ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

থ্রাস্টার প্রযুক্তির উড়ন্ত গাড়ি দেখাল টেসলা

প্রযুক্তি ডেস্ক

  ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:৫৪ পিএম

সড়কে চলার পাশাপাশি আকাশেও উড়তে পারবে গাড়ি—এমন ধারণা দীর্ঘদিন ধরে কল্পবিজ্ঞানের সিনেমায় দেখা গেছে। এবার সেই ধারণাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা। রকেটের মতো থ্রাস্টার প্রযুক্তি ব্যবহার করে উড্ডয়ন ও দ্রুত গতি অর্জনে সক্ষম নতুন রোডস্টার গাড়ি প্রদর্শন করেছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইলন মাস্ক। গাড়িটির উৎপাদন ২০২৮ সালে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

বুলেটিন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে স্পেসএক্সের পরীক্ষাকেন্দ্রে গাড়িটি প্রদর্শন করা হয়। মাস্কের দাবি, নতুন রোডস্টার মাত্র এক সেকেন্ডেরও কম সময়ে ঘণ্টায় শূন্য থেকে ৬০ মাইল গতিতে পৌঁছাতে পারবে।

প্রদর্শনীতে দুই আসনের স্পোর্টস ঘরানার গাড়িটিকে একটি খাড়া ঢাল বেয়ে ওপরে উঠতে এবং উল্টো হয়ে ঝুলে থাকতে দেখা যায়। পরে গাড়িটি ঘুরে ঢাল থেকে বেরিয়ে বাতাসে ডিগবাজি খেয়ে বিশেষ থ্রাস্টারের সাহায্যে অবতরণ করে। তবে পুরো প্রদর্শনীতে গাড়িটির ভেতরে কোনো চালক ছিলেন না।

মাস্ক জানান, সম্ভাব্য দুর্ঘটনা ও হতাহতের ঝুঁকি এড়াতে চালক ছাড়াই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। এ প্রকল্পের সাফল্য নিয়ে শতভাগ নিশ্চিত নন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, প্রযুক্তিটি কার্যকর না-ও হতে পারে। সে ক্ষেত্রে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা হবে।

প্রদর্শনীর আরেক পর্যায়ে পাশাপাশি রাখা টেসলার কয়েকটি গাড়ির সারির ওপর দিয়ে লাফিয়ে যায় রোডস্টারটি। পরে গাড়িটির পেছনের থ্রাস্টার ব্যবহার করে দ্রুত গতি অর্জনের সক্ষমতাও দেখানো হয়।

টেসলার দাবি, নতুন রোডস্টারে রয়েছে ১০টি নজল বা বায়ু নির্গমনের পথ এবং অতি উচ্চচাপের বায়ু সংরক্ষণের ট্যাংক। এসব প্রযুক্তি গাড়িটিকে বাতাসে উঠতে এবং অল্প সময়ে বেশি গতি অর্জনে সহায়তা করবে।

মাস্কের মতে, বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা এবং রকেট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের প্রযুক্তিগত সহযোগিতার ফল এই রোডস্টার। প্রদর্শনীতে গাড়িটিকে বাতাসে উঠতে দেখা গেলেও দীর্ঘ সময় ধরে উড়তে পারার সক্ষমতা দেখানো হয়নি। ফলে গাড়িটি প্রকৃত অর্থে কতটা উড়তে পারবে, নাকি কেবল অল্প দূরত্বে লাফ দিতে সক্ষম হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

মাস্ক বলেন, এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা কম্পিউটার সিমুলেশনের ফল নয়—তা প্রমাণ করতে দর্শকদের সামনে প্রদর্শন করা হয়েছে। দর্শকেরা নিজের চোখে গাড়িটির কার্যক্রম দেখে অন্যদেরও সে অভিজ্ঞতার কথা জানাতে পারবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

উড়ন্ত গাড়ি তৈরিতে প্রকৌশলগত চ্যালেঞ্জ

সাম্প্রতিক বছরগুলোয় এক জায়গায় স্থির থেকে উড্ডয়ন ও অবতরণে সক্ষম বৈদ্যুতিক উড়োজাহাজের প্রযুক্তিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। এ ধরনের যানকে ইভিটিওএল (eVTOL) বলা হয়। কিছু প্রতিষ্ঠানের এ প্রযুক্তির কার্যকর মডেল তৈরি হলেও একই সঙ্গে সড়কে চলতে ও আকাশে উড়তে সক্ষম যান নির্মাণে এখনো বড় ধরনের প্রকৌশলগত চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

