ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

পরিকল্পিত অপপ্রচার চালিয়ে আমাকে হেয় করার চেষ্টা চলছে: এডিসি শামীম

অনলাইন ডেস্ক

  ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬:৫৯ পিএম

ভুল, অসত্য ও মনগড়া তথ্যের ভিত্তিতে ভূমি অধিগ্রহণসহ বিভিন্ন অভিযোগে নিজের সম্মানহানি ও সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মো. শামীম হুসাইন।

বুলেটিন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতি ও এর সঙ্গে প্রেরিত নথিপত্রে তিনি দাবি করেন, সম্প্রতি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে ছয়টি অভিযোগ আনা হলেও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে এসব অভিযোগের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ নেই।

ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এই এডিসি বলেন, সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে ‘শামীম-কেশবদের ঘুষের হাট’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। তবে এ প্রতিবেদনে ভিত্তিহীন ও মনগড়া তথ্য দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রতিবেদনে মোট ছয়টি অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম অভিযোগে জোয়ার সাহারা মৌজার ০৮/২৩-২৪ নং ভূমি অধিগ্রহণের মামলায় অনিয়মের কথা বলা হয়েছে। তবে নথি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, গত ২৫ মে ২০২৫ তারিখে ঢাকার তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মো. বদরুদ্দোজা শুভ জমির মালিক মো. আব্দুল মান্নানকে এই ক্ষতিপূরণ দেন। যার চেক নং- ১০৯১৪১৮। যেখানে আমি দায়িত্বে ছিলাম না; সেখানে আমার নামে এমন অবান্তর অভিযোগ আনায় স্পষ্ট প্রমাণিত হয়, আমাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একটি চক্র সম্মানহানি করার চেষ্টা করছে।

শামীম হুসাইন বলেন, আমার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় অভিযোগ আনা হয়েছে আবদুল্লাহপুর মৌজার ভূমি অধিগ্রহণ ১৮/২৩-২৪ নং মামলার বিষয়ে। অবাক করা বিষয় হচ্ছে, গত ৩ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে এই এল.এ কেসের ক্ষতিপূরণ চেকের অ্যাডভাইস প্রদান করেন ঢাকার তৎকালীন কর্মকর্তা৷ তবে নথিপত্র যাচাই করে দেখা গেছে- তিনিও সকল নিয়ম মেনেই এ ক্ষতিপূরণ দিয়েছেন। ফলে যেখানে আমি দায়িত্বেই ছিলাম না, সেখানে আমার নামে এ অভিযোগ এনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাকে হেয় করার চেষ্টা করা হয়েছে।

ঢাকার এই অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এল.এ) বলেন, তৃতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে, নড়াইবাগ মৌজার ০৪/২২-২৩ নং ভূমি অধিগ্রহণ মামলায় মূল মালিক বাদ দিয়ে তার ভাই জসিমকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অবাক করা বিষয় হচ্ছে, এ সময়েও আমি এল.এ শাখার দায়িত্বে ছিলাম না। তবে তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলে এবং সকল নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ক্ষতিপূরণ পাওয়া জসিমউদ্দিন আহমেদের অপর সকল ভাই ও বোনেরা ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে এই ক্ষতিপূরণ দাবি না করে তাদের ভাই জসিমউদ্দিন আহমেদের অনুকূলে এই চেক হস্তান্তরের অনুরোধ জানিয়েছেন। এমন একটি দালিলিক বিষয় এবং যেখানে আমার ন্যূনতম সংশ্লিষ্টতা নেই, সেখানে আমাকে জড়িয়ে সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার অপচেষ্টা করা হয়েছে।

শামীম হুসাইন বলেন, সংবাদের চার নম্বর অভিযোগে রানাভোলা মৌজার ১৩/১৮-১৯ নং ভূমি অধিগ্রহণের একটি মামলায় অনিয়মের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু প্রকৃত চিত্র হচ্ছে, গত ২৭ আগস্ট ২০২৫ তারিখে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে শীর্ষক প্রকল্পের ওই ক্ষতিপূরণ প্রদান করেন তৎকালীন ঢাকার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মোছা. ফুয়ারা খাতুন। এ বিষয়েও আমার ন্যূনতম সংশ্লিষ্টতা না থাকলেও আমাকে জড়ানো হয়েছে তথ্য যাচাই না করেই।

