
বাংলাদেশ-কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল)-এর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত কিছুদিন ধরে এসআরবি-৪ সংশ্লিষ্ট দালাল চক্রের কার্যক্রমের ওপর ছায়াতদন্ত পরিচালনা করে আসছিল।
তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনায় জানা যায়, চক্রটি বিদেশে চাকরি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়ার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভিন্ন প্রার্থীর কাছ থেকে অর্থ আদায় করত এবং পরবর্তী সময়ে তাদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায়, অদ্য ০৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ আনুমানিক সকাল ০৯০০ ঘটিকায় এসআরবি-৪-এর একটি চৌকস আভিযানিক দল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে পরিকল্পিত অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে দালাল চক্রের মোট ১২ জন সদস্যকে আইনের আওতায় আনা হয়। পরবর্তীতে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় এবং প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, তাদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। তারা হলোঃ
বিভিন্ন মেয়াদে সাজা মোট ৭ জন
(১) সবুজ- (পটুয়াখালী) ৩ মাস।
(২) শামীম- (সিরাজগঞ্জ) ৩ মাস।
(৩) সুজন- (সিরাজগঞ্জ) ১ মাস।
(৪) শাহিন- (পাবনা) ২১ দিন।
(৫) আবুল বাসার- (কিশোরগঞ্জ) ১৫ দিন।
(৬) হারুন- (ভোলা) ০৭ দিন।
(৭) সুরুজ মিয়া- (শরীয়তপুর) ৭ দিন।
অর্থদণ্ড প্রদান মোট ৫ জন
(১) দুর্জয়- (কিশোরগঞ্জ) ১০,০০০/- টাকা।
(২) রেজাউল করিম- (রংপুর) ৫০০০/- টাকা।
(৩) কাইয়ুম- (কিশোরগঞ্জ) ৪০০০/- টাকা।
(৪) রিয়াজ-(ভোলা) ২০০০/- টাকা।
(৫) কামরুন নাহার- (ভোলা) ১০০০/- টাকা।
বাংলাদেশ-কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এটি একটি কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান, যেখানে বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন দক্ষতা ও যোগ্যতা অর্জনে সহায়ক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। এখানে বিভিন্ন মেয়াদের মোট ২৪টি প্রশিক্ষণ পরিচালিত হয়। এসব প্রশিক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট সনদ বিদেশে চাকরির ক্ষেত্রে প্রার্থীদের সহায়ক হতে পারে। তবে এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নিজে বিদেশে কর্মী পাঠানো বা চাকরির ব্যবস্থা করার দায়িত্ব পালন করে না।
বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান, যা বৈধ প্রক্রিয়ায় বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি ও কর্মী নিয়োগের কার্যক্রম পরিচালনা করে। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, বোয়েসেল প্রতি শুক্রবার ও শনিবার বিদেশে কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে পরীক্ষা গ্রহণ করে এবং বাংলাদেশ-কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এসব পরীক্ষার একটি ভেন্যু হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
বোয়েসেল নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোন প্রার্থীদের কাছ থেকে কোনো ধরনের ফি গ্রহণ করে না। সম্পূর্ণ বিনা খরচে একজন প্রার্থী শুধুমাত্র নিজ পাসপোর্ট থাকলেই বিদেশে কর্মস্থানের জন্য বোয়েসেলের মাধ্যমে যেতে পারে। তবে এই বিষয়টিকে কাজে লাগিয়ে প্রতারক চক্রের সদস্যরা প্রার্থীদের স্বল্প খরচে, আনুমানিক ৪০ হাজার থেকে ১০ লক্ষ (যার কাছ থেকে যেমন নিতে পারে) টাকার বিনিময়ে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ করানোসহ বিদেশে পাঠানোর মিথ্যা নিশ্চয়তা দিত বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরবর্তী সময়ে তারা বিভিন্ন অজুহাতে প্রার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে আত্মসাৎ করত বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এ ধরনের প্রতারণার ফলে একদিকে যেমন বিদেশে কর্মসংস্থানের প্রত্যাশী সাধারণ মানুষ আর্থিক ক্ষতির শিকার হন, অন্যদিকে বৈধ নিয়োগপ্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনসাধারণের আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
এসআরবি-৪ মনে করে, বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে প্রতারণা একটি গুরুতর সামাজিক সমস্যা। এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, বৈধ নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পর্কে সঠিক তথ্য প্রচার এবং প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ অবস্থায় আমরা বিদেশে যেতে ইচ্ছুক সকল প্রার্থী ও তাঁদের অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি—বিদেশে চাকরি, ওয়ার্কিং ভিসা কিংবা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার নিশ্চয়তা দিয়ে কেউ অর্থ দাবি করলে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো অর্থ প্রদান করবেন না। সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠান ও অনুমোদিত নিয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে তথ্য যাচাই করুন এবং প্রতারণার শিকার হলে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করুন।
বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে প্রতারণা প্রতিরোধ এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থ সুরক্ষায় এসআরবি-৪ তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আপনাদের সহযোগিতা ও সচেতনতার মাধ্যমে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব বলে আমরা বিশ্বাস করি।




