ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

আরব আমিরাতে ভিসা জটিলতা: সমস্যা কোথায়, করণীয় কি?

নওশের আলম সুমন

  ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:২৮ পিএম

সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশিদের ভিসা নিয়ে অনিশ্চয়তা নতুন করে প্রবাসী সমাজে উদ্বেগ তৈরি করেছে। কেউ নতুন ভিসা পেতে সমস্যায় পড়ছেন, কেউ নবায়ন নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন, আবার কেউ ছুটিতে বাংলাদেশে এসে ভিসা বাতিলের খবর পেয়ে কর্মস্থলে ফিরতে পারছেন না। তবে এই পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করতে গেলে শুধু ভিসা বাতিলের সংখ্যা কিংবা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের দিকে তাকালেই হবে না; দেখতে হবে ভিসার শর্ত, অভিবাসনবিধি, নিয়োগপ্রক্রিয়া এবং প্রবাসীদের ব্যক্তিগত দায়িত্বের বিষয়গুলোও।

বুলেটিন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

আমিরাতে বসবাসরত বাংলাদেশিদের বড় একটি অংশ নিয়মিত চাকরি করেন, ব্যবসা পরিচালনা করেন এবং পরিবারের ভরণপোষণের জন্য কঠোর পরিশ্রম করেন। তাঁদের অনেকেই বছরের পর বছর বৈধভাবে বসবাস করে দেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন। কিন্তু কিছু ব্যক্তির অনিয়ম, জাল কাগজপত্র ব্যবহার কিংবা প্রতারণার মাধ্যমে ভিসা পাওয়ার চেষ্টা পুরো বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের জন্য নেতিবাচক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। এর প্রভাব বৈধভাবে বিদেশ যেতে ইচ্ছুক নতুন আবেদনকারীদের ওপরও পড়ার আশঙ্কা থাকে।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদান বোঝার জন্য রেমিট্যান্সের পরিসংখ্যান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাস জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে প্রবাসী আয় এসেছে প্রায় ৮.৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। শুধু সেপ্টেম্বর মাসেই এসেছে প্রায় ২.৭৫ বিলিয়ন ডলার। এই বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা দেশের অর্থনীতি, বৈদেশিক লেনদেন এবং অসংখ্য পরিবারের জীবনযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতও বাংলাদেশের রেমিট্যান্সের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস। বাংলাদেশ ব্যাংকের দেশভিত্তিক হিসাবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে আমিরাত থেকে এসেছে প্রায় ৫০৫.১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ওই সময়ে সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে বেশি রেমিট্যান্স আসায় আমিরাত ছিল দেশভিত্তিক তালিকার চতুর্থ স্থানে। সংযুক্ত আরব আমিরাত বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রেমিট্যান্সের উৎস। এই আয় পাঠানোর পেছনে রয়েছেন অসংখ্য বাংলাদেশি শ্রমিক, কর্মী ও ব্যবসায়ী, যাঁদের জীবিকা ও ভবিষ্যৎ ভিসার স্থিতিশীলতার সঙ্গে জড়িত।

ভিসা আবেদন একটি আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। আবেদনকারীর পরিচয়, শিক্ষাগত যোগ্যতা, চাকরির তথ্য, নিয়োগকর্তার নথি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের সত্যতা যাচাই করা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে জাল সনদ, ভুয়া চাকরির প্রস্তাব, ভুল তথ্য কিংবা অসাধু মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে আবেদন করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভিসা প্রত্যাখ্যান, নবায়নে জটিলতা কিংবা অন্যান্য আইনি সমস্যার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে জাল কাগজপত্র বা প্রতারণার মাধ্যমে ভিসা পাওয়ার চেষ্টা বৈধভাবে বিদেশ যেতে ইচ্ছুক অন্যদের জন্যও সমস্যা তৈরি করতে পারে। এ ধরনের অনিয়মের কারণে যাচাই-বাছাই আরও কঠোর হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে প্রকৃত যোগ্যতা ও বৈধ নথি থাকা সত্ত্বেও অন্য আবেদনকারীদের অতিরিক্ত যাচাই কিংবা দীর্ঘসূত্রতার মুখোমুখি হতে হতে পারে।

