
দেশের সব সরকারি দপ্তরে শতভাগ ডিজিটালাইজেশন নিশ্চিত করা গেলে দুর্নীতি পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী।
তিনি বলেন, মানুষে মানুষে সরাসরি যোগাযোগই দুর্নীতির অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র। উন্নত দেশগুলোর মতো সরকারি সব ধরনের সেবা ডিজিটাল মাধ্যমে দেওয়া সম্ভব হলে নাগরিকদের সরকারি দপ্তরে সরাসরি যাওয়ার প্রয়োজন কমবে এবং দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন সহজ হবে।
মঙ্গলবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে ‘কম্পিটেন্সি ফ্রেমওয়ার্ক অ্যান্ড ডিজিটাল কম্পিটেন্স অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক (DigCAF)’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সরকারি কর্মচারীদের ডিজিটাল দক্ষতা মূল্যায়ন ফ্রেমওয়ার্ক (DigCAF) সম্পর্কে অবহিত করা এবং অংশীজনদের মতামত সংগ্রহের লক্ষ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, সরকারি কর্মচারী ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি (GEMS) ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (JICA) যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছরের অপশাসনের ফলে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়ে পড়েছে। বর্তমান সরকার সেগুলোকে পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণকে সেবা দেওয়ার বিষয়ে দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, হেলথ কার্ড ও সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব সেবা জনগণের কাছে স্বচ্ছতার সঙ্গে পৌঁছে দিতে ডিজিটাল ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই।
তিনি আরও বলেন, ভূমি ব্যবস্থাপনা পুরোপুরি ডিজিটালাইজ করা সম্ভব হলে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলাসহ বিভিন্ন ধরনের মামলা-মোকদ্দমা অন্তত ৯০ শতাংশ কমে যেতে পারে।
প্রশাসনে সংস্কার ও পদায়ন প্রসঙ্গে মো. আব্দুল বারী বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের পদায়ন, পদোন্নতি ও নিয়োগ প্রক্রিয়া পুরোপুরি স্বচ্ছ হওয়া প্রয়োজন। সহকারী কমিশনার (ভূমি) থেকে শুরু করে সচিব ও মহাপরিচালক পর্যায়ে পদায়নের ক্ষেত্রে সততা, নিষ্ঠা ও দক্ষতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে জনপ্রশাসন সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ডিজিটাল জ্ঞান ও দক্ষতাকে কর্মক্ষেত্রে কার্যকরভাবে প্রয়োগ করে প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক প্রশাসন গড়ে তুলতে পারলে সরকারের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে। তিনি সেবার মানোন্নয়নে ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারের দক্ষতার পাশাপাশি তথ্য-উপাত্ত সঠিকভাবে বিশ্লেষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আইসিটি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশিদ ভূঞা, জাইকা বাংলাদেশের মুখ্য প্রতিনিধি জুঙ্কু তাকাহাশি এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম।
দিনব্যাপী আয়োজিত এ সেমিনারে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সরকারি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।




