ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

অবশেষে জানা গেল ‘মাদার অফ অল বোমস’ এর বি'ধ্বংসী ভ'য়াবহতা!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

  ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:২০ পিএম

ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ও জ্বালানি অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী নিজেদের অস্ত্রাগারের পারমাণবিক বোমার বাইরে সবচেয়ে শক্তিশালী বোমা ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে।

বুলেটিন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি নতুন করে দেশটিতে সামরিক অভিযানের চূড়ান্ত নির্দেশ দেন, তবেই এই অস্ত্রটি ব্যবহার করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

সামরিক পরিভাষায় ‘জিবিইউ-৪৩/বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট’ (সংক্ষেপে এমওএবি) নামের বিশালাকার এই বোমার বহুল পরিচিত ডাকনাম ‘মাদার অব অল বোমস’ বা ‘সব বোমার মা’। পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধের তীব্রতা যখন কিছুটা স্তিমিত, ঠিক তখনই এই বিধ্বংসী বোমা ব্যবহারের পরিকল্পনা পুরো সংঘাতকে নতুন করে বড় মাত্রায় উসকে দিতে পারে বলে সতর্ক করছেন সামরিক বিশ্লেষকেরা।

তবে ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরে এই পদক্ষেপ কতটুকু কার্যকার হবে তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সামরিক পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সিএনএন ও আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, এই বোমা মোতায়েন করলেও ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করার যে কৌশলগত লক্ষ্য ওয়াশিংটনের রয়েছে, তা পূরণ হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

ব্রাসেলসভিত্তিক সামরিক বিশ্লেষক ইলাইজা মানিয়ে আল জাজিরাকে জানান, এমওএবি দিয়ে ইরানের মাটির গভীরে সুরক্ষিত পরমাণু স্থাপনাগুলোর ধ্বংস নিশ্চিত করা যাবে না। বাস্তবে এমন হামলা কার্যকর সামরিক কৌশল হওয়ার চেয়ে স্রেফ একটি “রাজনৈতিক চমক বা নাটুকে প্রদর্শনী” হিসেবেই পর্যবসিত হওয়ার ঝুঁকি বেশি।

জিবিইউ-৪৩/বি মূলত একটি উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরকবাহী বোমা। এতে প্রায় ৮ হাজার ৫০০ কেজি উচ্চমাত্রার বিস্ফোরক থাকে। বোমাটির মোট ওজন প্রায় ৯ হাজার ৮০০ কেজি বা প্রায় ১০ টন, যা সাধারণ চারটি সেডান গাড়ির সমান। দৈর্ঘ্যে এটি ৯ মিটারেরও বেশি, যা একটি ছোটখাটো প্রমোদতরীর সমান।

বিশাল আকার ও ওজনের কারণে এই বোমা সাধারণ কোনো স্টিলথ বোমারু বিমানে ধরে না। ফলে এটি নিক্ষেপ করতে লকহিড সি-১৩০ হারকিউলিস কার্গো পরিবহন বিমান ব্যবহার করতে হয়। ২০০২ থেকে ২০০৩ সালের মধ্যে বোমাটি তৈরি করা হয় এবং এ পর্যন্ত এটি ১২ বার পরীক্ষামূলকভাবে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে।

১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন মার্কিন জোটের বিরুদ্ধে লড়াইকে ‘মাদার অব অল ব্যাটলস’ বা ‘সব যুদ্ধের মা’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। তার সেই বক্তব্যের সঙ্গে মিল রেখেই এই বোমার নাম দেওয়া হয় ‘মাদার অব অল বোমস’।

যুক্তরাষ্ট্র এর আগে বাস্তবে মাত্র একবারই এই বোমার ব্যবহার করেছিল। ২০১৭ সালে আফগানিস্তানে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট খোরাসান প্রভিন্সের (আইএসকেপি) একটি গভীর গুহা ও সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক ধ্বংস করতে এই বোমা ফেলা হয়।

আফগান কর্তৃপক্ষ তখন দাবি করেছিল, বিস্ফোরণে ৯৪ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে এবং কোনও বেসামরিক মানুষ হতাহত হয়নি। তবে স্থানীয়ভাবে বহু বাড়িঘর বিধ্বস্ত হওয়া ও বেসামরিক নাগরিক হতাহতের অনির্ভরযোগ্য তথ্যও সামনে এসেছিল।

