ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

নবম পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ নিয়ে সবশেষ যে তথ্য মিলল

অনলাইন ডেস্ক

  ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩২ এএম
ছবি প্রতিনিধি

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ইতোমধ্যে প্রজ্ঞাপনের রেজল্যুশন বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয় থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে এটি আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য রয়েছে। ভেটিং শেষ হলেই এসআরও নম্বর দিয়ে দ্রুত গেজেট প্রকাশ করা হবে।

বুলেটিন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

অর্থ মন্ত্রণালয়ের পে স্কেল প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমে বলেন, গত ২ সেপ্টেম্বর পে স্কেলের রেজল্যুশন বিজি প্রেসে পাঠানো হয়েছিল। প্রক্রিয়া শেষে সেটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে আসে। পরে আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়। বর্তমানে ভেটিংয়ের কাজ চলছে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, গেজেট প্রকাশে কোনো ধরনের বিলম্ব করতে চায় না সরকার। প্রক্রিয়াগত কারণে যতটুকু সময় প্রয়োজন, শুধু ততটুকুই লাগছে। দ্রুত গেজেট প্রকাশের চেষ্টা চলছে।

এর আগে গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় নবম জাতীয় পে স্কেল অনুমোদন করা হয়। নতুন বেতন কাঠামোর কার্যকারিতা ধরা হয়েছে ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে। এর আগে মন্ত্রিপরিষদসচিব নাসিমুল গনি চলতি সপ্তাহেই আদেশ জারির কথা জানিয়েছিলেন। তবে প্রশাসনিক ও আইনগত কিছু আনুষ্ঠানিকতার কারণে গেজেট প্রকাশে কিছুটা সময় লাগছে।

নতুন পে স্কেলে সবচেয়ে বড় সুবিধা পেতে যাচ্ছেন নিম্ন গ্রেডের সরকারি কর্মচারীরা। ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা হয়েছে। অর্থাৎ এই গ্রেডে মূল বেতন বাড়ছে প্রায় ১৪২ শতাংশ।

অন্যদিকে প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বেতন বৃদ্ধি ১০০ শতাংশ।

তবে নতুন বেতন কাঠামো ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হলেও পুরো বর্ধিত মূল বেতন একসঙ্গে কার্যকর হবে না। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরেই তিন ধাপে নতুন বেসিক বাস্তবায়ন করা হবে।

নতুন পে স্কেলে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডে বেসিকের বাড়তি অংশের ৫০ শতাংশ প্রথম ধাপে, ২৫ শতাংশ দ্বিতীয় ধাপে এবং অবশিষ্ট ২৫ শতাংশ তৃতীয় ধাপে যোগ হবে।

অন্যদিকে প্রথম থেকে নবম গ্রেডে বেসিকের বাড়তি অংশের ৪০ শতাংশ প্রথম ধাপে, ৩০ শতাংশ দ্বিতীয় ধাপে এবং অবশিষ্ট ৩০ শতাংশ তৃতীয় ধাপে কার্যকর হবে।

উদাহরণ হিসেবে, ২০তম গ্রেডে বর্তমান ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেসিক বেড়ে ২০ হাজার টাকা হবে। অর্থাৎ বাড়তি ১১ হাজার ৭৫০ টাকার ৫০ শতাংশ বা ৫ হাজার ৮৭৫ টাকা প্রথম ধাপে যোগ হয়ে বেসিক হবে ১৪ হাজার ১২৫ টাকা। দ্বিতীয় ধাপে আরও ২ হাজার ৯৩৭ টাকা ৫০ পয়সা যোগ হয়ে বেসিক দাঁড়াবে ১৭ হাজার ৬২ টাকা ৫০ পয়সা। তৃতীয় ধাপে একই পরিমাণ যোগ হয়ে তা চূড়ান্তভাবে ২০ হাজার টাকা হবে।

প্রথম গ্রেডে ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেসিক বেড়ে হবে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। বাড়তি ৭৮ হাজার টাকার ৪০ শতাংশ বা ৩১ হাজার ২০০ টাকা প্রথম ধাপে যোগ হয়ে বেসিক হবে ১ লাখ ৯ হাজার ২০০ টাকা। দ্বিতীয় ধাপে আরও ২৩ হাজার ৪০০ টাকা যোগ হয়ে হবে ১ লাখ ৩২ হাজার ৬০০ টাকা। তৃতীয় ধাপে একই পরিমাণ যোগ হয়ে চূড়ান্ত বেসিক দাঁড়াবে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।

