ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

রক্তে প্লাটিলেট বাড়াতে যেসব খাবার খাবেন

লাইফস্টাইল ডেস্ক

  ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪:৫৯ পিএম
সংগৃহীত ছবি

প্রতিদিন ডেঙ্গু আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা গাণিতিক হারে বেড়েই চলেছে। রোগীর সংখ্যা সক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। অপ্রতিরোধ্য ডেঙ্গু কোনোভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না। ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হলে রক্তে অণুচক্রিকা বা প্লাটিলেট কমে যায়। যাতে করে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়। প্লাটিলেট হচ্ছে রক্তের এক ধরণের ক্ষুদ্র কণিকা বা অণুচক্রিকা, যা রক্ত জমাট বাঁধতে ও রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে সাহায্য করে। স্বাভাবিক মানুষের রক্তে প্লাটিলেটের হার প্রতি ১০০ মিলিলিটারে দেড় লাখ থেকে চার লাখ। প্লাটিলেটের মাত্রা এর থেকে কমে গেলে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি দেখা দেয়। ২০ হাজারের নিচে প্লাটিলেটের সংখ্যা নেমে আসলে কোনো প্রকার আঘাত ছাড়াই রক্তক্ষরণ হতে পারে।

বুলেটিন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু জ্বর হলে সারা শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা হতে পারে। রক্তে প্লাটিলেট বা অণুচক্রিকার স্বাভাবিক মাত্রা দেড় লাখ থেকে সাড়ে চার লাখ। প্রায় ৯০ শতাংশ রোগীর প্লাটিলেট কমে যায়।

ডেঙ্গু পজেটিভ হলে না ঘাবড়ে রক্তের প্লাটিলেট যেন কমে না যায় সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে। প্লাটিলেট হলো রক্ত কোষ যা অস্থিমজ্জায় উৎপন্ন হয়। প্লাটিলেট কমে গেলে মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। তাই ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে রক্তের প্লাটিলেট ঠিক রাখবে, এমন সব খাবার খান। পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চলবেন অবশ্যই।

প্লাটিলেট কমে যাওয়ার লক্ষণগুলো হচ্ছে শরীরের যেকোনো স্থান থেকে সূক্ষ্ম রক্তপাত, যা পিনপয়েন্টের আকারে দেখা দেয়। ত্বকে বেগুনি রঙের চিহ্ন দেখা যায়। কারণ ত্বকের নিচে রক্তক্ষরণ হয়। পিরিয়ডে অতিরিক্ত রক্তপাত হওয়া। মাড়ি বা নাক থেকে রক্তপাত হতে পারে। প্রস্রাব বা মলের সঙ্গে রক্তপাত। শরীরের কোথাও কাটলে অনেকক্ষণ ধরে রক্তপাত।

সাধারণত ডেঙ্গু জ্বর জটিল রূপ নিলে বা রক্তক্ষরণ দেখা দিলে সেটাকে ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার বলা হয়। এক্ষেত্রে রক্ত নেয়ার প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভারের কয়েকটি বৈশিষ্ট্য থাকে।

প্রথমত প্লাটিলেট এক লাখের নিচে থাকবে, রক্তের হেমাটোক্রিট বা পিসিভি অর্থাৎ প্যাকড সেল ভলিউম বেড়ে যাবে, রক্তনালী থেকে রক্তরস বেরিয়ে আসার সমস্যা দেখা দেবে।

ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভারে মূলত রোগীর রক্তনালীগুলোর দেয়ালে যে ছোট ছোট ছিদ্র থাকে, সেগুলো বড় হয়ে যায়। এতে রক্তনালীর দেয়াল ভেদ করে রক্তের জলীয় উপাদান বা রক্তরস নালির বাইরে বের হয়ে আসে।

একে প্লাজমা লিকিংও বলা হয়। এতে রোগীর পেটে–বুকে পানি জমতে পারে। সেইসাথে রোগীর রক্তচাপ কমতে থাকে।

প্লাটিলেট কমার চাইতে, রক্তচাপ কমে যাওয়া ডেঙ্গু রোগীর জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

প্লাটিলেট কমে যাওয়াসহ এমন আরও কয়েকটি কারণে রোগীর মস্তিষ্ক, কিডনি, হৃদপিণ্ডেও রক্তক্ষরণের আশঙ্কা থাকে। এমনকি হেমারেজিক শকের কারণে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। এক্ষেত্রে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