এমওএবি বোমাটি সরাসরি মাটিতে আছড়ে পড়ার আগেই ভূপৃষ্ঠের কয়েক ফুট ওপরে শূন্যে বিস্ফোরিত হয়। সামরিক বিশ্লেষক কর্নেল নিদাল আবু জায়েদ জানান, শূন্যে বিস্ফোরণের ফলে এটি মাটির ওপর প্রচণ্ড গতির প্রাণঘাতী অগ্নিশিখা ও শকওয়েভ বা অভিঘাত তরঙ্গ সৃষ্টি করে।

হুথি হামলার আশঙ্কা, রিয়াদে অফিস বন্ধের নির্দেশ; সতর্ক যুক্তরাষ্ট্র
ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিদের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের অন্যতম প্রধান আকাশচুম্বী ভবন কিংডম সেন্টারের সব অফিসে হোম অফিসের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রোববার থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ভবনটির সব অফিসের কার্যক্রম বাসা থেকে পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে ভবনটির নিচতলার শপিংমল খোলা রয়েছে। ভবনটির ভাড়াটিয়াদের কাছে পাঠানো এক ই-মেইল বার্তায় অফিস ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সময়ে কর্মীদের অফিসে না আসার অনুরোধ জানিয়েছে। ৯৯ তলাবিশিষ্ট কিংডম সেন্টার রিয়াদের অন্যতম পরিচিত বাণিজ্যিক ও স্থাপত্য নিদর্শন। এদিকে, সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে হুথিদের সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে নিজ দেশের নাগরিকদের সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় আকাশপথে ভ্রমণের ক্ষেত্রে মার্কিন নাগরিকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শনিবার জারি করা এক নিরাপত্তা সতর্কবার্তায় সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন মিশন দেশটিতে অবস্থানরত আমেরিকানদের সম্ভাব্য বিমানবন্দর হামলার বিষয়ে সতর্ক করে। একই সঙ্গে আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাওয়া, ফ্লাইট বাতিল এবং অন্যান্য ভ্রমণসংক্রান্ত বিঘ্নের আশঙ্কার কথাও জানানো হয়। নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে সৌদি আরবে কর্মক্ষেত্র ও বিমান চলাচল নিয়ে সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ভ্রমণকারীদের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মার্কিন মিশন বলেছে, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম এখনও স্থগিত রয়েছে। তবে জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালু রয়েছে। যদিও এই দুই বিমানবন্দরে কিছু ফ্লাইটের উড্ডয়ন এবং অবতরণ বিলম্ব ও বাতিল অব্যাহত রয়েছে। সতর্কবার্তায় যেসব আমেরিকান সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলো দিয়ে ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাদের ভ্রমণের আগে অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন এবং সরাসরি এয়ারলাইন্স ও বিমানবন্দরগুলোর কাছ থেকে ফ্লাইটের অবস্থা যাচাই করে নিতে বলা হয়েছে। যাত্রীদের আরও হামলার সম্ভাবনা এবং ফ্লাইটের সময়সূচি বা আকাশসীমার প্রাপ্যতার আকস্মিক পরিবর্তনের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নাগরিকদের মোবাইল ফোন অ্যালার্টের মাধ্যমে সৌদি আরবের সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষের জারি করা জাতীয় জরুরি সতর্কতা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে মার্কিন মিশন।
হুথি হামলার আশঙ্কা, রিয়াদে অফিস বন্ধের নির্দেশ; সতর্ক যুক্তরাষ্ট্র
মার্কিন নাগরিক সেজে ভোট দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় গ্রেপ্তার
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বলে মিথ্যা দাবি করে ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অভিযোগে ভারতীয় নাগরিক মুকেশকুমার সোমাভাই চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা (আইসিই)। তার বিরুদ্ধে ভোটসংক্রান্ত মিথ্যা তথ্য দেওয়া এবং ভোট দিতে নাগরিকত্বের মিথ্যা দাবি করার অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে প্রতিটি অভিযোগে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের ১৬ অক্টোবর প্রকাশিত বিবৃতির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর মিনেসোটার একটি ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি চৌধুরীর বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগে অভিযোগপত্র দাখিল করে। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ২০২৪ সালের ৫ নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ভোট দেওয়ার জন্য মিনেসোটার আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় একটি সনদে স্বাক্ষর করেন চৌধুরী। ওই সনদে তাকে শপথ করে বা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করতে হয়েছিল যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। তবে সরকারি আইনজীবীদের অভিযোগ, মার্কিন নাগরিক না হয়েও বিষয়টি জেনেশুনে নাগরিকত্বের মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে ভোট দেন তিনি। চৌধুরীর বিরুদ্ধে ভোটের ক্ষেত্রে মিথ্যা তথ্য দেওয়া এবং ভোটার হিসেবে নিবন্ধন বা ভোট দেওয়ার উদ্দেশ্যে মার্কিন নাগরিকত্বের মিথ্যা দাবি করার অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে প্রতিটি অভিযোগে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড হতে পারে। তবে তার প্রকৃত সাজা নির্ধারণ করবেন ফেডারেল বিচারক। এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সাজা নির্দেশিকা ও অন্যান্য আইনি বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হবে। মামলাটির তদন্ত করছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস। তদন্তে সহায়তা করছে মিনেসোটার ফিলমোর কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়। বিচার বিভাগের নাগরিক অধিকার বিভাগের অপরাধবিষয়ক শাখা মামলাটি পরিচালনা করছে। সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
মার্কিন নাগরিক সেজে ভোট দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় গ্রেপ্তার
ক্যালিফোর্নিয়ার ৩ শহরে কাউন্সিলর পদে লড়ছেন ৩ বাংলাদেশি
যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের তিনটি শহরের নগর পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তিন প্রার্থী। তারা হলেন লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির মন্টেবেলো শহরে শাজিয়া হক, রিভারসাইড কাউন্টির পেরিস শহরে মোহাম্মদ রহমান এবং সান বার্নার্ডিনো কাউন্টির চিনো শহরে এম এস আলম। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচন সামনে রেখে তিন প্রার্থীই প্রচার চালাচ্ছেন। স্থানীয় বাংলাদেশি-আমেরিকান সম্প্রদায়ের অনেকে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। কেউ আর্থিক সহায়তা দিচ্ছেন, কেউ নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহে সহযোগিতা করছেন, আবার কেউ উৎসাহ ও নৈতিক সমর্থন জোগাচ্ছেন। মূলধারার রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ চান শাজিয়া লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির মন্টেবেলো শহরের ১ নম্বর ওয়ার্ড থেকে নগর পরিষদ নির্বাচনে লড়ছেন শাজিয়া হক। এ পদে তার প্রতিদ্বন্দ্বী জর্জিনা তামায়ো, কিম্বারলি কোবোস ক্যাথর্ন ও রাফায়েল সান্তোয়া। ব্যবসা, লেখালেখি ও সামাজিক নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্ত শাজিয়ার দাবি, ব্যবসা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে তার প্রায় ২০ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে। নির্বাচিত হলে নগর প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি, দায়িত্বশীল বাজেট ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ পাড়া এবং স্থানীয় ব্যবসার বিকাশে কাজ করতে চান তিনি। নগর কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে বাসিন্দাদের মতামত নিশ্চিত করাও তার লক্ষ্য। গণমাধ্যমকে শাজিয়া বলেন, বাংলাদেশি-আমেরিকান নারী হিসেবে তিনি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের অন্য জাতিগোষ্ঠীর তুলনায় তাদের প্রতিনিধিত্ব পিছিয়ে রয়েছে। