ঢাকা, বাংলাদেশ || সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

বিশ্বের সেরা ৫০০ শহরের তালিকায় নেই বাংলাদেশের কোনো শহর 

অনলাইন ডেস্ক

  ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৯ এএম

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কিংবা বড় অবকাঠামো থাকলেই কোনো শহরকে বাসযোগ্য ও মানসম্মত শহর বলা যায় না। এর সঙ্গে প্রয়োজন পরিবেশের সুরক্ষা, নাগরিক সেবা, সুশাসন, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং টেকসই অর্থনৈতিক ব্যবস্থা। এসব ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকার কারণে বিশ্বের সেরা ৫০০ শহরের তালিকায় জায়গা পায়নি বাংলাদেশের কোনো শহর। বরং এক বছরের ব্যবধানে দেশের প্রধান শহরগুলোর বৈশ্বিক অবস্থান আরও অবনতি হয়েছে।

বুলেটিন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

যুক্তরাজ্যভিত্তিক স্বাধীন অর্থনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের ২০২৬ সালের ‘গ্লোবাল সিটিজ ইনডেক্স’-এ বিশ্বের ১৬৩টি দেশের এক হাজার শহরকে পাঁচটি প্রধান সূচকে মূল্যায়ন করা হয়েছে। সূচকে বাংলাদেশের আটটি শহর রয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে থাকা ঢাকা রয়েছে ৫১৫তম স্থানে। গত বছর এ তালিকায় ঢাকার অবস্থান ছিল ৪৮২তম। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে রাজধানী পিছিয়েছে ৩৩ ধাপ।

অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের সূচকে শহরগুলোর মূল্যায়নে অর্থনীতি, মানবসম্পদ, জীবনযাত্রার মান, পরিবেশ এবং শাসনব্যবস্থাকে বিবেচনা করা হয়েছে।

ঢাকার পাশাপাশি দেশের অন্যান্য বড় শহরের অবস্থানও নেমেছে। সবচেয়ে বেশি অবনতি হয়েছে রাজশাহীর। শহরটি ৬৬ ধাপ পিছিয়ে এবার ৭৭৯তম অবস্থানে রয়েছে। চট্টগ্রাম ১৪ ধাপ পিছিয়ে ৭৬৩তম, খুলনা ৮১১তম, সিলেট ৮৩৪তম এবং ময়মনসিংহ ৮৯৫তম অবস্থানে রয়েছে। বগুড়া ৩২ ধাপ পিছিয়ে ৯২৬তম হয়েছে। বাংলাদেশের শহরগুলোর মধ্যে শুধু কুমিল্লা আগের অবস্থান ধরে রেখেছে। শহরটির র‌্যাংক ৮৮৩তম।

অর্থনীতিতে তুলনামূলক এগিয়ে ঢাকা

গ্লোবাল সিটিজ ইনডেক্সে অর্থনীতির জন্য সর্বোচ্চ ৩০ নম্বর, মানবসম্পদের জন্য ২৫, জীবনযাত্রার মানের জন্য ২৫ এবং পরিবেশ ও শাসনব্যবস্থার জন্য ১০ করে মোট ১০০ নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে তালিকার শীর্ষ ১০০ শহরের স্কোর প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশের কোনো শহর ওই তালিকায় না থাকায় তাদের সামগ্রিক স্কোর প্রকাশিত হয়নি।

শহরের অর্থনৈতিক অবস্থান নির্ধারণে অর্থনীতির আকার, কাঠামো ও প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি জিডিপি, মাথাপিছু জিডিপি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির মতো বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে। এ সূচকে বাংলাদেশের শহরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে ঢাকা। বিশ্বে এ সূচকে রাজধানীর অবস্থান ২৮৬তম। চট্টগ্রাম রয়েছে ৭০২তম এবং ময়মনসিংহ ৭৩৪তম অবস্থানে।

মানবসম্পদ সূচকেও দেশের অন্য শহরের তুলনায় ঢাকা এগিয়ে। এ ক্ষেত্রে রাজধানীর অবস্থান ১৭৮তম। শিক্ষা, ব্যবসার পরিবেশ এবং জনমিতিক প্রবণতার ভিত্তিতে এ সূচক তৈরি করা হয়েছে। এ তালিকায় খুলনা ৫৪১তম এবং রাজশাহী ৫৯৯তম অবস্থানে রয়েছে।