এদিকে নবম গ্রেডে বর্তমান ২২ হাজার টাকা থেকে বেসিক বেড়ে হবে ৪৪ হাজার টাকা। তিন ধাপে বেসিক দাঁড়াবে যথাক্রমে ৩০ হাজার ৮০০, ৩৭ হাজার ৪০০ এবং ৪৪ হাজার টাকা।

চাকরিজীবীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বেসিক তিন ধাপে বাড়লেও নতুন হারে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা, যাতায়াতসহ বিভিন্ন ভাতা একসঙ্গে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।

অর্থাৎ ২০২৭ সালের জুলাইয়ে পুরো নতুন বেসিক কার্যকর হওয়ার পরও নতুন ভাতার পূর্ণ সুবিধা পেতে চাকরিজীবীদের আরও কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হবে। নতুন ভাতা যুক্ত হলে তাদের প্রকৃত মাসিক আয় বেসিকের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

উদাহরণ হিসেবে, ঢাকায় নতুন করে চাকরিতে যোগ দেওয়া ২০তম গ্রেডের একজন কর্মচারীর বেসিক ২০ হাজার টাকা হলে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রযোজ্য ভাতা মিলিয়ে মোট মাসিক আয় প্রায় ৪১ হাজার ৯০৮ টাকা হতে পারে। তবে কর্মস্থল ও প্রাপ্য ভাতার ধরন অনুযায়ী প্রকৃত আয় কম-বেশি হবে।

একইভাবে ১৩তম গ্রেডের একজন নতুন সহকারী শিক্ষক ২৪ হাজার টাকা বেসিক পেলে প্রযোজ্য সব ভাতা যুক্ত হওয়ার পর মোট মাসিক আয় প্রায় ৪০ হাজার টাকা হতে পারে। ১০ম গ্রেডে ৩২ হাজার টাকা বেসিক হলে ভাতাসহ মোট আয় ৫০ হাজার টাকার বেশি হতে পারে।

নবম গ্রেডের একজন নতুন কর্মকর্তার বেসিক হবে ৪৪ হাজার টাকা। ঢাকায় ৫০ শতাংশ বাড়িভাড়া হিসাবে ২২ হাজার টাকা যোগ হলে শুধু বেসিক ও বাড়িভাড়া মিলিয়েই আয় দাঁড়াবে ৬৬ হাজার টাকা। চিকিৎসা, শিক্ষা ও অন্যান্য ভাতা যোগ হলে মোট মাসিক আয় প্রায় ৭০ হাজার টাকা হতে পারে।

তবে বর্তমানে কর্মরত চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে হিসাবটি ভিন্ন হবে। তাদের বর্তমান বেসিক, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, চাকরির মেয়াদ ও অন্যান্য সুবিধা বিবেচনা করেই নতুন বেতন নির্ধারণ করা হবে।

নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের ওপর বড় ধরনের অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হবে। বেতন, ভাতা ও পেনশনসহ নতুন কাঠামো বাস্তবায়নে অতিরিক্ত ব্যয় প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগী মিলিয়ে প্রায় ৩৩ লাখ মানুষ নতুন কাঠামোর সুবিধার আওতায় আসবেন।

অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, একসঙ্গে পুরো বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করলে সরকারের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হতো। তাই রাজস্ব আয়, মূল্যস্ফীতি ও বাজেট সক্ষমতা বিবেচনায় তিন ধাপে এটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সাবেক অর্থসচিব মাহবুব আহমেদ বলেন, কয়েক ধাপে বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত আর্থিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সরকারের ওপর একবারে বড় চাপ না দিয়ে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হলে অর্থ ব্যবস্থাপনায় কিছুটা স্বস্তি থাকবে।

তিনি আরও বলেন, বেতন-ভাতা বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ানোর কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। কারণ শুধু পরিচালন ব্যয় বাড়তে থাকলে উন্নয়ন ব্যয় সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাই নতুন পে স্কেলের পাশাপাশি উৎপাদন, বিনিয়োগ ও রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর ওপরও জোর দিতে হবে।

