ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

রাত জেগে গুগলে যে ৫ বিষয়ে সার্চ করে নারীরা!

অনলাইন ডেস্ক

  ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:০০ পিএম

এখনকার দিনে যেকোনো প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গুগলের সাহায্য নেন অসংখ্য মানুষ। স্বাস্থ্য, সৌন্দর্যচর্চা, সম্পর্ক কিংবা দৈনন্দিন জীবনের নানা সমস্যা—সবকিছু নিয়েই সার্চ ইঞ্জিনটিতে অনুসন্ধান করেন ব্যবহারকারীরা।

বুলেটিন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

বিশেষ করে নারীরা নিজেদের স্বাস্থ্য, ত্বক, চুল ও জীবনযাপন সম্পর্কে জানতে গুগলে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর খোঁজেন। অনেক সময় ব্যক্তিগত বা স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে সরাসরি কারও সঙ্গে কথা বলতে সংকোচ বোধ করেন অনেকে। সে ক্ষেত্রে গুগল হয়ে ওঠে তথ্য জানার সহজ মাধ্যম।

চলুন জেনে নেওয়া যাক নারীরা কোন ৫টি বিষয় গুগলে সবচেয়ে বেশি সার্চ করেন-

১. ত্বক সুন্দর ও উজ্জ্বল রাখার উপায়

ত্বকের যত্ন নিয়ে নারীদের আগ্রহ দীর্ঘদিনের। ব্রণ, কালচে দাগ, মেছতা, ত্বকের শুষ্কতা কিংবা ত্বক উজ্জ্বল রাখার উপায় জানতে অনেকেই অনলাইনে খোঁজ করেন। কোন ধরনের প্রসাধনী ত্বকের জন্য উপযোগী, ঘরোয়া উপায়ে কীভাবে ত্বকের যত্ন নেওয়া যায়—এসব প্রশ্নও থাকে অনুসন্ধানের তালিকায়।

২. চুল পড়া বন্ধ ও চুলের বৃদ্ধি বাড়ানোর উপায়

চুল পড়া, খুশকি, আগা ফেটে যাওয়া এবং চুল পাতলা হয়ে যাওয়ার সমস্যা নিয়ে অনেকে উদ্বিগ্ন থাকেন। এসব সমস্যা কমাতে কোন তেল, শ্যাম্পু বা পরিচর্যার পদ্ধতি কার্যকর, তা জানতে গুগলে অনুসন্ধান করেন অনেক নারী। তবে অতিরিক্ত চুল পড়ার পেছনে পুষ্টির ঘাটতি, হরমোনের পরিবর্তন কিংবা অন্যান্য শারীরিক কারণ থাকতে পারে।

৩. মাসিক অনিয়মিত হওয়ার কারণ কী?

নারীদের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর মধ্যে মাসিকের অনিয়ম অন্যতম। নির্ধারিত সময়ে মাসিক না হওয়া, অতিরিক্ত রক্তপাত, তীব্র ব্যথা কিংবা মাসিকের সময় পরিবর্তনের কারণ জানতে অনেকে গুগলের সাহায্য নেন। হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (পিসিওএস), মানসিক চাপসহ বিভিন্ন কারণে এমন সমস্যা হতে পারে। নিয়মিত সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

৪. ওজন কমানোর সহজ উপায় কী?

নিজেকে সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখতে ওজন নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে সচেতন থাকেন অনেক নারী। কীভাবে সঠিক খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা যায়, কোন ব্যায়াম করলে উপকার পাওয়া যায় কিংবা পেটের মেদ কমানোর উপায় কী—এসব বিষয় নিয়ে অনলাইনে অনুসন্ধান করা হয়। তবে দ্রুত ওজন কমানোর আশায় অনিরাপদ ডায়েট বা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ ব্যবহার করা উচিত নয়।

