ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

একযোগে ৯৯ বিচারককে বদলি

অনলাইন ডেস্ক

  ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৭ এএম
ছবি সংগৃহিত

বিচার প্রশাসনে বড় রদবদল করা হয়েছে। বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের ৪৪ জেলা জজ, ২৬ অতিরিক্ত জেলা জজ, ২৫ যুগ্ম জেলা জজ, দুই সিনিয়র সিভিল জজ ও দুই সিভিল জজসহ মোট ৯৯ বিচারককে বদলি করা হয়েছে।

বুলেটিন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত পাঁচটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

এর মধ্যে যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ পদমর্যাদার ১৭ বিচারককে চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি জেলা জজ ও অতিরিক্ত জেলা জজ পদমর্যাদার কয়েকজন বিচারককে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, আইন ও বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে আইনসংক্রান্ত পদে বদলি করা হয়েছে।

আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত যুগ্ম জেলা জজ রাহেলা পারভীনকে কিশোরগঞ্জ, আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত যুগ্ম জেলা জজ ফাতেমা তুজ জোহরা মুনাকে মুন্সিগঞ্জ, নরসিংদীর ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. তারেক আজিজকে নরসিংদী, জয়পুরহাটের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ জান্নাতুল রাফিন সুলতানাকে জয়পুরহাট, কুড়িগ্রামের ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের বিচারক কনক বড়ুয়াকে কুড়িগ্রাম, দিনাজপুরের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ ফাতিমা খাতুনকে দিনাজপুর, আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত যুগ্ম জেলা জজ সাবিনা ইয়াসমিনকে মাগুরা এবং ময়মনসিংহের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ তারিকুল ইসলামকে ঝিনাইদহের চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার করা হয়েছে।

কুষ্টিয়ার যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মো. আরিফুল ইসলামকে কুষ্টিয়া, আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত যুগ্ম জেলা জজ মোছা. আসমা মাহমুদকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত যুগ্ম জেলা জজ তানিয়া ইসলামকে ঢাকা মহানগর, আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত যুগ্ম জেলা জজ মোছা. নাসিমা খাতুনকে ময়মনসিংহ, বান্দরবানের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ দাউদ হাসানকে কক্সবাজার, চট্টগ্রামের মানি লোন কোর্টের যুগ্ম জেলা জজ মো. হাসিবুল হাসানকে যশোর, নড়াইলের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ শারমিন সুলতানা সুমিকে রাজবাড়ী এবং খাগড়াছড়ির যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ শ্রী জ্ঞান তঞ্চঙ্গ্যাকে বান্দরবানের চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার করা হয়েছে।

সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা জজ) স্বপন কুমার সরকারকে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আইন উপদেষ্টা, ঝিনাইদহের ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা জজ) মো. মাসুদ আলীকে আইন ও বিচার বিভাগের উপসচিব, পাবনার পারিবারিক আপিল আদালতের বিচারক (জেলা জজ) মো. ফেরদৌস ওয়াহিদকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আইন উপদেষ্টা এবং আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত জেলা জজ সোনিয়া আহমেদকে আইন ও বিচার বিভাগের ডেপুটি সলিসিটর করা হয়েছে।

দুর্নীতি দমন কমিশন সচিবালয়ের উপ-পরিচালক মো. হুমায়ুন কবীরকে ঢাকার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, রংপুরের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মোছা. মার্জিয়া খাতুনকে নীলফামারীর চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ সত্যব্রত শিকদারকে ঝিনাইদহের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ সুলতান উদ্দিন প্রধানকে চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, নীলফামারীর চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এনামুল হক বাসুনিয়াকে ঠাকুরগাঁওয়ের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত অতিরিক্ত জেলা জজ মো. মতিউর রহমানকে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত অতিরিক্ত জেলা জজ শফি উদ্দিনকে সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এবং রংপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. সুলতান মাহমুদকে পঞ্চগড়ের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট করা হয়েছে।

আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত অতিরিক্ত জেলা জজ মো. নুরু মিয়াকে নেত্রকোনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, বরিশালের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জহির উদ্দিনকে কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, যশোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. শহীদুল ইসলামকে বরিশালের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত অতিরিক্ত জেলা জজ তাহেরা আনোয়ারকে যশোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, খুলনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. শামীম সুফিকে যশোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, মাদারীপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. নাহিদুর রহমানকে গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ফাহমিদা খাতুনকে মাদারীপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এবং আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ রায়হানুল ইসলামকে লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ করা হয়েছে।

আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত অতিরিক্ত জেলা জজ মো. আক্তারুজ্জামানকে মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত অতিরিক্ত জেলা জজ মো. শাহাদাৎ হোসেনকে নরসিংদীর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত অতিরিক্ত জেলা জজ মো. ছানাউল্যাহকে মাদারীপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, ঢাকার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. নুরুল আফসারকে দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ-পরিচালক, পিরোজপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. শিবলী নোমান খানকে মাদারীপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ-পরিচালক (অতিরিক্ত জেলা জজ) মো. আজাদুর রহমান শেখকে কুমিল্লার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং আইন কমিশনের চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব (অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ) মুহাম্মদ মাজহারুল ইসলামকে ঢাকার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নুরুল হুদা চৌধুরীকে পটুয়াখালীর কলাপাড়া আদালতের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ, ঢাকার অর্থ ঋণ আদালতের বিচারক (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ) মো. মোশাররফ হোসেনকে পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত যুগ্ম জেলা জজ ইসরাত জাহানকে হবিগঞ্জের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ এবং যশোরের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আসাদুল ইসলামকে ঢাকার যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের যুগ্ম জেলা জজ মো. মেহেদী হাসানকে সিরাজগঞ্জের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ এবং আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত যুগ্ম জেলা জজ হরিদাস কুমারকে সিলেটের জেলা জুডিসিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেটর এবং দিনাজপুরের ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের যুগ্ম জেলা জজ ইকবাল হাসানকে রংপুরের ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের যুগ্ম জেলা জজ করা হয়েছে।

মেহেরপুরের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাহিদুর রহমানকে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব (সিনিয়র সিভিল জজ), চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের সিনিয়র সিভিল জজ আবদুল্লাহ আল হাসিবকে ঢাকার বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক, গাজীপুরের সিভিল জজ মাসুমা রহমানকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আইন কর্মকর্তা এবং নোয়াখালীর সিভিল জজ এস এম শামীম রেজাকে ঝালকাঠির জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট করা হয়েছে। ইতিহাসেরবই পড়ুন

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বদলি হওয়া বিচারকদের আগামী ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দায়িত্বভার নির্ধারিত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে। প্রশিক্ষণ বা ছুটিতে থাকা বিচারকদের প্রশিক্ষণ বা ছুটি শেষ হওয়ার পর নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে।

