ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

দেশে ৪৩ মাসে ‘নিখোঁজ’ ৭২ হাজার শিশু

অনলাইন ডেস্ক

  ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬:৪১ পিএম

কুমিল্লায় নিখোঁজের পরদিন গত শনিবার মরদেহ পাওয়া গেছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের ১৩ বছরের সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের। একই দিন সুনামগঞ্জে অচেতন বাবার পাশ থেকে তিন ভাই-বোনের মরদেহ এবং মানিকগঞ্জে মা-বাবার মরদেহের পাশ থেকে দেড় বছরের আলিজা নূরের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনা পৃথক হলেও এই পাঁচ শিশুই হয়েছে নৃশংসতা ও হত্যার শিকার।

বুলেটিন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

প্রায় প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও শিশুরা হত্যা, নৃশংসতার শিকার হচ্ছে। নিখোঁজ হচ্ছে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য বলছে, গত তিন বছর সাত মাসে (৪৩ মাস) ৭২ হাজার ৪৮৯ শিশুর নিখোঁজের ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। অবশ্য নিখোঁজ শিশুদের ৯০ শতাংশের বেশি উদ্ধার হয়েছে বলে দাবি পুলিশের। তবে তাদের কতজনকে জীবিত ও কতজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, সেই তথ্য আলাদাভাবে করা নেই পুলিশ সদর দপ্তরে।


বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) বলেছে, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে সারা দেশে ২৫৪ শিশু খুন হয়েছে। তাদের মধ্যে নিখোঁজের পর মরদেহ উদ্ধার হয়েছে ৩৬ শিশুর।

রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকা থেকে গত বৃহস্পতিবার নিখোঁজ হয়েছে হাবিবুল্লাহ নাঈম নামে ১২ বছরের এক শিশু। এ ঘটনায় তার মা থানায় জিডি করেছেন। তবে গতকাল রোববার রাত পর্যন্ত তার সন্ধান পায়নি পরিবার। তাদের বাড়ি নাটোরের নলডাঙ্গার নাটোর গ্রামে। বাবা বাবুল ইসলাম ও শরীফা খাতুনের সঙ্গে খিলক্ষেতের কুর্মিটোলা স্কুল রোড এলাকায় থাকত।

নিখোঁজ নাঈমের চাচা গোলাম হুসাইন বলেন, নাঈমের কাছে থাকা মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। ‎‎

খিলক্ষেত থানার ওসি মো. সোহরাব আল হোসাইন গতকাল বলেন, শিশুটিকে খুঁজে পেতে অভিযান চলছে।

৯ সেপ্টেম্বর সকালে গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানার গাজীপুরা কাজীপাড়ার সুমন মার্কেট এলাকা থেকে নিখোঁজ ৮ বছরের শিশু আলিফের খোঁজও পাওয়া যায়নি। নিখোঁজের ঘটনায় টঙ্গী পূর্ব থানায় জিডি হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সারা দেশে শূন্য থেকে নয় বছর বয়সী শিশু নিখোঁজের জিডি হয়েছে ৪৭৪টি। তাদের মধ্যে উদ্ধার হয়েছে ৪০৬ জন। ৬৮ জন উদ্ধার হয়নি। একই সময়ে ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু নিখোঁজের জিডি হয়েছে ১৫ হাজার ২৪৩ জন। তাদের মধ্যে উদ্ধার হয়েছে ১৩ হাজার ২৭৩ জন। উদ্ধার হয়নি ১ হাজার ৯৭০ জন। অর্থাৎ এ সময়ে শূন্য থেকে ১৭ বছর বয়সী মোট ১৫ হাজার ৭১৭ নিখোঁজ শিশুর মধ্যে উদ্ধার হয়নি ২ হাজার ৩৮ জন; যা মোট নিখোঁজের ১৩ শতাংশ।

পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০২৫ সালে সারা দেশে ২২ হাজার ৫৫০ জন, ২০২৪ সালে ১৬ হাজার ৪১৪ জন এবং ২০২৩ সালে ১৭ হাজার ৮০৮ জন শিশু নিখোঁজের জিডি হয়েছে। পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিবছর নিখোঁজের ৯০ শতাংশের বেশি শিশু উদ্ধার হয়।