৫. সম্পর্ক, ভালোবাসা ও দাম্পত্যজীবনের সমস্যা

ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়েও অনেকে অনলাইনে তথ্য খোঁজেন। সঙ্গীর সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি দূর করা, সম্পর্কের দূরত্ব কমানো, বিয়ের পর পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ানো কিংবা মানসিক চাপ সামলানোর উপায় সম্পর্কে জানতে গুগলে অনুসন্ধান করতে পারেন নারীরা। এসব বিষয়ে নির্ভরযোগ্য পরামর্শের পাশাপাশি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, খোলামেলা আলোচনা ও সম্মতিকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

খালি পেটে কফি পান করলে শরীরে কী প্রভাব পড়ে
অনেকের সকাল শুরু হয় এক কাপ কফি দিয়ে। কফির ক্যাফেইন ঘুমঘুম ভাব দূর করে, সতর্কতা বাড়ায় এবং কাজে মনোযোগ দিতে সাহায্য করে। তবে সকালে নাশতার আগে খালি পেটে কফি পান করলে শরীরে কী ধরনের প্রভাব পড়ে, তা নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে হজমের সমস্যা, বুকজ্বালা কিংবা অস্থিরতায় ভোগা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কফি পান কিছু অস্বস্তি বাড়াতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, খালি পেটে কফি পান করলে শরীরে কী কী প্রভাব পড়তে পারে। ১. পাকস্থলীতে অ্যাসিডের উৎপাদন বাড়তে পারে কফি পান করলে পাকস্থলীতে অ্যাসিড উৎপাদন বাড়তে পারে। খাবার হজমে এই অ্যাসিড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে খালি পেটে কফি পান করার পর কিছু মানুষের পেটে অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যাদের পাকস্থলী সংবেদনশীল, তাদের ক্ষেত্রে এ সমস্যা বেশি অনুভূত হতে পারে। তবে খালি পেটে কফি পান করলেই পাকস্থলীর ক্ষতি হয়, এমন নয়। অনেকেই কোনো ধরনের অস্বস্তি ছাড়াই কফি পান করতে পারেন। ২. বাড়তে পারে অম্লতা ও বুকজ্বালা যাদের অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা পাকস্থলীর অ্যাসিড খাদ্যনালিতে উঠে আসার সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে খালি পেটে কফি পান করলে উপসর্গ বেড়ে যেতে পারে। ক্যাফেইন খাদ্যনালির নিচের অংশের একটি পেশিকে শিথিল করতে পারে। এই পেশি সাধারণত পাকস্থলীর অ্যাসিড ও খাবার খাদ্যনালিতে ফিরে আসা ঠেকাতে সাহায্য করে। এ ছাড়া কফি পাকস্থলীতে অ্যাসিড উৎপাদন বাড়াতে পারে। এর ফলে কারও কারও বুকে জ্বালাপোড়া, মুখে টক স্বাদ কিংবা পেটের ওপরের অংশে অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। ৩. অস্থিরতা ও উদ্বেগ বাড়তে পারে কফিতে থাকা ক্যাফেইন কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে উদ্দীপিত করে। এর ফলে সতর্কতা বাড়ে এবং ঘুমঘুম ভাব কমে। তবে অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ কিংবা ক্যাফেইনের প্রতি সংবেদনশীলতার কারণে কারও কারও অস্থিরতা ও উদ্বেগ বাড়তে পারে। এ ছাড়া হাত কাঁপা, হৃদস্পন্দন দ্রুত হওয়া কিংবা