ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

আজ আবরার ফাহাদের শাহাদাতবার্ষিকী

অনলাইন ডেস্ক

  ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩১ এএম

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের মেধাবী ছাত্র শহীদ আবরার ফাহাদের সপ্তম শাহাদাতবার্ষিকী আজ। ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছিল। এ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ছিল বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে তৎকালীন কিছু চুক্তির সমালোচনা করে ফেসবুকে দেওয়া তার স্ট্যাটাস।

বুলেটিন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

এ হত্যাকাণ্ড কেবল একটি ছাত্রহত্যার ঘটনা ছিল না, এটি ছিল ভিন্নমত দমন, ফ্যাসিবাদী নিপীড়ন এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারী কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ করে দেওয়ার নৃশংস প্রচেষ্টা। শহীদ আবরার ফাহাদের সে আত্মত্যাগ পরবর্তী সময়ে দেশজুড়ে আধিপত্যবাদবিরোধী আন্দোলনের অবিস্মরণীয় প্রতীকে পরিণত হয়।

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে শহীদ আবরার ফাহাদের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সরকারিভাবে কর্মসূচি পালন করা হলেও এবার সরকারিভাবে কোনো কর্মসূচির তথ্য পাওয়া যায়নি।

তবে আধিপত্যবাদবিরোধী লড়াইয়ের শহীদ আবরার ফাহাদের সপ্তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। আজ বুধবার বাদ জোহর ঢাবি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। আবরার ফাহাদের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) উদ্যোগে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (১৭তম ব্যাচ) ছাত্র আবরার ফাহাদ ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর কুষ্টিয়ার গ্রামের বাড়ি থেকে বুয়েটের হলে ফিরেছিলেন। রাত ৮টায় তাকে শেরেবাংলা হলের দোতলার ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে পাঠায় তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত বুয়েট ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুসারে, তার মোবাইল ফোন ঘেঁটে ফেসবুক ও মেসেঞ্জারে ভারতবিরোধী স্ট্যাটাস ও মতাদর্শের প্রমাণ পাওয়ার পর ক্রিকেট স্টাম্প দিয়ে নির্মমভাবে পেটাতে শুরু করে তারা। পরে চতুর্থ বর্ষের কয়েকজন নেতাকর্মী এসে আরেক দফা নির্যাতন চালায় তার ওপর।

রাতভর পৈশাচিক নির্যাতনে একপর্যায়ে নিস্তেজ হয়ে পড়েন আবরার। হত্যাকারীরা তার নিথর দেহ সিঁড়িতে ফেলে রেখে রাতের খাবার খেতে যায়। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর আবরারের লাশ সিঁড়ি থেকে হলের ক্যান্টিনে নিয়ে রাখা হয় এবং ভোরে ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়। হলের সিসিটিভি ফুটেজে আবরারকে কয়েকজনের ধরাধরি করে সিঁড়ির দিকে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখা যায়।

সে সময় হল প্রাধ্যক্ষ জাফর ইকবাল খান জানান, রাত পৌনে ৩টায় খবর পেয়ে বুয়েটের চিকিৎসক পরীক্ষা করে আবরারকে মৃত ঘোষণা করেন।

আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের মূল দৃশ্যপটে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা থাকলেও আমার দেশ-এর অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, এ পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্র তৈরি করেছে বুয়েটের ‘আড়ি পেতে শোনা’ নামে ফেসবুক গ্রুপ। ফ্যাসিবাদী ও ইসলামবিদ্বেষী হিসেবে পরিচিত এ গ্রুপটি বহু বছর ধরে বুয়েটে ভিন্নমতাবলম্বী ও ধার্মিক শিক্ষার্থীদের টার্গেট করে নির্যাতন চালানোর পরিবেশ তৈরি করেছিল।

২০১২ সালে যাত্রা শুরু করা এ গ্রুপটি ২০১৩ সালে শাহবাগ গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনের সময় থেকে শাহবাগপন্থি ও ইসলামবিদ্বেষী রূপ ধারণ করে। গ্রুপের তৎকালীন অ্যাডমিন প্যানেল ‘বুয়েটকে শিবিরমুক্ত করার’ প্রচার জোরদার করে। এর অংশ হিসেবে ২০১৪ সালে এ গ্রুপে ৪৪ জনের একটি নিষিদ্ধ তালিকা প্রকাশ করা হয়, যেখানে শিবির বা সরকারবিরোধী মত পোষণকারী শিক্ষার্থীদের নামও ছিল।

এ তালিকায় থাকা বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে অন্তত ১৪ জন ছাত্রলীগের নির্মম নির্যাতনের শিকার হন বলে জানা যায়। তালিকাটি তৈরি ও প্রকাশে তৎকালীন অ্যাডমিন প্যানেলের সদস্য জাভেদ ইকবাল (মেকানিক্যাল-৮৯), মিশকাত আল আলভি (ইইই-০৭), মাসুদ করিম খানসহ (সিএসই-৮৯) অনেকে জড়িত ছিলেন।