শিশু নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তর বলেছে, শূন্য থেকে ৯ বছর বয়সী শিশুরা সাধারণত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অপরিচিত স্থানে ঘুরতে গিয়ে পথ ভুলে, পরিবারের সদস্যদের নাম-ঠিকানা বলতে না পারা এবং একাকী বাসায় ফিরতে গিয়ে অন্য স্থানে চলে যাওয়া ইত্যাদি কারণে নিখোঁজ হয়। ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সীরা অভিমান করে, পড়ালেখার চাপ, অনৈতিক কাজে জড়িয়ে লজ্জার ভয়ে পালিয়ে থাকা, স্বাধীন জীবনযাপনের আকাঙ্ক্ষা, পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে অর্থ বা অন্য কোনো সুবিধা আদায়ের কৌশল, পারিবারিক কলহ ও অশান্তি এবং বন্ধু বা সহপাঠীদের প্রভাব ইত্যাদি কারণে নিখোঁজ হয়।

তবে নিখোঁজ অনেক শিশুর পরিবারের অভিযোগ, নিখোঁজের পরপর থানার পুলিশকে বিষয়টি জানালেও তাদের তৎপরতা তাৎক্ষণিক শুরু হয় না। কখনো কখনো পুলিশ জিডি নিতেও অনীহা দেখায়। তারা আগে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে খুঁজতে বলে। এরপর না পাওয়া গেলে জিডি করার পরামর্শ দেয়।

চাঁদপুরের মতলব থেকে ৫ সেপ্টেম্বর মাদ্রাসাছাত্র সাবের ইসলাম শাফি (১০) মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয়। খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে দুদিন পর স্থানীয় থানায় শিশুটির বাবা সোহেল প্রধান জিডি করেন।

শাফির পোশাকশ্রমিক মা সাথী আক্তার গতকাল কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, ‘আমি থানায় গেলে পুলিশ কেবল বলে দেখতেছি। কিন্তু রাস্তার সিসি ক্যামেরা পর্যন্ত একবার দেখল না তারা। ১৫ দিনেও পুলিশ কিছু বলতে পারছে না।’

সাথী আক্তারের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ওই জিডির তদন্ত কর্মকর্তা ও মতলব থানার উপপরিদর্শক শুভজিৎ পল বলেন, ‘ছেলেটা রাগ করে হয়তো চলে গেছে, হয়তো লেখাপড়া ভালো লাগে না, তাই নিজে কোথাও পালিয়ে আছে। তার সঙ্গে মোবাইল নেই, তাই কোনো কিছু পাচ্ছি না।’

নিখোঁজ শিশুদের খুঁজে পেতে সহযোগিতা করছে মুন অ্যালার্ট নামে একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। তারা শিশুদের নিখোঁজের বিষয়ে অ্যাপস ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যালার্ট জারি করে। এই প্ল্যাটফর্মের উদ্যোক্তা জিরো মিসিং চিলড্রেন ফাউন্ডেশন। দুই বছর ধরে সংস্থাটি কাজ করছে।

ওই ফাউন্ডেশনের সভাপতি মো. সাদাত রহমান বলেন, নিখোঁজদের পরিবার থানায় গেলে জিডি করা নিয়ে একটি জটিলতা সৃষ্টি হয়। আবার জিডি হলেও দ্রুত খোঁজার কাজে বিলম্ব হয়। নিখোঁজের তিন ঘণ্টার মধ্যে শিশুটিকে উদ্ধার করা সহজ। ওই সময় পেরিয়ে গেলে বিষয়টি জটিল হয়। কিন্তু পুলিশ সাড়া দেয় বিলম্বে। কখনো কখনো থানা থেকে আগে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে খুঁজে এসে জিডি করতে বলা হয়। তিনি বলেন, নিখোঁজদের খুঁজে পেতে পুলিশের আলাদা সেল গঠন করতে হবে। যেন সঙ্গে সঙ্গে তারা কাজ শুরু করতে পারে। সেই লজিস্টিক সাপোর্টও তাদের থাকতে হবে।

মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পরিসংখ্যান বলছে, গত জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশে ২৫৪ শিশু খুন হয়েছে। এর মধ্যে নিখোঁজের পর ৩৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ২৪ শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। এ ছাড়া শারীরিক নির্যাতন করে হত্যা ৬৮ জনকে, গৃহে নির্যাতনের পর খুন ৪৯ জন, বিভিন্ন সময় মরদেহ উদ্ধার হয়েছে ২৩ জনের। এ ছাড়া ধর্ষণের চেষ্টা, আত্মহত্যা, গৃহকর্মীর কাজে গিয়ে খুন, শিক্ষকের নির্যাতনে নিহত, অপহরণের পর হত্যা এবং যৌন নির্যাতনের পর আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটছে।

মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন বলেন, নিখোঁজের পর পুলিশ তৎপর হলে এত নৃশংস ঘটনা ঘটত না। থানা-পুলিশ জিডি ও মামলা নিতে চায় না। কারণ, ঊর্ধ্বতনেরা এটাকে অপরাধ হিসেবে মূল্যায়ন করে। তাই অপরাধ কম দেখাতে এসব জিডি নিতে চায় না। নিখোঁজ শিশুদের উদ্ধারে পুলিশকে আন্তরিক হতে হবে। তিনি বলেন, নিখোঁজ হওয়া ঠেকানোর জন্য রাষ্ট্র, সমাজ ও পরিবারকে শিশুদের জন্য আস্থার জায়গা হতে হবে।

সূত্রঃ আজকের পত্রিকা

স্ত্রীকে দোতলা থেকে ফেলে দিয়ে নিজেও লাফ, বেঁচে ফেরা মাসুদের বর্ণনা
কক্সবাজারের উখিয়ায় পাটুয়ার টেক সৈকতে কাঠের ‘টুপটুপ রিসোর্টে’ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের হৃদয়বিদারক ঘটনায় একই পরিবারের ছয় সদস্যের প্রাণহানি ঘটেছে। এই মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি থেকে কোনোমতে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরেছেন পরিবারের তিনজন সদস্য- ইসমাইল রুহুল মাসুদ (৩৫), তার স্ত্রী মেহেরুন্নেসা মিনা (৩০) এবং তাদের ভাগ্নি জামাই আশিক। আহতদের মধ্যে মেহেরুন্নেসা মিনা বর্তমানে রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, আর তার স্বামী ইসমাইল রুহুল মাসুদ প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ আছেন। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ইনানীর পাটুয়ার টেক সৈকত এলাকার রিসোর্টটিতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আহত ইসমাইল রুহুল মাসুদ সীনহা গ্রুপের একজন মার্চেন্ডাইজার এবং তার স্ত্রী মেহেরুন্নেসা মিনা প্রিমিয়ার ব্যাংকে কর্মরত। তারা রাজধানীর উত্তরা এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। ঢামেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নেয়ার পর মাসুদ জানান, গত বুধবার তাদের পরিবারের ১০ জন সদস্য একসঙ্গে কক্সবাজার ঘুরতে গিয়েছিলেন। ঘটনার আগের দিন একজন সদস্য ঢাকায় ফিরে আসেন। শনিবার তাদের কক্সবাজার থেকে ঢাকায় ফেরার কথা ছিল। ঘটনার মুহূর্ত বর্ণনা করে মাসুদ বলেন, সকাল ৭টায় পরিবারের সকলের হোটেল থেকে বেড় হওয়ার কথা ছিল, তাই ফোনে অ্যালার্ম দেওয়া ছিল। অ্যালার্মের শব্দে আমাদের ঘুম ভেঙে যায়। অ্যালার্ম বন্ধ করে আবার শুতেই দুই-তিন মিনিটের মধ্যে পটমট শব্দ শুনতে পাই এবং চারিদিক ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। আমরা দ্রুত বিছানা থেকে উঠে দাঁড়াতেই রুমের দরজার দিকে চোখ যায়। তিনি আরও জানান, তার স্ত্রী মেহেরুন্নেসা ধোঁয়ার গন্ধ পেয়ে দরজার লক খুলতেই করিডোরে দাউদাউ করে জ্বলতে থাকা আগুনের প্রকাণ্ড গোলা ঘরের ভিতর ঢুকে পড়ে। করিডোর পুরোটাই তখন আগুনে প্লাবিত, ফলে অন্য রুমে থাকা পরিবারের বাকি সদস্যদের সতর্ক বা উদ্ধার করার কোনো সুযোগই তাদের ছিল না। আগুন রুমে ঢুকে পড়ার পর ঘরটি ধোঁয়ায় অন্ধ হয়ে যায়। রুমের বাইরে যাওয়ার একমাত্র উপায় ছিল সামনের একপাশের একটি মোটা ট্রান্সপারেন্ট (স্বচ্ছ) গ্লাস। বাঁচার আকুতিতে মাসুদ, তার স্ত্রী মিনা এবং তাদের ভাগ্নি জামাই আশিক ঘরের গ্লাসে সজোরে লাথি মারতে থাকেন। কিন্তু মোটা কাঁচের সেই গ্লাস ভাঙছিল না। একপর্যায়ে ঘরের কোণায় থাকা একটি কাঠের চেয়ার দিয়ে সজোরে গ্লাসে পরপর আঘাত করেন মাসুদ। চেয়ারটির পা ভেঙে গেলে, সেই ভাঙা পা দিয়ে তৃতীয়বারে সজোরে আঘাত করে অবশেষে গ্লাসটি ভাঙতে সক্ষম হন তারা। দ্বিতীয় তলা থেকে লাফ ও অলৌকিক আত্মরক্ষা রুমের ভেতর তখন আগুন ধরে গেছে এবং বিছানায় আগুন জ্বলছে। বিকল্প কোনো পথ না থাকায় মাসুদ তার স্ত্রীকে দ্বিতীয় তলার ভাঙা গ্লাস দিয়ে নিচে লাফ দেয়ার নির্দেশ দেন। ভয় পেয়ে স্ত্রী গ্লাস ধরে ঝুলে থাকলে মাসুদ তার হাত ছাড়িয়ে নিচে ফেলে দেন। এর পরপরই তিনি নিজে এবং তার পেছনে থাকা ভাগ্নি জামাই আশিক লাফিয়ে পড়েন। নিচে পড়ার সময় একটি কুল/বড়ই গাছের বাধার কারণে সরাসরি মাটিতে আঘাত পান মাসুদ। এতে তার কোমরে তীব্র চোট লাগে এবং তিনি আর সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারছিলেন না। অন্যদিকে তার স্ত্রীর পায়ের কিছু পরিমাণ অংশ গভীরভাবে কেটে গিয়ে প্রচুর রক্তক্ষরণ হতে থাকে। অগ্নিকাণ্ডের অসহ্য উত্তাপ থেকে বাঁচতে তারা কোনোমতে হামাগুড়ি দিয়ে পাশের একটি ধানখেতে গিয়ে আশ্রয় নেন। পরবর্তীতে সেখান থেকে তারা হোটেলের সামনে আসলে দেখতে পান ভেতর আটকে পড়া মানুষজন বাঁচাও-বাঁচাও বলে আকুতি করছেন। তাদের স্বজনরা তখন চিৎকার করে বলছিলেন, আমার ছেলে-মেয়েদের বাঁচান, একটু পানি দেন! এই ট্যুরের পেছনের এক বিষাদময় করুণ গল্প তুলে ধরে মাসুদ জানান, তাদের বড় বোনের মেয়ে ফারিয়া কবির ছিলেন একজন মায়োপ্যাথিক (প্যারালাইজড) রোগী। তিনি কখনও সমুদ্র দেখেননি। ফারিয়ার ইচ্ছা পূরণ করতেই পুরো পরিবার মিলে এই ট্যুরের আয়োজন করেছিল। মাসুদ আক্ষেপ করে বলেন, ফারিয়া বলেছিল সে তো একা কোথাও যেতে পারে না, সবাই মিলে একসঙ্গে গেলে সে সমুদ্র দেখতে পারবে। আমরা দুইবার ওকে কোলে করে এবং চেয়ারে বসিয়ে সমুদ্রের পাড়ে নিয়ে গেছি। ও পানির সাথে খেলা করেছে, ভীষণ আনন্দ পেয়েছে। আসার পথে চাঁদের গাড়িতে বসে সে বলেছিল, ‘আমি যদি এই সমুদ্রের পাড়ে সবসময় থাকতে পারতাম, খুব শান্তি লাগত।’ আজ সত্যিই সে চিরতরে সমুদ্রের পাড়েই রয়ে গেল। দুর্ঘটনার পর প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য তাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য শনিবার রাতে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়। ঢামেকে আসার পর ইসমাইল রুহুল মাসুদ প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ আছেন এবং তার স্ত্রী মেহেরুন্নেসা মিনাকে বার্ন ইউনিটে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে।
স্ত্রীকে দোতলা থেকে ফেলে দিয়ে নিজেও লাফ, বেঁচে ফেরা মাসুদের বর্ণনা
শেরেবাংলা নগরে সরছে সচিবালয়, মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে বাংলাদেশ সচিবালয় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ২০২৯ সালের মধ্যে সেখানে সচিবালয়ের কার্যক্রম চালুর লক্ষ্য নিয়ে শিগগির নির্মাণকাজ শুরু করা হবে। রোববার মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে পিআইডির সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, নতুন সচিবালয় কমপ্লেক্সে প্রায় ৩১ লাখ বর্গফুট আয়তনের ভবন নির্মাণ করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, পুরোনো বাণিজ্য মেলার এলাকায় তিনটি বেজমেন্টসহ ১৪টি ১২ তলা ভবন নির্মাণ করা হবে। সেখানে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ গাড়ি রাখার ব্যবস্থা, একটি মসজিদ ও ক্যাফেটেরিয়া থাকবে। পাশাপাশি আশপাশের সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আন্ডারপাস ও ভূগর্ভস্থ সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। সচিবালয় স্থানান্তরের সিদ্ধান্তের বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, রাজধানীর জন্য প্রণীত আগের মহাপরিকল্পনায় যে এলাকায় সচিবালয়ের জন্য জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছিল, নতুন কমপ্লেক্সটি সেই এলাকাতেই গড়ে তোলা হবে। এ জন্য প্রায় ৩১ একর জমি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, নতুন সচিবালয়ের নকশায় নান্দনিকতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। স্থানটির আগের পরিকল্পনার সঙ্গে নতুন উদ্যোগের কিছু মিল থাকলেও পুরো পরিকল্পনা এক নয়। তবে উভয়ের মধ্যে একটি যোগসূত্র রয়েছে।
শেরেবাংলা নগরে সরছে সচিবালয়, মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত
পিএসসি থেকে সরে দাঁড়ালেন দুই সদস্য