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের সুযোগ ও সুবিধা কাজে লাগাতে হলে মূলধারার রাজনীতিতে যুক্ত হতে হবে এবং পরবর্তী প্রজন্মের জন্য পথ তৈরি করতে হবে। জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী মোহাম্মদ রহমান রিভারসাইড কাউন্টির পেরিস শহরের ১ নম্বর ওয়ার্ড থেকে প্রার্থী হয়েছেন মোহাম্মদ রহমান। তার প্রতিদ্বন্দ্বী গুয়াদালুপে গোমেজ ও হুয়ান কার্লোস ফ্রাঙ্কো। যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগে ২৭ বছর কাজ করেছেন মোহাম্মদ রহমান। দীর্ঘ কর্মজীবনে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের অভিজ্ঞতা নির্বাচনী প্রচারে তাকে সহায়তা করছে বলে মনে করেন তিনি। কর্মজীবনের সুবাদে অনেক ভোটার তাকে আগে থেকেই চেনেন, যা জয়ের ব্যাপারে তাকে আশাবাদী করে তুলেছে। তার নির্বাচনী অঙ্গীকারের মধ্যে রয়েছে জননিরাপত্তা, সাশ্রয়ী আবাসন, ক্ষুদ্র ব্যবসার বিকাশ এবং তরুণদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি। পাশাপাশি পাড়ায় নজরদারি, পর্যাপ্ত সড়কবাতি, উন্নত ফুটপাত ও জননিরাপত্তা জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। প্রকৌশল অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চান এম এস আলম সান বার্নার্ডিনো কাউন্টির চিনো শহরের ৩ নম্বর ওয়ার্ড থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন প্রকৌশলী এম এস আলম। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান নগর পরিষদ সদস্য মার্ক লুসিও। এম এস আলম ক্যালিফোর্নিয়ার পরিবহন বিভাগের সপ্তম জেলায় পূর্ণকালীন প্রকল্প ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করেন। পাশাপাশি তিনি ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি, লং বিচে খণ্ডকালীন শিক্ষকতা করেন। লস অ্যাঞ্জেলেসের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবহন প্রকৌশল নিয়ে গবেষণা ও পিএইচডি পর্যায়ের কাজের অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার। তিনি চিনো শহরে বসবাস করছেন ১৮ বছর ধরে। নির্বাচিত হলে পরিকল্পিত নগরায়ণ, উন্নত গণপরিবহন, শক্তিশালী অবকাঠামো, দায়িত্বশীল উন্নয়ন এবং মানসম্মত নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে চান এম এস আলম। তার লক্ষ্য, বর্তমান বাসিন্দাদের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করা। নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কঠোর পরিশ্রম করবেন বলেও গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশিদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর লড়াই তিন প্রার্থীর নির্বাচনী অঙ্গীকারে পার্থক্য থাকলেও তাদের লক্ষ্য এক—যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় রাজনীতিতে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো। শাজিয়া হক নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণে গুরুত্ব দিচ্ছেন, মোহাম্মদ রহমান আবাসন ও জননিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। আর এম এস আলম প্রকৌশল ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে পরিকল্পিত নগর উন্নয়নের কথা বলছেন। যুক্তরাষ্ট্রে নগর পরিষদের সিদ্ধান্ত সরাসরি বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলে। সড়ক, গণপরিবহন, আবাসন, জননিরাপত্তা, নগর পরিকল্পনা ও স্থানীয় ব্যবসার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে এসব পরিষদের ভূমিকা রয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বর মন্টেবেলো, পেরিস ও চিনো শহরের ভোটাররা তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন। তিন বাংলাদেশি-আমেরিকান প্রার্থীর জন্য এই লড়াই শুধু নির্বাচনে জয়ী হওয়ার নয়; স্থানীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব প্রতিষ্ঠারও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা।
ক্যালিফোর্নিয়ার ৩ শহরে কাউন্সিলর পদে লড়ছেন ৩ বাংলাদেশি
কানাডার সেনাঘাঁটিতে ভয়াবহ আগুন