তিনি আরও বলেন, এছাড়া পাঁচ ও ছয় নম্বর অভিযোগে ঘোপ দক্ষিণ এবং কামার ঘোপ মৌজার দুটি ভূমি অধিগ্রহণ মামলায় জমি ও অবকাঠামোর ক্ষতিপূরণের টাকা প্রদানের বিষয়ে পাট মন্ত্রণালয়ের কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ আনা হয়েছে। কিন্তু এখানেও আমি দায়িত্বে ছিলাম না। তবে নথিপত্র যাচাই করে দেখা গেছে, এ ঘটনায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ এবং ২৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে দুটি পৃথক চিঠিতে পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়েই এ ক্ষতিপূরণ দেন৷ এমন অপ্রাসঙ্গিক ও ভিত্তিহীন তথ্য দিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এখানেও আমাকে হেয় করার চেষ্টা করা হয়েছে।

শামীম হুসাইন আরও বলেন, আমি ২০২৬ সালের ১৭ জুন এল.এ শাখায় যোগদান করি। কিন্তু ছয়টি ঘটনার সঙ্গেই ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে। আমার যোগদানের আগের সময়ের অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিষয়ে কোনো রকম যাচাই ছাড়াই আমাকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।

এছাড়াও প্রতিবেদনে দুদকের মামলার কথা বলা হয়েছে; কিন্তু আমার বিরুদ্ধে কখনোই দুদকের মামলা হয়নি। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, ২০২০ সালের ১০ মার্চ স্পেশাল মামলা নং- ০০৬/২০২০-এ আমাকে ২৪ নম্বর আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে নথিপত্রে এই মামলায় মোট আসামি ৩ জন। এদের মধ্যে আমার সংশ্লিষ্টতা নেই। দুদক এই তদন্ত গ্রহণও করেনি।


এছাড়া কক্সবাজারে বাঁকখালী নদীর উত্তরপাড় থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে দক্ষিণপাড়ে বেশি মূল্যের জমিতে প্রকল্পের জমি নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু সকল নথিপত্রে দেখা গেছে, সেখানেও ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে। তৎকালীন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুল মালেকের নির্দেশেই এই জায়গা স্থানান্তর হয়। যদিও ফিজিবিলিটি স্টাডি অনুযায়ীই এই সুপারিশ করেন প্রকল্প পরিচালক।


এর বাইরে ৫২/১৯৮৬ রিসিভারকৃত জমি ব্যক্তির নামে দেখানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। কিন্তু প্রকৃত তথ্য হচ্ছে, এ বিষয়ে আদালতের ডিক্রি জারি ছিল এবং রিসিভার মামলা ছিল না। ফলে এখানেও ভুল ও মনগড়া তথ্য দেওয়া হয়েছে।

গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে আরো দায়িত্বশীল হতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটু ভুল তথ্য মানুষের মনে নানা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে৷ ফলে সকল তথ্য যাচাই-বাছাই করে সংবাদ প্রকাশ করা উচিত৷