ডেঙ্গু জ্বরের কোনও ওষুধ এখনও নেই। ফলে রোগের আক্রান্তদের উপসর্গের চিকিৎসা করা হয়। পরীক্ষায় ডেঙ্গু ধরা পড়লে প্রথম থেকেই প্রচুর পানি, ফলের রস জাতীয় ফ্লুইড গ্রহণ করা উচিত। এর চিকিৎসা বলতে প্যারাসিটামল এবং ফ্লুইড দেওয়া। ১০ শতাংশ ক্ষেত্রে জ্বর নেমে গিয়ে রোগী যখন সুস্থ হতে শুরু করে তখনই হিমোকনসেন্ট্রেশন হয়ে যেতে পারে। একে বলে রিকভারি ফেজ কমপ্লিকেশন।

জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনার মাধ্যমেই প্লাটিলেটের সংখ্যা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব। কিছু খাবার আছে যেগুলো প্লাটিলেট বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। আসুন জেনে নেই সেসব খাবারের নাম।

ড্রাগন ফল: ডেঙ্গু মোকাবিলায় রক্তে প্লাটিলেট বাড়ায় ড্রাগন ফল চিকিৎসকদের মতে, ড্রাগন ফলে প্রচুর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট আছে। যা রক্তে অণুচক্রিকা বা প্লাটিলেটের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। ফলে ডেঙ্গুর চিকিৎসায় এই ফল খুবই কার্যকর। আমাদের অনেক রোগী সুফল পেয়েছেন। এই ফলে থাকা আয়রন রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। লোহিত রক্তকণিকা উৎপাদনে সহায়তা করে।

পেঁপে ও পেঁপের পাতা: মালয়েশিয়ার গবেষণা প্রতিষ্ঠান এশিয়ান ইন্সিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলোজিতে করা একটি রিচাস এ দেখা গেছে যে পেঁপে পাতার রসে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর রক্তে কমে যাওয়া প্লাটিলেটের পরিমাণ খুব দ্রুত বাড়াতে পারে। এজন্য ডেঙ্গুর কারণে কারও রক্তের প্লাটিলেটের পরিমাণ কমে গেলে তাকে তাজা পেঁপে পাতার রস ও পাশাপাশি পাকা পেঁপের জুসও খেতে দিতে পারেন।

মিষ্টি কুমড়া এবং কুমড়া বীজ: মিষ্টি কুমড়া রক্তের প্লাটিলেট তৈরি করতে বেশ কার্যকরী। এছাড়াও মিষ্টি কুমড়াতে আছে ভিটামিন ‘এ’ যা প্লাটিলেট তৈরি করতে সহায়তা করে। তাই রক্তের প্লাটিলেটের সংখ্যা বাড়াতে নিয়মিত মিষ্টি কুমড়া এবং এর বীজ খেলে উপকার পাওয়া যায়।

লেবুর রস: লেবুর রসে প্রচুর ভিটামিন ‘সি’ থাকে। ভিটামিন সি রক্তে প্লাটিলেট বাড়াতে সহায়তা করে। এছাড়াও ভিটামিন ‘সি’ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়িয়ে তোলে। ফলে প্লাটিলেট ধ্বংস হওয়া থেকেও রক্ষা পায়।

আমলকী: আমলকীতেও আছে প্রচুর ভিটামিন ‘সি’। এছাড়াও আমলকীতে প্রচুর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট আছে। ফলে আমলকী খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং প্লাটিলেট ধ্বংস হওয়া থেকে রক্ষা পায়।

বিট: রক্তে প্লাটিলেটের পরিমাণ কমে গেলে প্রতিদিন এক গ্লাস বিটের রস পান করুন। বিটের পুষ্টি উপাদান প্লাটিলেটকে নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করে এবং প্রচুর নতুন প্লাটিলেট তৈরি করে।

অ্যালোভেরার রস: অ্যালোভেরা রক্তকে বিশুদ্ধ করে। রক্তের যেকোনো সংক্রমণ দূর করতেও অ্যালোভেরা উপকারী। তাই নিয়মিত অ্যালোভেরার জুস পান করলে রক্তের প্লাটিলেটের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।

পালং শাক: আয়রন ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের অন্যতম উৎস পালং। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এ ছাড়া শরীরে প্লাটিলেটের সংখ্যা বাড়াতে পারে।

