ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

নারীর স্বাস্থ্যসেবায় ২৫০ মিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগের উদ্যোগ বাংলাদেশ ও ইআইবির

কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, বিশেষ প্রতিনিধি

  ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:৪৩ পিএম
নারীর স্বাস্থ্যসেবায় ২৫০ মিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগের উদ্যোগ বাংলাদেশ ও ইআইবির

নারীর স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন ও দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করতে ২৫০ মিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার ও ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংক (ইআইবি)। ‘উইমেনস হেলথ ইনিশিয়েটিভ’ নামের এ কর্মসূচির আওতায় ২০২৭ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত প্রায় ৪ কোটি ৭০ লাখ নারী ও কিশোরীর স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

বুলেটিন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

শনিবার (১০ অক্টোবর) জার্মানির বার্লিনে বাংলাদেশ দূতাবাসে ওয়ার্ল্ড হেলথ সামিট ২০২৬ উপলক্ষে ‘নারী স্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্যসেবার সহনশীলতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক এক সভায় এ উদ্যোগের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। এতে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।

কর্মসূচিটির আওতায় মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা, জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যানসারের চিকিৎসা এবং জরুরি প্রসূতিসেবার মান উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, জেলা হাসপাতালের সক্ষমতা, রোগী স্থানান্তর ও রেফারেল ব্যবস্থা এবং নিবিড় পরিচর্যাসেবা শক্তিশালী করা হবে। ভবিষ্যতে মহামারি ও অন্যান্য জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি মোকাবিলায়ও এ উদ্যোগ সহায়ক হবে।

সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, নারী ও কিশোরীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রোগ প্রতিরোধকে অগ্রাধিকার দিয়ে সবার জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংক ও জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) সঙ্গে অংশীদারত্ব এ লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, চিকিৎসানির্ভর স্বাস্থ্যব্যবস্থা থেকে রোগ প্রতিরোধ ও স্বাস্থ্যোন্নয়নকেন্দ্রিক ব্যবস্থায় রূপান্তরের ক্ষেত্রে এ বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট মারেক মোরা বলেন, নারীর স্বাস্থ্যে বিনিয়োগ পরিবার ও সমাজের সক্ষমতা বাড়ায় এবং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করে।

এ উদ্যোগ প্রণয়নে সহায়তা করেছে ইউএনএফপিএ এবং সংস্থাটির উদ্ভাবনী কর্মসূচি ‘উইমেনএক্স কালেকটিভ’। কর্মসূচি বাস্তবায়নের পর্যায়েও সংস্থাটি কারিগরি সহায়তা দেবে। ইউএনএফপিএর নির্বাহী পরিচালক দিয়েন কিটা বলেন, নারীর স্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘদিনের অর্থায়ন ঘাটতি পূরণে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে লাখ লাখ নারী ও কিশোরীর স্বাস্থ্যসেবায় দীর্ঘস্থায়ী উন্নতি আনা সম্ভব হবে।

স্বাস্থ্য খাতের সংস্কারের অংশ হিসেবে সরকার মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১ শতাংশ থেকে পর্যায়ক্রমে স্বাস্থ্য খাতে সরকারি ব্যয় ৫ শতাংশে উন্নীত করার অঙ্গীকার করেছে। এ ছাড়া ১ লাখ কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে, যাঁদের ৮০ শতাংশই নারী। সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে ২৫ হাজার পেশাদার মিডওয়াইফ নিয়োগেরও পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

কর্মসূচিটির কারিগরি সহায়তার জন্য ইউএনএফপিএ অন্তত ২৫ মিলিয়ন ইউরো অনুদান সংগ্রহ করছে। এতে জার্মানির ফেডারেল মিনিস্ট্রি ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিএমজেড) এবং বেসরকারি খাতের অংশীদাররাও সহায়তা দিচ্ছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) বার্লিনে ওয়ার্ল্ড হেলথ সামিট ২০২৬-এর একটি প্যানেল আলোচনায় বাংলাদেশ সরকার এ উদ্যোগ তুলে ধরবে।

উল্লেখ্য, ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংক ইউরোপীয় ইউনিয়নের মালিকানাধীন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বহুপক্ষীয় উন্নয়ন ব্যাংক। অন্যদিকে, ইউএনএফপিএ জাতিসংঘের প্রজনন ও মাতৃস্বাস্থ্যবিষয়ক সংস্থা। বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলে নারী ও কিশোরীদের স্বাস্থ্য ও অধিকার সুরক্ষায় কাজ করছে সংস্থাটি। বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ইউএনএফপিএর অংশীদারত্ব শুরু হয় ১৯৭৪ সালে।