অস্বস্তি অনুভব করার মতো লক্ষণও দেখা দিতে পারে। খালি পেটে কফি পান করলে এসব সমস্যা সবার ক্ষেত্রে বাড়ে—এমন নয়। ব্যক্তিভেদে ক্যাফেইনের প্রভাব ভিন্ন হতে পারে। ৪. মলত্যাগের তাগিদ বাড়াতে পারে কফি পান করার পর অনেকেরই দ্রুত মলত্যাগের তাগিদ অনুভূত হয়। এর কারণ, কফি অন্ত্রের সংকোচন বাড়িয়ে পরিপাকতন্ত্রের মধ্য দিয়ে বর্জ্য পদার্থ এগিয়ে যেতে সাহায্য করতে পারে। কফি হজমের সঙ্গে সম্পর্কিত গ্যাস্ট্রিন ও কোলেসিস্টোকাইনিনের মতো হরমোনের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এই প্রভাব নিয়মিত মলত্যাগে সহায়তা করে। তবে যাদের পরিপাকতন্ত্র সংবেদনশীল, তাদের পেটে অস্বস্তি, হঠাৎ মলত্যাগের তাগিদ কিংবা পাতলা পায়খানা হতে পারে। ৫. সতর্কতা ও মনোযোগ বাড়ায় সকালে কফি পান করার অন্যতম কারণ হলো ঘুমের ভাব কাটিয়ে সতেজ হওয়া। ক্যাফেইন মস্তিষ্কে অ্যাডেনোসিন নামের রাসায়নিকের কার্যক্রমে বাধা দেয়। অ্যাডেনোসিনের সঙ্গে ঘুমঘুম ভাবের সম্পর্ক রয়েছে। ফলে ক্যাফেইন গ্রহণ করলে সাময়িকভাবে সতর্কতা ও মনোযোগ বাড়তে পারে। তবে কফির পরিমাণ বেশি হলে বা শরীর ক্যাফেইনের প্রতি সংবেদনশীল হলে এর বিপরীত প্রভাবও দেখা দিতে পারে। তাই নিজের সহনশীলতা অনুযায়ী কফি পান করা ভালো। খালি পেটে কফি পান করলে কি পাকস্থলীতে আলসার হয়? সকালের নাশতার আগে কফি পান করলে পাকস্থলীতে আলসার বা ঘা হয়—এমন একটি প্রচলিত ধারণা রয়েছে। তবে কফি সরাসরি পাকস্থলীতে আলসার সৃষ্টি করে, এমন দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই। পাকস্থলীর আলসারের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরি নামের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ এবং নির্দিষ্ট কিছু ব্যথানাশক ওষুধ দীর্ঘদিন ব্যবহার করা। তবে আগে থেকেই আলসার, অ্যাসিড রিফ্লাক্স কিংবা অন্য কোনো হজমজনিত সমস্যা থাকলে কফি পান উপসর্গ বাড়িয়ে দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে কফি পান করার পর শরীরে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া হচ্ছে, তা খেয়াল রাখা জরুরি। খালি পেটে কফি পান করা কি এড়িয়ে চলবেন? খালি পেটে কফি পান করা সবার জন্য ক্ষতিকর নয়। তবে কফি পান করার পর বুকজ্বালা, পেটে অস্বস্তি, অস্থিরতা কিংবা দ্রুত মলত্যাগের সমস্যা হলে নাশতার পরে কফি পান করে দেখতে পারেন। প্রয়োজন হলে কফির পরিমাণও কমিয়ে আনুন।  
খালি পেটে কফি পান করলে শরীরে কী প্রভাব পড়ে
সব অভিমান ভুলে প্রাক্তনকে ক্ষমা করার দিন আজ
ভালোবাসার সম্পর্ক ভেঙে গেলে পড়ে থাকে কিছু মধুর স্মৃতি, অপূর্ণতা, অভিমান আর না বলা অভিযোগ। কেউ সহজেই অতীত ভুলে নতুন করে জীবন শুরু করতে পারেন, আবার কারও মনে বিচ্ছেদের ক্ষত দীর্ঘদিন দাগ কেটে থাকে। সেই পুরোনো কষ্ট ও তিক্ততা পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা নিয়ে আজ ১৭ অক্টোবর পালিত হচ্ছে ‘ফরগিভ অ্যান এক্স ডে’ বা প্রাক্তনকে ক্ষমা করার দিন। আজ শনিবার (১৭ অক্টোবর) প্রাক্তনকে ক্ষমা করার দিন। প্রতি বছর ১৭ অক্টোবর পালিত হয় এই দিবস। আজকের এই দিনে সারা বিশ্বে পালিত হয় এ বিচিত্র দিবসটি। এর মূল ভাবনা হলো, অতীতের সম্পর্ক ঘিরে জমে থাকা রাগ, ক্ষোভ ও অভিমান থেকে নিজেকে মুক্ত করার চেষ্টা করা। তবে প্রাক্তনকে ক্ষমা করার অর্থ তার কাছে ফিরে যাওয়া নয়; বরং নিজের মানসিক শান্তির জন্য অতীতকে মেনে নেওয়া এবং নতুনভাবে পথচলার সাহস খুঁজে নেওয়া। ২০১৮ সালে ‘ইন্টারন্যাশনাল ফরগিভ অ্যান এক্স ডে’ পালনের প্রচলন শুরু হয়। তবে ঠিক কে এই দিবসের সূচনা করেছিলেন, কোথায় প্রথম উদযাপন হয়েছিল কিংবা কেন ১৭ অক্টোবর তারিখটি বেছে নেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায় না। যদিও এ দিবসের আনুষ্ঠানিক কোনো স্বীকৃতি নেই। এটি জাতিসংঘের স্বীকৃত কোনো আন্তর্জাতিক দিবস নয়। বরং ইন্টারনেটভিত্তিক বিশেষ দিবসগুলোর মধ্যে একটি, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন ক্যালেন্ডারের মাধ্যমে পরিচিতি পেয়েছে। ফলে দিবসটির নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠাতা বা সূচনাসংক্রান্ত তথ্য নিশ্চিতভাবে উল্লেখ করা কঠিন। কেন প্রাক্তনকে ক্ষমা করার কথা বলা হয়? একটি সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পেছনে থাকতে পারে বিশ্বাসভঙ্গ, ভুল বোঝাবুঝি, মতের অমিল কিংবা জীবনের লক্ষ্য আলাদা হয়ে যাওয়া। বিচ্ছেদের পর অনেকেই পুরোনো ঘটনা বারবার মনে করেন। কখনো মনে জমে থাকে না বলা কথা, কখনো বা উত্তর না পাওয়া প্রশ্ন। এসব স্মৃতি ও ক্ষোভ দীর্ঘদিন বয়ে বেড়ালে তা ব্যক্তির মানসিক স্বস্তি এবং নতুন সম্পর্কের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। প্রাক্তনকে ক্ষমা করার দিনটি সেই অনুভূতিগুলো নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করে। অতীতের অভিজ্ঞতাকে অস্বীকার না করে তা মেনে নেওয়া এবং ধীরে ধীরে কষ্ট থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য। ক্ষমা করার অর্থ অন্যায়কে সমর্থন করা নয়; বরং সেই অন্যায়ের স্মৃতি যেন বর্তমান জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, সেই চেষ্টা। তবে ক্ষমা করার সিদ্ধান্ত একান্তই ব্যক্তিগত। কেউ দ্রুত অতীতকে মেনে নিতে পারেন, আবার কারও প্রয়োজন হয় দীর্ঘ সময়। কাউকে জোর করে ক্ষমা করতে বলা কিংবা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সব কষ্ট ভুলে যাওয়ার প্রত্যাশা করা এই দিবসের মূল ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সাধারণত দু‘জনের মধ্যে যখন সম্পর্ক গড়ে ওঠে শুরুতে সেই সম্পর্ক আবেগে ভরপুর থাকে। হয়তো কিছুদিন বা দীর্ঘদিন পর সেই সম্পর্কে ফাটল ধরে। এটা অনেক স্বাভাবিকভাবে নিতে পারেন না। পুরোনো স্মৃতিগুলো বার বার তাকে আঘাত করে। এই ভাঙনের ব্যথা অনেকেরে ক্ষেত্রে খুবই দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। তাই প্রাক্তনকে ক্ষমা করা অন্তত তাদের জন্য সহজ কাজ নয়। কিন্তু, ক্ষমা একটি মহৎ গুণ। তাই সবকিছু ভুলে গিয়ে তাকে ক্ষমা করে দেওয়ার মতো মহান কাজ আর দ্বিতীয়টি হতে পারে না। 