ব্রোকলি :ভিটামিন ‘কে’– এর দারুণ উৎস ব্রোকলি, যা রক্তে প্লাটিলেট বাড়াতে সাহায্য করে। যদি দ্রুত কমতে থাকে, তবে প্রতিদিনকার খাবারে অবশ্যই ব্রোকলি যুক্ত করবেন। এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও নানা উপকারী খনিজ রয়েছে।

রসুন: উপকারী এই মসলা রক্ত পরিশুদ্ধ করে ও প্লাটিলেট বাড়ায়। গবেষণায় দেখা গেছে, রসুনে থাকা থ্রম্বোক্সেন এ টু প্লাটিলেট বাড়ায়। প্রতিদিনের খাবারে তাই রসুন যুক্ত করুন। দুই তিন কোষ রসুন আলাদা করেও খেতে পারেন।

শিম: ভিটামিন বি নাইন সমৃদ্ধ শিম প্লাটিলেট উন্নত করতে পারে।

কিসমিস: কিসমিসে আছে প্রচুর আয়রন। শরীরে শক্তি যোগায় ও ব্লাড প্লাটিলেট স্বাভাবিক রাখে এটি। ওটমিল বা টক দইয়ের সাথে মিশিয়ে খেতে পারেন কিসমিস।

গাজর: দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে উপকারী গাজর। পাশাপাশি রক্তের প্লাটিলেট বাড়ায় এটি। গাজরের জুস খেতে পারেন নিয়মিত। এছাড়া সালাদ বা স্যুপ হিসেবেও খেতে পারেন গাজর।

তিলের তেল: পলি আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট ও ভিটামিন ‘ই’ থাকে তিলের তেলে। এটি ব্লাড প্লাটিলেট বৃদ্ধির দারুণ এক ওষুধ হিসেবেও বিবেচিত।

ডালিম: ডালিমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন, যা রক্তের জন্য উপকারী। এ ছাড়াও ডালিম প্লাটিলেট কাউন্ট বজায় রাখতে সাহায্য করে এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন। এছাড়া ডালিমের রসে থাকা ভিটামিন শরীর দুর্বলতা দূরীকরণেও কাজ করে। তাই রোগীর রক্তে প্লাটিলেট বাড়াতে তাঁকে প্রত্যেকদিন ১৫০ মিলিলিটার পরিমাণ ডালিমের জুস খেতে দিন এবং এভাবে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত চালু রাখুন।

ডাবের পানি: ডেঙ্গু জ্বরের কারণে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দেয়। তাই শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে ডাবের পানি পান করলে উপকার পাওয়া যায়। এ ছাড়াও ডাবের পানিতে রয়েছে ইলেক্ট্রোলাইটসের মতো প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান।

পানি ও তরল খাবার

কারও ডেঙ্গু জ্বর হলে রোগীকে প্রতিদিন কমপক্ষে আড়াই থেকে তিন লিটার পানি পান করা উচিত। জ্বরের কারণে রোগীর শুধুমাত্র পানি পান করতে ইচ্ছা করে না। তাই দেহে পানির চাহিদা পূরণে রোগীকে বাড়িতে বানানো ফলের জুস ও ডাবের পানি পান করতে দিন।

বিভিন্ন প্রকার শাকসবজি

বিভিন্ন প্রকার সবুজ শাকসবজি যেমন গাজর, শস্য, টমেটো ইত্যাদি মিশিয়ে সবজি করে রোগীকে খাওয়ানো যেতে পারে। এসব সবজিতে পানির পরিমাণ বেশি থাকায় দেহে পানির অভাব দুর করতে সাহায্য করে। অন্যান্য সবজির মধ্যে ব্রকলি অন্যতম কারণ এতে ভিটামিন কে প্রচুর পরিমাণে থাকে। তাই প্রচুর পরিমাণে ব্রকলি খেলে তা ডেঙ্গুজনিত রক্তপাতের ঝুঁকি কমিয়ে আনতে সাহায্য করে।