পিএসসি থেকে সরে দাঁড়ালেন দুই সদস্য
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) দুই সদস্য ড. মো. মহিউদ্দিন ও অধ্যাপক এম সোহেল রহমান পদত্যাগ করেছেন। রাষ্ট্রপতির কাছে তাঁদের পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর আজ রোববার তা আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়েছে বলে জানা গেছে। পদত্যাগপত্রে দুই সদস্যই ব্যক্তিগত কারণ উল্লেখ করেছেন। রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, রোববার (১৮ অক্টোবর) রাষ্ট্রপতি তাঁদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন। জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ড. মো. মহিউদ্দিন রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন এবং শনিবার (১৭ অক্টোবর) পদত্যাগপত্র জমা দেন আরেক সদস্য ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোহেল রহমান। দুই সদস্যের বিদায়ের পর ২০ সদস্যের পিএসসিতে বর্তমান সদস্যসংখ্যা কমে ১৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এর আগে গত আগস্ট মাসে সংস্থাটির তৎকালীন চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোবাশ্বের মোনেমও ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে দায়িত্ব ছেড়েছিলেন। নতুন করে দুই সদস্য সরে দাঁড়ানোর পর আরও কয়েকজন সদস্য পদত্যাগ করতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।
পিএসসি থেকে সরে দাঁড়ালেন দুই সদস্য
অমর একুশে বইমেলা শুরু ৭ জানুয়ারি
২০২৭ সালের অমর একুশে বইমেলা শুরু হবে আগামী ৭ জানুয়ারি। এটি চলবে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। রবিবার (১৮ অক্টোবর) বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৩ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টায় বাংলা একাডেমির শহিদ মুনীর চৌধুরী সভাকক্ষে অমর একুশে বইমেলা ২০২৭ আয়োজন বিষয়ে প্রকাশক-প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক মত-বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী সভাপতিত্ব করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান ও মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন বেগম। এতে আরও বলা হয়, সভায় প্রকাশক-প্রতিনিধিদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে আগামী ৭ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অমর একুশে বইমেলার সময় নির্ধারিত হয়।
অমর একুশে বইমেলা শুরু ৭ জানুয়ারি
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ জনের মৃত্যু, চলতি বছরে প্রাণহানি ১১৯৬
দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর হামের উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯২ জনে। একই সময়ে নিশ্চিত হামে মারা গেছেন আরও ১০৪ জন। সব মিলিয়ে চলতি বছরে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৯৬ জনে। রোববার (১৮ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর পাশাপাশি নিশ্চিত হামে মৃত্যুর ঘটনাও জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগ তৈরি করছে। চলতি বছরে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্কতা ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বুলেটিনে বলা হয়, শনিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগে ৩ জন, সিলেট বিভাগে ২ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১ জন এবং খুলনা বিভাগে ১ জন মারা গেছেন। এ সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ৩১৯ জন রোগী এসেছে। বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে ৫৩৮ জন, রাজশাহীতে ৩৭, সিলেটে ১২৩ , চট্টগ্রামে ২২১ জন, বরিশালে ২০৫, ময়মনসিংহে ৭৩, খুলনায় ৭৫, এবং রংপুরে ৪৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৮৯ হাজার ৪৮৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৮১ হাজার ৭৫৬ জন চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে সন্দেহজনক হামের রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৩ হাজার ২৪৪ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছেন ২৩ হাজার ১২২ জন।
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ জনের মৃত্যু, চলতি বছরে প্রাণহানি ১১৯৬
ডেঙ্গুতে এক দিনে আরও ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজার ৮৮
দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ উদ্বেগজনকভাবে অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত ২ হাজার ৮৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। রোববার (১৮ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪৮ জনে। এর মধ্যে শুধু অক্টোবরের প্রথম ১৭ দিনেই ১০৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর চলতি বছরের মাসভিত্তিক হিসাবে সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়। এ ছাড়া আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন এবং মে মাসে একজন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে। বছরের শুরুতে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি—প্রতি মাসে দুজন করে ডেঙ্গুতে মারা যান। বুলেটিনে বলা হয়, শনিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২ হাজার ৮৮ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২ হাজার ৪০০ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ হাজার ৮২৭ জন। এ পর্যন্ত মোট ৯৮ হাজার ৮৯৯ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে ১ হাজার ৫৮ জন। এছাড়া চট্টগ্রামে ১৬১ জন, খুলনায় ২৯০ জন, বরিশালে ১৯৯ জন, রাজশাহীতে ২০০ জন, ময়মনসিংহে ৯৩ জন এবং রংপুরে ৭২ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের প্রথম ১৭ দিনেই ডেঙ্গুতে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে গত ২৪ ঘণ্টায় দুই হাজারের বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
