
দেশীয় মাছ সংরক্ষণ ও উৎপাদন বাড়াতে সরকার সারাদেশে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা লেকে মৎস্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের আওতায় ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের জলাশয়ে পোনামাছ অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা জানান।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে কিশোরগঞ্জ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় মাছের পোনা অবমুক্ত করা হচ্ছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য, জনপ্রতিনিধি ও মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, মাছের উৎপাদন বাড়ানো এবং দেশীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ করে টিকিয়ে রাখাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। জনসংখ্যা বাড়লেও বর্তমানে দেশে মাছের উল্লেখযোগ্য কোনো ঘাটতি নেই। বিশেষ করে মিঠাপানির মাছের উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই সঙ্গে মাছ চাষির সংখ্যাও বাড়ছে এবং চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন বাড়ানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
প্রান্তিক পর্যায়ের মাছচাষিদের উৎসাহিত করতে সরকার বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দিচ্ছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মৎস্য খামারিরা কৃষক কার্ডের আওতায় বিভিন্ন সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি সহজ শর্তে ঋণ ও বিভিন্ন প্রণোদনা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে মাছের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য রয়েছে।
নিরাপদ মাছ উৎপাদনে খাদ্য ও অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার বন্ধে খামারিদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। মাঠপর্যায়ের মৎস্য কর্মকর্তারা আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মাছ চাষের বিষয়ে খামারিদের সহযোগিতা করছেন। এতে উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি অপচয় ও উৎপাদন ব্যয় কমানো সম্ভব হচ্ছে।
মানসম্মত মাছের খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকারের নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। নিম্নমানের ফিড উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ ঠেকাতে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। খামারিরা যাতে মানহীন খাদ্য ব্যবহার না করেন এবং ভোক্তারা নিরাপদ মাছ পান, সে লক্ষ্যে তদারকি অব্যাহত রয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক, বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক ডা. মো. শাহিনুর আলম, মৎস্য অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগের পরিচালক মো. আহসান হাসিব খান, কেন্দ্রীয় মুরগি খামারের পরিচালক জিনাত সুলতানা, চিড়িয়াখানার কিউরেটর মো. হাবিবুর রহমান, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. রোকনুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ঢাকা জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের বাস্তবায়নে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা লেকে মোট ২৫০ কেজি পোনামাছ অবমুক্ত করা হয়। এর মধ্যে ১০০ কেজি রুই, ৭৫ কেজি কাতলা ও ৭৫ কেজি কালিবাউস রয়েছে। প্রতিটি পোনামাছের আকার ছিল ১০ থেকে ১৫ সেন্টিমিটার।
মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, অবমুক্ত করা পোনামাছের সংখ্যা প্রায় ২ হাজার ৫৭৫টি। এর মধ্যে রুই প্রায় ১ হাজার ১০০টি, কাতলা প্রায় ৬০০টি এবং কালিবাউস প্রায় ৮৭৫টি।
সরকারের এ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশীয় মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।