অর্থনীতি ও মানবসম্পদের ক্ষেত্রে তুলনামূলক ভালো অবস্থান থাকলেও পরিবেশ ও জীবনমানসহ অন্যান্য সূচকে পিছিয়ে পড়ায় সামগ্রিক র‌্যাংকিংয়ে ঢাকা তার অবস্থান ধরে রাখতে পারেনি।

পরিবেশে বড় দুর্বলতা

পরিবেশ সূচকে বাংলাদেশের শহরগুলোর অবস্থান বেশ নিচে। এ ক্ষেত্রে দেশের মধ্যে তুলনামূলক এগিয়ে সিলেট, তবে বিশ্বে শহরটির অবস্থান ৭৩৫তম। সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে রয়েছে খুলনা—৯৭৪তম। ঢাকার অবস্থান ৯৩০তম, ময়মনসিংহ ৯৪০তম এবং চট্টগ্রাম ৯২৪তম।

রাজশাহী একসময় দেশের অন্যতম পরিচ্ছন্ন ও সবুজ শহর হিসেবে পরিচিত থাকলেও পরিবেশগত সূচকে শহরটির অবস্থানও পিছিয়েছে। বর্তমানে পরিবেশ সূচকে বিশ্বে রাজশাহীর অবস্থান ৮৫২তম।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এম মিজানুর রহমান বলেন, রাজশাহীর পরিবেশ পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপ হচ্ছে। বায়ুদূষণ বেড়েছে, নগরীর অনেক বড় গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। গরমের তীব্রতাও জনজীবনে প্রভাব ফেলছে। এর পাশাপাশি বরেন্দ্র অঞ্চলের দীর্ঘদিনের পানির সংকট এবং নদী দূষণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, শহরগুলোর সামগ্রিক র‌্যাংকিং উন্নত করতে হলে পরিবেশগত অবস্থার উন্নয়ন জরুরি। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. মহিনুজ্জামান বলেন, ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো শহরে একই সময়ে জলাবদ্ধতা ও পানির সংকট দেখা যাচ্ছে। বৃষ্টিতে রাস্তাঘাট ডুবে যায়, আবার একই শহরের অনেক বাসাবাড়িতে প্রয়োজনীয় পানির সংকট থাকে। এসব বিষয় নগরগুলোর পরিবেশগত ঝুঁকি স্পষ্ট করে।

জীবনমানেও পিছিয়ে দেশের শহর

জীবনযাত্রার মানের সূচকে বাংলাদেশের শহরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে রাজশাহী। বিশ্বে এ সূচকে শহরটির অবস্থান ৫৪২তম। এরপর রয়েছে খুলনা ৬১২তম এবং চট্টগ্রাম ৬৫৩তম।

এ সূচকে মানুষের সামগ্রিক জীবনযাত্রা, আর্থিক ও স্বাস্থ্যগত পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন নাগরিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিশ্বের ভালো শহরের তালিকায় বাংলাদেশের শহরগুলোর পিছিয়ে থাকার অন্যতম কারণ হিসেবে পরিবেশ ও সুশাসনের ঘাটতিকে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় অতিরিক্ত জনসংখ্যা, ঘনবসতি, বায়ুদূষণ এবং পর্যাপ্ত নাগরিক সুবিধার অভাব নগরজীবনের মান কমিয়ে দিচ্ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে আবাসনের চাপ।

রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র‌্যাপিড) চেয়ারম্যান ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, অর্থনীতিতে ধীরগতি থাকলে আবাসন খাতের ওপর তৈরি হওয়া চাপ মোকাবেলা করা আরও কঠিন হয়। পরিকল্পনার ঘাটতির কারণে শহরগুলো অনেকটা অপরিকল্পিতভাবে বিস্তৃত হয়েছে। ভবিষ্যতে নগর এলাকায় আবাসনের চাহিদা আরও বাড়বে। কিন্তু পরিবেশের মান ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা না গেলে ঘনবসতি বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করবে।

শুধু অবকাঠামো নির্মাণে সমাধান নয়

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, শহরের সমস্যা সমাধানে শুধু নতুন অবকাঠামো নির্মাণ যথেষ্ট নয়। বিদ্যমান অবকাঠামোর কার্যকর ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনাও নিশ্চিত করতে হবে।

এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যেতে দীর্ঘ সময় লাগা, আশপাশে মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভাব এবং বায়ু ও পানির মানের অবনতি মানুষের জীবনযাত্রার পাশাপাশি শহরের উৎপাদনশীলতাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। অতিরিক্ত ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলো পুনর্গঠন এবং নতুন অবকাঠামো তৈরির সময় জনস্বাস্থ্য ও উৎপাদনশীলতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

রাজধানীর বর্তমান পরিস্থিতিকে অবশ্য উন্নয়ন প্রক্রিয়ার একটি পর্যায় হিসেবে দেখছেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম। তাঁর মতে, উন্নয়নের বিভিন্ন পর্যায়ে বিশ্বের অনেক শহরই পরিবেশগত সংকটের মধ্য দিয়ে গেছে। চীন ও জাপানের বিভিন্ন শহরের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, উন্নয়নকাজ শেষ হওয়ার পর ইটভাটা বন্ধসহ দূষণ নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হলে বায়ুদূষণ কমানো সম্ভব। এতে সময়ের সঙ্গে পরিবেশ সূচকেও উন্নতি আসতে পারে।

তিনি আরও বলেন, পরিকল্পিত নগর উন্নয়ন নিশ্চিত না করা গেলে পরিস্থিতির পরিবর্তন কঠিন। ডিটেইল্ড এরিয়া প্ল্যানে (ড্যাপ) পরিকল্পিত শহর গঠনের জন্য বিভিন্ন সুপারিশ ও মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। সেগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে শহরগুলোকে আরও বাসযোগ্য ও কার্যকর করা সম্ভব।

বাড়ছে ‘আরবান হিট আইল্যান্ড’ ঝুঁকি

দেশের বড় শহরগুলোতে ‘আরবান হিট আইল্যান্ড’ পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছে। এর ফলে শহরাঞ্চলে দিন ও রাত উভয় সময়েই তাপমাত্রা তুলনামূলক বেশি থাকে। অতিরিক্ত তাপ মানুষের স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা কমানোর পাশাপাশি ডেঙ্গু, হামসহ বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়াতে পারে। এতে শেষ পর্যন্ত নগরবাসীর জীবনমানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

রাজধানীর ওপর অতিরিক্ত চাপের পেছনে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রীভবনও বড় কারণ। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আখতার মাহমুদ বলেন, দেশের জিডিপির প্রায় ৬০ শতাংশ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ঢাকা-কেন্দ্রিক। নদীভাঙন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, গ্রামীণ দারিদ্র্য ও বেকারত্বের কারণে বিপুল মানুষ কর্মসংস্থানের জন্য ঢাকায় আসেন। তাদের বড় একটি অংশ বস্তি ও ভাসমান এলাকায় বসবাস করেন। এত বিপুল মানুষের আবাসন নিশ্চিত করা সরকারের পাশাপাশি নগর কর্তৃপক্ষের জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ।

ঢাকার ওপর চাপ কমাতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিকেন্দ্রীকরণ জরুরি বলে মনে করেন তিনি। জেলা, উপজেলা ও পৌরসভায় বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান বাড়ানোর পাশাপাশি মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা গেলে কর্মসংস্থানের জন্য রাজধানীমুখী মানুষের চাপ কমানো সম্ভব।

আবাসন সংকটও বড় চ্যালেঞ্জ

অধ্যাপক আখতার মাহমুদের হিসাবে, দেশে বর্তমানে প্রায় ৮৮ লাখ আবাসনের ঘাটতি রয়েছে। সহজ শর্তে, কম সুদে এবং দীর্ঘমেয়াদি ঋণের ব্যবস্থা করা গেলে অনেক মানুষের নিজস্ব আবাসনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে জমির বাজারে সরকারি নিয়ন্ত্রণ বা কার্যকর হস্তক্ষেপের প্রয়োজন রয়েছে। জমির মূল্য অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণের ব্যয় এবং শেষ পর্যন্ত বাজারমূল্যও বাড়ছে।