নতুন পে স্কেলে বকেয়া বেতন হিসেব করবেন যেভাবে
জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ কার্যকর হওয়ার পর সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে বকেয়া বেতন নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী কত টাকা বকেয়া পাওয়া যেতে পারে, তা জানতে চাইছেন অনেকে।  এ হিসাব সহজে বের করতে তৈরি করা হয়েছে একটি এইচটিএমএলভিত্তিক বেতন ক্যালকুলেটর। এতে কর্মচারীর গ্রেড, পুরোনো মূল বেতন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য দিলে নতুন মূল বেতন, বাড়ি ভাড়া ও বিশেষ সুবিধার সমন্বয়সহ মাসভিত্তিক বকেয়ার হিসাব পাওয়া যাবে। ক্যালকুলেটরটি কম্পিউটার বা মোবাইল ফোনের যেকোনো ব্রাউজারে খোলা যাবে। এটি ব্যবহারের জন্য ইন্টারনেট সংযোগের প্রয়োজন নেই। তবে হিসাবের নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে তথ্যগুলো সঠিকভাবে দিতে হবে এবং ক্যালকুলেটরের নির্ধারিত বেতন স্কেল ও অন্যান্য হার যাচাই করে নিতে হবে। বকেয়া বেতন হিসেব করতে প্রথমে ক্যালকুলেটরের ব্যক্তিগত তথ্যের অংশে কর্মচারীর নাম, পদবি এবং অফিস বা প্রতিষ্ঠানের নাম লিখতে হবে। এসব তথ্য পরবর্তী সময়ে প্রিন্ট করা বকেয়া বেতনের বিবরণীর উপরে দেখা যাবে। তবে ব্যক্তিগত তথ্যের ঘরগুলো ফাঁকা রাখলেও বেতন হিসাব করা যাবে। নতুন পে-স্কেলে বকেয়া বেতন হিসেব করতে এখানে ক্লিক করুন এরপর বেতনসংক্রান্ত তথ্য দিতে হবে। ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে ২০১৫ সালের বেতন স্কেল অনুযায়ী যে গ্রেডে কর্মচারী ছিলেন, সেটি নির্বাচন করতে হবে। একই তারিখে তাঁর মূল বেতন কত ছিল, তা পে-স্লিপ দেখে নির্ধারণ করতে হবে। তালিকায় নিজের মূল বেতনের অঙ্ক না থাকলে ‘অন্য অঙ্ক লিখব’ অপশন নির্বাচন করে তা লিখতে হবে। এ ছাড়া ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে পুরোনো বেতন স্কেলে বার্ষিক বেতনবৃদ্ধিসহ যে মূল বেতন গ্রহণ করা হয়েছে, সেটিও ক্যালকুলেটরে দিতে হবে। এ তথ্যের ভিত্তিতে নতুন স্কেলে প্রাপ্য বেতনের সঙ্গে ইতিমধ্যে গ্রহণ করা বেতনের পার্থক্য নির্ণয় করা হবে। বাড়ি ভাড়ার হিসাবের জন্য কর্মচারীর কর্মস্থল নির্বাচন করতে হবে। কর্মস্থল অনুযায়ী বাড়ি ভাড়ার হার স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারিত হলেও পে-স্লিপে উল্লেখ করা প্রকৃত হারের সঙ্গে তা মিলিয়ে নেওয়া জরুরি। প্রয়োজন হলে ক্যালকুলেটরের হার পরিবর্তন করা যাবে। বকেয়া হিসাবের মাসের সংখ্যা সাধারণত তিন মাস নির্ধারণ করা থাকবে। অর্থাৎ জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের বকেয়া হিসাব পাওয়া যাবে। প্রয়োজন অনুযায়ী এক থেকে ছয় মাস পর্যন্ত সময় নির্বাচন করা যাবে। পাশাপাশি ১ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত চাকরির বয়স ছয় মাস পূর্ণ না হলে বার্ষিক বেতনবৃদ্ধির ঘরে থাকা টিকচিহ্ন তুলে দিতে হবে। ক্যালকুলেটরে কিছু ঐচ্ছিক ঘরও রয়েছে। পে-স্লিপে উল্লেখ করা বাড়ি ভাড়া বা বিশেষ সুবিধার অঙ্ক ক্যালকুলেটরের হিসাবের সঙ্গে না মিললে প্রকৃত অঙ্ক সেখানে বসানো যাবে। একইভাবে আইবাস++ বা সরকারি গেজেট থেকে নতুন মূল বেতনের অঙ্ক জানা থাকলে সেটিও নির্দিষ্ট ঘরে দেওয়া যাবে। সে ক্ষেত্রে ক্যালকুলেটর ব্যবহারকারীর দেওয়া নতুন মূল বেতনের অঙ্ককে হিসাবের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করবে। প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করার পর ক্যালকুলেটরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেতন বিবরণী তৈরি হবে। এতে নতুন মূল বেতন নির্ধারণের