কানাডার অন্যতম ব্যস্ত সামরিক ঘাঁটি হলো আলবার্টার সেনাঘাঁটি। যেখানে আগুনে লেগে বেশ কয়েকজন নিহত ও আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় শনিবার রাতে (১৭ অক্টোবর) এ তথ্য জানিয়েছেন কানাডার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ জানিয়েছে, বিকাল ৪টার দিকে ঘাঁটি থেকে তাদের কাছে সহায়তা চাওয়া হয়। আগুন লাগলেও ওই শহরের বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার জন্য কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে এলাকাটি এড়িয়ে চলা, সড়ক খোলা রাখা এবং ওয়াইনরাইটের স্বাস্থ্যকেন্দ্র খুব বেশি প্রয়োজন না হলে না যাওয়ার অনুরোধ করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডেভিড ম্যাকগুইন্টি এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ নিয়ে বলেন, আমি দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি সেখানে নিহত ও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হলো এবং কতজন আহত ও নিহত হয়েছেন সেটি স্পষ্ট করেননি ডেভিড ম্যাকগুইন্টি। তিনি শুধু বলেছেন, আগুনটি সক্রিয় এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। উচ্চ বাতাসের কারণে আগুনটি দ্রুত ছড়াচ্ছে। আলবার্টার প্রাদেশিক রাজধানী এডমন্টন থেকে ২১০ কিলোমিটার দক্ষিণপূর্বাঞ্চলে অবস্থিত ওয়াইনরাইট শহর। সেখানকার সেনাঘাঁটিতে কানাডিয়ান ম্যানুভার ট্রেনিং সেন্টার এবং থার্ড কানাডিয়ান ডিভিশন ট্রেনিং সেন্টার অবস্থিত। এছাড়া এডমন্ডের আর্মি ফিল্ড ফোর্স ইউনিটের ট্রেনিং গ্রাউন্ড হিসেবেও ব্যবহৃত হয় এ ঘাঁটি। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানিয়েছেন, গুরুতর ঘটনা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মতো তিনিও জানাননি কীভাবে আগুন লেগেছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
কানাডার সেনাঘাঁটিতে ভয়াবহ আগুন
কলকাতায় দুর্গাপূজার মণ্ডপ ভেঙে শিশুসহ নিহত ১৭
পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় দুর্গাপূজার মণ্ডপ ভেঙে অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও ২০ জন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুর্গাপূজার মহাসপ্তমীর রাতে কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসবের মণ্ডপে এ ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, শনিবার রাতে হঠাৎ করে প্রবল বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টির হাত থেকে রক্ষা পেতে একদল দর্শনার্থী জোর করে চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপূজার মণ্ডপে ঢুকে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। ভিড় এতটাই বেশি ছিল যে সে সময় পদপৃষ্ট হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। মণ্ডপের ভেতরে ভিড়ের চাপ বেশি থাকায় হুড়োহুড়িতে মণ্ডপের একাংশ ভেঙে পড়ে। এতে সেখানে থাকা দর্শনার্থীরা মণ্ডপের একাংশের নিচে চাপা পড়েন। পরে মণ্ডপের সুরক্ষায় থাকা সিভিক ভলান্টিয়ার ও পুলিশ দর্শনার্থীদের উদ্ধার করে স্থানীয় মেডিকেল কলেজে নিয়ে যান। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সেখানে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ১৩ জন নারী, তিনজন পুরুষ ও একজন শিশু। এ ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। এ ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পশ্চিবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ।এদিকে উদ্বিগ্ন পরিবারের সহায়তার জন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে একটি হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে। আপাতত দর্শনার্থীদের জন্য পূজামণ্ডপ বন্ধ করে রাখা হয়েছে। দর্শনার্থীরা জানিয়েছেন, মণ্ডপের একাংশ ভেঙে পড়েছে। নিজের প্রাণ বাঁচাতে সবাই দৌড়াতে শুরু করেছিলেন। পদপৃষ্টের মতো অবস্থা হয়ে গিয়েছিল। এখানে এত পুলিশ এবং ভলান্টিয়ার থাকা সত্ত্বেও কোনো ব্যবস্থাই প্রথমে নেওয়া হচ্ছিল না। পরবর্তীতে স্থানীয় বাসিন্দারা এসে মণ্ডপের কাঠামো সরিয়ে আহতদের উদ্ধার করেন। পুলিশ এসেও সেই উদ্ধার কাজে হাত লাগায়।
কলকাতায় দুর্গাপূজার মণ্ডপ ভেঙে শিশুসহ নিহত ১৭
আরও পড়ুন
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে বো'মা বি'স্ফোরণের ঘটনায় যা জানা গেল
বিএনপি নেতার স্ট্যাটাস— ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, আপনার দলের ধ্বংস নিশ্চিত’
নোবেল নিয়ে ট্রাম্পের বড় আশা, শেষ পর্যন্ত কী হবে?
১৩ নভেম্বর পৃথিবী ধ্বংস হওয়া নিয়ে যা জানা গেল!
X