যেসব লক্ষণে দ্রুত হাসপাতালে যাবেন
ডেঙ্গুতে জ্বর কমে যাওয়ার পরও সতর্ক থাকতে হবে। নিচের যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে—
• তীব্র পেটব্যথা বা পেটে চাপ দিলে ব্যথা
• বারবার বমি
• নাক বা মাড়ি দিয়ে রক্তপাত
• বমি বা পায়খানার সঙ্গে রক্ত
• অস্বাভাবিক দুর্বলতা, অস্থিরতা বা অতিরিক্ত ঘুমঘুম ভাব
• দ্রুত শ্বাস নেওয়া বা শ্বাসকষ্ট
• শরীরে তরল জমার লক্ষণ
• রক্তচাপ কমে যাওয়া বা শকের লক্ষণ
এসব লক্ষণ গুরুতর ডেঙ্গুর দিকে অগ্রসর হওয়ার ইঙ্গিত হতে পারে এবং দ্রুত হাসপাতালে চিকিৎসা প্রয়োজন।

খালি পেটে কফি পান করলে শরীরে কী প্রভাব পড়ে
অনেকের সকাল শুরু হয় এক কাপ কফি দিয়ে। কফির ক্যাফেইন ঘুমঘুম ভাব দূর করে, সতর্কতা বাড়ায় এবং কাজে মনোযোগ দিতে সাহায্য করে। তবে সকালে নাশতার আগে খালি পেটে কফি পান করলে শরীরে কী ধরনের প্রভাব পড়ে, তা নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে হজমের সমস্যা, বুকজ্বালা কিংবা অস্থিরতায় ভোগা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কফি পান কিছু অস্বস্তি বাড়াতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, খালি পেটে কফি পান করলে শরীরে কী কী প্রভাব পড়তে পারে। ১. পাকস্থলীতে অ্যাসিডের উৎপাদন বাড়তে পারে কফি পান করলে পাকস্থলীতে অ্যাসিড উৎপাদন বাড়তে পারে। খাবার হজমে এই অ্যাসিড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে খালি পেটে কফি পান করার পর কিছু মানুষের পেটে অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যাদের পাকস্থলী সংবেদনশীল, তাদের ক্ষেত্রে এ সমস্যা বেশি অনুভূত হতে পারে। তবে খালি পেটে কফি পান করলেই পাকস্থলীর ক্ষতি হয়, এমন নয়। অনেকেই কোনো ধরনের অস্বস্তি ছাড়াই কফি পান করতে পারেন। ২. বাড়তে পারে অম্লতা ও বুকজ্বালা যাদের অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা পাকস্থলীর অ্যাসিড খাদ্যনালিতে উঠে আসার সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে খালি পেটে কফি পান করলে উপসর্গ বেড়ে যেতে পারে। ক্যাফেইন খাদ্যনালির নিচের অংশের একটি পেশিকে শিথিল করতে পারে। এই পেশি সাধারণত পাকস্থলীর অ্যাসিড ও খাবার খাদ্যনালিতে ফিরে আসা ঠেকাতে সাহায্য করে। এ ছাড়া কফি পাকস্থলীতে অ্যাসিড উৎপাদন বাড়াতে পারে। এর ফলে কারও কারও বুকে জ্বালাপোড়া, মুখে টক স্বাদ কিংবা পেটের ওপরের অংশে অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। ৩. অস্থিরতা ও উদ্বেগ বাড়তে পারে কফিতে থাকা ক্যাফেইন কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে উদ্দীপিত করে। এর ফলে সতর্কতা বাড়ে এবং ঘুমঘুম ভাব কমে। তবে অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ কিংবা ক্যাফেইনের প্রতি সংবেদনশীলতার কারণে কারও কারও অস্থিরতা ও উদ্বেগ বাড়তে পারে। এ ছাড়া হাত কাঁপা, হৃদস্পন্দন দ্রুত হওয়া কিংবা অস্বস্তি অনুভব করার মতো লক্ষণও দেখা দিতে পারে। খালি পেটে কফি পান করলে এসব সমস্যা সবার ক্ষেত্রে বাড়ে—এমন নয়। ব্যক্তিভেদে ক্যাফেইনের প্রভাব ভিন্ন হতে পারে। ৪. মলত্যাগের তাগিদ বাড়াতে পারে কফি পান করার পর অনেকেরই দ্রুত মলত্যাগের তাগিদ অনুভূত হয়। এর কারণ, কফি অন্ত্রের সংকোচন বাড়িয়ে পরিপাকতন্ত্রের মধ্য দিয়ে বর্জ্য পদার্থ এগিয়ে যেতে সাহায্য করতে