প্রদর্শনীর আগে বৃহস্পতিবার সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্মিথসোনিয়ান ন্যাশনাল এয়ার অ্যান্ড স্পেস মিউজিয়ামের ভার্টিকাল টেক-অফবিষয়ক কিউরেটর রজার কনর বলেন, উড়োজাহাজ তৈরির ক্ষেত্রে ওজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, সড়কে চলাচলকারী গাড়িতে বাম্পার, দুর্ঘটনার সময় আঘাত শোষণকারী কাঠামোসহ বিভিন্ন নিরাপত্তাব্যবস্থা রাখতে হয়।

তাঁর মতে, উড়োজাহাজ ও গাড়ির বৈশিষ্ট্য একসঙ্গে যুক্ত করে যান তৈরি করা হলে সেটি উড়োজাহাজ হিসেবে দুর্বল হতে পারে, আবার সাধারণ গাড়ির মতোও কার্যকর নাও হতে পারে। এ ধরনের যান তৈরির ব্যয়ও অনেক বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উড়ন্ত গাড়ি তৈরিতে কাজ করছে অ্যালেফ

উড়ন্ত গাড়ি তৈরির প্রতিযোগিতায় রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান অ্যালেফ। প্রতিষ্ঠানটির তৈরি একটি গাড়ি আটটি প্রপেলারের সাহায্যে আকাশে উঠতে সক্ষম হয়েছে। এর চারটি প্রপেলার সামনে এবং চারটি পেছনে রয়েছে।

অ্যালেফের তৈরি গাড়িটির ওজন ২৫৪ পাউন্ড। এটি টেসলা রোডস্টারের তুলনায় অনেক হালকা এবং এতে একজন যাত্রী বহন করা যায়। তবে যাত্রীর ওজন গাড়িটির নিজস্ব ওজনের চেয়ে কম হতে হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

টেসলার প্রদর্শনীর আগে সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অ্যালেফের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জিম দুখভনি বলেন, উড়ন্ত গাড়ির প্রযুক্তি বাস্তবায়ন করা সম্ভব। তবে ইভিটিওএল প্রযুক্তির সবচেয়ে কঠিন দিকগুলোর একটি হলো উল্লম্বভাবে ওপরে ওঠার পর সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পর্যায়ে রূপান্তর।

এ সময় উড্ডয়নের জন্য প্রয়োজনীয় উত্তোলনক্ষমতা বজায় রাখা এবং যানটির স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

টেসলার নতুন রোডস্টার প্রদর্শন উড়ন্ত গাড়ির প্রযুক্তি নিয়ে আগ্রহ বাড়ালেও এর প্রকৃত উড্ডয়নক্ষমতা, নিরাপত্তা, ব্যবহারিক কার্যকারিতা এবং বাণিজ্যিক উৎপাদনের সময়সীমা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে আরও তথ্য ও পরীক্ষার ফল প্রয়োজন।