চাঁদাবাজির মামলায় আত্মসমর্পণ, জামিন নামঞ্জুরে কারাগারে সন্ত্রাসী বগা
চট্টগ্রাম নগর পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও ‘কিশোর গ্যাং’ নেতা ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগাকে খুঁজে পায়নি পুলিশ। এর মধ্যে চাঁদাবাজির একটি মামলায় রবিবার (১৮ অক্টোবর) আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন তিনি। জামিনের আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রবিববার দুপুরে চট্টগ্রাম অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মহিদুল ইসলামের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চান ওয়াকিল। শুনানি শেষে আদালত তার আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। নগর পুলিশের উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) হাসান ইকবাল চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, চাঁদাবাজির একটি মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেছিলেন ওয়াকিল হোসেন বগা। শুনানি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। ওয়াকিল নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক। দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গত ৮ জুন তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজি ও দখলসহ বিভিন্ন অভিযোগে ২৩টি মামলা রয়েছে। পুলিশের দাবি, একাধিক কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি দলীয় প্রভাব কাজে লাগিয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালাতেন ওয়াকিল। গত ৬ অক্টোবর নগরের টাইগারপাস এলাকার সিটি করপোরেশন ভবনে ওয়াকিলের অবস্থানের খবর পেয়ে তাকে ধরতে সেখানে যান পুলিশ সদস্যরা। তবে অভিযান চালিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। পরদিন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ওয়াকিল নগর ভবনে ছিলেন না। তার দুই ভাই তার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। ওই সময় ওয়াকিলকে সন্ত্রাসী নয়, ‘জুলাইযোদ্ধা’ বলে দাবি করেন মেয়র। একই সঙ্গে খুলশী থানার তৎকালীন ওসি আবদুর রহিমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন তিনি। এরপর আবদুর রহিমকে খুলশী থানা থেকে সরিয়ে নগর পুলিশের সিটিএসবি শাখায় বদলি করা হয়। পরদিন তাকে চট্টগ্রাম থেকে খুলনা পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে বদলি করা হয়।
চাঁদাবাজির মামলায় আত্মসমর্পণ, জামিন নামঞ্জুরে কারাগারে সন্ত্রাসী বগা
নাগরিকেরা ভুলত্রুটি না ধরলে জনপ্রতিনিধিরা ভুল পথে যেতে পারে: আইনমন্ত্রী
নাগরিকেরা ভুলত্রুটি না ধরলে জনপ্রতিনিধিরা ভুল পথে যেতে পারেন বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেছেন, উন্নয়নকাজে কোনো ধরনের কমিশন বাণিজ্যের সুযোগ দেওয়া হবে না। শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ঢাকাস্থ ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার ৩ নম্বর দিগনগর ইউনিয়ন কল্যাণ সংস্থার বার্ষিক সাধারণ  সভা-২০২৬-এ প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সরকারি বরাদ্দ জনগণের করের অর্থ। তাই উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ যথাযথভাবে হচ্ছে কি না, তা স্থানীয় জনগণকেও নজরদারি করতে হবে। কোথাও অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে হবে।’ অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান বলেন, ‘জনপ্রতিনিধিদের একার পক্ষে এলাকার সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। এ জন্য সামাজিক সংগঠন ও সচেতন নাগরিকদের এগিয়ে আসতে হবে। জনগণের মতামত, গঠনমূলক সমালোচনা ও পরামর্শ জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করে।’ তিনি বলেন, ‘নাগরিকেরা ভুলত্রুটি তুলে না ধরলে জনপ্রতিনিধিদের ভুল পথে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। তাই উন্নয়নকাজের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমেও জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।’ মাদকবিরোধী অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘মাদকসংক্রান্ত অপরাধ কিংবা অন্য কোনো অপরাধে জড়িত ব্যক্তির পক্ষে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে তদবির গ্রহণযোগ্য নয়। একইভাবে অপরাধের তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা প্রতিহত করতে হবে।’ আইনমন্ত্রী বলেন, ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট এবং সংঘবদ্ধভাবে মানুষকে হেনস্তা করার মতো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে। কেউ যেন অন্যায়ের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অপরাধ ও দুর্নীতির পক্ষেও কোনো অবস্থান নেওয়া যাবে না।’ ঢাকাস্থ শৈলকূপা উপজেলার ৩ নম্বর দিগনগর ইউনিয়ন কল্যাণ সংস্থার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জেড এ ওয়াহেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সাবেক সচিব খন্দকার শহিদুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।
নাগরিকেরা ভুলত্রুটি না ধরলে জনপ্রতিনিধিরা ভুল পথে যেতে পারে: আইনমন্ত্রী
দুর্নীতি মামলায় আবেদপুত্র সিয়ামের ৪ বছরের কারাদণ্ড
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) প্রশ্নপত্র ফাঁসকাণ্ডে আলোচিত গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলীর ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামকে ৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ বি এম তারিকুল কবীরের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী আরিফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মানচিত্রদেখুন দুদকের পাবলিক প্রসিবিউটর (পিপি) দেলোয়ার জাহান রুমী জানান, কারাদণ্ডের পাশাপাশি আসামিকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এ ছাড়া অবৈধভাবে অর্জিত সিয়ামের ৩১ লাখ ৮১ হাজার টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সিয়াম পিএসসির প্রশ্ন ফাঁসকাণ্ডে আলোচিত সাবেক চেয়ারম্যানের গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলীর ছেলে। সিয়াম ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের ত্রাণ ও দুর্যোগবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। তবে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠার পর তাঁকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। সিয়ামের বিরুদ্ধে গত বছরের ৫ জানুয়ারি মামলাটি দায়ের করেন দুদকের উপসহকারী পরিচালক জাকির হোসেন। মামলায় ২০২১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ৩৭ লাখ ৩০ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছিল। মামলার তদন্ত শেষে একই বছরের ৩০ ডিসেম্বর সিয়ামকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা জাকির হোসেন। তদন্তে সিয়ামের জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ৩১ লাখ ৮১ হাজার টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের প্রমাণ মেলে। এর আগে গত ১৭ জুন এই মামলায় সিয়ামের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন একই আদালত। বিচারকাজ চলাকালে দুদকের পক্ষে মোট ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
দুর্নীতি মামলায় আবেদপুত্র সিয়ামের ৪ বছরের কারাদণ্ড
যে কারণে দুই হাত জোড় করে চারবার ক্ষমা চাইলেন সেই আয়াস
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে কালি দিয়ে মোছার চেষ্টার মামলায় তিন দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করা হয় ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’র সভাপতি আল নূর মোহাম্মদ আয়াসকে। এসময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে দুই হাত জোড় করে ৪ বার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর (পিপি) কাছে ক্ষমা চাইতে দেখা যায়। আজ বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন মাজিস্ট্রেট মো. রিয়াদ হাসানের আদালতে রিমান্ড শেষে আয়াস ও সহযোগী মারজিয়া খন্দকার রিমিকে হাজির করা হয়। এরপর শাহবাহ থানায় অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, বিদ্বেষ ছড়ানো ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে করা মামলায় কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক আব্দুল গাফফার হিমেল। প্রথমে আসামিদের