তবে নগরায়ণের চাপ শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক নয়। চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেটসহ দেশের অন্যান্য বড় শহরেও জনসংখ্যা বাড়ছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে নাগরিক সেবা, আবাসন, পরিবেশ ব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামো উন্নত করা না গেলে এসব শহরের সংকটও আরও গভীর হবে। গ্লোবাল সিটিজ ইনডেক্সে বাংলাদেশের শহরগুলোর অবস্থান সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন।

শীর্ষে নিউইয়র্ক, লন্ডন ও প্যারিস

অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের ২০২৬ সালের গ্লোবাল সিটিজ ইনডেক্সে শীর্ষ পাঁচে রয়েছে নিউইয়র্ক, লন্ডন, প্যারিস, সিয়াটল ও সান ফ্রান্সিসকো। শক্তিশালী অর্থনীতি ও শ্রমবাজারের কারণে নিউইয়র্ক ও লন্ডন শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে। জীবনযাত্রার মানের সূচকেও প্যারিস ভালো করেছে।

দক্ষিণ এশিয়ার শহরগুলোর মধ্যেও বাংলাদেশের অবস্থান তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে। এ অঞ্চলের শহরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ভারতের দিল্লি, যার বৈশ্বিক অবস্থান ২৬৮তম। এরপর বেঙ্গালুরু ৩১১তম, মুম্বাই ৩৩০তম, চেন্নাই ৩৮১তম এবং হায়দরাবাদ ৪২১তম অবস্থানে রয়েছে।

অন্যদিকে, ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) ২০২৬ সালের ‘গ্লোবাল লিভেবিলিটি ইনডেক্স’-এ ঢাকাকে বিশ্বের তৃতীয় কম বাসযোগ্য শহর হিসেবে দেখানো হয়েছে। দুটি আন্তর্জাতিক সূচকের ফলাফলই রাজধানীসহ বাংলাদেশের শহরগুলোর পরিবেশ, নাগরিক সেবা, সুশাসন ও জীবনমানের উন্নয়নে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের বিষয়টি সামনে এনেছে।