চ্যাটজিপিটিতে নতুন ফিচার, উত্তরের সঙ্গেই মিলবে ক্যালকুলেটর-কুইজসহ নানা টুল
চ্যাটজিপিটিতে কোনো প্রশ্ন করলে এখন শুধু লিখিত উত্তরই নয়, প্রয়োজন অনুযায়ী পাওয়া যেতে পারে ইন্টারঅ্যাকটিভ ক্যালকুলেটর, কুইজ, ছবি, মানচিত্র ও পণ্য তুলনার সুবিধা। ব্যবহারকারী এসবের বিভিন্ন মান পরিবর্তন করে ফলাফল দেখতে পারবেন। ফলে পড়াশোনা, সঞ্চয়ের হিসাব, ভ্রমণ পরিকল্পনা কিংবা কেনাকাটার মতো কাজ করা যাবে আরও সহজে। সম্প্রতি ‘ইন্টেলিজেন্ট ইউআই’ (Intelligent UI) নামের এই সুবিধার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিয়েছে ওপেনএআই। ওই দিন থেকেই পেইড প্ল্যানে ধাপে ধাপে চালু শুরু হয়। পরে ফ্রি ও গো প্ল্যানও চালুর প্রক্রিয়া শুরু হয়। তবে সবার অ্যাকাউন্টে একই সময়ে সুবিধাটি দেখা নাও যেতে পারে। যেভাবে কাজ করবে ইন্টেলিজেন্ট ইউআইয়ের মাধ্যমে প্রশ্নের ধরন অনুযায়ী চ্যাটজিপিটি উত্তরে লেখা, ছবি ও ইন্টারঅ্যাকটিভ উপাদান যুক্ত করতে পারে। এ জন্য আলাদা অ্যাপ তৈরি বা প্রোগ্রামিং জানার প্রয়োজন নেই। সাধারণ চ্যাটে নিজের প্রয়োজন জানালেই হবে। ১. সঞ্চয়ের হিসাব: প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জমালে কয়েক বছর পর কত হবে, তা হিসাব করতে ক্যালকুলেটর পাওয়া যেতে পারে। সেখানে সঞ্চয়ের পরিমাণ ও সময় পরিবর্তন করে ফলাফল দেখা যাবে। ২. ছবি দেখে শেখা: সাইকেলের গিয়ার বা বিজ্ঞানের কোনো বিষয় চিত্রের সাহায্যে বোঝানো যেতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে বিভিন্ন উপাদান পরিবর্তন করে তাদের কাজও দেখা সম্ভব। ৩. কুইজের মাধ্যমে পড়াশোনা: নতুন ভাষা শেখা কিংবা পরীক্ষার প্রস্তুতিতে চ্যাটজিপিটি কুইজ নিতে পারে। উত্তরের ভিত্তিতে পরবর্তী অনুশীলনও চাওয়া যাবে। ৪. ভ্রমণ পরিকল্পনা: বাজেট, সময় ও পছন্দের জায়গা জানালে ভ্রমণসূচি ও মানচিত্র পাওয়া যাবে। এমন ইন্টারঅ্যাকটিভ সুবিধা থাকলে বাজেট পরিবর্তন করে পরিকল্পনার পরিবর্তনও দেখা যাবে। ৫. পণ্য তুলনা: ল্যাপটপের মতো পণ্যের দাম, ওজন ও ব্যাটারির স্থায়িত্ব তুলনা করা যাবে। কোন বৈশিষ্ট্যকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, তা পরিবর্তন করে সুপারিশও নেওয়া যাবে এখান থেকে। কীভাবে ব্যবহার করবেন? চ্যাটজিপিটিতে নিজের প্রয়োজন স্পষ্ট করে লিখতে হবে। যেমন, ‘প্রতি মাসে পাঁচ হাজার টাকা সঞ্চয় করলে ১০ বছরে কত হবে, এমন একটি ইন্টারঅ্যাকটিভ ক্যালকুলেটর তৈরি করো।’ একইভাবে পড়াশোনার জন্য কুইজ, ভ্রমণের জন্য বাজেটভিত্তিক পরিকল্পনা কিংবা পণ্য তুলনার ব্যবস্থাও চাওয়া যাবে। প্রথমবার ইন্টারঅ্যাকটিভ উপাদান না এলে আরও স্পষ্টভাবে বলা যায়, ‘এমনভাবে উত্তর দাও, যাতে আমি বিভিন্ন মান পরিবর্তন করে ফলাফল দেখতে পারি।’ তবে প্রতিটি প্রশ্নে এই সুবিধা স্বয়ংক্রিয়ভাবে আসবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। উত্তরের গতি বাড়ানোর সুবিধা ওপেনএআই জানিয়েছে, জিপিটি-৬ ইনস্ট্যান্ট প্রয়োজনীয় বিশ্লেষণ বা টুল ব্যবহারের কাজ চালিয়ে যাওয়ার মধ্যেই উত্তর দেওয়া শুরু করতে পারে। প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব মূল্যায়ন অনুযায়ী, ওয়েব অনুসন্ধানের প্রয়োজন হয় এমন প্রশ্নে এটি আগের জিপিটি-৫.৬ ইনস্ট্যান্টের তুলনায় গড়ে ৪৪ শতাংশ দ্রুত উত্তর দেওয়া শুরু করে। তবে সব প্রশ্নে একই মাত্রার উন্নতি হবে, এমন নয়। ইন্টেলিজেন্ট ইউআইয়ের সুবিধা থাকলেও উত্তরের নির্ভুলতা যাচাই করা জরুরি। ক্যালকুলেটরের ফলাফল অনুমানের ওপর নির্ভর করতে পারে। একইভাবে পণ্যের দাম, ব্যাটারির স্থায়িত্ব কিংবা ভ্রমণ ব্যয়ের মতো তথ্য নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে মিলিয়ে নেওয়া উচিত। সবমিলিয়ে, নতুন সুবিধাটি চ্যাটজিপিটিকে শুধু তথ্য জানার মাধ্যম নয়, বরং তথ্য নিয়ে কাজ করার সহকারী হিসেবেও ব্যবহার করার সুযোগ দিচ্ছে। তবে এর প্রাপ্যতা অ্যাকাউন্টভেদে ভিন্ন হতে পারে এবং সব উত্তরে ইন্টারঅ্যাকটিভ উপাদান পাওয়া নাও যেতে পারে।