ধাপগুলো এবং প্রথম ধাপে প্রাপ্য মূল বেতনের হিসাব দেখানো হবে। ক্যালকুলেটরের নির্দেশনা অনুযায়ী, গ্রেড ১০ থেকে ২০-এর ক্ষেত্রে মূল বেতনের বৃদ্ধির ৫০ শতাংশ এবং গ্রেড ১ থেকে ৯-এর ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ বিবেচনায় নেওয়া হবে। মাসিক হিসাবের অংশে নতুন স্কেলে প্রাপ্য মূল বেতন ও পুরোনো স্কেলে ইতিমধ্যে গ্রহণ করা মূল বেতনের পার্থক্য দেখানো হবে। পাশাপাশি ৩০ জুনের মূল বেতনের ভিত্তিতে প্রাপ্য বাড়ি ভাড়া এবং গৃহীত মূল বেতনের ভিত্তিতে তোলা বাড়ি ভাড়ার সমন্বয় করা হবে। এর সঙ্গে বিলুপ্ত বিশেষ সুবিধার ১০ বা ১৫ শতাংশের হিসাবও বিবেচনায় নেওয়া হবে। এভাবে প্রতিটি মাসের বকেয়া আলাদাভাবে নির্ণয় করে সর্বমোট বকেয়ার পরিমাণ দেখাবে ক্যালকুলেটর। কোনো হিসাব ঋণাত্মক হলে তা লাল রঙে চিহ্নিত থাকবে। ফলে কোন খাতে সমন্বয়ের কারণে বকেয়ার অঙ্ক কমেছে, তা সহজে বোঝা যাবে। বেতন বিবরণী তৈরি হয়ে গেলে ‘বিবরণী প্রিন্ট করুন’ বোতামে ক্লিক করে তা ছাপানো যাবে। এ ক্ষেত্রে স্বাক্ষরের ঘরসহ এ৪ আকারের একটি বিবরণী পাওয়া যাবে, যা ব্যক্তিগত হিসাব সংরক্ষণ বা প্রয়োজনীয় যাচাইয়ের কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে নতুন পে স্কেলের বেতন নির্ধারণে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। ক্যালকুলেটরটির প্রস্তুতকারকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নতুন স্কেলের সব গ্রেডের বেতন ধাপ এখনো নিশ্চিতভাবে যাচাই করা যায়নি। তাই হিসাব করার আগে ক্যালকুলেটরের ‘স্কেল টেবিল’ অংশে দেওয়া অঙ্কগুলো এস.আর.ও. নং ৩৪৭-আইন/২০২৬-এর সরকারি গেজেটের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। একইভাবে বাড়ি ভাড়ার হার এবং বিশেষ সুবিধার প্রকৃত অঙ্কও পে-স্লিপের সঙ্গে যাচাই করতে হবে।
নতুন পে স্কেলে বকেয়া বেতন হিসেব করবেন যেভাবে
বাংলাদেশে শিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকার ২৯ শতাংশ: আইএমএফ
বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের বেকারত্বের হার প্রায় ২৯ শতাংশ। এছাড়া, উচ্চশিক্ষিত কর্মীদের প্রায় অর্ধেক এমন কাজে নিয়োজিত, যেখানে তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতার পুরোপুরি ব্যবহার হচ্ছে না। তবে বাংলাদেশের তরুণদের সামগ্রিক বেকারত্বের হার ১২ থেকে ১৩ শতাংশের মধ্যে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) অক্টোবর ২০২৬-এর ‘রিজিওনাল ইকোনমিক আউটলুক: এশিয়া অ্যান্ড প্যাসিফিক’ প্রতিবেদনে এসব বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। এশিয়ার শ্রমবাজারের চ্যালেঞ্জ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রভাব বিশ্লেষণ করতে গিয়ে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে কুইন সিরিকিত ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে (কিউএসএনসিসি) প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের তরুণদের সামগ্রিক বেকারত্বের হার ১২ থেকে ১৩ শতাংশের মধ্যে। তবে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের ক্ষেত্রে এ হার প্রায় ২৮ থেকে ২৯ শতাংশে পৌঁছেছে। অর্থাৎ, উচ্চশিক্ষা অর্জন করেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক তরুণ কর্মসংস্থান পাচ্ছেন না। আবার যারা কাজ পাচ্ছেন, তাদের অনেকেই নিজেদের যোগ্যতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পদে নিয়োজিত হতে পারছেন না। যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ নেই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষিত কর্মীদের