতে অবস্থানরত আমেরিকানদের সম্ভাব্য বিমানবন্দর হামলার বিষয়ে সতর্ক করে। একই সঙ্গে আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাওয়া, ফ্লাইট বাতিল এবং অন্যান্য ভ্রমণসংক্রান্ত বিঘ্নের আশঙ্কার কথাও জানানো হয়। নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে সৌদি আরবে কর্মক্ষেত্র ও বিমান চলাচল নিয়ে সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ভ্রমণকারীদের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মার্কিন মিশন বলেছে, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম এখনও স্থগিত রয়েছে। তবে জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালু রয়েছে। যদিও এই দুই বিমানবন্দরে কিছু ফ্লাইটের উড্ডয়ন এবং অবতরণ বিলম্ব ও বাতিল অব্যাহত রয়েছে। সতর্কবার্তায় যেসব আমেরিকান সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলো দিয়ে ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাদের ভ্রমণের আগে অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন এবং সরাসরি এয়ারলাইন্স ও বিমানবন্দরগুলোর কাছ থেকে ফ্লাইটের অবস্থা যাচাই করে নিতে বলা হয়েছে। যাত্রীদের আরও হামলার সম্ভাবনা এবং ফ্লাইটের সময়সূচি বা আকাশসীমার প্রাপ্যতার আকস্মিক পরিবর্তনের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নাগরিকদের মোবাইল ফোন অ্যালার্টের মাধ্যমে সৌদি আরবের সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষের জারি করা জাতীয় জরুরি সতর্কতা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে মার্কিন মিশন।
হুথি হামলার আশঙ্কা, রিয়াদে অফিস বন্ধের নির্দেশ; সতর্ক যুক্তরাষ্ট্র
মার্কিন নাগরিক সেজে ভোট দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় গ্রেপ্তার
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বলে মিথ্যা দাবি করে ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অভিযোগে ভারতীয় নাগরিক মুকেশকুমার সোমাভাই চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা (আইসিই)। তার বিরুদ্ধে ভোটসংক্রান্ত মিথ্যা তথ্য দেওয়া এবং ভোট দিতে নাগরিকত্বের মিথ্যা দাবি করার অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে প্রতিটি অভিযোগে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের ১৬ অক্টোবর প্রকাশিত বিবৃতির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর মিনেসোটার একটি ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি চৌধুরীর বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগে অভিযোগপত্র দাখিল করে। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ২০২৪ সালের ৫ নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ভোট দেওয়ার জন্য মিনেসোটার আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় একটি সনদে স্বাক্ষর করেন চৌধুরী। ওই সনদে তাকে শপথ করে বা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করতে হয়েছিল যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। তবে সরকারি আইনজীবীদের অভিযোগ, মার্কিন নাগরিক না হয়েও বিষয়টি জেনেশুনে নাগরিকত্বের মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে ভোট দেন তিনি। চৌধুরীর বিরুদ্ধে ভোটের ক্ষেত্রে মিথ্যা তথ্য দেওয়া এবং ভোটার হিসেবে নিবন্ধন বা ভোট দেওয়ার উদ্দেশ্যে মার্কিন নাগরিকত্বের মিথ্যা দাবি করার অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে প্রতিটি অভিযোগে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড হতে পারে। তবে তার প্রকৃত সাজা নির্ধারণ করবেন ফেডারেল বিচারক। এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সাজা নির্দেশিকা ও অন্যান্য আইনি বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হবে। মামলাটির তদন্ত করছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস। তদন্তে সহায়তা করছে মিনেসোটার ফিলমোর কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়। বিচার বিভাগের নাগরিক অধিকার বিভাগের অপরাধবিষয়ক শাখা মামলাটি পরিচালনা করছে। সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