চ্যাটজিপিটিতে নতুন ফিচার, উত্তরের সঙ্গেই মিলবে ক্যালকুলেটর-কুইজসহ নানা টুল
স্টারলিংকের প্রথম মাসের সেবা সম্পূর্ণ ‘ফ্রি’, মোবাইলে চালু করবেন যেভাবে
মোবাইল টাওয়ারের নেটওয়ার্কের বাইরে থেকেও যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করেছে স্টারলিংকের স্যাটেলাইটভিত্তিক মোবাইল সেবা। বাংলালিংক গ্রাহকদের জন্য চালু হওয়া এ সুবিধায় প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতার বাইরে থেকেও প্রয়োজনীয় অ্যাপ ও লোকেশনভিত্তিক সেবা ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। প্রথম মাসে নির্দিষ্ট ইন্টারনেট বা মিশ্র বান্ডেল প্যাকের সঙ্গে অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই এ সুবিধা দিচ্ছে অপারেটরটি। দ্বিতীয় মাস থেকে নির্বাচিত মাসিক প্যাকের সঙ্গে পাওয়া যাবে সেবাটি। খবর বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)। যেভাবে চালু করবেন সেবা এ সেবা ব্যবহারের জন্য আলাদা স্যাটেলাইট ফোন, ডিশ, অ্যান্টেনা কিংবা বিশেষ কোনো যন্ত্র কেনার প্রয়োজন নেই। একটি সমর্থিত ফোরজি (4G) ফোন ও বাংলালিংক সিম থাকলেই সেবা ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। তবে ফোনটি এ প্রযুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে এবং ব্যবহারকারীকে স্যাটেলাইট কাভারেজের আওতায় থাকতে হবে। সেবাটি ব্যবহারের জন্য বাংলালিংকের মাইবিএল (MyBL) অ্যাপ ব্যবহার করা যাবে। অপারেটরের তথ্য অনুযায়ী, এ সেবার জন্য আলাদা কোনো অ্যাপ ইনস্টল বা জটিল সেটআপের প্রয়োজন নেই। তবে ফোনের মডেল সমর্থিত কি না এবং সেবাটি ব্যবহারের শর্ত পূরণ হচ্ছে কি না, তা যাচাই করে নেওয়া উচিত। প্রথম মাসে ফ্রি, এরপর কী? বাংলালিংকের ঘোষণা অনুযায়ী, চালুর প্রথম মাসে যেকোনো ইন্টারনেট বা মিশ্র বান্ডেল প্যাকের সঙ্গে স্টারলিংক সংযোগ ব্যবহার করা যাবে অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই। দ্বিতীয় মাস থেকে নির্বাচিত মাসিক ইন্টারনেট ও মিশ্র বান্ডেল প্যাকের সঙ্গে এ সুবিধা পাওয়া যাবে। এ ছাড়া স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কে ব্যবহারের জন্য প্রতি মাসে পাঁচটি বিনা মূল্যের এসএমএস দেওয়ার কথাও জানিয়েছে অপারেটরটি। তবে দ্বিতীয় মাস থেকে কোন কোন প্যাকে সুবিধাটি পাওয়া যাবে, তা জানতে বাংলালিংকের নির্ধারিত প্যাক ও শর্ত দেখে নেওয়া প্রয়োজন। কখন স্যাটেলাইটের সঙ্গে যুক্ত হবে ফোন? প্রচলিত মোবাইল টাওয়ারের নেটওয়ার্কের বাইরে গেলে উপযুক্ত ফোন স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের সুযোগ পাবে। তবে সংযোগ পেতে স্যাটেলাইট কাভারেজের আওতায় থাকতে হবে। খোলা আকাশের নিচে থাকলে সংযোগ স্থাপনে সুবিধা হতে পারে। ভবন, পাহাড় কিংবা অন্য কোনো বড় বাধা সংযোগে প্রভাব ফেলতে পারে। নেটওয়ার্কের বাইরে গেলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্যাটেলাইট সংযোগ পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। ফোনের সামঞ্জস্য, অবস্থান ও স্যাটেলাইট কাভারেজের ওপর সেবাটি নির্ভর করবে। স্যাটেলাইট সংযোগে কী করা যাবে? বাংলালিংকের এ সেবার মাধ্যমে প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে থেকেও প্রয়োজনীয় অ্যাপ ব্যবহার, বার্তা আদান-প্রদান, অবস্থান শেয়ার এবং ছোট ফাইল পাঠানোর সুযোগ রয়েছে। সেবাটির মাধ্যমে এসএমএস ও নির্দিষ্ট অ্যাপভিত্তিক যোগাযোগ করা যাবে। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল, উপকূল, সমুদ্র কিংবা দুর্যোগের সময় প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্ক অকার্যকর হয়ে পড়লে এ প্রযুক্তি কাজে আসতে পারে। বিশেষ করে জেলে, সমুদ্রে কর্মরত ব্যক্তি, ভ্রমণকারী এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জন্য এটি সহায়ক হতে পারে।
মশিউর অর্ণব
এবার হাইপারসনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল পাকিস্তান
পাকিস্তান মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) হাইপারসনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘ফাতাহ-২ এক্সটেন্ডেড রেঞ্জ’ (ইআর)-এর সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রটি নির্ভুলতার সঙ্গে দূরপাল্লার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম বলে জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র-ব্যবস্থাটিতে উন্নত নেভিগেশন প্রযুক্তি ও অত্যাধুনিক অ্যাভিওনিকস সংযুক্ত রয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ক্ষেপণাস্ত্রটির বিশেষ গতিপথ ও কৌশলগতভাবে দিক পরিবর্তনের সক্ষমতার কারণে এটি অত্যন্ত নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। একই সঙ্গে শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দেওয়ার সক্ষমতাও রয়েছে এর। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর দাবি, ফাতাহ-২ ইআরের বর্ধিত পাল্লা দেশটির সেনাবাহিনীর দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা ও কার্যকর পরিসর আরও বাড়াবে। ক্ষেপণাস্ত্রটির সর্বশেষ পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের সময় উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের আর্মি রকেট ফোর্স কমান্ডের কমান্ডার, সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীরা। সফল পরীক্ষার জন্য বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, সেনাপ্রধান ও প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান আসিম মুনির এবং দেশটির তিন বাহিনীর প্রধানরা। এর আগে, গত সপ্তাহে পাকিস্তান ফাতাহ-৪ স্থলভিত্তিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের বর্ধিত সংস্করণের পরীক্ষা চালায়। এছাড়া গত মে মাসেও দেশটি ফাতাহ-৪ স্থলভিত্তিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করেছিল। সূত্র: দ্য প্রিন্ট
এবার হাইপারসনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল পাকিস্তান
২০৫০ সালে বদলে যাবে যুক্তরাষ্ট্রের বাড়িঘর, রোবটে গড়বে শহর
স্বয়ংক্রিয় বাড়ি, পরিবেশবান্ধব বহুতল ভবন ও চালকবিহীন গাড়ি প্রযুক্তি ও টেকসই নগর পরিকল্পনায় বদলে যাবে ভবিষ্যতের আবাসন ব্যবস্থা। ২০৫০ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বাড়িঘর ও শহরের চেহারায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। রোবটের সাহায্যে তৈরি হবে বহুতল ভবন, বাড়ি হয়ে উঠবে স্বয়ংক্রিয় এবং আবাসন ব্যবস্থায় গুরুত্ব পাবে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি। একই সঙ্গে চালকবিহীন গাড়ি ও উন্নত গণপরিবহন ব্যবস্থার কারণে শহরের নকশায়ও আসবে পরিবর্তন। বিশ্ব স্থাপত্য দিবস উপলক্ষে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজউইককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমন ভবিষ্যৎ চিত্র তুলে ধরেছেন একদল শীর্ষস্থানীয় স্থপতি। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে এখনো প্রায় ৩৪০ কোটি মানুষের নিরাপদ ও পর্যাপ্ত আবাসনের অভাব রয়েছে। অন্যদিকে, ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ শহরে বসবাস করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার আবাসন চাহিদা মেটাতে প্রচলিত বাড়িঘর নির্মাণের ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।স্থপতিদের মতে, ভবিষ্যতে একক পরিবারের জন্য আলাদা জমিতে বাড়ি নির্মাণের প্রচলিত ধারণা ধীরে ধীরে গুরুত্ব হারাতে পারে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, জমির স্বল্পতা, নির্মাণব্যয় এবং দক্ষ শ্রমিকের সংকটের কারণে এ ধরনের আবাসন ব্যবস্থা টেকসই রাখা কঠিন হবে। স্থপতি জেমস সাইসাকর্নের মতে, বাড়তি জনসংখ্যার আবাসন চাহিদা পূরণে বহুতল ভবন ও মিশ্র ব্যবহারের স্থাপনা নির্মাণে গুরুত্ব দিতে হবে। এতে একই জায়গায় আবাসন, কর্মক্ষেত্র ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুবিধা গড়ে তোলা সম্ভব হবে। স্থপতি ক্লারা ওয়াইনবার্গ মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রে ভবিষ্যতে ‘মিসিং মিডল’ নামে পরিচিত মাঝারি ঘনত্বের আবাসন ব্যবস্থা আবার জনপ্রিয় হতে পারে। এ ব্যবস্থায় টাউনহাউস ও ছোট ছোট বহুতল ভবন নির্মাণের মাধ্যমে বাড়ির মতো বসবাসের পরিবেশ বজায় রেখেই বেশি মানুষকে আবাসনের সুযোগ দেওয়া যাবে। পাশাপাশি ব্যক্তিগত উঠানের পরিবর্তে যৌথ সবুজ পার্ক ও সামাজিক মিলনস্থল তৈরির সুযোগ বাড়বে। ভবিষ্যতের আবাসন নির্মাণে রোবট ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়তে পারে। ২০৫০ সালের মধ্যে রোবটের সহায়তায় একটি সম্পূর্ণ আবাসিক এলাকা কিংবা শহরের বড় অংশের কাঠামো নির্মাণ সম্ভব হতে পারে বলে ধারণা করছেন স্থপতিরা। এ ধরনের প্রযুক্তি নির্মাণকাজের গতি বাড়ানোর পাশাপাশি শ্রমিকের সংকট মোকাবিলা এবং নির্মাণের নির্ভুলতা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। বিশেষ করে বহুতল ভবন নির্মাণে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সময় ও সম্পদের অপচয় কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। তবে রোবটনির্ভর নির্মাণব্যবস্থা কতটা ব্যাপকভাবে চালু হবে, তা নির্ভর করবে প্রযুক্তির উন্নয়ন, ব্যয় এবং নির্মাণসংক্রান্ত নীতিমালার ওপর।জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ভবিষ্যতের বাড়িগুলোকে আরও বেশি সহনশীল করে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। স্থপতি ড্যানিয়েল বাউম্যানের মতে, তীব্র গরম, ভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যার মতো দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষম করে বাড়ির নকশা তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে পানি ও বিদ্যুতের ব্যবহার কমানোর ব্যবস্থাও রাখতে হবে। স্থপতি স্কট স্পেক্টের ধারণা, ভবিষ্যতের বাড়িগুলো নিজস্ব ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় বিদ্যুতের বড় অংশ উৎপাদন ও সংরক্ষণ করতে পারবে। ফলে এসব বাড়ির বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং গ্রিডের সংযোগ মূলত জরুরি প্রয়োজনে কাজে লাগবে।