
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রতিবাদ করলেও এখন কেন তা করা হচ্ছে না, এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের কোনো বৈধতা ছিল না। বর্তমান বিএনপি সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার।
সরকার সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল প্রতিবাদ করছে। জাহেদ উর রহমান বলেন, আমি যদি সরকারে না থেকে অ্যাক্টিভিস্ট হতাম, তাহলে এর প্রতিবাদ করতাম, হাসিনার সময় হলে শুধু প্রতিবাদ নয়, হাসিনার পদত্যাগ চাইতাম। এখন চাওয়া উচিত হবে না।
তিনি বলেন, কারণ ওই সরকারকে আমরা ওন করতাম না, ওই সরকারের লেজিটিমেসি ছিল না। কিন্তু এই সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার। এটা আমাদের সবার সরকার।
আন্তর্জাতিক বাজারদরে ডিজেল কিনে দেশে কম দামে বিক্রি করায় বিপিসি বড় লোকসান গুনছে বলে জানান উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, ডিজেলে প্রতি লিটারে প্রায় ৮৯ টাকা লোকসান হচ্ছে। দৈনিক লোকসান প্রায় ১০৯ কোটি টাকা। শুধু ডিজেলেই বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা লোকসান হতে পারে। লিটারপ্রতি ২০ টাকা দাম বাড়ালে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা লোকসান কমানো সম্ভব হবে।
মূল্য সমন্বয়ের পরও ডিজেলে সরকারের উল্লেখযোগ্য ভর্তুকি রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কিছুটা কমলেও সামগ্রিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি খাতে ভর্তুকির চাপ থাকছে।
জ্বালানির দাম বাড়িয়ে সরকার জনপ্রিয়তা হারানোর ঝুঁকি নিচ্ছে কিনা, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, জনগণের কষ্ট হচ্ছে এবং আরও হতে পারে, সরকার তা স্বীকার করছে। তবে জনগণকে অসন্তুষ্ট করতে ইচ্ছা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন থাকায় জনগণকে কষ্ট দিয়ে সরকার রাজনৈতিক ক্ষতি করতে চাইবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে জ্বালানি খাতে সরকার কতটা ভর্তুকি দিতে পারবে, সেটিও বিবেচনার বিষয় বলে জানান।
জাহেদ উর রহমান বলেন, চলতি অর্থবছরের বাজেটে গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৪৮ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি রাখা হয়েছিল। অর্থবছরের আড়াই মাসেই এর প্রায় অর্ধেক ব্যয় হয়েছে।




