
কারাগারের অভ্যন্তরে নগদ অর্থের ব্যবহার কমিয়ে আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে চালু হয়েছে ক্যাশলেস কারা ব্যবস্থাপনা। এ ব্যবস্থায় বন্দিদের অর্থ জমা, ব্যয় ও হিসাব সংরক্ষণ করা হচ্ছে ডিজিটাল পদ্ধতিতে। এতে বন্দিদের আর্থিক লেনদেন আরও নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল হওয়ার পাশাপাশি নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনার ঝুঁকিও কমবে বলে আশা করছে কারা কর্তৃপক্ষ।
নতুন এ ব্যবস্থায় বন্দির কাছে থাকা অর্থ, সাক্ষাৎকালে স্বজনদের দেওয়া অর্থ এবং দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে স্বজনদের পাঠানো অর্থ নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় বন্দির হিসাবে জমা হচ্ছে। ফলে কারাগারের ভেতরে নগদ অর্থ বহন ও সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা কমে আসছে।
ক্যাশলেস ব্যবস্থার আওতায় বন্দিদের স্বজনরা দূরবর্তী স্থান থেকেও নির্ধারিত ডিজিটাল পদ্ধতিতে অর্থ পাঠাতে পারছেন। অন্যদিকে, কারাগারে প্রবেশের সময় বন্দির কাছে থাকা অর্থ এবং সাক্ষাৎকালে স্বজনদের দেওয়া অর্থও অনুমোদিত প্রক্রিয়ায় তার হিসাবে জমা করা হচ্ছে।
বন্দিরা নিজস্ব হিসাবের মাধ্যমে কারা ক্যান্টিন থেকে অনুমোদিত পণ্য কেনাসহ নির্ধারিত বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করতে পারছেন। প্রতিটি লেনদেনের ডিজিটাল রেকর্ড সংরক্ষিত থাকায় অর্থের জমা ও খরচের হিসাব যাচাই করা সহজ হবে। এতে আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বাড়ার পাশাপাশি অনিয়মের সুযোগও কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ব্যবস্থায় বন্দিদের অর্থের নিরাপত্তাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোনো বন্দি মুক্তি পেলে তার হিসাবে অবশিষ্ট অর্থ নির্ধারিত নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুযায়ী ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে বন্দিদের অর্থের হিসাব সংরক্ষণ ও ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া আরও সুশৃঙ্খল হবে।
কারা ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং বন্দিদের সেবা কার্যক্রম সহজ করার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, ডিজিটাল পদ্ধতিতে লেনদেন পরিচালিত হওয়ায় নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তাঝুঁকি কমবে এবং প্রতিটি লেনদেনের নির্ভরযোগ্য রেকর্ড সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।
বাংলাদেশ কারা অধিদপ্তরের আধুনিকায়ন ও ডিজিটাল রূপান্তরের ধারাবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে চালু হওয়া এ ব্যবস্থা কারা ব্যবস্থাপনাকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর, নিরাপদ ও জবাবদিহিমূলক করতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য কারাগারেও এ ধরনের সেবা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে।