মার্কিন নাগরিক সেজে ভোট দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় গ্রেপ্তার
ক্যালিফোর্নিয়ার ৩ শহরে কাউন্সিলর পদে লড়ছেন ৩ বাংলাদেশি
যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের তিনটি শহরের নগর পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তিন প্রার্থী। তারা হলেন লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির মন্টেবেলো শহরে শাজিয়া হক, রিভারসাইড কাউন্টির পেরিস শহরে মোহাম্মদ রহমান এবং সান বার্নার্ডিনো কাউন্টির চিনো শহরে এম এস আলম। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচন সামনে রেখে তিন প্রার্থীই প্রচার চালাচ্ছেন। স্থানীয় বাংলাদেশি-আমেরিকান সম্প্রদায়ের অনেকে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। কেউ আর্থিক সহায়তা দিচ্ছেন, কেউ নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহে সহযোগিতা করছেন, আবার কেউ উৎসাহ ও নৈতিক সমর্থন জোগাচ্ছেন। মূলধারার রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ চান শাজিয়া লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির মন্টেবেলো শহরের ১ নম্বর ওয়ার্ড থেকে নগর পরিষদ নির্বাচনে লড়ছেন শাজিয়া হক। এ পদে তার প্রতিদ্বন্দ্বী জর্জিনা তামায়ো, কিম্বারলি কোবোস ক্যাথর্ন ও রাফায়েল সান্তোয়া। ব্যবসা, লেখালেখি ও সামাজিক নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্ত শাজিয়ার দাবি, ব্যবসা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে তার প্রায় ২০ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে। নির্বাচিত হলে নগর প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি, দায়িত্বশীল বাজেট ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ পাড়া এবং স্থানীয় ব্যবসার বিকাশে কাজ করতে চান তিনি। নগর কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে বাসিন্দাদের মতামত নিশ্চিত করাও তার লক্ষ্য। গণমাধ্যমকে শাজিয়া বলেন, বাংলাদেশি-আমেরিকান নারী হিসেবে তিনি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের অন্য জাতিগোষ্ঠীর তুলনায় তাদের প্রতিনিধিত্ব পিছিয়ে রয়েছে। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের সুযোগ ও সুবিধা কাজে লাগাতে হলে মূলধারার রাজনীতিতে যুক্ত হতে হবে এবং পরবর্তী প্রজন্মের জন্য পথ তৈরি করতে হবে। জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী মোহাম্মদ রহমান রিভারসাইড কাউন্টির পেরিস শহরের ১ নম্বর ওয়ার্ড থেকে প্রার্থী হয়েছেন মোহাম্মদ রহমান। তার প্রতিদ্বন্দ্বী গুয়াদালুপে গোমেজ ও হুয়ান কার্লোস ফ্রাঙ্কো। যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগে ২৭ বছর কাজ করেছেন মোহাম্মদ রহমান। দীর্ঘ কর্মজীবনে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের অভিজ্ঞতা নির্বাচনী প্রচারে তাকে সহায়তা করছে বলে মনে করেন তিনি। কর্মজীবনের সুবাদে অনেক ভোটার তাকে আগে থেকেই চেনেন, যা জয়ের ব্যাপারে তাকে আশাবাদী করে তুলেছে। তার নির্বাচনী অঙ্গীকারের মধ্যে রয়েছে জননিরাপত্তা, সাশ্রয়ী আবাসন, ক্ষুদ্র ব্যবসার বিকাশ এবং তরুণদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি। পাশাপাশি পাড়ায় নজরদারি, পর্যাপ্ত সড়কবাতি, উন্নত ফুটপাত ও জননিরাপত্তা জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। প্রকৌশল অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চান এম এস আলম সান বার্নার্ডিনো কাউন্টির চিনো শহরের ৩ নম্বর ওয়ার্ড থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন প্রকৌশলী এম এস আলম। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান নগর পরিষদ সদস্য মার্ক লুসিও। এম এস আলম ক্যালিফোর্নিয়ার পরিবহন বিভাগের সপ্তম জেলায় পূর্ণকালীন প্রকল্প ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করেন। পাশাপাশি তিনি ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি, লং বিচে খণ্ডকালীন শিক্ষকতা করেন। লস অ্যাঞ্জেলেসের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবহন প্রকৌশল নিয়ে গবেষণা ও পিএইচডি পর্যায়ের কাজের অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার। তিনি চিনো শহরে বসবাস করছেন ১৮ বছর ধরে। নির্বাচিত হলে পরিকল্পিত নগরায়ণ, উন্নত গণপরিবহন, শক্তিশালী অবকাঠামো, দায়িত্বশীল উন্নয়ন এবং মানসম্মত নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে চান এম এস আলম। তার লক্ষ্য, বর্তমান বাসিন্দাদের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করা। নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কঠোর পরিশ্রম করবেন বলেও গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশিদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর লড়াই তিন প্রার্থীর নির্বাচনী অঙ্গীকারে পার্থক্য থাকলেও তাদের লক্ষ্য এক—যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় রাজনীতিতে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো। শাজিয়া হক নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণে গুরুত্ব দিচ্ছেন, মোহাম্মদ রহমান আবাসন ও জননিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। আর এম এস আলম প্রকৌশল ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে পরিকল্পিত নগর উন্নয়নের কথা বলছেন। যুক্তরাষ্ট্রে নগর পরিষদের সিদ্ধান্ত সরাসরি বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলে। সড়ক, গণপরিবহন, আবাসন, জননিরাপত্তা, নগর পরিকল্পনা ও স্থানীয় ব্যবসার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে এসব পরিষদের ভূমিকা রয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বর মন্টেবেলো, পেরিস ও চিনো শহরের ভোটাররা তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন। তিন বাংলাদেশি-আমেরিকান প্রার্থীর জন্য এই লড়াই শুধু নির্বাচনে জয়ী হওয়ার নয়; স্থানীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব প্রতিষ্ঠারও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা।
ক্যালিফোর্নিয়ার ৩ শহরে কাউন্সিলর পদে লড়ছেন ৩ বাংলাদেশি
কানাডার সেনাঘাঁটিতে ভয়াবহ আগুন
কানাডার অন্যতম ব্যস্ত সামরিক ঘাঁটি হলো আলবার্টার সেনাঘাঁটি। যেখানে আগুনে লেগে বেশ কয়েকজন নিহত ও আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় শনিবার রাতে (১৭ অক্টোবর) এ তথ্য জানিয়েছেন কানাডার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ জানিয়েছে, বিকাল ৪টার দিকে ঘাঁটি থেকে তাদের কাছে সহায়তা চাওয়া হয়। আগুন লাগলেও ওই শহরের বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার জন্য কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে এলাকাটি এড়িয়ে চলা, সড়ক খোলা রাখা এবং ওয়াইনরাইটের স্বাস্থ্যকেন্দ্র খুব বেশি প্রয়োজন না হলে না যাওয়ার অনুরোধ করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডেভিড ম্যাকগুইন্টি এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ নিয়ে বলেন, আমি দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি সেখানে নিহত ও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হলো এবং কতজন আহত ও নিহত হয়েছেন সেটি স্পষ্ট করেননি ডেভিড ম্যাকগুইন্টি। তিনি শুধু বলেছেন, আগুনটি সক্রিয় এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। উচ্চ বাতাসের কারণে আগুনটি দ্রুত ছড়াচ্ছে। আলবার্টার প্রাদেশিক রাজধানী এডমন্টন থেকে ২১০ কিলোমিটার দক্ষিণপূর্বাঞ্চলে অবস্থিত ওয়াইনরাইট শহর। সেখানকার সেনাঘাঁটিতে কানাডিয়ান ম্যানুভার ট্রেনিং সেন্টার এবং থার্ড কানাডিয়ান ডিভিশন ট্রেনিং সেন্টার অবস্থিত। এছাড়া এডমন্ডের আর্মি ফিল্ড ফোর্স ইউনিটের ট্রেনিং গ্রাউন্ড হিসেবেও ব্যবহৃত হয় এ ঘাঁটি। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানিয়েছেন, গুরুতর ঘটনা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মতো তিনিও জানাননি কীভাবে আগুন লেগেছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
কানাডার সেনাঘাঁটিতে ভয়াবহ আগুন
আরও পড়ুন
তুরস্কে বাস-ট্রাক সংঘর্ষ: নিহত ১১, আহত ২৭
তুরস্ক সফর শেষে দেশে ফিরেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান
তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের রয়েছে শত বছরের ঐতিহ্যগত সম্পর্ক: জামায়াত আমির
তুরস্কের সম্মেলনে যোগ দিতে ঢাকা ছাড়লেন জামায়াত আমির
X