
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী অভিযান ও মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২০ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক সপ্তাহে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় অভিযান ও সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে ১০টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ২০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সময়ে দায়ের করা হয়েছে ৬টি মামলা।
বিএফএসএর তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় ৬টি প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। বাধ্যতামূলক নিবন্ধন না করা, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাদ্য তৈরি, রেফ্রিজারেটরে লেবেলবিহীন মাছ-মাংস ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী সংরক্ষণ এবং ট্রেড লাইসেন্স, খাদ্যকর্মীদের স্বাস্থ্যসনদ ও পেস্ট কন্ট্রোলের প্রমাণক প্রদর্শনে ব্যর্থতার মতো অনিয়ম পাওয়া যায়। এসব ঘটনায় ২টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৩ লাখ টাকা জরিমানা এবং ২টি মামলা করা হয়েছে।
এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নরসিংদী ও সিরাজগঞ্জে ৩টি প্রতিষ্ঠানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। পোড়াতেল ব্যবহার, অননুমোদিত রাসায়নিক রং প্রয়োগ, উৎপাদনস্থলে তেলাপোকা-ছারপোকার উপস্থিতি, পণ্যের গায়ে লেবেল না থাকা এবং নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদনের দায়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে মোট ৪ লাখ টাকা জরিমানা এবং ৩টি মামলা করা হয়েছে।
এছাড়া লক্ষ্মীপুর ও কিশোরগঞ্জে পৃথকভাবে সামারি ট্রায়াল পরিচালনা করা হয়। লক্ষ্মীপুরে খাদ্য প্রস্তুত, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন অনিয়মের কারণে ২টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। কিশোরগঞ্জে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন ও সংরক্ষণ এবং মোড়কে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার দায়ে ৩টি খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে মোট ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
একই সময়ে সারাদেশে বাজার, হোটেল-রেস্তোরাঁ, বেকারি, মিষ্টির দোকান, খাদ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানসহ মোট ২৮৮টি খাদ্যস্থাপনায় মনিটরিং পরিচালনা করা হয়েছে। খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিবেশন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণনে নিরাপদ খাদ্যবিধি অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা তদারকি করা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সংশোধনের নির্দেশনা ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতেও বিভিন্ন কার্যক্রম চালানো হয়েছে। বাংলাদেশ টেলিভিশনে টিভিসি ও স্ক্রলবার্তা, বাংলাদেশ বেতারে অডিওবার্তা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি, রিলস ও ভিডিওর মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্যবিষয়ক সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, জনগণের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ বহুমুখী কার্যক্রম পরিচালনা করছে। নিয়মিত তদারকি, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা, মোবাইল কোর্ট, খাদ্য নমুনা পরীক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি জনসচেতনতা তৈরিতেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। খাদ্য উৎপাদন থেকে ভোক্তার কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার চলমান কার্যক্রম ভবিষ্যতে আরও গতিশীল ও বিস্তৃত করা হবে।




