
বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে কুমিল্লা শহরের বাসা থেকে বের হওয়ার চার দিন পর লালমাই উপজেলার একটি ফসলি জমি থেকে সপ্তম শ্রেণির এক কিশোরীর (১৫) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকাল আটটার দিকে উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগতপুর উত্তরপাড়ার মানুমুড়া জঙ্গল-সংলগ্ন এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
ঘটনাস্থলের পাশে একটি পরিত্যক্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশা পাওয়া গেছে। অটোরিকশাটির ভেতর কিছু পোশাক ও একটি ভ্যানিটি ব্যাগ পাওয়া গেলেও সেগুলো নিহত কিশোরীর কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে কুমিল্লা শহরের বাসা থেকে বের হয় ওই কিশোরী। পরে পরিবারের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে ফোনে যোগাযোগ করে সে বান্ধবীর বাসায় থাকার কথা জানায়। পুলিশের অনুসন্ধানে জানা যায়, বাসা থেকে বের হওয়ার পর সে ব্রাহ্মণবাড়িয়া হয়ে কুমিল্লায় আসে এবং পরে কক্সবাজারে যায়।
বুধবার দুপুরের পর কক্সবাজার থেকে বাসে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা দেয় সে। রাত সাড়ে ১০টার দিকে পদুয়ার বাজারের নূরজাহান হোটেলের সামনে বাস থেকে নামার তথ্য পেয়েছে পুলিশ। এরপর রাত আনুমানিক পৌনে দুইটার দিকে বাবার মোবাইলে খুদে বার্তা ও লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে তাকে এসে নিয়ে যেতে বলে কিশোরী।
তবে ওই সময় বাবা ঘুমিয়ে থাকায় সকালে মেসেজটি দেখতে পান। পরে লাইভ লোকেশন অনুসরণ করে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি জানতে পারেন।
স্থানীয় বাসিন্দা তমাল বণিক বলেন, কাঁচিকাটা-হরিশ্চর বাজার সড়কের পাশে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন আশপাশে খোঁজ করেন। পরে সড়ক থেকে প্রায় ৫০ গজ দূরে ফসলি জমির আইলের পাশে মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়, কিশোরীর গলায় গামছা প্যাঁচানো ছিল এবং মুখে মাটি লেগে ছিল। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।
লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, উদ্ধারের সময় মরদেহের পরিচয় পাওয়া যায়নি। পরে পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস বলেন, পদুয়ার বাজারের নূরজাহান হোটেল থেকে ঘটনাস্থল পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি ঘটনাস্থলের পাশে পাওয়া সিএনজিচালিত অটোরিকশাটিকে কেন্দ্র করেও তদন্ত করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে লালমাই থানায় হত্যা মামলা করেছেন নিহত কিশোরীর বাবা। পরে মরদেহ নিয়ে যশোরের গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছে পরিবার।
নিহত কিশোরীর বাবা বলেন, তাঁর মেয়ের সঙ্গে কী ঘটেছে এবং কারা তাকে হত্যা করেছে, তা তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত বের করে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি যের নিশ্চিত করা হয়।