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) দুই সদস্য ড. মো. মহিউদ্দিন ও অধ্যাপক এম সোহেল রহমান পদত্যাগ করেছেন। রাষ্ট্রপতির কাছে তাঁদের পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর আজ রোববার তা আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়েছে বলে জানা গেছে। পদত্যাগপত্রে দুই সদস্যই ব্যক্তিগত কারণ উল্লেখ করেছেন। রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, রোববার (১৮ অক্টোবর) রাষ্ট্রপতি তাঁদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন। জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ড. মো. মহিউদ্দিন রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন এবং শনিবার (১৭ অক্টোবর) পদত্যাগপত্র জমা দেন আরেক সদস্য ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোহেল রহমান। দুই সদস্যের বিদায়ের পর ২০ সদস্যের পিএসসিতে বর্তমান সদস্যসংখ্যা কমে ১৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এর আগে গত আগস্ট মাসে সংস্থাটির তৎকালীন চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেমও ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে দায়িত্ব ছেড়েছিলেন। নতুন করে দুই সদস্য সরে দাঁড়ানোর পর আরও কয়েকজন সদস্য পদত্যাগ করতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।
পিএসসি থেকে সরে দাঁড়ালেন দুই সদস্য
অমর একুশে বইমেলা শুরু ৭ জানুয়ারি
২০২৭ সালের অমর একুশে বইমেলা শুরু হবে আগামী ৭ জানুয়ারি। এটি চলবে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। রবিবার (১৮ অক্টোবর) বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৩ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টায় বাংলা একাডেমির শহিদ মুনীর চৌধুরী সভাকক্ষে অমর একুশে বইমেলা ২০২৭ আয়োজন বিষয়ে প্রকাশক-প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক মত-বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী সভাপতিত্ব করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান ও মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন বেগম। এতে আরও বলা হয়, সভায় প্রকাশক-প্রতিনিধিদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে আগামী ৭ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অমর একুশে বইমেলার সময় নির্ধারিত হয়।
অমর একুশে বইমেলা শুরু ৭ জানুয়ারি
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ জনের মৃত্যু, চলতি বছরে প্রাণহানি ১১৯৬
দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর হামের উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯২ জনে। একই সময়ে নিশ্চিত হামে মারা গেছেন আরও ১০৪ জন। সব মিলিয়ে চলতি বছরে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৯৬ জনে। রোববার (১৮ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর পাশাপাশি নিশ্চিত হামে মৃত্যুর ঘটনাও জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগ তৈরি করছে। চলতি বছরে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্কতা ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বুলেটিনে বলা হয়, শনিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগে ৩ জন, সিলেট বিভাগে ২ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১ জন এবং খুলনা বিভাগে ১ জন মারা গেছেন। এ সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ৩১৯ জন রোগী এসেছে। বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে ৫৩৮ জন, রাজশাহীতে ৩৭, সিলেটে ১২৩ , চট্টগ্রামে ২২১ জন, বরিশালে ২০৫, ময়মনসিংহে ৭৩, খুলনায় ৭৫, এবং রংপুরে ৪৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৮৯ হাজার ৪৮৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৮১ হাজার ৭৫৬ জন চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে সন্দেহজনক হামের রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৩ হাজার ২৪৪ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছেন ২৩ হাজার ১২২ জন।
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ জনের মৃত্যু, চলতি বছরে প্রাণহানি ১১৯৬
আরও পড়ুন
হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় ৬ শিশুর মৃত্যু
পাকুন্দিয়ায় খেলতে গিয়ে পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু
দশমিনায় পানিতে ডুবে দুই বছরের শিশুর মৃত্যু
পূর্বধলায় পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু
X