ভিসা জটিলতার কারণ হিসেবে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে আসে। কিছু বাংলাদেশি দক্ষ কর্মী বা ‘স্কিলড’ ক্যাটাগরিতে ভিসা নিয়ে নির্দিষ্ট পেশায় কাজ করার চুক্তি করলেও বাস্তবে অন্য ধরনের কাজে যুক্ত হচ্ছেন। এ ধরনের ঘটনা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এলে কর্মীর যোগ্যতা, ভিসায় উল্লেখিত পেশা, নিয়োগকর্তার তথ্য এবং প্রকৃত কাজের মধ্যে সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। ফলে নিয়োগপ্রক্রিয়া ও কাজের অনুমতি যাচাইয়ের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের সতর্কতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই কর্মী ও নিয়োগকর্তা উভয়েরই উচিত চুক্তির শর্ত মেনে চলা এবং কাজ বা পেশা পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা।

প্রবাসীদের মধ্যে ভিসার শর্ত সম্পর্কে অস্পষ্ট ধারণাও কখনো কখনো জটিলতা বাড়ায়। উদাহরণস্বরূপ, আমিরাতের সাধারণ নিয়মে আবাসিক ভিসাধারী কেউ টানা ১৮০ দিনের বেশি দেশের বাইরে থাকলে সাধারণত তাঁর আবাসিক অনুমতি বাতিল হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তবে এ নিয়মের ব্যতিক্রম রয়েছে এবং ভিসার ধরন ও ব্যক্তির পরিস্থিতি অনুযায়ী বিধান ভিন্ন হতে পারে। তাই ছুটিতে বাংলাদেশে যাওয়ার আগে নিজের ভিসার শর্ত যাচাই করা, প্রয়োজন হলে নিয়োগকর্তা বা স্পনসরের সঙ্গে যোগাযোগ করা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত তথ্য নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে, ভিসা ও অভিবাসনবিধি ছাড়াও স্বাগতিক দেশের জননিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা এবং অনুমতিহীন সমাবেশ-সংক্রান্ত আইন মেনে চলা বিদেশি নাগরিকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো দেশে বসবাসের অর্থ শুধু চাকরি করা বা ব্যবসা পরিচালনা নয়; সেই দেশের আইন ও সামাজিক নিয়মের প্রতিও শ্রদ্ধাশীল থাকা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ, অনুমতি ছাড়া সমাবেশে অংশগ্রহণ কিংবা আইনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়লে গুরুতর পরিণতি হতে পারে।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে বিভিন্ন নামে-বেনামে গড়ে ওঠা সংগঠন, রাজনৈতিক দলের শাখা এবং মাত্রাতিরিক্ত রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের বিষয়টিও আলোচনায় রাখা প্রয়োজন। সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশিদের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের তৎপরতা চোখে পড়ার মতো। তবে অন্যান্য দেশের প্রবাসীদের ক্ষেত্রে এমন কর্মকাণ্ড একই মাত্রায় দেখা যায় না। প্রবাসে সংগঠন গঠন কিংবা সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা নিজে থেকেই অপরাধ নয়; কিন্তু এসব কার্যক্রম আমিরাতের প্রচলিত আইন, অনুমতির শর্ত ও জনশৃঙ্খলার বিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া জরুরি।

অসংখ্য সংগঠন, রাজনৈতিক দলের শাখা এবং মাত্রাতিরিক্ত সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রবাসীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন এসব সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা ও কার্যকারিতা নিয়ে। বিশেষ করে অনুমতি ছাড়া সভা-সমাবেশ, রাজনৈতিক কর্মসূচি কিংবা আইনবিরোধী সাংগঠনিক তৎপরতা ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনের জন্য আইনি জটিলতা তৈরি করতে পারে। কোনো সংগঠনের কর্মকাণ্ডের কারণে যেন সাধারণ ও আইন মেনে চলা বাংলাদেশি প্রবাসীদের কর্মসংস্থান, ভিসা কিংবা সামাজিক মর্যাদা নিয়ে বাড়তি উদ্বেগ সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে দায়িত্বশীল আচরণ প্রয়োজন।

