
১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। একই সঙ্গে ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের ব্যক্তিগত সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের ওপরও বিধিনিষেধ আরোপের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বুধবার ফ্রান্সের স্ট্রাসবার্গে দেওয়া ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণে এ পরিকল্পনার কথা জানান ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন।
তিনি বলেন, ‘১৩ বছরের কম বয়সীদের জন্য কোনো সোশ্যাল মিডিয়া নয়। ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য কোনো ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট নয়।’
তবে ১৩ ও ১৪ বছর বয়সীদের জন্য অভিভাবকের তত্ত্বাবধানে সীমিত সুবিধার ‘মিনি অ্যাকাউন্ট’ ব্যবহারের সুযোগ রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এসব অ্যাকাউন্ট দিনে সর্বোচ্চ এক ঘণ্টা ব্যবহার করা যাবে।
শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার সীমিত করার বৈশ্বিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে ইইউ এমন পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। এর আগে জোটটির কয়েকটি সদস্য দেশ কিশোর-কিশোরীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিজস্ব বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়া ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করে। দেশটি এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা চালু করা বিশ্বের প্রথম দেশ।
ইইউর নির্বাহী শাখা ইউরোপীয় কমিশন বৃহস্পতিবার নতুন একটি ‘কিডস অ্যাক্ট’ প্রস্তাব করবে বলে জানিয়েছেন ভন ডার লেয়েন। প্রস্তাবিত আইনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপরই প্রমাণের দায়ভার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ কোনো প্ল্যাটফর্মকে শিশুদের জন্য নিরাপদ কি না, সেটি প্রমাণ করতে হবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকেই।
ভন ডার লেয়েন বলেন, অনেকেই মনে করেন বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষমতা অপ্রতিরোধ্য। তবে তিনি এ ধারণার সঙ্গে একমত নন। তাঁর ভাষায়, ইউরোপের ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান নয়, ইউরোপই নিয়মকানুন নির্ধারণ করবে।
তবে প্রস্তাবিত আইন বাস্তবায়নে সময় লাগতে পারে। কারণ ইইউর প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্রের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে। এরই মধ্যে কয়েকটি দেশ নিজেদের উদ্যোগে শিশু-কিশোরদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে বয়সসীমা নির্ধারণের পদক্ষেপ নিয়েছে।
ফ্রান্স জুলাইয়ে ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নেয়। দেশটির আইনপ্রণেতারা এ বিষয়ে ভোট দেওয়ার পর নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের চেষ্টা করা হলেও পরে সাংবিধানিক আদালত তা বাতিল করে দেয়। স্পেন, ডেনমার্ক ও সুইডেনসহ আরও কয়েকটি দেশও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে বয়সসীমা আরোপের উদ্যোগ নিচ্ছে।
এদিকে প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়েও বক্তব্য দেন ভন ডার লেয়েন। তিনি বলেন, সঠিকভাবে কাজে লাগানো গেলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানবজাতির কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এর সঙ্গে যুক্ত বড় ধরনের ঝুঁকি, বিশেষ করে ভবিষ্যতে আরও জটিল সাইবার হামলার আশঙ্কা মোকাবিলা করতে হবে।
এ বিষয়ে আলোচনার জন্য শীর্ষস্থানীয় এআই ল্যাবগুলোর প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানোর কথাও জানিয়েছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট।