পক্ষে জামিন শুনানি করেন কয়েকজন আইনজীবী। তাদের মধ্যে মনির হোসাইন সুমন বলেন, ‘তারা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কোনো কথা বলেন নাই। কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে অনেকে ভালোবাসেন। অনেকে সমালোচনা করেন। কোনো কবি বিতর্কের ঊর্ধ্বে না। রবীন্দ্রনাথ কোনো ধর্মাবতার না। যে তাকে নিয়ে কিছু করলে ধর্মানুভূতিতে আঘাত লাগবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ছেলেটা অসুস্থ। বহুবছর পর আমরা গণতান্ত্রিক সরকার পেয়েছি। আয়াসের মতো জুলাই যোদ্ধাদের প্রত্যাশা অনেক। ভুল ত্রুটি করলে শাসাতে পারেন। মুচলেকা নিতে পারেন। এতবড় শাস্তি দেওয়া ঠিক নয়।’ এদিকে শুনানির সময় খালি পায়ে ও এক হাতে ক্যানেলা পরা অবস্থায় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় আয়াসকে। রিমিও তার পাশে মুখে মাস্ক পরে দাঁড়িয়ে শুনানি শুনছিলেন। শুনানি চলাকালে বিকেল ৪টা ২৭ মিনিটে সময় পিপি ওমর ফারুক ফারুকীর দিকে তাকিয়ে আয়াস দুই হাত জোড় করে মাফ চাইতে থাকেন। এর এক মিনিট পরে ফের দুই হাত জোড় করে আয়াস বলেন, ‘স্যার, প্লিজ।’ এসময় তার চোখ ছলছল করতে দেখা যায়। আসামিপক্ষে আরেক আইনজীবী আয়াসের জামিন চেয়ে বলেন, ‘তাকে (আয়াস) রিমান্ডে নিয়ে মারধর করা হয়েছে৷ কোনো প্রতিবেদন না দিয়েই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি অসুস্থ্য।’ এরপর আয়াসের থেকে জানতে আইনজীবী জানতে চান তার কি সমস্যা। উত্তরে আয়াস বলেন, ‘গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা।’ এছাড়া রিমিকে নারী ও একটা ছোট্ট সন্তান আছে বিবেচনা করে জামিন চান তার আইনজীবী। এরপর রাষ্ট্রপক্ষে পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী জামিনের বিরোধিতা করে শুনানি শুরু করেন। পিপির শুনানিকালে ৪ টা ৩০ মিনিটে ফের দুই হাত জোড় করে মাফ চান আয়াস। এদিকে পিপি বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন দেশ। এখানে পাকিস্তান নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার কিছু ছিলনা। কেনো আপনি এখানে পাকিস্তানকে টানতে গেলেন। জীবনে দাদা-দাদীর কবর জেয়ারত করেন না। মিলাদ পড়ান না। পাকিস্তানে আরেক নেতার কবর জিয়ারত নিয়ে কেনো এত মাতামাতি। স্বাধীন দেশে পাকিস্তান-জিন্নাহকে টানা মানে এক ধরনের ষড়যন্ত্র। পিপি বলেন, মাত্র দুইটা ওয়ালে গ্রাফিতি করা হয়েছে। তারা বিভিন্ন ওলামা, গোলাম আজম, নিমাজীর ছবি দেয়ার দাবি করতে পারে। কিন্তু আরেকজনের ছবির মুখে কালি লাগাতে পারেন না। তিনি রাস্তায় দাঁড়িয়ে বলেছেন, আমি যা ইচ্ছা তাই করবো। এতে সরকারের কি, পুলিশের কি।' পিপি ফারকী আরও বলেন, ‘আয়াস রবীন্দ্রনাথ ছাড়া কারো মুখে কালি দেয় নাই। রবীন্দ্রনাথের মুখে কালি দিয়ে মূলত হিন্দু সম্প্রদায়কে উসকে দিতে চায়। কারণ সামনে দুর্গা পূজা। ফ্রান্সের সেফুদার থেকে এরা গালি শিখেছে । সবসময় গালাগালি করে এরা। এরা নতুন প্রজন্মকে এসব শেখাচ্ছে। গালাগাল করলে মনে করে ভাইরাল হতে পারবো। খারাপ কথা বলে ভাইরাল হওয়ার সুযোগ আছে’। বিকেল ৪ টা ৩৫ মিনিটে রিমি কাঠগড়ায় পাশে দাঁড়ানো আয়াসকে বলেন, ‘আমরা গালাগাল কখন দিলাম।’ তখন আয়াস তাকে বলেন, ‘চুপ করো। চুপ করে শোনো শুধু।’ এরপর আয়াস ছলছল চোখে পিপির দিকে তাকিয়ে থাকেন। এরপর দুই হাত জোড় করে ফের ক্ষমা চান। এদিকে শুনানি চলাকালে রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবীরা আয়াশের আইনজীবীদের কয়েকজনকে জামাতের সমর্থক বলেন। এসময় আসামিপক্ষে থাকা আল মোহসিন তৌহিদ নামে একজন আইনজীবী হুঙ্কার দিয়ে উঠলে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হয়।
মশিউর অর্ণব
আয়াসের জামিন শুনানি চলাকালে বিচারকের সামনে আইনজীবীদের হাতাহাতি