মশিউর অর্ণব
বিয়ের আগের দিন বরের মৃত্যু, শোকের মাতম
রাত পোহালেই শুক্রবার বিয়ে। বৌ-ভাত পরদিন। কনের বাড়িতে বর বরণের সাজসজ্জা করতে ব্যস্ত সবাই। আলোকসজ্জায় সজ্জিত গেইট, সাজানো হয়েছে বাড়িঘরও। বরের বাড়ি জুড়েও বিয়ের আনন্দ আর সাজ সাজ রব। বিয়েকে ঘিরে কনে ও বরের বাড়িতে যখন সবাই উৎসব আর আনন্দে মাতোয়ারা ঠিক সেই সময়ে এল নিদারুণ এক খবর বর আর নেই; মুহূর্তেই আনন্দ রূপ নিল বিষাদে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকালে কনের বাড়িতে খবর এল হবু বর মো. আরিফ শাহরিয়ার সৌমিক মারা গেছেন। মুহূর্তেই বর ও কনের বাড়িতে নেমে এল ঘোর অন্ধকার। বর্ণিল উৎসব পরিণত হল শোকের মাতমে। স্বজন, প্রতিবেশী ও শুভাকাঙ্খীরা হয়ে পড়লেন শোকে স্তব্ধ। ২১ বছর বয়সি সৌমিককে এদিন অসুস্থ অবস্থায় গাইবান্ধা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তার একমাত্র বোন শারমিন সুলতানা বলেন, সৌমিক ঢাকা থেকে প্রায় এক মাস আগে বাড়িতে এসেছে। গত চার দিন আগে জ্বর হয়েছিল। শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকলে এদিন সকাল ৯টার দিকে তাকে প্রথমে জেলা সদর হাসপাতালের বিপরীতে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানে এক চিকিৎসককে দেখিয়ে ওষুধপত্রসহ তারা সৌমিককে নিয়ে বাড়ি আসেন। পরে বিকালে সৌমিক আরও বেশি অসুস্থ হলে তাকে বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সৌমিক সম্প্রতি নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি থেকে প্রকৌশল বিষয়ে স্নাতক পাস করেন। হবু কনের বাড়িরও একই পাড়ায়।
বিয়ের আগের দিন বরের মৃত্যু, শোকের মাতম
দেশে শীত নামবে কবে, যা জানাল আবহাওয়া অফিস
বাংলা পঞ্জিকায় এখন চলছে আশ্বীন মাস। সাধারণত পৌষ আর মাঘ মাস জুড়ে শীতের তীব্রতা দেখা দিলেও এরইমধ্যে পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁওসহ উত্তরের কয়েকটি জেলায় শীতের আগমনী হাওয়া বইছে। সেইসঙ্গে ঢাকায়ও উত্তর দিক থেকে বাতাস বইতে শুরু করেছে, যা আবহাওয়া শীতল হওয়ার পূর্বাভাস দিচ্ছে। তবে শীতের পুরেপুরি আমেজ শুরু হতে এখনো এক মাসেরও বেশি সময় বাকি। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের (বিএমডি) আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক জানিয়েছেন, নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে ঢাকাসহ দেশের বেশিরভাগ এলাকায় শীতের আমেজ শুরু হয়ে যেতে পারে।    গত চার-পাঁচ বছরের আবহাওয়ার ধরন বিশ্লেষণ করে তিনি জানান, এবার ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত শীতের প্রভাব থাকতে পারে। এ সময় রাজধানী ঢাকার তাপমাত্রা ১১ থেকে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এই আবহাওয়াবিদ বলেন, দেশের উত্তর-পূর্ব ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই শীতের আগমন ঘটতে পারে। তবে ওই মাসের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে দেশের অধিকাংশ এলাকায় শীতের আমেজ অনুভূত হতে পারে।  