পারে। কফি হজমের সঙ্গে সম্পর্কিত গ্যাস্ট্রিন ও কোলেসিস্টোকাইনিনের মতো হরমোনের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এই প্রভাব নিয়মিত মলত্যাগে সহায়তা করে। তবে যাদের পরিপাকতন্ত্র সংবেদনশীল, তাদের পেটে অস্বস্তি, হঠাৎ মলত্যাগের তাগিদ কিংবা পাতলা পায়খানা হতে পারে। ৫. সতর্কতা ও মনোযোগ বাড়ায় সকালে কফি পান করার অন্যতম কারণ হলো ঘুমের ভাব কাটিয়ে সতেজ হওয়া। ক্যাফেইন মস্তিষ্কে অ্যাডেনোসিন নামের রাসায়নিকের কার্যক্রমে বাধা দেয়। অ্যাডেনোসিনের সঙ্গে ঘুমঘুম ভাবের সম্পর্ক রয়েছে। ফলে ক্যাফেইন গ্রহণ করলে সাময়িকভাবে সতর্কতা ও মনোযোগ বাড়তে পারে। তবে কফির পরিমাণ বেশি হলে বা শরীর ক্যাফেইনের প্রতি সংবেদনশীল হলে এর বিপরীত প্রভাবও দেখা দিতে পারে। তাই নিজের সহনশীলতা অনুযায়ী কফি পান করা ভালো। খালি পেটে কফি পান করলে কি পাকস্থলীতে আলসার হয়? সকালের নাশতার আগে কফি পান করলে পাকস্থলীতে আলসার বা ঘা হয়—এমন একটি প্রচলিত ধারণা রয়েছে। তবে কফি সরাসরি পাকস্থলীতে আলসার সৃষ্টি করে, এমন দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই। পাকস্থলীর আলসারের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরি নামের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ এবং নির্দিষ্ট কিছু ব্যথানাশক ওষুধ দীর্ঘদিন ব্যবহার করা। তবে আগে থেকেই আলসার, অ্যাসিড রিফ্লাক্স কিংবা অন্য কোনো হজমজনিত সমস্যা থাকলে কফি পান উপসর্গ বাড়িয়ে দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে কফি পান করার পর শরীরে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া হচ্ছে, তা খেয়াল রাখা জরুরি। খালি পেটে কফি পান করা কি এড়িয়ে চলবেন? খালি পেটে কফি পান করা সবার জন্য ক্ষতিকর নয়। তবে কফি পান করার পর বুকজ্বালা, পেটে অস্বস্তি, অস্থিরতা কিংবা দ্রুত মলত্যাগের সমস্যা হলে নাশতার পরে কফি পান করে দেখতে পারেন। প্রয়োজন হলে কফির পরিমাণও কমিয়ে আনুন।  
খালি পেটে কফি পান করলে শরীরে কী প্রভাব পড়ে
সব অভিমান ভুলে প্রাক্তনকে ক্ষমা করার দিন আজ
ভালোবাসার সম্পর্ক ভেঙে গেলে পড়ে থাকে কিছু মধুর স্মৃতি, অপূর্ণতা, অভিমান আর না বলা অভিযোগ। কেউ সহজেই অতীত ভুলে নতুন করে জীবন শুরু করতে পারেন, আবার কারও মনে বিচ্ছেদের ক্ষত দীর্ঘদিন দাগ কেটে থাকে। সেই পুরোনো কষ্ট ও তিক্ততা পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা নিয়ে আজ ১৭ অক্টোবর পালিত হচ্ছে ‘ফরগিভ অ্যান এক্স ডে’ বা প্রাক্তনকে ক্ষমা করার দিন। আজ শনিবার (১৭ অক্টোবর) প্রাক্তনকে ক্ষমা করার দিন। প্রতি বছর ১৭ অক্টোবর পালিত হয় এই দিবস। আজকের এই দিনে সারা বিশ্বে পালিত হয় এ বিচিত্র দিবসটি। এর মূল ভাবনা হলো, অতীতের সম্পর্ক ঘিরে জমে থাকা রাগ, ক্ষোভ ও অভিমান থেকে নিজেকে মুক্ত করার চেষ্টা করা। তবে প্রাক্তনকে ক্ষমা করার অর্থ তার কাছে ফিরে যাওয়া নয়; বরং নিজের মানসিক শান্তির জন্য অতীতকে মেনে নেওয়া এবং নতুনভাবে পথচলার সাহস খুঁজে নেওয়া। ২০১৮ সালে ‘ইন্টারন্যাশনাল ফরগিভ অ্যান এক্স ডে’ পালনের প্রচলন শুরু হয়। তবে ঠিক কে এই দিবসের সূচনা করেছিলেন, কোথায় প্রথম উদযাপন হয়েছিল কিংবা কেন ১৭ অক্টোবর তারিখটি বেছে নেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায় না। যদিও এ দিবসের আনুষ্ঠানিক কোনো স্বীকৃতি নেই। এটি