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার আল-নূর মোহাম্মদ আয়াসসহ দুই আসামির জামিন আবেদনের শুনানি চলাকালে আদালতকক্ষে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। আজ বুধবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে এ ঘটনা ঘটে। আইনজীবীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা দেখে বিচারক এজলাস ছেড়ে যান। পরে পরিস্থিতি শান্ত হলে তিনি এসে আয়াসসহ দুই আসামিকে কারাগারে আটক রাখার আদেশ দেন। গত ১০ অক্টোবর শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে আঁকা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে চুনকালি দিতে গিয়ে গ্রেপ্তার হন রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্যসচিব আয়াসসহ চারজন। পরে তাঁদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, বিদ্বেষ ছড়ানো ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে মামলা করে পুলিশ। এই মামলায় পরদিন আয়াসসহ দুজনের তিন দিন এবং অপর দুজনের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আজ আয়াস ও মারজিয়া খন্দকারকে (রিমি) সিএমএম আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক আব্দুল গাফফার হিমেল। অপর দিকে তাদের জামিন চেয়ে আবেদন করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। কারাগারে আটক রাখার আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে বলেন, রিমান্ডে এই আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে জড়িত পলাতক অন্য আসামিদের বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। সেগুলো যাচাই–বাছাই করা হচ্ছে। মামলাটি সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এবং আসামিদের নাম-ঠিকানা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের জেলহাজতে আটক রাখা প্রয়োজন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার আল-নূর মোহাম্মদ আয়াসসহ দুই আসামির জামিন আবেদনের শুনানি চলাকালে হাতাহাতিতে এই আইনজীবীর শার্টের বোতাম ছিঁড়ে যায়। আজ বুধবার বিকেলে ঢাকার সিএমএম আদালত প্রাঙ্গণে   রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার আল-নূর মোহাম্মদ আয়াসসহ দুই আসামির জামিন আবেদনের শুনানি চলাকালে হাতাহাতিতে এই আইনজীবীর শার্টের বোতাম ছিঁড়ে যায়। আজ বুধবার বিকেলে ঢাকার সিএমএম আদালত প্রাঙ্গণেছবি: প্রথম আলো এ সময় দুই আসামির জামিন চেয়ে তাঁদের আইনজীবী মনির হোসেন আদালতকে বলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে যেসব ধারায় মামলা দেওয়া হয়েছে, সেগুলো সত্য নয়। আসামি আয়াস অসুস্থ এবং মারজিয়ার একটি বাচ্চা আছে। এসব বিবেচনায় আসামিদের জামিনের প্রার্থনা করছেন। এই আইনজীবী আরও বলেন, আসামিদের মূল বক্তব্য ছিল ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে। দেয়ালে ভারতীয় শিল্পীদের ছবি থাকায় তাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা দেশের শিল্পীদের পক্ষে। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী আদালতকে বলেন, ‘এই আসামিরা অত্যন্ত ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছে। এখানে হঠাৎ করে কেন পাকিস্তান, জিন্নাহ—এসব বিষয় আসবে। আর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মুখেই কেন কালি দিতে হবে। এর কারণ হলো হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের উসকানি দেওয়া এবং পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করা। আজ সাত মাস তারা সরকারের বিরুদ্ধে, জনগণের বিরুদ্ধে যথেষ্ট গালাগালি দিয়েছে। তারা এই জেনারেশনকে (প্রজন্মকে) খারাপ করছে। তারা মনে করে, গালাগালি করলেই ভাইরাল হওয়া যাবে। তারা ভালোভাবে কথা বলুক, বক্তৃতা দিক। কিন্তু তারা সব সময় গালাগালি, ভারত, পাকিস্তান এগুলো আনে বারবার। এখানে যারা এসেছে, সবাই জামায়াতের লোক, জামায়াতের আইনজীবী।’ এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবীদের মধ্য থেকে একজন উচ্চ স্বরে প্রতিবাদ করেন। মুহূর্তের মধ্যে বিচারকের সামনে তারা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। রাষ্ট্রপক্ষের একজন আইনজীবীর সঙ্গে হাতাহাতিতে আসামিপক্ষের একজন আইনজীবীর শার্টের বোতাম ছিঁড়ে যায়। মারধরের শিকার ওই আইনজীবীর নাম আল মহসিন তৌহিদ। এটা দেখামাত্রই বিকেল ৪টা ৩৭ মিনিটে বিচারক এজলাস ত্যাগ করে খাসকামরায় ঢুকে যান। পরে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী ও মনির হোসেন সবাইকে শান্ত করেন। বিকেল ৪টা ৪২ মিনিটে বিচারক এজলাসে ফিরে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আয়াসের জামিন শুনানি চলাকালে বিচারকের সামনে আইনজীবীদের হাতাহাতি
X