যেমন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে আমিরাতে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার ঘটনায় ৫৭ জন বাংলাদেশির বিরুদ্ধে কঠোর সাজা ঘোষণার ঘটনা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। ওই ঘটনায় তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ৫৩ জনকে ১০ বছর এবং একজনকে ১১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। পরে ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর আমিরাতের প্রেসিডেন্ট তাঁদের ক্ষমা করেন এবং দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া নেওয়ার নির্দেশ দেন। ঘটনাটি প্রবাসীদের জন্য একটি সতর্কবার্তা। স্বাগতিক দেশের আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো অসাধু দালাল ও মধ্যস্থতাকারীদের প্রতারণা। বিদেশে চাকরি কিংবা ভিসার আশায় অনেক মানুষ তাঁদের সঞ্চিত অর্থ ব্যয় করেন। কেউ কেউ ভুয়া চাকরির প্রস্তাব, অবাস্তব বেতনের প্রতিশ্রুতি কিংবা দ্রুত ভিসা করে দেওয়ার আশ্বাসে প্রতারিত হন। কেউ প্রয়োজনীয় নথি যাচাই না করেই অর্থ দিয়ে বসেন, আবার কেউ জানেন না যে তাঁদের হয়ে জমা দেওয়া কাগজপত্রের সত্যতা যাচাই করা কতটা জরুরি। এ ধরনের পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পেতে অনুমোদিত নিয়োগপ্রক্রিয়া অনুসরণ, অর্থ লেনদেনের প্রমাণ সংরক্ষণ এবং ভিসা বা চাকরির তথ্য সরকারি বা অনুমোদিত সূত্রে যাচাই করা প্রয়োজন।

এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিদেশে অবস্থিত দূতাবাস ও কনস্যুলেট এবং জনশক্তি নিয়োগ-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব রয়েছে। বিদেশে যাওয়ার আগে কর্মীদের জন্য সহজবোধ্য তথ্য ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা যেতে পারে। কোন ধরনের ভিসায় কী শর্ত প্রযোজ্য, চাকরির চুক্তিতে কী কী বিষয় যাচাই করতে হবে, নিয়োগকর্তা পরিবর্তন করলে কী প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয় এবং ভিসা-সংক্রান্ত সমস্যা হলে কোথায় অভিযোগ জানাতে হবে, এসব তথ্য বাংলায় সহজভাবে পৌঁছে দেওয়া দরকার।

আমিরাতে অবস্থানরত বাংলাদেশি কমিউনিটি সংগঠন, সামাজিক সংগঠন ও গণমাধ্যমও এ ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। গুজবের পরিবর্তে যাচাইকৃত তথ্য প্রচার, ভিসা-সংক্রান্ত নিয়মের ব্যাখ্যা এবং প্রতারণার ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা জরুরি। কোনো ভিসা বাতিলের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে যাচাই ছাড়াই সেটিকে সবার জন্য প্রযোজ্য নিয়ম হিসেবে প্রচার করা উচিত নয়। এতে অযথা আতঙ্ক ছড়ায় এবং অসাধু ব্যক্তিরা সেই সুযোগে প্রতারণার সুযোগ নেয়।

একই সঙ্গে বৈধ প্রবাসীদের অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে দেখার বিষয়টিও উপেক্ষা করা যাবে না। কোনো ব্যক্তি দীর্ঘদিন নিয়ম মেনে বসবাসের পর ভিসা বাতিলের শিকার হলে তাঁর কাছে সিদ্ধান্তের কারণ জানার সুযোগ থাকা উচিত। ভুল তথ্য, প্রশাসনিক জটিলতা কিংবা অন্য কোনো সমস্যার কারণে সিদ্ধান্ত হয়ে থাকলে তা পর্যালোচনার কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন। যাঁদের অভিযোগের যৌক্তিক ভিত্তি রয়েছে, তাঁদের জন্য যথাযথ প্রক্রিয়ায় প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ থাকা উচিত। আর যাঁদের ক্ষেত্রে আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাঁদের বিষয়টি আইন অনুযায়ী নিষ্পত্তি করতে হবে।

প্রবাসীদের স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে সরকার ও ব্যক্তির দায়িত্বকে একে অপরের বিপরীতে দাঁড় করানোও সমাধান নয়। সরকারকে কূটনৈতিক যোগাযোগ, তথ্য যাচাই, অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়ে কাজ করতে হবে। অন্যদিকে, প্রত্যেক প্রবাসীকে নিজের কাগজপত্রের সত্যতা, ভিসার শর্ত, চাকরির বৈধতা এবং স্বাগতিক দেশের আইন সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান প্রতারণার আশ্রয় নিলে তার দায় নির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করা উচিত; সেই দায় পুরো বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর ওপর চাপানো ন্যায়সংগত নয়।

আমিরাতে বাংলাদেশিদের ভিসা পরিস্থিতির স্থায়ী উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন স্বচ্ছ তথ্য, দায়িত্বশীল আচরণ এবং দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ। ভিসা বাতিলের প্রকৃত কারণগুলো চিহ্নিত করা গেলে কোন সমস্যার সমাধান কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সম্ভব, কোথায় প্রশাসনিক পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন এবং কোথায় ব্যক্তিগত অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, তা স্পষ্ট হবে।

বিদেশে কর্মসংস্থান বাংলাদেশের লাখো পরিবারের জীবিকার সঙ্গে জড়িত। তাই একজন প্রবাসীর অনিয়ম যেমন অবহেলার বিষয় নয়, তেমনি কোনো বৈধ প্রবাসীর ন্যায্য অধিকারও উপেক্ষা করা যায় না। জাল কাগজপত্র, প্রতারণা ও আইনবিরোধী কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকা যেমন প্রত্যেকের দায়িত্ব, তেমনি বৈধভাবে বিদেশ যেতে ইচ্ছুক মানুষের জন্য স্বচ্ছ ও ন্যায়সংগত প্রক্রিয়া নিশ্চিত করাও জরুরি। ব্যক্তির অনিয়মের দায় ব্যক্তির ওপরই নির্ধারিত হোক, আর বৈধ প্রবাসীদের অধিকার রক্ষায় এগিয়ে আসুক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এই ভারসাম্যই হতে পারে ভিসা জটিলতা কমানোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ।