জাতিসংঘের স্বীকৃত কোনো আন্তর্জাতিক দিবস নয়। বরং ইন্টারনেটভিত্তিক বিশেষ দিবসগুলোর মধ্যে একটি, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন ক্যালেন্ডারের মাধ্যমে পরিচিতি পেয়েছে। ফলে দিবসটির নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠাতা বা সূচনাসংক্রান্ত তথ্য নিশ্চিতভাবে উল্লেখ করা কঠিন। কেন প্রাক্তনকে ক্ষমা করার কথা বলা হয়? একটি সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পেছনে থাকতে পারে বিশ্বাসভঙ্গ, ভুল বোঝাবুঝি, মতের অমিল কিংবা জীবনের লক্ষ্য আলাদা হয়ে যাওয়া। বিচ্ছেদের পর অনেকেই পুরোনো ঘটনা বারবার মনে করেন। কখনো মনে জমে থাকে না বলা কথা, কখনো বা উত্তর না পাওয়া প্রশ্ন। এসব স্মৃতি ও ক্ষোভ দীর্ঘদিন বয়ে বেড়ালে তা ব্যক্তির মানসিক স্বস্তি এবং নতুন সম্পর্কের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। প্রাক্তনকে ক্ষমা করার দিনটি সেই অনুভূতিগুলো নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করে। অতীতের অভিজ্ঞতাকে অস্বীকার না করে তা মেনে নেওয়া এবং ধীরে ধীরে কষ্ট থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য। ক্ষমা করার অর্থ অন্যায়কে সমর্থন করা নয়; বরং সেই অন্যায়ের স্মৃতি যেন বর্তমান জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, সেই চেষ্টা। তবে ক্ষমা করার সিদ্ধান্ত একান্তই ব্যক্তিগত। কেউ দ্রুত অতীতকে মেনে নিতে পারেন, আবার কারও প্রয়োজন হয় দীর্ঘ সময়। কাউকে জোর করে ক্ষমা করতে বলা কিংবা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সব কষ্ট ভুলে যাওয়ার প্রত্যাশা করা এই দিবসের মূল ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সাধারণত দু‘জনের মধ্যে যখন সম্পর্ক গড়ে ওঠে শুরুতে সেই সম্পর্ক আবেগে ভরপুর থাকে। হয়তো কিছুদিন বা দীর্ঘদিন পর সেই সম্পর্কে ফাটল ধরে। এটা অনেক স্বাভাবিকভাবে নিতে পারেন না। পুরোনো স্মৃতিগুলো বার বার তাকে আঘাত করে। এই ভাঙনের ব্যথা অনেকেরে ক্ষেত্রে খুবই দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। তাই প্রাক্তনকে ক্ষমা করা অন্তত তাদের জন্য সহজ কাজ নয়। কিন্তু, ক্ষমা একটি মহৎ গুণ। তাই সবকিছু ভুলে গিয়ে তাকে ক্ষমা করে দেওয়ার মতো মহান কাজ আর দ্বিতীয়টি হতে পারে না। 
মশিউর অর্ণব
বিয়ের আগের দিন বরের মৃত্যু, শোকের মাতম
রাত পোহালেই শুক্রবার বিয়ে। বৌ-ভাত পরদিন। কনের বাড়িতে বর বরণের সাজসজ্জা করতে ব্যস্ত সবাই। আলোকসজ্জায় সজ্জিত গেইট, সাজানো হয়েছে বাড়িঘরও। বরের বাড়ি জুড়েও বিয়ের আনন্দ আর সাজ সাজ রব। বিয়েকে ঘিরে কনে ও বরের বাড়িতে যখন সবাই উৎসব আর আনন্দে মাতোয়ারা ঠিক সেই সময়ে এল নিদারুণ এক খবর বর আর নেই; মুহূর্তেই আনন্দ রূপ নিল বিষাদে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকালে কনের বাড়িতে খবর এল হবু বর মো. আরিফ শাহরিয়ার সৌমিক মারা গেছেন। মুহূর্তেই বর ও কনের বাড়িতে নেমে এল ঘোর অন্ধকার। বর্ণিল উৎসব পরিণত হল শোকের মাতমে। স্বজন, প্রতিবেশী ও শুভাকাঙ্খীরা হয়ে পড়লেন শোকে স্তব্ধ। ২১ বছর বয়সি সৌমিককে এদিন অসুস্থ অবস্থায় গাইবান্ধা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তার একমাত্র বোন শারমিন সুলতানা বলেন, সৌমিক ঢাকা থেকে প্রায় এক মাস আগে বাড়িতে এসেছে। গত চার দিন আগে জ্বর