ডেঙ্গুতে এক দিনে আরও ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজার ৮৮
বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান আব্দুল হান্নান কাতারে গ্রেপ্তার
অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং অর্থ পাচারের অভিযোগে দুদকের দুই মামলার আসামি বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নান কাতারে গ্রেপ্তার হয়েছেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম রোববার আমার দেশকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। গত ১৫ অক্টোবর তাকে গ্রেফতার করে কাতার পুলিশ। ইন্টারপোল মেইলের মাধ্যমে দুদককে এ বিষয়ে নিশ্চিত করেছে। শেখ আব্দুল হান্নান ও তার স্ত্রী তাহমিদা বেগমের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে দুটি মামলা করে দুদক। দুদকের উপপরিচালক মো. তানজির হাসিব সরকার বাদী হয়ে সংস্থাটির সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১-এ মামলা দুটি দায়ের করেন। সেদিন দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, শেখ আব্দুল হান্নান জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ৩ কোটি ২৮ লাখ ৫১ হাজার ৫০৬ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন বলে অনুসন্ধানে তথ্য পাওয়া গেছে। পাশাপাশি তার নামে থাকা ছয়টি ব্যাংক হিসাবে ২৭ কোটি ৬৩ লাখ ৬৬ হাজার ৭০০ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ আনা হয়। দুদকের অভিযোগ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধমূলক অসদাচরণের মাধ্যমে এসব সম্পদ অর্জন করেছেন সাবেক এই বিমান বাহিনী প্রধান। সন্দেহজনক ব্যাংক লেনদেনের মাধ্যমে তিনি অর্থের উৎস গোপন করেছেন বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করা হয়। অপর মামলায় হান্নানের স্ত্রী তাহমিদা বেগমের বিরুদ্ধে ১ কোটি ৯১ লাখ ৯০ হাজার ৩০৪ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়। এ ছাড়া তার নামে থাকা ৩২টি ব্যাংক হিসাবে ১ কোটি ১৮ লাখ ১৯ হাজার ৯২৩ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়ার কথা জানায় দুদক। মামলায় অভিযোগ করা হয়, স্বামীর সহায়তায় তাহমিদা এসব সম্পদ অর্জন করেছেন। ওই মামলায় তাহমিদার পাশাপাশি শেখ আব্দুল হান্নানকেও আসামি করা হয়। দুদকের অনুসন্ধানে কাতার, দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে হান্নানের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সম্পদের তথ্য পাওয়ার কথাও জানানো হয়েছিল। এ ছাড়া কানাডায় তার সন্তানদের নামে বিপুল সম্পদের তথ্য পাওয়ার দাবি করে সংস্থাটি। এসব সম্পদের বিস্তারিত তথ্য মামলার তদন্তে যাচাই করা হবে বলে সে সময় জানানো হয়। দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের মধ্যেই ২০২৫ সালের ৫ মে হান্নান, তার স্ত্রী তাহমিদা বেগম ও ছেলে শেখ লাবিব হান্নানের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেয় আদালত। পরদিন দুদকের আবেদনে হান্নানের জমি, বাড়ি ও তিনটি ফ্ল্যাট জব্দের আদেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি তার ছয়টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দেয় আদালত। একই বছরের ২৪ মে হান্নান, তার স্ত্রী ও ছেলের নামে থাকা মোট ৩৮টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দেওয়া হয়। এরপর ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর হান্নানের সহযোগী সানজিদা আক্তারের নামে থাকা দুটি ফ্ল্যাট জব্দ এবং ১০টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দেয় আদালত। দুদকের আবেদনে অভিযোগ করা হয়, অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ গোপন করতে সানজিদার নামে ফ্ল্যাট দুটি কিনেছিলেন হান্নান। চলতি বছরের ৩০ মার্চ হান্নান ও তার স্ত্রী তাহমিদার আয়কর নথি জব্দের আদেশ দেয় আদালত। মামলার তদন্তের প্রয়োজনে দুদকের পৃথক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেওয়া হয়। সর্বশেষ ২০ সেপ্টেম্বর হান্নানের নামে বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় থাকা ৩৪ শতাংশ জমি ক্রোকের আদেশ দেয় আদালত। জমিটির দলিলমূল্য ১৭ লাখ ৬৪ হাজার টাকা বলে দুদকের আবেদনে উল্লেখ করা হয়। শেখ হাসিনা সরকারের সময় ২০২১ সালের ১২ জুন বিমান বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন শেখ আব্দুল হান্নান। ২০২৪ সালের ১১ জুন তিনি অবসরে যান।
বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান আব্দুল হান্নান কাতারে গ্রেপ্তার
আরও পড়ুন
কৈশোরকালীন স্বাস্থ্যসেবার ট্যাবু ভাঙতে হবে, দ্রুত কাজে যেতে চাই: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
বাংলাদেশে জার্মান বিনিয়োগ বাড়াতে বিজিসিসিআই-রাষ্ট্রদূতের আলোচনা
নগর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নতুনভাবে ঢেলে সাজাচ্ছে সরকার: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
চিকিৎসক-ওষুধ সংকটে মাদারীপুরের গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা, বিপাকে দরিদ্ররা
X