ইশরাককে পদত্যাগের নির্দেশের খবর ভিত্তিহীন: প্রেস কর্মকর্তা
বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের ‘পদত্যাগ’ বা তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মর্মে প্রচারিত খবরকে 'সম্পূর্ণ অসত্য, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত' বলে জানিয়েছে তার দপ্তর। রবিবার প্রতিমন্ত্রীর প্রেস কর্মকর্তা মাহফুজ কবির মুক্তা স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, 'মাননীয় প্রতিমন্ত্রী অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সুনামের সঙ্গে তার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে তাঁকে পদত্যাগের কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি এবং এ ধরনের গুঞ্জনের কোনো ভিত্তি নেই। একটি স্বার্থান্বেষী মহল রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল এবং জনসাধারণের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্য কাল্পনিক তথ্য ছড়াচ্ছে।'  'গত ১৭ অক্টোবর নিজ সংসদীয় এলাকার গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আত্মরক্ষার্থে আইনসম্মতভাবে ব্যক্তিগত অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে প্রতিমন্ত্রী ইতিপূর্বেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। কিন্তু সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার পদত্যাগ নিয়ে বিভ্রান্তিকর খবর প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি ও সাংবাদিকতার নীতিমালার পরিপন্থী' বলে উল্লেখ করা হয়। সংশ্লিষ্ট সকল গণমাধ্যম ও দেশবাসীকে এ ধরনের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, 'যেসব মাধ্যম এই মিথ্যা খবর প্রচার করেছে, তাদের অবিলম্বে তা প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'
ইশরাককে পদত্যাগের নির্দেশের খবর ভিত্তিহীন: প্রেস কর্মকর্তা
মন্ত্রিসভা থেকে ইশরাককে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।  রবিবার (১৮ অক্টোবর) মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে তাকে ডেকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের এক সদস্য বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।  গত শনিবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে ইশরাক হোসেনের ফেসবুক পেজে এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়ি থেকে নেমে এক হাতে হ্যান্ড মাইক্রোফোন ও অন্য হাতে পিস্তল নিয়ে একদল লোককে তাড়া করছেন তিনি। একপর্যায়ে পিস্তলের স্লাইড টেনে গুলি করার প্রস্তুতি নিয়ে লোকগুলোর দিকে অস্ত্র তাক করে ‘অ্যাই দাঁড়া, দাঁড়া’ বলে চিৎকার করতে দেখা যায় তাঁকে। ভিডিওতে সাদা পোশাকে থাকা আরও একজনকে অস্ত্র হাতে লোকজনকে তাড়া করতে দেখা যায়। ঘটনাটি রাজধানীর গেণ্ডারিয়া রেললাইন-সংলগ্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চলাকালে ঘটেছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বিষয়টিকে বাড়াবাড়ি হিসেবে দেখছেন তারা। দিনভর নানা সমালোচনার মুখে বিকেলে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী তাকে ডেকে পাঠান এবং পদত্যাগের নির্দেশ দেন। এদিকে ইশরাক হোসেন এটাকে গুজব বলে এতে কান না দেওয়ার অনুরোধ করেছেন। অন্যদিকে আজ ১৮ অক্টোবর ২০২৬ (রবিবার) বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের "পদত্যাগ" বা "তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে" মর্মে যে সংবাদটি প্রচারিত হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ অসত্য, ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন মাহফুজ কবির মুক্তা, প্রেস কর্মকর্তা, ইশরাক হোসেন এমপি ও প্রতিমন্ত্রী, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। তিনি বলেন, প্রকৃত সত্য এই যে, মাননীয় প্রতিমন্ত্রী তার সরকারি ও রাজনৈতিক দায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সুনামের সাথে পালন করে যাচ্ছেন। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে তাঁকে পদত্যাগের কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি এবং তাঁর পদত্যাগের কোনো প্রশ্নই ওঠে না। একটি মহল রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল এবং জনসাধারণের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টির লক্ষ্যে এই ধরনের কাল্পনিক ও মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে।
