
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে এ যাবৎকালের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহিদ ও আহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো সবার নৈতিক দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, এমপি।
তিনি বলেন, শহিদদের মহান আত্মত্যাগ ও তাঁদের মূল্যবোধ ধারণ করে একটি সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন দেশ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের শহিদ ফারহান ফাইয়াজ খেলার মাঠে শহিদ ফারহান ফাইয়াজের ১৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া ও প্রীতি ফুটবল ম্যাচে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, গত ১৫ বছর ধরে জনগণের নিরন্তর ও আপসহীন সংগ্রামের মধ্য দিয়েই আজকের বাংলাদেশ অর্জিত হয়েছে। এর ফলে মানুষ মুক্ত ও গণতান্ত্রিক পরিবেশে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার বৈষম্যহীন, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ করছে। এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে মানুষের মর্যাদা, ন্যায়বিচার ও সুশাসন নিশ্চিত থাকবে।
অনুষ্ঠানে শহিদ ফারহান ফাইয়াজের বাবা-মা সন্তানের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তাঁদের বক্তব্যের সময় অনুষ্ঠানস্থলে এক হৃদয়স্পর্শী ও নিস্তব্ধ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
পরে শহিদ ফারহান ফাইয়াজের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত ও শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে কেক কেটে এতিম শিশুদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।
এদিকে শহিদ ফারহান ফাইয়াজ খেলার মাঠে ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ‘লাল’ ও ‘সবুজ’ দলের মধ্যে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। খেলায় ‘লাল’ দল বিজয়ী হয়। ম্যাচ শেষে বিজয়ী দলের খেলোয়াড়দের হাতে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি তুলে দেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী এবং শহিদ ফারহান ফাইয়াজের বাবা-মা।
উল্লেখ্য, শহিদ ফারহান ফাইয়াজ (মোহাম্মদ ফারহানুল ইসলাম ভূঁইয়া) ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০০৭ সালের ১২ সেপ্টেম্বর জন্ম নেওয়া এই তরুণ গবেষণামূলক কাজের প্রতি আগ্রহী ছিলেন এবং উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখতেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দাবিতে উদ্বুদ্ধ হয়ে ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই সহপাঠীদের সঙ্গে ধানমন্ডি এলাকায় রাজপথে নামেন তিনি। সেখানে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর সংঘটিত পুলিশের হামলায় সরাসরি বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন ফারহান ফাইয়াজ। পরে সহপাঠীরা তাঁকে ধানমন্ডির সিটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
অনুষ্ঠানে সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব, জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. তরিকুল আলম, শহিদ ফারহান ফাইয়াজের বাবা আলহাজ্ব শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া, মা ফারহানা দিবাসহ পরিবারের সদস্য, ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. তরিকুল আলম।