হয়েছিল। শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকলে এদিন সকাল ৯টার দিকে তাকে প্রথমে জেলা সদর হাসপাতালের বিপরীতে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানে এক চিকিৎসককে দেখিয়ে ওষুধপত্রসহ তারা সৌমিককে নিয়ে বাড়ি আসেন। পরে বিকালে সৌমিক আরও বেশি অসুস্থ হলে তাকে বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সৌমিক সম্প্রতি নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি থেকে প্রকৌশল বিষয়ে স্নাতক পাস করেন। হবু কনের বাড়িরও একই পাড়ায়।
বিয়ের আগের দিন বরের মৃত্যু, শোকের মাতম
রাত জেগে গুগলে যে ৫ বিষয়ে সার্চ করে নারীরা!
এখনকার দিনে যেকোনো প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গুগলের সাহায্য নেন অসংখ্য মানুষ। স্বাস্থ্য, সৌন্দর্যচর্চা, সম্পর্ক কিংবা দৈনন্দিন জীবনের নানা সমস্যা—সবকিছু নিয়েই সার্চ ইঞ্জিনটিতে অনুসন্ধান করেন ব্যবহারকারীরা। বিশেষ করে নারীরা নিজেদের স্বাস্থ্য, ত্বক, চুল ও জীবনযাপন সম্পর্কে জানতে গুগলে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর খোঁজেন। অনেক সময় ব্যক্তিগত বা স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে সরাসরি কারও সঙ্গে কথা বলতে সংকোচ বোধ করেন অনেকে। সে ক্ষেত্রে গুগল হয়ে ওঠে তথ্য জানার সহজ মাধ্যম। চলুন জেনে নেওয়া যাক নারীরা কোন ৫টি বিষয় গুগলে সবচেয়ে বেশি সার্চ করেন- ১. ত্বক সুন্দর ও উজ্জ্বল রাখার উপায় ত্বকের যত্ন নিয়ে নারীদের আগ্রহ দীর্ঘদিনের। ব্রণ, কালচে দাগ, মেছতা, ত্বকের শুষ্কতা কিংবা ত্বক উজ্জ্বল রাখার উপায় জানতে অনেকেই অনলাইনে খোঁজ করেন। কোন ধরনের প্রসাধনী ত্বকের জন্য উপযোগী, ঘরোয়া উপায়ে কীভাবে ত্বকের যত্ন নেওয়া যায়—এসব প্রশ্নও থাকে অনুসন্ধানের তালিকায়। ২. চুল পড়া বন্ধ ও চুলের বৃদ্ধি বাড়ানোর উপায় চুল পড়া, খুশকি, আগা ফেটে যাওয়া এবং চুল পাতলা হয়ে যাওয়ার সমস্যা নিয়ে অনেকে উদ্বিগ্ন থাকেন। এসব সমস্যা কমাতে কোন তেল, শ্যাম্পু বা পরিচর্যার পদ্ধতি কার্যকর, তা জানতে গুগলে অনুসন্ধান করেন অনেক নারী। তবে অতিরিক্ত চুল পড়ার পেছনে পুষ্টির ঘাটতি, হরমোনের পরিবর্তন কিংবা অন্যান্য শারীরিক কারণ থাকতে পারে। ৩. মাসিক অনিয়মিত হওয়ার কারণ কী? নারীদের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর মধ্যে মাসিকের অনিয়ম অন্যতম। নির্ধারিত সময়ে মাসিক না হওয়া, অতিরিক্ত রক্তপাত, তীব্র ব্যথা কিংবা মাসিকের সময় পরিবর্তনের কারণ জানতে অনেকে গুগলের সাহায্য নেন। হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (পিসিওএস), মানসিক চাপসহ বিভিন্ন কারণে এমন সমস্যা হতে পারে। নিয়মিত সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। ৪. ওজন কমানোর সহজ উপায় কী? নিজেকে সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখতে ওজন নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে সচেতন থাকেন অনেক নারী। কীভাবে সঠিক খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা যায়, কোন ব্যায়াম করলে উপকার পাওয়া যায় কিংবা পেটের মেদ কমানোর উপায় কী—এসব বিষয় নিয়ে অনলাইনে অনুসন্ধান করা হয়। তবে দ্রুত ওজন কমানোর আশায় অনিরাপদ ডায়েট বা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ ব্যবহার করা উচিত