আকাশে দরজা খুলে গেল ভারতের এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের: অতপর
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলা থেকে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা যাওয়ার পথে মাঝআকাশে একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের দরজা খুলে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে থাকা রোগীর স্বজনরা সাহসিকতার সঙ্গে দরজাটি ধরে রাখেন। পরে ফ্লাইটটি ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। রবিবার (১৮ অক্টোবর) বিকেলের দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।  বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, ছোট আকারের এই এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি ভারতের ‘এসকেবি ইনফ্র্যাকন প্রাইভেট লিমিটেড’-এর মালিকানাধীন। জরুরি অবতরণের পর দ্রুত বিমানবন্দর থেকে অসুস্থ রোগী অঞ্জনা ভৌমিককে ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানে মারা যান তিনি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালকের মুখপাত্র মো. রিয়াজ উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এটি ভারতের একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট। বাংলাদেশের ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ছোট্ট উড়োজাহাজটির দরজা খুলে গেলে এটি ঢাকার কন্ট্রোল টাওয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঢাকায় অবতরণের অনুমতি চায়। পরে যানটিতে থাকা রোগীকে ঢাকার কুর্মিটোলা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। ফ্লাইটটিতে পাইলট হিসেবে ছিলেন, ক্যাপ্টেন পূন্য অনূপ ও ক্যাপ্টেন তনুজ শর্মা। এছাড়া এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটিতে রোগীসহ মোট সাতজন আরোহী ছিলেন। যাত্রীদের মধ্যে ছিলেন, অঞ্জনা ভৌমিক (রোগী), তার দুই স্বজন শান্তা ভৌমিক ও দ্বীপ জয়তি মুশরিপ, চিকিৎসক ডা. ফিরোজ খান এবং প্যারামেডিকস আজিম খান।  বিমানবন্দর সূত্র জানিয়েছে, ফ্লাইটে থাকা অন্যরা সুস্থ আছেন। এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট ছিল। তাই তাদের কোনো পাসপোর্ট বা ভিসা নেই। বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাদের দেশে পাঠানো হবে। 
আকাশে দরজা খুলে গেল ভারতের এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের: অতপর
হুথি হামলার আশঙ্কা, রিয়াদে অফিস বন্ধের নির্দেশ; সতর্ক যুক্তরাষ্ট্র
ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিদের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের অন্যতম প্রধান আকাশচুম্বী ভবন কিংডম সেন্টারের সব অফিসে হোম অফিসের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রোববার থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ভবনটির সব অফিসের কার্যক্রম বাসা থেকে পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে ভবনটির নিচতলার শপিংমল খোলা রয়েছে। ভবনটির ভাড়াটিয়াদের কাছে পাঠানো এক ই-মেইল বার্তায় অফিস ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সময়ে কর্মীদের অফিসে না আসার অনুরোধ জানিয়েছে। ৯৯ তলাবিশিষ্ট কিংডম সেন্টার রিয়াদের অন্যতম পরিচিত বাণিজ্যিক ও স্থাপত্য নিদর্শন। এদিকে, সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে হুথিদের সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে নিজ দেশের নাগরিকদের সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় আকাশপথে ভ্রমণের ক্ষেত্রে মার্কিন নাগরিকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শনিবার জারি করা এক নিরাপত্তা সতর্কবার্তায় সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন মিশন দেশটিতে অবস্থানরত আমেরিকানদের সম্ভাব্য বিমানবন্দর হামলার বিষয়ে সতর্ক করে। একই সঙ্গে আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাওয়া, ফ্লাইট বাতিল এবং অন্যান্য ভ্রমণসংক্রান্ত বিঘ্নের আশঙ্কার কথাও জানানো হয়। নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে সৌদি আরবে কর্মক্ষেত্র ও বিমান চলাচল নিয়ে সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ভ্রমণকারীদের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মার্কিন মিশন বলেছে, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম এখনও স্থগিত রয়েছে। তবে জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালু রয়েছে। যদিও এই দুই বিমানবন্দরে কিছু ফ্লাইটের উড্ডয়ন এবং অবতরণ বিলম্ব ও বাতিল অব্যাহত রয়েছে। সতর্কবার্তায় যেসব আমেরিকান সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলো দিয়ে ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাদের ভ্রমণের আগে অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন এবং সরাসরি এয়ারলাইন্স ও বিমানবন্দরগুলোর কাছ থেকে ফ্লাইটের অবস্থা যাচাই করে নিতে বলা হয়েছে। যাত্রীদের আরও হামলার সম্ভাবনা এবং ফ্লাইটের সময়সূচি বা আকাশসীমার প্রাপ্যতার আকস্মিক পরিবর্তনের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নাগরিকদের মোবাইল ফোন অ্যালার্টের মাধ্যমে সৌদি আরবের সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষের জারি করা জাতীয় জরুরি সতর্কতা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে মার্কিন মিশন।
হুথি হামলার আশঙ্কা, রিয়াদে অফিস বন্ধের নির্দেশ; সতর্ক যুক্তরাষ্ট্র