ডিসেম্বর থেকে শীতের প্রকোপ বাড়বে এবং জানুয়ারি মাসে শীতের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি থাকতে পারে।    আর ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ের পর থেকে দিনের তাপমাত্রা আবারও বাড়ার কথা জানান নাজমুল হক। গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৯ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সেখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অন্যদিকে, মঙ্গলবার রাজধানী ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় উত্তর দিক থেকে বাতাস বইতে শুরু করলেও ঘনবসতি ও নগরায়ণের কারণে শীতের অনুভূতি স্পষ্ট হতে নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
দেশে শীত নামবে কবে, যা জানাল আবহাওয়া অফিস
লম্বা ঘুম দিয়ে ওঠার পরও ক্লান্ত লাগছে? যেসব অভ্যাস পরিবর্তন জরুরি
রাতে দীর্ঘ সময় ঘুমানোর পরও মাঝেমধ্যে শরীর অসুস্থ বা ভারী লাগাটা স্বাভাবিক। তবে দিনের পর দিন যদি সকালে ঘুম থেকে উঠে ক্লান্ত লাগে তাহলে তা চিন্তার বিষয়। সে ক্ষেত্রে দৈনন্দিন জীবনের কিছু অভ্যাস পরিবর্তন জরুরি। যেমন- ১. রাত জেগে শুয়ে শুয়ে অনেকেরই মোবাইলে রিলস দেখার অভ্যাস রয়েছে। কেউ কেউ ফোন গেম খেলে সময় কাটান। রাত জেগে এভাবে রিল, শর্ট ভিডিও বা গেম খেললে ঘুমের সমস্যা হয়। ফোনের উজ্জ্বল আলো মস্তিষ্ককে সজাগ রাখে ও ঘুম আসতে বাধা দেয়। ফলে ৮ ঘন্টা ঘুমালেও সেই ঘুম হালকা ও গভীর না হওয়ার ফলে সকালে ক্লান্ত লাগে।  ২. সকালের নাশতা না করা বা দেরিতে দুপুরে খাবার খাওয়ার ফলে রক্তের শর্করা কমে যায়, যা ক্লান্তি ও মাথাব্যথার কারণ হয়। মিষ্টি না স্ন্যাক্স সাময়িক শক্তি দিলেও পরে তা চলে যায়। প্রোটিনযুক্ত সুষম খাবার শক্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে। ৩. কম পানি খেলেও আপনাকে অলস, ঘুম ঘুম ভাব ও অমনোযোগী করে তুলতে পারে। এসি রুমে বসার কারণে অনেকেই পানি কম খান। এতে শরীরে পানির ঘাটতি হয়। পানিশূন্যতা পূরণে পানি ছাড়াও লেবুর পানি, ডাবের পানি বা ঘোল খেতে পারেন।  ৪. সারাদিন একটানা চেয়ারে বসে কাজ করা সামান্য পরিশ্রমের চেয়েও বেশি ক্লান্তিকর হতে পারে। দীর্ঘক্ষণ শরীর স্থির থাকলে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যায় ও পেশি শক্ত হয়ে যায়। তাই প্রতি ঘন্টায় উঠে হাঁটা ও দাঁড়ানো জরুরি।  ৫. কফি বা চা তাৎক্ষণিকভাবে শক্তি দিলে অতিরিক্ত ক্যাফেইন ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। বিশেষ করে বিকেলের পর ক্যাফেইন শরীরে গলে ক্লান্ত বোধ হয়। সেক্ষেত্রে হারবাল চা খেতে পারেন।  এই অভ্যাসগুলো বদলানোর পরেও যদি সপ্তাহের পর সপ্তাহ ক্লান্তি না কমে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
মশিউর অর্ণব
X