প্রায় ৫০ শতাংশ এমন কাজে নিয়োজিত, যেখানে তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতার পূর্ণ ব্যবহার হচ্ছে না। ফলে উচ্চশিক্ষা অর্জনের পরও অনেককে যোগ্যতার তুলনায় নিম্নমানের কাজে যুক্ত হতে হচ্ছে। শিক্ষাব্যবস্থা থেকে অর্জিত দক্ষতা এবং নিয়োগদাতাদের চাহিদার মধ্যে ব্যবধান এ সমস্যার অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দক্ষতা না থাকায় অনেক তরুণকে উপযুক্ত চাকরির জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত তাদের কেউ কেউ নিজেদের শিক্ষাগত যোগ্যতার সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন কাজ বেছে নিচ্ছেন। এ পরিস্থিতি শুধু শিক্ষিত তরুণদের কর্মসংস্থানের সংকটই নয়, মানবসম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করছে। উচ্চশিক্ষায় বিনিয়োগের পরও কর্মীদের দক্ষতা ও যোগ্যতা উৎপাদনশীল কাজে পুরোপুরি ব্যবহার করা না গেলে অর্থনীতিতে তার সুফল সীমিত হয়ে পড়ে। অনানুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের আধিক্য বাংলাদেশের শ্রমবাজারে অনানুষ্ঠানিক খাতের আধিপত্যও বড় দুর্বলতা। বিশেষ করে কৃষিসহ বিভিন্ন অনানুষ্ঠানিক কর্মকাণ্ডে কর্মসংস্থানের ওপর নির্ভরতা বেশি। এসব কাজে নিয়মিত চুক্তি, চাকরির নিরাপত্তা এবং পেশাগত উন্নতির সুযোগ সীমিত। ফলে কর্মসংস্থানে যুক্ত থাকলেও অনেক শ্রমিকের আয় ও কর্মপরিবেশ অনিশ্চিত থেকে যায়। প্রচলিত বেকারত্বের হিসাব দিয়ে শ্রমবাজারের এই বাস্তবতা পুরোপুরি বোঝা যায় না। কারণ, কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকলেই যে একজন কর্মী তার যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ করছেন কিংবা নিরাপদ কর্মসংস্থান পেয়েছেন, তা নয়। বাড়ছে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের সামনে জনসংখ্যার কাঠামোগত পরিবর্তন বড় সুযোগ তৈরি করছে। আইএমএফের প্রতিবেদনে দেওয়া প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৫ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে দেশে ১৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী প্রায় ১০ থেকে ১২ শতাংশ বাড়বে। এই বিপুল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে উৎপাদনশীল কাজে যুক্ত করা গেলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে উৎপাদনশিল্প ও সেবা খাতে উচ্চ উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান বাড়াতে পারলে জনমিতিক সুবিধা অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে। তবে বিপুলসংখ্যক তরুণের জন্য সময়মতো মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা না গেলে এই সম্ভাবনা কাজে লাগানো কঠিন হবে। প্রয়োজনীয় দক্ষতার অভাব এবং উপযুক্ত কাজের সংকট দীর্ঘায়িত হলে তরুণদের মধ্যে হতাশা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে অর্থনীতির উৎপাদনশীলতা ও প্রবৃদ্ধিও বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এআই যুগে নতুন চ্যালেঞ্জ এশিয়ার শ্রমবাজারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তার কর্মসংস্থানের ধরন ও প্রয়োজনীয় দক্ষতায় পরিবর্তন আনছে। আইএমএফের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এআইয়ের প্রভাব বেশি এমন পেশাগুলোতে নিয়োগের চাহিদা তুলনামূলক কম প্রভাবিত পেশাগুলোর চেয়ে প্রায় ১০ শতাংশ কমেছে। তবে এআই-সংক্রান্ত দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীদের চাহিদা বাড়ছে। এ পরিবর্তন বাংলাদেশের মতো তরুণ জনগোষ্ঠীনির্ভর অর্থনীতির জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে শ্রমিকদের দক্ষতা সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে কর্মসংস্থানের বিদ্যমান সংকট আরও জটিল হতে পারে। বিপরীতে, প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারলে নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাজের সুযোগও তৈরি হতে পারে। আইএমএফের প্রতিবেদনে এশিয়ার শ্রমবাজারের ভবিষ্যৎ নিয়ে যে প্রশ্নগুলো সামনে এসেছে, তার মধ্যে রয়েছে— ভবিষ্যতে কর্মসংস্থান কোথায় সৃষ্টি হবে, কর্মীরা প্রয়োজনীয় দক্ষতা কীভাবে অর্জন করবেন এবং শ্রমবাজার এআইনির্ভর পরিবর্তনের সঙ্গে কীভাবে খাপ খাওয়াবে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই চ্যালেঞ্জের গুরুত্ব আরও বেশি। কারণ, একদিকে বিপুলসংখ্যক তরুণের জন্য মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে, অন্যদিকে উচ্চশিক্ষিত কর্মীদের দক্ষতা ও যোগ্যতার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী বৃদ্ধির সম্ভাবনাকে অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে রূপ দিতে হলে শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে দক্ষতা উন্নয়নের সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
বাংলাদেশে শিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকার ২৯ শতাংশ: আইএমএফ
পেট্রোবাংলায় ৭৫৩ পদে নিয়োগ
বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। পেট্রোবাংলা এবং এর আওতাধীন ১২টি কোম্পানিতে নবম ও দশম গ্রেডের ১৯ ক্যাটাগরিতে ৭৫৩ জন কর্মকর্তা নেওয়া হবে। আবেদন শুরু হবে ১৮ অক্টোবর সকাল ১০টা থেকে। আবেদন করা যাবে আগামী ১৭ নভেম্বর ২০২৬ তারিখ বিকেল ৫টা পর্যন্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। ১. পদের নাম ও সংখ্যা: সহকারী ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) ৯৭টি, (গ্রেড-৯) বেতন স্কেল: ৪৪,০০০-১,০৫,৯০০ টাকা। ২. পদের নাম ও সংখ্যা: সহকারী ব্যবস্থাপক (আইন) ৬টি, (গ্রেড-৯) বেতন স্কেল: ৪৪,০০০-১,০৫,৯০০ টাকা। ৩. পদের নাম ও সংখ্যা: সহকারী ব্যবস্থাপক (অর্থ) ৬৩টি, (গ্রেড-৯) বেতন স্কেল: ৪৪,০০০-১,০৫,৯০০ টাকা। ৪. পদের নাম ও সংখ্যা: সহকারী ব্যবস্থাপক (প্রকৌশল); মেকানিক্যাল ৭৪টি, ইলেকট্রিক্যাল ৪৯টি, সিভিল ৪০টি, সিএসই/আইটি ২৫টি, কেমিক্যাল ২৭টি, পেট্রোলিয়াম ১৪টি, আইপিই ৮টি, মেটালার্জি/এমএমই ৭টি, ইলেকট্রনিকস ২টি, অটোমোবাইল ১টি, (গ্রেড-৯) বেতন স্কেল: ৪৪,০০০-১,০৫,৯০০ টাকা। ৫. পদের নাম ও সংখ্যা: সহকারী ব্যবস্থাপক (জিওলজি) ১২টি, (গ্রেড-৯) বেতন স্কেল: ৪৪,০০০-১,০৫,৯০০ টাকা। ৬. পদের নাম ও সংখ্যা: সহকারী ব্যবস্থাপক (জিওফিজিকস) ২টি, (গ্রেড-৯) বেতন স্কেল: ৪৪,০০০-১,০৫,৯০০ টাকা। ৭. পদের নাম ও সংখ্যা: সহকারী ব্যবস্থাপক (জিওকেমিক্যাল) ১টি, (গ্রেড-৯) বেতন স্কেল: ৪৪,০০০-১,০৫,৯০০ টাকা। ৮. পদের নাম ও সংখ্যা: সহকারী ব্যবস্থাপক (কেমিস্ট্রি) ১টি, (গ্রেড-৯) বেতন স্কেল: ৪৪,০০০-১,০৫,৯০০ টাকা। ৯. পদের নাম ও সংখ্যা: সহকারী ব্যবস্থাপক (এনভায়রনমেন্ট) ১টি, (গ্রেড-৯) বেতন স্কেল: ৪৪,০০০-১,০৫,৯০০ টাকা। ১০. পদের নাম ও সংখ্যা: সহকারী ব্যবস্থাপক (চিকিৎসা) ১৫টি, (গ্রেড-৯) বেতন স্কেল: ৪৪,০০০-১,০৫,৯০০ টাকা। ১১. পদের নাম ও সংখ্যা: সহকারী ডিলার ১টি, (গ্রেড-৯) বেতন স্কেল: ৪৪,০০০-১,০৫,৯০০ টাকা। ১২. পদের নাম ও সংখ্যা: সহকারী ব্যবস্থাপক (কারিগরি) ১১টি, (গ্রেড-৯) বেতন স্কেল: ৪৪,০০০-১,০৫,৯০০ টাকা। ১৩. পদের নাম ও সংখ্যা: সহকারী কর্মকর্তা (প্রশাসন) ৭৩টি, (গ্রেড-৯) বেতন স্কেল: ৩২,০০০-৭৭,৩০০ টাকা। ১৪. পদের নাম ও সংখ্যা: সহকারী কর্মকর্তা (আইন) ৪টি, (গ্রেড-৯) বেতন স্কেল: ৩২,০০০-৭৭,৩০০ টাকা। ১৫. পদের নাম ও সংখ্যা: অ্যাসিস্ট্যান্ট লাইব্রেরিয়ান ১টি, (গ্রেড-৯) বেতন স্কেল: ৩২,০০০-৭৭,৩০০ টাকা। ১৬. পদের নাম ও সংখ্যা: সহকারী কর্মকর্তা (অর্থ) ৫৩টি, (গ্রেড-৯) বেতন স্কেল: ৩২,০০০-৭৭,৩০০ টাকা। ১৭. পদের নাম ও সংখ্যা: উপসহকারী প্রকৌশলী; মেকানিক্যাল ৫৬টি, ইলেকট্রিক্যাল ৩২টি, সিভিল ৩১টি, কম্পিউটার/আইটি ৮টি, ইলেকট্রনিকস ৩টি, অটোমোবাইল ৯টি, কেমিক্যাল ৫টি, পাওয়ার ৫টি, টেলিকম ১টি, (গ্রেড-৯) বেতন স্কেল: ৩২,০০০-৭৭,৩০০ টাকা। ১৮. পদের নাম ও সংখ্যা: ট্রেইনি ডিলার ৪টি, (গ্রেড-৯) বেতন স্কেল: ৩২,০০০-৭৭,৩০০ টাকা। ১৯. পদের নাম ও সংখ্যা: সহকারী কর্মকর্তা (কারিগরি)/উপসহকারী কারিগরি কর্মকর্তা ১১টি, (গ্রেড-৯) বেতন স্কেল: ৩২,০০০-৭৭,৩০০ টাকা। শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা: পদভেদে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিন্নতা রয়েছে। বয়সসীমা: ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রার্থীর বয়স সর্বোচ্চ ৩২ বছর। আবেদন ফি: সকল পদের আবেদন ফি টেলিটক সার্ভিস চার্জসহ মোট ২২৩ টাকা। তবে সকল গ্রেডের পদের ক্ষেত্রে অনগ্রসর শ্রেণির (ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, শারীরিক প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের) প্রার্থীদের আবেদন ফি টেলিটক সার্ভিস চার্জসহ মোট ৫৬ টাকা। আবেদনের নিয়ম: পরীক্ষায় অংশ নিতে ইচ্ছুক প্রার্থীরা লিংকে গিয়ে আবেদনপত্র পূরণ করতে পারবেন। আবেদনের শেষ সময়: ১৭ নভেম্বর ২০২৬, বিকেল ৫টা। শুধু ইউজার আইডিপ্রাপ্ত প্রার্থীরা ওই সময়ের পরবর্তী ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত (অর্থাৎ ২০ নভেম্বর ২০২৬ তারিখ বিকেল ৫টা পর্যন্ত) ফি জমা দিতে পারবেন। সূত্র: বিজ্ঞপ্তি
পেট্রোবাংলায় ৭৫৩ পদে নিয়োগ
বিটিভিতে লোভনীয় চাকরির অফার, আবেদন করবেন যেভাবে
সংবাদ উপস্থাপক পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)। সরকারি মালিকানাধীন টেলিভিশন চ্যানেলটিতে বাংলা ও ইংরেজি সংবাদ উপস্থাপনার জন্য আবেদনপত্র গ্রহণ করা হচ্ছে। গতকাল রোববার (৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ টেলিভিশনের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। আবেদনের সময়সীমা: আবেদনের শেষ তারিখ ৭ অক্টোবর ২০২৬। আবেদন প্রক্রিয়া: ছবিযুক্ত জীবন-বৃত্তান্তসহ আবেদনপত্র পাঠাতে হবে উপ-মহাপরিচালক (বার্তা), বাংলাদেশ টেলিভিশন, সদর দপ্তর ভবন, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯ ঠিকানায়। এছাড়া ইমেইলে newsaudition@btv.gov.bd ঠিকানায় অথবা হোয়াটসঅ্যাপে 01332125138 নম্বরেও পাঠানো যাবে আবেদনপত্র।
বিটিভিতে লোভনীয় চাকরির অফার, আবেদন করবেন যেভাবে
অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে ৩ মাসের বকেয়া পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা
নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো (পে-স্কেল) অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণ (পে ফিক্সেশন) কার্যক্রম সোমবার (৫ অক্টোবর) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ আগামী ২০ অক্টোবরের মধ্যে এই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশনা জারি করেছে। বেতন নির্ধারণ চূড়ান্ত হওয়ার পর সরকারি চাকরিজীবীরা একসঙ্গে প্রায় তিন মাসের এরিয়ার বা বকেয়া বেতন তুলতে পারবেন। অর্থ বিভাগের সূত্রে জানা গেছে, সরকারি চাকরিজীবীদের এই বেতন নির্ধারণ সম্পন্ন হবে সমন্বিত বাজেট ও