পিএসসি থেকে সরে দাঁড়ালেন দুই সদস্য
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) দুই সদস্য ড. মো. মহিউদ্দিন ও অধ্যাপক এম সোহেল রহমান পদত্যাগ করেছেন। রাষ্ট্রপতির কাছে তাঁদের পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর আজ রোববার তা আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়েছে বলে জানা গেছে। পদত্যাগপত্রে দুই সদস্যই ব্যক্তিগত কারণ উল্লেখ করেছেন। রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, রোববার (১৮ অক্টোবর) রাষ্ট্রপতি তাঁদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন। জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ড. মো. মহিউদ্দিন রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন এবং শনিবার (১৭ অক্টোবর) পদত্যাগপত্র জমা দেন আরেক সদস্য ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোহেল রহমান। দুই সদস্যের বিদায়ের পর ২০ সদস্যের পিএসসিতে বর্তমান সদস্যসংখ্যা কমে ১৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এর আগে গত আগস্ট মাসে সংস্থাটির তৎকালীন চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেমও ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে দায়িত্ব ছেড়েছিলেন। নতুন করে দুই সদস্য সরে দাঁড়ানোর পর আরও কয়েকজন সদস্য পদত্যাগ করতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।
পিএসসি থেকে সরে দাঁড়ালেন দুই সদস্য
অমর একুশে বইমেলা শুরু ৭ জানুয়ারি
২০২৭ সালের অমর একুশে বইমেলা শুরু হবে আগামী ৭ জানুয়ারি। এটি চলবে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। রবিবার (১৮ অক্টোবর) বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৩ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টায় বাংলা একাডেমির শহিদ মুনীর চৌধুরী সভাকক্ষে অমর একুশে বইমেলা ২০২৭ আয়োজন বিষয়ে প্রকাশক-প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক মত-বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী সভাপতিত্ব করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান ও মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন বেগম। এতে আরও বলা হয়, সভায় প্রকাশক-প্রতিনিধিদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে আগামী ৭ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অমর একুশে বইমেলার সময় নির্ধারিত হয়।
অমর একুশে বইমেলা শুরু ৭ জানুয়ারি
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ জনের মৃত্যু, চলতি বছরে প্রাণহানি ১১৯৬
দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর হামের উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯২ জনে। একই সময়ে নিশ্চিত হামে মারা গেছেন আরও ১০৪ জন। সব মিলিয়ে চলতি বছরে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৯৬ জনে। রোববার (১৮ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর পাশাপাশি নিশ্চিত হামে মৃত্যুর ঘটনাও জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগ তৈরি করছে। চলতি বছরে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্কতা ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বুলেটিনে বলা হয়, শনিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগে ৩ জন, সিলেট বিভাগে ২ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১ জন এবং খুলনা বিভাগে ১ জন মারা গেছেন। এ সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ৩১৯ জন রোগী এসেছে। বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে ৫৩৮ জন, রাজশাহীতে ৩৭, সিলেটে ১২৩ , চট্টগ্রামে ২২১ জন, বরিশালে ২০৫, ময়মনসিংহে ৭৩, খুলনায় ৭৫, এবং রংপুরে ৪৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৮৯ হাজার ৪৮৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৮১ হাজার ৭৫৬ জন চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে সন্দেহজনক হামের রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৩ হাজার ২৪৪ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছেন ২৩ হাজার ১২২ জন।
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ জনের মৃত্যু, চলতি বছরে প্রাণহানি ১১৯৬
ডেঙ্গুতে এক দিনে আরও ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজার ৮৮
দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ উদ্বেগজনকভাবে অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত ২ হাজার ৮৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। রোববার (১৮ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪৮ জনে। এর মধ্যে শুধু অক্টোবরের প্রথম ১৭ দিনেই ১০৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর চলতি বছরের মাসভিত্তিক হিসাবে সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়। এ ছাড়া আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন এবং মে মাসে একজন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে। বছরের শুরুতে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি—প্রতি মাসে দুজন করে ডেঙ্গুতে মারা যান। বুলেটিনে বলা হয়, শনিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২ হাজার ৮৮ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২ হাজার ৪০০ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ হাজার ৮২৭ জন। এ পর্যন্ত মোট ৯৮ হাজার ৮৯৯ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে ১ হাজার ৫৮ জন। এছাড়া চট্টগ্রামে ১৬১ জন, খুলনায় ২৯০ জন, বরিশালে ১৯৯ জন, রাজশাহীতে ২০০ জন, ময়মনসিংহে ৯৩ জন এবং রংপুরে ৭২ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের প্রথম ১৭ দিনেই ডেঙ্গুতে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে গত ২৪ ঘণ্টায় দুই হাজারের বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