‘আড়ি পেতে শোনা’ গ্রুপের চিহ্নিত সদস্যরা তালিকা প্রকাশের পাশাপাশি ক্যাম্পাসে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করে, যেখানে শিবির ট্যাগ দিয়ে কাউকে নির্যাতন করাকে অপরাধ হিসেবে দেখা হতো না, বরং বৈধতা দেওয়া হতো। তারা নানা পোস্টে শিবিরের কারো ওপর নির্যাতনকে ন্যায্য প্রমাণের জন্য যুক্তি দিত।

একপর্যায়ে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগ শিবিরমুক্ত করার নৃশংস অভিযান শুরু করে। তারা ধর্মভীরু শিক্ষার্থীদেরও শিবির আখ্যা দিয়ে নির্যাতন করত। অবস্থা এমনই ছিল যে, আড়িপাতা গ্রুপের নির্যাতনের ভয়ে নির্যাতিত শিক্ষার্থীদের সহায়তা করার সাহসও পেত না সহপাঠীরা । আবরার ফাহাদ ছিলেন এ ফ্যাসিবাদী পরিবেশের সর্বশেষ ও সবচেয়ে মর্মান্তিক শিকার।

‘আড়ি পেতে শোনা’ গ্রুপের উসকানি এবং তালিকাভুক্ত শিক্ষার্থীদের নির্যাতনের পাশাপাশি এক্ষেত্রে বুয়েট প্রশাসনের সরাসরি সহযোগিতা বা নিষ্ক্রিয়তা ছিল গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটক। অভিযোগ ওঠে ২০১২ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বুয়েটে ছাত্রলীগের সব বর্বরতা সম্পর্কে প্রশাসন অবগত ছিল, কিন্তু তারা কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে বরং ছাত্রলীগকে নির্যাতনে সহায়তা করে।

আবরার ফাহাদ নিহত হওয়ার ঘটনা নিয়ে সে সময় সারা দেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয় এবং বুয়েটের দীর্ঘদিনের অন্ধকার অধ্যায় জাতির সামনে উন্মোচিত হয়। পরবর্তী সময়ে আবরার হত্যার ঘটনায় ছাত্রলীগের ২৫ জনকে আটক করা হয়। ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আদালত। এ মামলায় আরো পাঁচ শিক্ষার্থীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় আদালত। নিম্ন আদালতের রায় খতিয়ে ডেথ রেফারেন্স হিসেবে ২০২২ সালের ৬ জানুয়ারি মামলার নথি হাইকোর্টে পৌঁছায়।

গত ২০২৪ সালের ২৮ নভেম্বর হাইকোর্ট বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানি শুরু হয়। বিচারিক আদালতের দেওয়া ২০ আসামির মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচ আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রেখে এক বছর আগে এ মামলায় রায় দেয় হাইকোর্ট। এই রায়ের বিরুদ্ধে আসামিরা আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন করলেও রায়ে সন্তুষ্ট রাষ্ট্রপক্ষ কোনো আপিল করেনি।

এখন চূড়ান্ত বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে আবরার ফাহাদ হত্যা মামলা। সাত বছর আগের এ মামলার দুই ধাপের বিচার শেষ হলেও চূড়ান্ত বিচার শেষ হতে কত সময় লাগবে, তা বলতে পারছে না কোনো পক্ষই।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর বুয়েটের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে দীর্ঘদিন ধরে চলা এ ফ্যাসিবাদী পরিবেশ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। শিক্ষার্থীরা মনে করেন, আবরারের হত্যাকাণ্ড ছিল বছরের পর বছর ধরে গড়ে ওঠা একটি ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার অনিবার্য পরিণতি। আর শহীদ আবরার ফাহাদ হয়ে ওঠে আধিপত্যবাদবিরোধী এক অবিস্মরণীয় কণ্ঠস্বর।