নয়। ৫. সম্পর্ক, ভালোবাসা ও দাম্পত্যজীবনের সমস্যা ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়েও অনেকে অনলাইনে তথ্য খোঁজেন। সঙ্গীর সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি দূর করা, সম্পর্কের দূরত্ব কমানো, বিয়ের পর পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ানো কিংবা মানসিক চাপ সামলানোর উপায় সম্পর্কে জানতে গুগলে অনুসন্ধান করতে পারেন নারীরা। এসব বিষয়ে নির্ভরযোগ্য পরামর্শের পাশাপাশি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, খোলামেলা আলোচনা ও সম্মতিকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
মশিউর অর্ণব
দেশে শীত নামবে কবে, যা জানাল আবহাওয়া অফিস
বাংলা পঞ্জিকায় এখন চলছে আশ্বীন মাস। সাধারণত পৌষ আর মাঘ মাস জুড়ে শীতের তীব্রতা দেখা দিলেও এরইমধ্যে পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁওসহ উত্তরের কয়েকটি জেলায় শীতের আগমনী হাওয়া বইছে। সেইসঙ্গে ঢাকায়ও উত্তর দিক থেকে বাতাস বইতে শুরু করেছে, যা আবহাওয়া শীতল হওয়ার পূর্বাভাস দিচ্ছে। তবে শীতের পুরেপুরি আমেজ শুরু হতে এখনো এক মাসেরও বেশি সময় বাকি। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের (বিএমডি) আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক জানিয়েছেন, নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে ঢাকাসহ দেশের বেশিরভাগ এলাকায় শীতের আমেজ শুরু হয়ে যেতে পারে।    গত চার-পাঁচ বছরের আবহাওয়ার ধরন বিশ্লেষণ করে তিনি জানান, এবার ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত শীতের প্রভাব থাকতে পারে। এ সময় রাজধানী ঢাকার তাপমাত্রা ১১ থেকে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এই আবহাওয়াবিদ বলেন, দেশের উত্তর-পূর্ব ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই শীতের আগমন ঘটতে পারে। তবে ওই মাসের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে দেশের অধিকাংশ এলাকায় শীতের আমেজ অনুভূত হতে পারে।  ডিসেম্বর থেকে শীতের প্রকোপ বাড়বে এবং জানুয়ারি মাসে শীতের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি থাকতে পারে।    আর ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ের পর থেকে দিনের তাপমাত্রা আবারও বাড়ার কথা জানান নাজমুল হক। গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৯ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সেখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অন্যদিকে, মঙ্গলবার রাজধানী ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় উত্তর দিক থেকে বাতাস বইতে শুরু করলেও ঘনবসতি ও নগরায়ণের কারণে শীতের অনুভূতি স্পষ্ট হতে নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
দেশে শীত নামবে কবে, যা জানাল আবহাওয়া অফিস
আরও পড়ুন
ডেঙ্গুতে এক দিনে আরও ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজার ৮৮
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জেলা পরিষদের উদ্যোগ: অসহায় ও দুঃস্থদের মাঝে মশারি বিতরণ ​
নারায়ণগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাপ্তাহিক পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও বৃক্ষরোপণ
বারোবাজারে বিনামূল্যে ৩১০ চক্ষু রোগীকে চিকিৎসাসেবা
X