ডেঙ্গুতে এক দিনে আরও ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজার ৮৮
বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান আব্দুল হান্নান কাতারে গ্রেপ্তার
অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং অর্থ পাচারের অভিযোগে দুদকের দুই মামলার আসামি বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নান কাতারে গ্রেপ্তার হয়েছেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম রোববার আমার দেশকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। গত ১৫ অক্টোবর তাকে গ্রেফতার করে কাতার পুলিশ। ইন্টারপোল মেইলের মাধ্যমে দুদককে এ বিষয়ে নিশ্চিত করেছে। শেখ আব্দুল হান্নান ও তার স্ত্রী তাহমিদা বেগমের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে দুটি মামলা করে দুদক। দুদকের উপপরিচালক মো. তানজির হাসিব সরকার বাদী হয়ে সংস্থাটির সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১-এ মামলা দুটি দায়ের করেন। সেদিন দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, শেখ আব্দুল হান্নান জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ৩ কোটি ২৮ লাখ ৫১ হাজার ৫০৬ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন বলে অনুসন্ধানে তথ্য পাওয়া গেছে। পাশাপাশি তার নামে থাকা ছয়টি ব্যাংক হিসাবে ২৭ কোটি ৬৩ লাখ ৬৬ হাজার ৭০০ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ আনা হয়। দুদকের অভিযোগ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধমূলক অসদাচরণের মাধ্যমে এসব সম্পদ অর্জন করেছেন সাবেক এই বিমান বাহিনী প্রধান। সন্দেহজনক ব্যাংক লেনদেনের মাধ্যমে তিনি অর্থের উৎস গোপন করেছেন বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করা হয়। অপর মামলায় হান্নানের স্ত্রী তাহমিদা বেগমের বিরুদ্ধে ১ কোটি ৯১ লাখ ৯০ হাজার ৩০৪ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়। এ ছাড়া তার নামে থাকা ৩২টি ব্যাংক হিসাবে ১ কোটি ১৮ লাখ ১৯ হাজার ৯২৩ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়ার কথা জানায় দুদক। মামলায় অভিযোগ করা হয়, স্বামীর সহায়তায় তাহমিদা এসব সম্পদ অর্জন করেছেন। ওই মামলায় তাহমিদার পাশাপাশি শেখ আব্দুল হান্নানকেও আসামি করা হয়। দুদকের অনুসন্ধানে কাতার, দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে হান্নানের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সম্পদের তথ্য পাওয়ার কথাও জানানো হয়েছিল। এ ছাড়া কানাডায় তার সন্তানদের নামে বিপুল সম্পদের তথ্য পাওয়ার দাবি করে সংস্থাটি। এসব সম্পদের বিস্তারিত তথ্য মামলার তদন্তে যাচাই করা হবে বলে সে সময় জানানো হয়। দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের মধ্যেই ২০২৫ সালের ৫ মে হান্নান, তার স্ত্রী তাহমিদা বেগম ও ছেলে শেখ লাবিব হান্নানের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেয় আদালত। পরদিন দুদকের আবেদনে হান্নানের জমি, বাড়ি ও তিনটি ফ্ল্যাট জব্দের আদেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি তার ছয়টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দেয় আদালত। একই বছরের ২৪ মে হান্নান, তার স্ত্রী ও ছেলের নামে থাকা মোট ৩৮টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দেওয়া হয়। এরপর ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর হান্নানের সহযোগী সানজিদা আক্তারের নামে থাকা দুটি ফ্ল্যাট জব্দ এবং ১০টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দেয় আদালত। দুদকের আবেদনে অভিযোগ করা হয়, অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ গোপন করতে সানজিদার নামে ফ্ল্যাট দুটি কিনেছিলেন হান্নান। চলতি বছরের ৩০ মার্চ হান্নান ও তার স্ত্রী তাহমিদার আয়কর নথি জব্দের আদেশ দেয় আদালত। মামলার তদন্তের প্রয়োজনে দুদকের পৃথক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেওয়া হয়। সর্বশেষ ২০ সেপ্টেম্বর হান্নানের নামে বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় থাকা ৩৪ শতাংশ জমি ক্রোকের আদেশ দেয় আদালত। জমিটির দলিলমূল্য ১৭ লাখ ৬৪ হাজার টাকা বলে দুদকের আবেদনে উল্লেখ করা হয়। শেখ হাসিনা সরকারের সময় ২০২১ সালের ১২ জুন বিমান বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন শেখ আব্দুল হান্নান। ২০২৪ সালের ১১ জুন তিনি অবসরে যান।
বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান আব্দুল হান্নান কাতারে গ্রেপ্তার
আরও পড়ুন
গত ৯ মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে ‘৪১০ অপতথ্য’
পদচ্যুতির পরও বিএডিসি প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব হস্তান্তরে গড়িমসির অভিযোগ
X