শেরেবাংলা নগরে সরছে সচিবালয়, মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে বাংলাদেশ সচিবালয় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ২০২৯ সালের মধ্যে সেখানে সচিবালয়ের কার্যক্রম চালুর লক্ষ্য নিয়ে শিগগির নির্মাণকাজ শুরু করা হবে। রোববার মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে পিআইডির সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, নতুন সচিবালয় কমপ্লেক্সে প্রায় ৩১ লাখ বর্গফুট আয়তনের ভবন নির্মাণ করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, পুরোনো বাণিজ্য মেলার এলাকায় তিনটি বেজমেন্টসহ ১৪টি ১২ তলা ভবন নির্মাণ করা হবে। সেখানে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ গাড়ি রাখার ব্যবস্থা, একটি মসজিদ ও ক্যাফেটেরিয়া থাকবে। পাশাপাশি আশপাশের সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আন্ডারপাস ও ভূগর্ভস্থ সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। সচিবালয় স্থানান্তরের সিদ্ধান্তের বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, রাজধানীর জন্য প্রণীত আগের মহাপরিকল্পনায় যে এলাকায় সচিবালয়ের জন্য জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছিল, নতুন কমপ্লেক্সটি সেই এলাকাতেই গড়ে তোলা হবে। এ জন্য প্রায় ৩১ একর জমি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, নতুন সচিবালয়ের নকশায় নান্দনিকতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। স্থানটির আগের পরিকল্পনার সঙ্গে নতুন উদ্যোগের কিছু মিল থাকলেও পুরো পরিকল্পনা এক নয়। তবে উভয়ের মধ্যে একটি যোগসূত্র রয়েছে।
শেরেবাংলা নগরে সরছে সচিবালয়, মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত
পিএসসি থেকে সরে দাঁড়ালেন দুই সদস্য
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) দুই সদস্য ড. মো. মহিউদ্দিন ও অধ্যাপক এম সোহেল রহমান পদত্যাগ করেছেন। রাষ্ট্রপতির কাছে তাঁদের পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর আজ রোববার তা আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়েছে বলে জানা গেছে। পদত্যাগপত্রে দুই সদস্যই ব্যক্তিগত কারণ উল্লেখ করেছেন। রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, রোববার (১৮ অক্টোবর) রাষ্ট্রপতি তাঁদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন। জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ড. মো. মহিউদ্দিন রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন এবং শনিবার (১৭ অক্টোবর) পদত্যাগপত্র জমা দেন আরেক সদস্য ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোহেল রহমান। দুই সদস্যের বিদায়ের পর ২০ সদস্যের পিএসসিতে বর্তমান সদস্যসংখ্যা কমে ১৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এর আগে গত আগস্ট মাসে সংস্থাটির তৎকালীন চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেমও ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে দায়িত্ব ছেড়েছিলেন। নতুন করে দুই সদস্য সরে দাঁড়ানোর পর আরও কয়েকজন সদস্য পদত্যাগ করতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।
পিএসসি থেকে সরে দাঁড়ালেন দুই সদস্য
অমর একুশে বইমেলা শুরু ৭ জানুয়ারি
২০২৭ সালের অমর একুশে বইমেলা শুরু হবে আগামী ৭ জানুয়ারি। এটি চলবে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। রবিবার (১৮ অক্টোবর) বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৩ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টায় বাংলা একাডেমির শহিদ মুনীর চৌধুরী সভাকক্ষে অমর একুশে বইমেলা ২০২৭ আয়োজন বিষয়ে প্রকাশক-প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক মত-বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী সভাপতিত্ব করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান ও মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন বেগম। এতে আরও বলা হয়, সভায় প্রকাশক-প্রতিনিধিদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে আগামী ৭ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অমর একুশে বইমেলার সময় নির্ধারিত হয়।
অমর একুশে বইমেলা শুরু ৭ জানুয়ারি
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ জনের মৃত্যু, চলতি বছরে প্রাণহানি ১১৯৬
দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর হামের উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯২ জনে। একই সময়ে নিশ্চিত হামে মারা গেছেন আরও ১০৪ জন। সব মিলিয়ে চলতি বছরে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৯৬ জনে। রোববার (১৮ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর পাশাপাশি নিশ্চিত হামে মৃত্যুর ঘটনাও জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগ তৈরি করছে। চলতি বছরে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্কতা ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বুলেটিনে বলা হয়, শনিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগে ৩ জন, সিলেট বিভাগে ২ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১ জন এবং খুলনা বিভাগে ১ জন মারা গেছেন। এ সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ৩১৯ জন রোগী এসেছে। বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে ৫৩৮ জন, রাজশাহীতে ৩৭, সিলেটে ১২৩ , চট্টগ্রামে ২২১ জন, বরিশালে ২০৫, ময়মনসিংহে ৭৩, খুলনায় ৭৫, এবং রংপুরে ৪৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৮৯ হাজার ৪৮৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৮১ হাজার ৭৫৬ জন চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে সন্দেহজনক হামের রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৩ হাজার ২৪৪ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছেন ২৩ হাজার ১২২ জন।
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ জনের মৃত্যু, চলতি বছরে প্রাণহানি ১১৯৬
ডেঙ্গুতে এক দিনে আরও ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজার ৮৮
দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ উদ্বেগজনকভাবে অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত ২ হাজার ৮৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। রোববার (১৮ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪৮ জনে। এর মধ্যে শুধু অক্টোবরের প্রথম ১৭ দিনেই ১০৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর চলতি বছরের মাসভিত্তিক হিসাবে সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়। এ ছাড়া আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন এবং মে মাসে একজন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে। বছরের শুরুতে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি—প্রতি মাসে দুজন করে ডেঙ্গুতে মারা যান। বুলেটিনে বলা হয়, শনিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২ হাজার ৮৮ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২ হাজার ৪০০ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ হাজার ৮২৭ জন। এ পর্যন্ত মোট ৯৮ হাজার ৮৯৯ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে ১ হাজার ৫৮ জন। এছাড়া চট্টগ্রামে ১৬১ জন, খুলনায় ২৯০ জন, বরিশালে ১৯৯ জন, রাজশাহীতে ২০০ জন, ময়মনসিংহে ৯৩ জন এবং রংপুরে ৭২ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের প্রথম ১৭ দিনেই ডেঙ্গুতে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে গত ২৪ ঘণ্টায় দুই হাজারের বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
ডেঙ্গুতে এক দিনে আরও ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজার ৮৮
X