মন্ত্রিসভা থেকে ইশরাককে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
স্ত্রীকে দোতলা থেকে ফেলে দিয়ে নিজেও লাফ, বেঁচে ফেরা মাসুদের বর্ণনা
কক্সবাজারের উখিয়ায় পাটুয়ার টেক সৈকতে কাঠের ‘টুপটুপ রিসোর্টে’ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের হৃদয়বিদারক ঘটনায় একই পরিবারের ছয় সদস্যের প্রাণহানি ঘটেছে। এই মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি থেকে কোনোমতে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরেছেন পরিবারের তিনজন সদস্য- ইসমাইল রুহুল মাসুদ (৩৫), তার স্ত্রী মেহেরুন্নেসা মিনা (৩০) এবং তাদের ভাগ্নি জামাই আশিক। আহতদের মধ্যে মেহেরুন্নেসা মিনা বর্তমানে রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, আর তার স্বামী ইসমাইল রুহুল মাসুদ প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ আছেন। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ইনানীর পাটুয়ার টেক সৈকত এলাকার রিসোর্টটিতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আহত ইসমাইল রুহুল মাসুদ সীনহা গ্রুপের একজন মার্চেন্ডাইজার এবং তার স্ত্রী মেহেরুন্নেসা মিনা প্রিমিয়ার ব্যাংকে কর্মরত। তারা রাজধানীর উত্তরা এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। ঢামেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নেয়ার পর মাসুদ জানান, গত বুধবার তাদের পরিবারের ১০ জন সদস্য একসঙ্গে কক্সবাজার ঘুরতে গিয়েছিলেন। ঘটনার আগের দিন একজন সদস্য ঢাকায় ফিরে আসেন। শনিবার তাদের কক্সবাজার থেকে ঢাকায় ফেরার কথা ছিল। ঘটনার মুহূর্ত বর্ণনা করে মাসুদ বলেন, সকাল ৭টায় পরিবারের সকলের হোটেল থেকে বেড় হওয়ার কথা ছিল, তাই ফোনে অ্যালার্ম দেওয়া ছিল। অ্যালার্মের শব্দে আমাদের ঘুম ভেঙে যায়। অ্যালার্ম বন্ধ করে আবার শুতেই দুই-তিন মিনিটের মধ্যে পটমট শব্দ শুনতে পাই এবং চারিদিক ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। আমরা দ্রুত বিছানা থেকে উঠে দাঁড়াতেই রুমের দরজার দিকে চোখ যায়। তিনি আরও জানান, তার স্ত্রী মেহেরুন্নেসা ধোঁয়ার গন্ধ পেয়ে দরজার লক খুলতেই করিডোরে দাউদাউ করে জ্বলতে থাকা আগুনের প্রকাণ্ড গোলা ঘরের ভিতর ঢুকে পড়ে। করিডোর পুরোটাই তখন আগুনে প্লাবিত, ফলে অন্য রুমে থাকা পরিবারের বাকি সদস্যদের সতর্ক বা উদ্ধার করার কোনো সুযোগই তাদের ছিল না। আগুন রুমে ঢুকে পড়ার পর ঘরটি ধোঁয়ায় অন্ধ হয়ে যায়। রুমের বাইরে যাওয়ার একমাত্র উপায় ছিল সামনের একপাশের একটি মোটা ট্রান্সপারেন্ট (স্বচ্ছ) গ্লাস। বাঁচার আকুতিতে মাসুদ, তার স্ত্রী মিনা এবং তাদের ভাগ্নি জামাই আশিক ঘরের গ্লাসে সজোরে লাথি মারতে থাকেন। কিন্তু মোটা কাঁচের সেই গ্লাস ভাঙছিল না। একপর্যায়ে ঘরের কোণায় থাকা একটি কাঠের চেয়ার দিয়ে সজোরে গ্লাসে পরপর আঘাত করেন মাসুদ। চেয়ারটির পা ভেঙে গেলে, সেই ভাঙা পা দিয়ে তৃতীয়বারে সজোরে আঘাত করে অবশেষে গ্লাসটি ভাঙতে সক্ষম হন তারা। দ্বিতীয় তলা থেকে লাফ ও অলৌকিক আত্মরক্ষা রুমের ভেতর তখন আগুন ধরে গেছে এবং বিছানায় আগুন জ্বলছে। বিকল্প কোনো পথ না থাকায় মাসুদ তার স্ত্রীকে দ্বিতীয় তলার ভাঙা গ্লাস দিয়ে নিচে লাফ দেয়ার নির্দেশ দেন। ভয় পেয়ে স্ত্রী গ্লাস ধরে ঝুলে থাকলে মাসুদ তার হাত ছাড়িয়ে নিচে ফেলে দেন। এর পরপরই তিনি নিজে এবং তার পেছনে থাকা ভাগ্নি জামাই আশিক লাফিয়ে পড়েন। নিচে পড়ার সময় একটি কুল/বড়ই গাছের বাধার কারণে সরাসরি মাটিতে আঘাত পান মাসুদ। এতে তার কোমরে তীব্র চোট লাগে এবং তিনি আর সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারছিলেন না। অন্যদিকে তার স্ত্রীর পায়ের কিছু পরিমাণ অংশ গভীরভাবে কেটে গিয়ে প্রচুর রক্তক্ষরণ হতে থাকে। অগ্নিকাণ্ডের অসহ্য উত্তাপ থেকে বাঁচতে তারা কোনোমতে হামাগুড়ি দিয়ে পাশের একটি ধানখেতে গিয়ে আশ্রয় নেন। পরবর্তীতে সেখান থেকে তারা হোটেলের সামনে আসলে দেখতে পান ভেতর আটকে পড়া মানুষজন বাঁচাও-বাঁচাও বলে আকুতি করছেন। তাদের স্বজনরা তখন চিৎকার করে বলছিলেন, আমার ছেলে-মেয়েদের বাঁচান, একটু পানি দেন! এই ট্যুরের পেছনের এক বিষাদময় করুণ গল্প তুলে ধরে মাসুদ জানান, তাদের বড় বোনের মেয়ে ফারিয়া কবির ছিলেন একজন মায়োপ্যাথিক (প্যারালাইজড) রোগী। তিনি কখনও সমুদ্র দেখেননি। ফারিয়ার ইচ্ছা পূরণ করতেই পুরো পরিবার মিলে এই ট্যুরের আয়োজন করেছিল। মাসুদ আক্ষেপ করে বলেন, ফারিয়া বলেছিল সে তো একা কোথাও যেতে পারে না, সবাই মিলে একসঙ্গে গেলে সে সমুদ্র দেখতে পারবে। আমরা দুইবার ওকে কোলে করে এবং চেয়ারে বসিয়ে সমুদ্রের পাড়ে নিয়ে গেছি। ও পানির সাথে খেলা করেছে, ভীষণ আনন্দ পেয়েছে। আসার পথে চাঁদের গাড়িতে বসে সে বলেছিল, ‘আমি যদি এই সমুদ্রের পাড়ে সবসময় থাকতে পারতাম, খুব শান্তি লাগত।’ আজ সত্যিই সে চিরতরে সমুদ্রের পাড়েই রয়ে গেল। দুর্ঘটনার পর প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য তাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য শনিবার রাতে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়। ঢামেকে আসার পর ইসমাইল রুহুল মাসুদ প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ আছেন এবং তার স্ত্রী মেহেরুন্নেসা মিনাকে বার্ন ইউনিটে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে।
স্ত্রীকে দোতলা থেকে ফেলে দিয়ে নিজেও লাফ, বেঁচে ফেরা মাসুদের বর্ণনা
শেরেবাংলা নগরে সরছে সচিবালয়, মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে বাংলাদেশ সচিবালয় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ২০২৯ সালের মধ্যে সেখানে সচিবালয়ের কার্যক্রম চালুর লক্ষ্য নিয়ে শিগগির নির্মাণকাজ শুরু করা হবে। রোববার মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে পিআইডির সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, নতুন সচিবালয় কমপ্লেক্সে প্রায় ৩১ লাখ বর্গফুট আয়তনের ভবন নির্মাণ করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, পুরোনো বাণিজ্য মেলার এলাকায় তিনটি বেজমেন্টসহ ১৪টি ১২ তলা ভবন নির্মাণ করা হবে। সেখানে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ গাড়ি রাখার ব্যবস্থা, একটি মসজিদ ও ক্যাফেটেরিয়া থাকবে। পাশাপাশি আশপাশের সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আন্ডারপাস ও ভূগর্ভস্থ সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। সচিবালয় স্থানান্তরের সিদ্ধান্তের বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, রাজধানীর জন্য প্রণীত আগের মহাপরিকল্পনায় যে এলাকায় সচিবালয়ের জন্য জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছিল, নতুন কমপ্লেক্সটি সেই এলাকাতেই গড়ে তোলা হবে। এ জন্য প্রায় ৩১ একর জমি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, নতুন সচিবালয়ের নকশায় নান্দনিকতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। স্থানটির আগের পরিকল্পনার সঙ্গে নতুন উদ্যোগের কিছু মিল থাকলেও পুরো পরিকল্পনা এক নয়। তবে উভয়ের মধ্যে একটি যোগসূত্র রয়েছে।
শেরেবাংলা নগরে সরছে সচিবালয়, মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত
পিএসসি থেকে সরে দাঁড়ালেন দুই সদস্য
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) দুই সদস্য ড. মো. মহিউদ্দিন ও অধ্যাপক এম সোহেল রহমান পদত্যাগ করেছেন। রাষ্ট্রপতির কাছে তাঁদের পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর আজ রোববার তা আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়েছে বলে জানা গেছে। পদত্যাগপত্রে দুই সদস্যই ব্যক্তিগত কারণ উল্লেখ করেছেন। রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, রোববার (১৮ অক্টোবর) রাষ্ট্রপতি তাঁদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন। জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ড. মো. মহিউদ্দিন রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন এবং শনিবার (১৭ অক্টোবর) পদত্যাগপত্র জমা দেন আরেক সদস্য ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোহেল রহমান। দুই সদস্যের বিদায়ের পর ২০ সদস্যের পিএসসিতে বর্তমান সদস্যসংখ্যা কমে ১৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এর আগে গত আগস্ট মাসে সংস্থাটির তৎকালীন চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেমও ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে দায়িত্ব ছেড়েছিলেন। নতুন করে দুই সদস্য সরে দাঁড়ানোর পর আরও কয়েকজন সদস্য পদত্যাগ করতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।
পিএসসি থেকে সরে দাঁড়ালেন দুই সদস্য
আরও পড়ুন
হামের প্রাদুর্ভাবে নিউইয়র্কে জরুরি অবস্থা ঘোষণা
জাতিসংঘে পাকিস্তান ও ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পৃথক বৈঠক
নিউইয়র্ক নগর পুলিশের ট্রাফিক প্রশিক্ষণে সেরা বাংলাদেশি আল মোর্শেদ
কম খরচে নিউইয়র্কে বাড়ি কেনার সুযোগ, মিলতে পারে ১ লাখ ডলার
X