মার্কিন নাগরিক সেজে ভোট দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় গ্রেপ্তার
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বলে মিথ্যা দাবি করে ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অভিযোগে ভারতীয় নাগরিক মুকেশকুমার সোমাভাই চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা (আইসিই)। তার বিরুদ্ধে ভোটসংক্রান্ত মিথ্যা তথ্য দেওয়া এবং ভোট দিতে নাগরিকত্বের মিথ্যা দাবি করার অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে প্রতিটি অভিযোগে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের ১৬ অক্টোবর প্রকাশিত বিবৃতির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর মিনেসোটার একটি ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি চৌধুরীর বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগে অভিযোগপত্র দাখিল করে। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ২০২৪ সালের ৫ নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ভোট দেওয়ার জন্য মিনেসোটার আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় একটি সনদে স্বাক্ষর করেন চৌধুরী। ওই সনদে তাকে শপথ করে বা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করতে হয়েছিল যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। তবে সরকারি আইনজীবীদের অভিযোগ, মার্কিন নাগরিক না হয়েও বিষয়টি জেনেশুনে নাগরিকত্বের মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে ভোট দেন তিনি। চৌধুরীর বিরুদ্ধে ভোটের ক্ষেত্রে মিথ্যা তথ্য দেওয়া এবং ভোটার হিসেবে নিবন্ধন বা ভোট দেওয়ার উদ্দেশ্যে মার্কিন নাগরিকত্বের মিথ্যা দাবি করার অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে প্রতিটি অভিযোগে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড হতে পারে। তবে তার প্রকৃত সাজা নির্ধারণ করবেন ফেডারেল বিচারক। এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সাজা নির্দেশিকা ও অন্যান্য আইনি বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হবে। মামলাটির তদন্ত করছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস। তদন্তে সহায়তা করছে মিনেসোটার ফিলমোর কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়। বিচার বিভাগের নাগরিক অধিকার বিভাগের অপরাধবিষয়ক শাখা মামলাটি পরিচালনা করছে। সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
মার্কিন নাগরিক সেজে ভোট দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় গ্রেপ্তার
ক্যালিফোর্নিয়ার ৩ শহরে কাউন্সিলর পদে লড়ছেন ৩ বাংলাদেশি
যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের তিনটি শহরের নগর পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তিন প্রার্থী। তারা হলেন লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির মন্টেবেলো শহরে শাজিয়া হক, রিভারসাইড কাউন্টির পেরিস শহরে মোহাম্মদ রহমান এবং সান বার্নার্ডিনো কাউন্টির চিনো শহরে এম এস আলম। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচন সামনে রেখে তিন প্রার্থীই প্রচার চালাচ্ছেন। স্থানীয় বাংলাদেশি-আমেরিকান সম্প্রদায়ের অনেকে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। কেউ আর্থিক সহায়তা দিচ্ছেন, কেউ নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহে সহযোগিতা করছেন, আবার কেউ উৎসাহ ও নৈতিক সমর্থন জোগাচ্ছেন। মূলধারার রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ চান শাজিয়া লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির মন্টেবেলো শহরের ১ নম্বর ওয়ার্ড থেকে নগর পরিষদ নির্বাচনে লড়ছেন শাজিয়া হক। এ পদে তার প্রতিদ্বন্দ্বী জর্জিনা তামায়ো, কিম্বারলি কোবোস ক্যাথর্ন ও রাফায়েল সান্তোয়া। ব্যবসা, লেখালেখি ও সামাজিক নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্ত শাজিয়ার দাবি, ব্যবসা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে তার প্রায় ২০ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে। নির্বাচিত হলে নগর প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি, দায়িত্বশীল বাজেট ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ পাড়া এবং স্থানীয় ব্যবসার বিকাশে কাজ করতে চান তিনি। নগর কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে বাসিন্দাদের মতামত নিশ্চিত করাও তার লক্ষ্য। গণমাধ্যমকে শাজিয়া বলেন, বাংলাদেশি-আমেরিকান নারী হিসেবে তিনি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের অন্য জাতিগোষ্ঠীর তুলনায় তাদের প্রতিনিধিত্ব পিছিয়ে রয়েছে। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের সুযোগ ও সুবিধা কাজে লাগাতে হলে মূলধারার রাজনীতিতে যুক্ত হতে হবে এবং পরবর্তী প্রজন্মের জন্য পথ তৈরি করতে হবে। জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী মোহাম্মদ রহমান রিভারসাইড কাউন্টির পেরিস শহরের ১ নম্বর ওয়ার্ড থেকে প্রার্থী হয়েছেন মোহাম্মদ রহমান। তার প্রতিদ্বন্দ্বী গুয়াদালুপে গোমেজ ও হুয়ান কার্লোস ফ্রাঙ্কো। যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগে ২৭ বছর কাজ করেছেন মোহাম্মদ রহমান। দীর্ঘ কর্মজীবনে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের অভিজ্ঞতা নির্বাচনী প্রচারে তাকে সহায়তা করছে বলে মনে করেন তিনি। কর্মজীবনের সুবাদে অনেক ভোটার তাকে আগে থেকেই চেনেন, যা জয়ের ব্যাপারে তাকে আশাবাদী করে তুলেছে। তার নির্বাচনী অঙ্গীকারের মধ্যে রয়েছে জননিরাপত্তা, সাশ্রয়ী আবাসন, ক্ষুদ্র ব্যবসার বিকাশ এবং তরুণদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি। পাশাপাশি পাড়ায় নজরদারি, পর্যাপ্ত সড়কবাতি, উন্নত ফুটপাত ও জননিরাপত্তা জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। প্রকৌশল অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চান এম এস আলম সান বার্নার্ডিনো কাউন্টির চিনো শহরের ৩ নম্বর ওয়ার্ড থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন প্রকৌশলী এম এস আলম। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান নগর পরিষদ সদস্য মার্ক লুসিও। এম এস আলম ক্যালিফোর্নিয়ার পরিবহন বিভাগের সপ্তম জেলায় পূর্ণকালীন প্রকল্প ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করেন। পাশাপাশি তিনি ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি, লং বিচে খণ্ডকালীন শিক্ষকতা করেন। লস অ্যাঞ্জেলেসের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবহন প্রকৌশল নিয়ে গবেষণা ও পিএইচডি পর্যায়ের কাজের অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার। তিনি চিনো শহরে বসবাস করছেন ১৮ বছর ধরে। নির্বাচিত হলে পরিকল্পিত নগরায়ণ, উন্নত গণপরিবহন, শক্তিশালী অবকাঠামো, দায়িত্বশীল উন্নয়ন এবং মানসম্মত নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে চান এম এস আলম। তার লক্ষ্য, বর্তমান বাসিন্দাদের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করা। নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কঠোর পরিশ্রম করবেন বলেও গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশিদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর লড়াই তিন প্রার্থীর নির্বাচনী অঙ্গীকারে পার্থক্য থাকলেও তাদের লক্ষ্য এক—যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় রাজনীতিতে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো। শাজিয়া হক নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণে গুরুত্ব দিচ্ছেন, মোহাম্মদ রহমান আবাসন ও জননিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। আর এম এস আলম প্রকৌশল ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে পরিকল্পিত নগর উন্নয়নের কথা বলছেন। যুক্তরাষ্ট্রে নগর পরিষদের সিদ্ধান্ত সরাসরি বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলে। সড়ক, গণপরিবহন, আবাসন, জননিরাপত্তা, নগর পরিকল্পনা ও স্থানীয় ব্যবসার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে এসব পরিষদের ভূমিকা রয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বর মন্টেবেলো, পেরিস ও চিনো শহরের ভোটাররা তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন। তিন বাংলাদেশি-আমেরিকান প্রার্থীর জন্য এই লড়াই শুধু নির্বাচনে জয়ী হওয়ার নয়; স্থানীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব প্রতিষ্ঠারও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা।
ক্যালিফোর্নিয়ার ৩ শহরে কাউন্সিলর পদে লড়ছেন ৩ বাংলাদেশি
কানাডার সেনাঘাঁটিতে ভয়াবহ আগুন
কানাডার অন্যতম ব্যস্ত সামরিক ঘাঁটি হলো আলবার্টার সেনাঘাঁটি। যেখানে আগুনে লেগে বেশ কয়েকজন নিহত ও আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় শনিবার রাতে (১৭ অক্টোবর) এ তথ্য জানিয়েছেন কানাডার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ জানিয়েছে, বিকাল ৪টার দিকে ঘাঁটি থেকে তাদের কাছে সহায়তা চাওয়া হয়। আগুন লাগলেও ওই শহরের বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার জন্য কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে এলাকাটি এড়িয়ে চলা, সড়ক খোলা রাখা এবং ওয়াইনরাইটের স্বাস্থ্যকেন্দ্র খুব বেশি প্রয়োজন না হলে না যাওয়ার অনুরোধ করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডেভিড ম্যাকগুইন্টি এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ নিয়ে বলেন, আমি দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি সেখানে নিহত ও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হলো এবং কতজন আহত ও নিহত হয়েছেন সেটি স্পষ্ট করেননি ডেভিড ম্যাকগুইন্টি। তিনি শুধু বলেছেন, আগুনটি সক্রিয় এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। উচ্চ বাতাসের কারণে আগুনটি দ্রুত ছড়াচ্ছে। আলবার্টার প্রাদেশিক রাজধানী এডমন্টন থেকে ২১০ কিলোমিটার দক্ষিণপূর্বাঞ্চলে অবস্থিত ওয়াইনরাইট শহর। সেখানকার সেনাঘাঁটিতে কানাডিয়ান ম্যানুভার ট্রেনিং সেন্টার এবং থার্ড কানাডিয়ান ডিভিশন ট্রেনিং সেন্টার অবস্থিত। এছাড়া এডমন্ডের আর্মি ফিল্ড ফোর্স ইউনিটের ট্রেনিং গ্রাউন্ড হিসেবেও ব্যবহৃত হয় এ ঘাঁটি। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানিয়েছেন, গুরুতর ঘটনা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মতো তিনিও জানাননি কীভাবে আগুন লেগেছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
কানাডার সেনাঘাঁটিতে ভয়াবহ আগুন
আরও পড়ুন
যেসব ভুলে কমছে পুরুষের প্রজনন হরমোন, করণীয় কী?
আরব আমিরাতে বাংলাদেশিদের শ্রমবাজার সম্প্রসারণে গুরুত্ব, মাহ্‌দী আমিনের সঙ্গে রাষ্ট্রদূতের বৈঠক
রক্তে প্লাটিলেট বাড়াতে যেসব খাবার খাবেন
X