
সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের লাল টেলিফোনের সংযোগের তার চুরির ঘটনায় প্রায় তিন মাস ধরে তদন্ত করেছে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)। তদন্ত শেষে এ ঘটনায় তিনজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গুরুত্বপূর্ণ ওই টেলিফোনের তার কেটে নেওয়ার ঘটনায় অন্য কোনো উদ্দেশ্য বা সন্দেহজনক তথ্য পাওয়া যায়নি। জিজ্ঞাসাবাদ, তথ্য-প্রমাণ ও আলামত বিশ্লেষণ করে এটিকে চুরির ঘটনা হিসেবেই নিশ্চিত হওয়া গেছে।
অভিযুক্ত তিনজন হলেন- সচিবালয়ের আউটসোর্সিং কর্মী রঞ্জন চন্দ্র, ভাঙারি ব্যবসায়ী রিজাকুল ইসলাম ও মো. মাহাবুব হাসান। তারা বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।
সিটিটিসির অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. মোর্শেদুল হাসান বলেন, যাবতীয় তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ঘটনাটি শুধু চুরির ঘটনা বলেই প্রতীয়মান হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত কোরবানির ঈদের ছুটির সময়। ২৫ মে থেকে সরকারি ছুটি শুরু হয়। সাত দিনের ছুটি শেষে ১ জুন অফিস খোলার পর সচিবালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরা দেখতে পান প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের সংযোগ নেই। পরে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) কর্মকর্তারা সংযোগটি পুনরুদ্ধার করেন।
এ ঘটনায় বিটিসিএলের কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাজিদ হায়দার ১ জুন শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে মামলা হলে রঞ্জন চন্দ্র ও ভাঙারি ব্যবসায়ী রিজাকুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চোরাই তার কেনার অভিযোগে মাহাবুব হাসানকে গ্রেফতার করা হয়।
তদন্তে জানা যায়, ধলেশ্বরী কোম্পানির অধীনে আউটসোর্সিং কর্মী হিসেবে সচিবালয়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর দায়িত্ব পালন করতেন রঞ্জন চন্দ্র। দৈনিক ২০০ টাকা মজুরিতে কাজ করা রঞ্জন গত ২২ মে সকালে সচিবালয়ের ৩ নম্বর ভবনের ছাদ পরিষ্কার করার সময় এন্ট্রি কাটার ব্লেড দিয়ে টেলিফোনের তামার তার কেটে নেন।
সচিবালয়ের পুরোনো এক নম্বর ভবন থেকে নতুন এক নম্বর ভবন পর্যন্ত ওই টেলিযোগাযোগের কপার কেবল ছিল। এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের লাল টেলিফোনসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন টেলিফোন সংযোগ সচল রাখা হয়েছিল।
ঈদের ছুটি শেষে রঞ্জন ওই তার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একুশে হলের সামনের মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্স নামের ভাঙারির দোকানে প্রতি কেজি ৮০০ টাকা দরে বিক্রি করেন। সেখান থেকে ৮ কেজি ২০০ গ্রাম তামা উদ্ধার করা হয়। পরে মাহাবুব হাসানের কাছ থেকে আরও ৪ কেজি ২০০ গ্রাম চোরাই তার জব্দ করা হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ছাদে অনেক লম্বা তার প্যাঁচানো অবস্থায় সচল ছিল। মূল্যবান তামার তার দেখে রঞ্জন চুরি করেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি এর আগেও ছোটখাটো মালামাল চুরির কথা স্বীকার করেছেন। তবে ওই তার এত গুরুত্বপূর্ণ একটি সংযোগের অংশ ছিল, তা তিনি জানতেন না বলে তদন্তে জানা গেছে।




