
মানবিক কর্মকাণ্ডের ১৪ বছরের পথচলায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে ড. মোস্তফা হাজেরা ফাউন্ডেশন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ১১টি আন্তর্জাতিক আয়োজনে অংশ নিয়েছেন ফাউন্ডেশনটির প্রতিষ্ঠাতা ক্যাপ্টেন এ কে এম গোলাম কিবরিয়া (সিআইপি)।
২১ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিউইয়র্কে বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি। এসব আয়োজনে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী, কূটনীতিক, শিক্ষাবিদ, মানবিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন ক্যাপ্টেন কিবরিয়া।
এর মধ্যে ছিল দারিদ্র্য দূরীকরণ, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার, শিশুদের অধিকার, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, বৈশ্বিক শান্তি ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিয়ে আলোচনা। ‘Beyond 2030: Renewing the Global Commitment to End Poverty in All its Dimensions’ শীর্ষক আয়োজনে অংশ নেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, তিমুর-লেস্তের প্রেসিডেন্ট ও নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী হোসে রামোস-হোর্তা, কলম্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী হুয়ান ম্যানুয়েল সান্তোস এবং UN ESCAP-এর নির্বাহী সচিব আরমিডা সালসিয়াহ আলিসজাহবানা।
এ ছাড়া নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী লেইমাহ গোবোয়ে ও থেলমা একিওরের সঙ্গে আয়োজিত আলোচনা, বহুমাত্রিক দারিদ্র্য, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার, শিশুদের ভবিষ্যৎ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং বৈশ্বিক শান্তি নিয়ে বিভিন্ন আয়োজনে অংশ নেন তিনি। গেটস ফাউন্ডেশন, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিসেফ ও UN ESCAP-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন ক্যাপ্টেন কিবরিয়া।
নিউইয়র্ক সফরে রোহিঙ্গা সংকটও গুরুত্ব পায়। ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার যৌথ আয়োজনে রোহিঙ্গাদের দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতি, ন্যায়বিচার, জবাবদিহি এবং সংকটের টেকসই সমাধান নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হয়।
ড. মোস্তফা হাজেরা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য এর আগে চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের মতো দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রম নিয়েও কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
নিউইয়র্ক সফরের অন্যতম উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছিল জাতিসংঘের একটি পর্দায় ড. মোস্তফা হাজেরা ফাউন্ডেশনের লোগো প্রদর্শিত হওয়া। ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ক্যাপ্টেন কিবরিয়ার কাছে ঘটনাটি দীর্ঘদিনের মানবিক কর্মকাণ্ডকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
ক্যাপ্টেন কিবরিয়া বলেন, “বিশ্বের শুধু প্রযুক্তির প্রয়োজন নেই। প্রযুক্তিকে পরিচালনার জন্য প্রজ্ঞা, সহযোগিতা ও মানবিকতার প্রয়োজন।”
মানুষের নির্ভরশীলতার পরিবর্তে মর্যাদা, সুযোগ ও সক্ষমতাকে গুরুত্ব দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে ক্যাপ্টেন কিবরিয়া ‘Human Equity Civilization’ ধারণার কথা তুলে ধরেছেন। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ‘Five Zero Global Campaign’। এর পাঁচটি লক্ষ্য হলো শূন্য ভিক্ষাবৃত্তি, শূন্য নিরক্ষরতা, শূন্য গৃহহীনতা, চিকিৎসার অভাবে কোনো মৃত্যু না হওয়া এবং দক্ষতাহীনতা দূর করা।
ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের এই মানবিক কার্যক্রমের পরিধি বর্তমানে ১৫টি দেশে বিস্তৃত হয়েছে।
নিউইয়র্ক সফরে জাতিসংঘের ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়েও বিভিন্ন আলোচনায় অংশ নেন ক্যাপ্টেন কিবরিয়া। ১৯৪৫ সালের বাস্তবতায় প্রতিষ্ঠিত জাতিসংঘ বর্তমান বিশ্বের পরিবর্তিত রাজনৈতিক, মানবিক ও প্রযুক্তিগত বাস্তবতার সঙ্গে কীভাবে আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে, সে বিষয়েও আলোচনা হয়।
এ ছাড়া পরবর্তী জাতিসংঘ মহাসচিব নির্বাচন এবং নতুন মহাসচিব দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ১০০ দিনের অগ্রাধিকার নিয়েও নীতিগত আলোচনায় অংশ নেন তিনি।
১৪ বছরের মানবিক কর্মকাণ্ডের পর জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের বিভিন্ন আয়োজনে অংশ নেওয়া এবং জাতিসংঘের পর্দায় ড. মোস্তফা হাজেরা ফাউন্ডেশনের লোগো প্রদর্শিত হওয়ার ঘটনাকে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে মানবিক কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।