হিসাবরক্ষণ পদ্ধতি ‘আইবাস প্লাস প্লাস’ (iBAS++)-এর পে ফিক্সেশন মডিউলের মাধ্যমে। চাকরিজীবীদের নির্দিষ্ট পোর্টালে প্রবেশ করে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), জন্মতারিখ, বর্তমান পদবি, গ্রেড, চাকরিতে যোগদানের তারিখ এবং বর্তমান মূল বেতনের সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে হবে। এর পাশাপাশি আগে কোনো পদোন্নতি, বদলি, টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড কিংবা উচ্চতর গ্রেড পেয়ে থাকলে তার পক্ষে থাকা অফিস আদেশের নথিপত্র প্রস্তুত রেখে তথ্য সঠিকভাবে মেলাতে হবে। কোনো কারণে এনআইডি না থাকলে চাকরির নথিতে থাকা তথ্য হালনাগাদ করে আবেদন সম্পন্ন করার নির্দেশনা রয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনলাইনে তথ্য এন্ট্রির পর সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয় তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করবে। তথ্যে কোনো গরমিল থাকলে তা সংশোধনের সুযোগ থাকবে। বেতন নির্ধারণ কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে অর্থ বিভাগের ‘এসপিএফএমএস’ কর্মসূচির আওতায় বিভাগীয় হিসাব নিয়ন্ত্রক (ডিসিএ), জেলা ও উপজেলা হিসাব কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় অনলাইন প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। বেতন নির্ধারণ চূড়ান্ত হলেই নতুন মূল বেতনের ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়মিত বেতন বিল ও বকেয়া পাওনার হিসাব তৈরি হবে। দীর্ঘ ১১ বছরের ব্যবধানে গত ১৯ সেপ্টেম্বর সরকার নতুন জাতীয় বেতনকাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ নির্ধারিত বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরের মধ্যে মোট তিনটি ধাপে এই মূল বেতন কার্যকর হবে। গত ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে বিদ্যমান মূল বেতনের ভিত্তিতে বেতন সমন্বয় করা হবে। প্রথম ধাপে চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নতুন ও পুরোনো মূল বেতনের পার্থক্যের ৪০ শতাংশ দেওয়া হবে। দ্বিতীয় ধাপে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত পার্থক্যের ৭০ শতাংশ কার্যকর হবে এবং ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে পুরো নতুন মূল বেতন পাবেন চাকরিজীবীরা। চলতি অর্থবছরে মূল বেতনের এই বর্ধিত অংশ পরিশোধে সরকারের পক্ষ থেকে ৩৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে নতুন কাঠামোর বিভিন্ন ভাতার অংশটি ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। এদিকে নতুন বেতন আদেশে পদোন্নতিহীন সন্তোষজনক চাকরির আট বছর পূর্তিতে প্রথম উচ্চতর গ্রেড এবং পরবর্তী ছয় বছর পর দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। তবে অতীতে একই পদে একাধিকবার টাইম স্কেল বা সিলেকশন গ্রেড নেওয়া কর্মীদের নতুন কাঠামোয় সমন্বয় নিয়ে কিছু জটিলতা দেখা দিয়েছে, যা অর্থ বিভাগ নিরসন করছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, অতীতে একই পদে একাধিক উচ্চতর সুবিধা পেয়ে থাকলে নতুন কাঠামোয় আর কোনো সুবিধা মিলবে না; তবে একটি উচ্চতর স্কেল পাওয়া থাকলে পরবর্তী ছয় বছর পূর্ণ হলে দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্য হবেন। আগামী ২০ অক্টোবরের মধ্যে এসব ইতিহাস সঠিকভাবে যাচাই করেই প্রত্যেকের বকেয়া ও নতুন বেতনের চূড়ান্ত হিসাব নিষ্পত্তি করা হবে।
অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে ৩ মাসের বকেয়া পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা
X