প্রাকৃতিক আলো ও বাতাস চলাচলের উপযোগী নকশা বাড়ির ভেতরের পরিবেশ আরামদায়ক রাখবে। এতে কৃত্রিম শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবহার ও বিদ্যুতের খরচও কমানো সম্ভব হবে। পরিবেশবান্ধব নির্মাণে ভবিষ্যতে কাঠের ব্যবহার বাড়তে পারে বলে মনে করছেন স্থপতিরা। বিশেষ করে ক্রস-ল্যামিনেটেড টিম্বার বা সিএলটি নামের প্রকৌশলগতভাবে তৈরি কাঠের প্যানেল বহুতল ভবন নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জেমস সাইসাকর্নের মতে, এ ধরনের কাঠের প্যানেল মজবুত, দ্রুত স্থাপনযোগ্য এবং টেকসই হওয়ায় ভবিষ্যতের নির্মাণকাজে জনপ্রিয়তা পেতে পারে। প্রচলিত নির্মাণসামগ্রীর বিকল্প হিসেবে কাঠের ব্যবহার বাড়লে নির্মাণপ্রক্রিয়াকে আরও পরিবেশবান্ধব করার সুযোগ তৈরি হবে।ভবিষ্যতের শহরগুলোতে চালকবিহীন গাড়ি যোগাযোগব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে। স্থপতি ক্লারা ওয়াইনবার্গের মতে, স্বয়ংক্রিয় গাড়ির ব্যবহার বাড়লে বাড়ি ও আবাসিক ভবনে বড় গ্যারেজ কিংবা পার্কিংয়ের জন্য অতিরিক্ত জায়গা রাখার প্রয়োজন কমতে পারে। এসব জায়গা পার্ক, হাঁটার পথ ও সামাজিক যোগাযোগের স্থান হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি গণপরিবহনকেন্দ্রিক নগর পরিকল্পনার মাধ্যমে আবাসন, কর্মক্ষেত্র ও প্রয়োজনীয় সেবাগুলোকে একে অপরের কাছাকাছি আনা যাবে। এতে ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর নির্ভরতা কমার পাশাপাশি হাঁটার উপযোগী শহর গড়ে তোলা সহজ হবে। ভবিষ্যতের আবাসন ব্যবস্থা শুধু বাসস্থানের সংকট সমাধানেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; গুরুত্ব পাবে সামাজিক যোগাযোগ ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নও। স্থপতি ম্যাক্স বার্গার ও ড্যানিয়েল বাউম্যানের মতে, বিচ্ছিন্ন আবাসন প্রকল্পের পরিবর্তে সমন্বিত সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন পাড়া গড়ে উঠতে পারে।এসব আবাসনে ছাদের বাগান, শরীরচর্চা কেন্দ্র ও কাজের জায়গার মতো সুবিধা থাকবে। একই ভবন বা আবাসিক এলাকার বাসিন্দারা যৌথভাবে এসব সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন। স্থপতি মাইলস স্মিথ এ ধরনের জীবনযাপনকে আধুনিক ‘কান্ট্রি ক্লাব’ ঘরানার সঙ্গে তুলনা করেছেন। সব মিলিয়ে, ২০৫০ সালের আবাসনব্যবস্থায় প্রযুক্তি, পরিবেশ সুরক্ষা ও সামাজিক সুবিধার সমন্বয় ঘটতে পারে। রোবটনির্ভর নির্মাণ, স্বয়ংসম্পূর্ণ বাড়ি এবং মানুষকেন্দ্রিক নগর পরিকল্পনা ভবিষ্যতের শহরকে নতুন রূপ দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করছে। তবে এসব পরিবর্তন বাস্তবে কতটা বিস্তৃত হবে, তা নির্ভর করবে প্রযুক্তির অগ্রগতি, নির্মাণব্যয় ও কার্যকর নগর পরিকল্পনার ওপর। তথ্যসূত্র: নিউজউইক
২০৫০ সালে বদলে যাবে যুক্তরাষ্ট্রের বাড়িঘর, রোবটে গড়বে শহর
বিনামূল্যে আইডি ভেরিফাই করার সুযোগ আনছে ফেসবুক, পাবেন যেভাবে
ফেসবুকে নীল টিক বা ভেরিফায়েড ব্যাজ এত দিন মূলত পরিচিত ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা অর্থের বিনিময়ে মেটা ভেরিফায়েড ব্যবহারকারীদের জন্যই পরিচিত ছিল। তবে এবার সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্যও একটি নতুন ভেরিফিকেশন সুবিধা চালু করছে মেটা। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি ঘোষণা দিয়েছে, তারা ফেসবুকে একটি নতুন ফেসবুক ভেরিফায়েড (Facebook Verified) ব্যাজ চালু করছে। এটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাওয়া যাবে এবং এর উদ্দেশ্য হলো প্রমাণ করা যে অ্যাকাউন্টটির পেছনে একজন বাস্তব মানুষ রয়েছেন। কী এই নতুন ‘ফেসবুক ভেরিফায়েড’? নতুন ‘ফেসবুক ভেরিফায়েড’ হলো এমন একটি পরিচয় যাচাই ব্যবস্থা, যেখানে ব্যবহারকারীকে একটি ছোট ভিডিও সেলফি ধারণ করতে হবে। মেটা সেই ভিডিওটি অ্যাকাউন্টে থাকা বিদ্যমান প্রোফাইল ছবির সঙ্গে মিলিয়ে পরিচয় যাচাই করবে। পুরো প্রক্রিয়াটি সাধারণত কয়েক মিনিটের মধ্যেই সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছে মেটা। কারা এই ব্যাজ পাবেন? এই ফিচার ব্যবহার করতে হলে কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হবে। ব্যবহারকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে। অ্যাকাউন্টটি ফেসবুকের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী ভালো অবস্থায় থাকতে হবে। প্রতারণা, ভুয়া পরিচয় বা সন্দেহজনক কার্যকলাপের ইতিহাস থাকা যাবে না। পরিচয় যাচাই সফল হতে হবে। পরিচয় যাচাই সম্পন্ন হলে ব্যাজটি ফেসবুকের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দেখা যাবে। যেমন - প্রোফাইল, মার্কেটপ্লেস, গ্রুপ ও ফেসবুক ডেটিং। মেটা ভেরিফাইড (Meta Verified) থেকে এটি কীভাবে আলাদা? অনেকেই ‘ফেসবুক ভেরিফাইড’ এবং ‘মেটা ভেরিফাইড’-কে একই বিষয় মনে করতে পারেন। কিন্তু দুটি সেবা এক নয়। মনে রাখবেন ‘ফেসবুক ভেরিফাইড’ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে, শুধু পরিচয় যাচাইয়ের জন্য এবং এতে অতিরিক্ত কোনো প্রিমিয়াম সুবিধা নেই। মেটা ভেরিফাইডের ক্ষেত্রে মাসিক সাবস্ক্রিপশন প্রয়োজন, নীল টিকের পাশাপাশি অতিরিক্ত গ্রাহক সহায়তা, পরিচয় চুরি থেকে সুরক্ষার মতো বাড়তি সুবিধা ও বিভিন্ন প্রিমিয়াম ফিচার পাওয়া যায়। কেন এই উদ্যোগ? মেটা বলছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের মাধ্যমে এখন খুব সহজেই ভুয়া ছবি, ভুয়া পরিচয় এবং বিশ্বাসযোগ্য প্রোফাইল তৈরি করা যাচ্ছে। এসব ব্যবহার করে প্রতারণা, জালিয়াতি এবং ভুয়া অ্যাকাউন্টের সংখ্যা বাড়ছে। নতুন ‘ফেসবুক ভেরিফাইড’ ব্যাজের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা অন্তত বুঝতে পারবেন, যার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন তিনি একজন বাস্তব ব্যক্তি কিনা। তবে মেটা স্পষ্ট করেছে, এই ব্যাজ কোনো ব্যক্তির সততা বা বিশ্বাসযোগ্যতার নিশ্চয়তা দেয় না। এটি শুধু পরিচয় যাচাইয়ের প্রমাণ। মেটা জানিয়েছে, ‘ফেসবুক ভেরিফাইড’ ধাপে ধাপে চালু করা হবে। শুরুতে নির্বাচিত কয়েকটি দেশে এটি চালু হবে। পরে পর্যায়ক্রমে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও ফিচারটি সম্প্রসারণ করা হবে। কোন কোন দেশে প্রথমে চালু হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি। এআই প্রযুক্তির প্রসারের সঙ্গে অনলাইনে ভুয়া পরিচয়ের ঝুঁকিও বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য বিনামূল্যের পরিচয় যাচাই ব্যবস্থা চালু করা ফেসবুকের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে। তবে এই ব্যাজ কোনো ব্যক্তির চরিত্র বা বিশ্বাসযোগ্যতার নিশ্চয়তা দেয় না। তাই অনলাইনে লেনদেন বা ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করার আগে সব সময় সতর্ক থাকা প্রয়োজন। সূত্র: এনগ্যাজেট
বিনামূল্যে আইডি ভেরিফাই করার সুযোগ আনছে ফেসবুক, পাবেন যেভাবে
আরও পড়ুন
স্টারলিংকের প্রথম মাসের সেবা সম্পূর্ণ ‘ফ্রি’, মোবাইলে চালু করবেন যেভাবে
ঢাবি শিক্ষকের ছেলের গাড়ির ধাক্কায় আহত ৬ শিক্ষার্থীর পরিচয় মিলেছে
বাংলাদেশে নিজের ‘স্টারলিংক’ মোবাইল সেবা চালুর পর যা বললেন ইলন মাস্ক
চট্টগ্রামে বন্দরে ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশের আড়ালে বিএমডব্লিউ রেসিং কার
X