ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

আত্মমর্যাদা রক্ষাই হবে আগামীর বাংলাদেশের মূল অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক

  ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৪ এএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে সশস্ত্র বাহিনীকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষ ও আধুনিক হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠায় সরকার গুরুত্ব আরোপ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইসঙ্গে সেনাসদস্যদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে যুগান্তকারী ‘ওয়ান র‍্যাংক ওয়ান পেনশন’ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বুলেটিন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে সেনাবাহিনীর কয়েকটি ব্যাটালিয়ন ও রেজিমেন্টকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড বা জাতীয় পতাকা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ৯ম পদাতিক ডিভিশনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সম্মানজনক অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, উপদেষ্টা, সেনাবাহিনী প্রধান, বিদেশি কূটনীতিক এবং সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পেশাগত সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ এদিন ৭ ও ৩২ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, ২৫ এয়ার ডিফেন্স রেজিমেন্ট, ৯ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন, ৫৬ ও ৫৭ ইস্ট বেঙ্গল এবং প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর) জাতীয় পতাকা প্রাপ্তির গৌরব অর্জন করে।

সেনাবাহিনীর এই গৌরবময় অর্জনে অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড শুধু একটি পতাকা নয়, বরং এটি একটি ইউনিটের ইতিহাস, ঐতিহ্য, শৃঙ্খলা, আত্মত্যাগ, পেশাদারিত্ব এবং দেশের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতীক।

জাতীয় পতাকা অর্জনের অর্থ হলো আপনাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব আরও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করার নতুন শপথ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর ইমেজ বিনষ্টের অপচেষ্টা হলেও স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জন্ম হয়েছে।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে স্বাধীনতাকামী মানুষের ওপর বর্বরোচিত হামলা শুরু হলে অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের তৎকালীন উপ-অধিনায়ক মেজর জিয়াউর রহমান ‘উই রিভোল্ট’ উচ্চারণ করেছিলেন। ২৬ মার্চ রাত ২টা ১৫ মিনিটে তিনি সশস্ত্র সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়ার নির্দেশ দেন এবং ২৭ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন, যা দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে পড়ে।

জিয়াউর রহমানের নিজের লেখা ‘একটি জাতির জন্ম’ নিবন্ধের উদ্ধৃতি দিয়ে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের জন্মযুদ্ধের সঙ্গে সেনাবাহিনীর জন্ম ইতিহাস অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। এ কারণেই স্বাধীনতাপ্রিয় দেশপ্রেমিক জনগণ সেনাবাহিনীর যেকোনো সাফল্যকে বাংলাদেশের সাফল্য বলেই মনে করে।

বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে জাতীয় নিরাপত্তার ধারণা বদলে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্থল, সমুদ্র ও আকাশের পাশাপাশি সাইবার স্পেস, মহাকাশ, ড্রোন, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই), ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং তথ্যভিত্তিক সক্ষমতা বর্তমানে জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই বাস্তবতায় আমাদের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিকেও সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে নেওয়ার কাজ চলমান।

প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে দেশীয় শিল্পের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, সরকার সর্বক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অস্ত্র, গোলাবারুদ ও প্রতিরক্ষা সামগ্রী দেশেই উৎপাদনের জন্য দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছে। সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী যেন প্রয়োজনের মুহূর্তে সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারে, সে লক্ষ্যে আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।


সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের কল্যাণে বর্তমান সরকারের নানা উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান জানান, ইতোমধ্যেই জাতীয় পে-স্কেলে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের বেতন ও ভাতা ১০০ শতাংশ থেকে ১৩৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

তিনি সুসংবাদ দিয়ে বলেন, সেনাসদস্যদের জীবনযাপনের মান আরও উন্নত করার লক্ষ্যে ‘ওয়ান র‍্যাংক ওয়ান পেনশন’ বাস্তবায়নের বিষয়টি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সরকার সেনা সদস্যদের আবাসন, চিকিৎসা, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং অবসর-পরবর্তী সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়গুলোকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশে শান্তিরক্ষা মিশনে, এমনকি দেশের ভেতরে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জরুরি পরিস্থিতিতে সশস্ত্র বাহিনীর প্রশংসনীয় ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদা রক্ষাই হবে আগামীর বাংলাদেশের মূল অঙ্গীকার। বাংলাদেশ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা সুদৃঢ় করতে চায়।

হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ জনের মৃত্যু, চলতি বছরে প্রাণহানি ১১৯৬
দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর হামের উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯২ জনে। একই সময়ে নিশ্চিত হামে মারা গেছেন আরও ১০৪ জন। সব মিলিয়ে চলতি বছরে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৯৬ জনে। রোববার (১৮ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর পাশাপাশি নিশ্চিত হামে মৃত্যুর ঘটনাও জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগ তৈরি করছে। চলতি বছরে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্কতা ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বুলেটিনে বলা হয়, শনিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগে ৩ জন, সিলেট বিভাগে ২ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১ জন এবং খুলনা বিভাগে ১ জন মারা গেছেন। এ সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ৩১৯ জন রোগী এসেছে। বিভাগভিত্তিক হিসাবে, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে ৫৩৮ জন, রাজশাহীতে ৩৭, সিলেটে ১২৩ , চট্টগ্রামে ২২১ জন, বরিশালে ২০৫, ময়মনসিংহে ৭৩, খুলনায় ৭৫, এবং রংপুরে ৪৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৮৯ হাজার ৪৮৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৮১ হাজার ৭৫৬ জন চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে সন্দেহজনক হামের রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৩ হাজার ২৪৪ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছেন ২৩ হাজার ১২২ জন।
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ জনের মৃত্যু, চলতি বছরে প্রাণহানি ১১৯৬
ডেঙ্গুতে এক দিনে আরও ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজার ৮৮
দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ উদ্বেগজনকভাবে অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত ২ হাজার ৮৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। রোববার (১৮ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪৮ জনে। এর মধ্যে শুধু অক্টোবরের প্রথম ১৭ দিনেই ১০৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর চলতি বছরের মাসভিত্তিক হিসাবে সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়। এ ছাড়া আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন এবং মে মাসে একজন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে। বছরের শুরুতে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি—প্রতি মাসে দুজন করে ডেঙ্গুতে মারা যান। বুলেটিনে বলা হয়, শনিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২ হাজার ৮৮ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২ হাজার ৪০০ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ হাজার ৮২৭ জন। এ পর্যন্ত মোট ৯৮ হাজার ৮৯৯ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে ১ হাজার ৫৮ জন। এছাড়া চট্টগ্রামে ১৬১ জন, খুলনায় ২৯০ জন, বরিশালে ১৯৯ জন, রাজশাহীতে ২০০ জন, ময়মনসিংহে ৯৩ জন এবং রংপুরে ৭২ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের প্রথম ১৭ দিনেই ডেঙ্গুতে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে গত ২৪ ঘণ্টায় দুই হাজারের বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
ডেঙ্গুতে এক দিনে আরও ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজার ৮৮
বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান আব্দুল হান্নান কাতারে গ্রেপ্তার
অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং অর্থ পাচারের অভিযোগে দুদকের দুই মামলার আসামি বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নান কাতারে গ্রেপ্তার হয়েছেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম রোববার আমার দেশকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। গত ১৫ অক্টোবর তাকে গ্রেফতার করে কাতার পুলিশ। ইন্টারপোল মেইলের মাধ্যমে দুদককে এ বিষয়ে নিশ্চিত করেছে। শেখ আব্দুল হান্নান ও তার স্ত্রী তাহমিদা বেগমের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে দুটি মামলা করে দুদক। দুদকের উপপরিচালক মো. তানজির হাসিব সরকার বাদী হয়ে সংস্থাটির সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১-এ মামলা দুটি দায়ের করেন। সেদিন দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, শেখ আব্দুল হান্নান জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ৩ কোটি ২৮ লাখ ৫১ হাজার ৫০৬ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন বলে অনুসন্ধানে তথ্য পাওয়া গেছে। পাশাপাশি তার নামে থাকা ছয়টি ব্যাংক হিসাবে ২৭ কোটি ৬৩ লাখ ৬৬ হাজার ৭০০ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ আনা হয়। দুদকের অভিযোগ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধমূলক অসদাচরণের মাধ্যমে এসব সম্পদ অর্জন করেছেন সাবেক এই বিমান বাহিনী প্রধান। সন্দেহজনক ব্যাংক লেনদেনের মাধ্যমে তিনি অর্থের উৎস গোপন করেছেন বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করা হয়। অপর মামলায় হান্নানের স্ত্রী তাহমিদা বেগমের বিরুদ্ধে ১ কোটি ৯১ লাখ ৯০ হাজার ৩০৪ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়। এ ছাড়া তার নামে থাকা ৩২টি ব্যাংক হিসাবে ১ কোটি ১৮ লাখ ১৯ হাজার ৯২৩ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়ার কথা জানায় দুদক। মামলায় অভিযোগ করা হয়, স্বামীর সহায়তায় তাহমিদা এসব সম্পদ অর্জন করেছেন। ওই মামলায় তাহমিদার পাশাপাশি শেখ আব্দুল হান্নানকেও আসামি করা হয়। দুদকের অনুসন্ধানে কাতার, দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে হান্নানের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সম্পদের তথ্য পাওয়ার কথাও জানানো হয়েছিল। এ ছাড়া কানাডায় তার সন্তানদের নামে বিপুল সম্পদের তথ্য পাওয়ার দাবি করে সংস্থাটি। এসব সম্পদের বিস্তারিত তথ্য মামলার তদন্তে যাচাই করা হবে বলে সে সময় জানানো হয়। দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের মধ্যেই ২০২৫ সালের ৫ মে হান্নান, তার স্ত্রী তাহমিদা বেগম ও ছেলে শেখ লাবিব হান্নানের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেয় আদালত। পরদিন দুদকের আবেদনে হান্নানের জমি, বাড়ি ও তিনটি ফ্ল্যাট জব্দের আদেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি তার ছয়টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দেয় আদালত। একই বছরের ২৪ মে হান্নান, তার স্ত্রী ও ছেলের নামে থাকা মোট ৩৮টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দেওয়া হয়। এরপর ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর হান্নানের সহযোগী সানজিদা আক্তারের নামে থাকা দুটি ফ্ল্যাট জব্দ এবং ১০টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দেয় আদালত। দুদকের আবেদনে অভিযোগ করা হয়, অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ গোপন করতে সানজিদার নামে ফ্ল্যাট দুটি কিনেছিলেন হান্নান। চলতি বছরের ৩০ মার্চ হান্নান ও তার স্ত্রী তাহমিদার আয়কর নথি জব্দের আদেশ দেয় আদালত। মামলার তদন্তের প্রয়োজনে দুদকের পৃথক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেওয়া হয়। সর্বশেষ ২০ সেপ্টেম্বর হান্নানের নামে বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় থাকা ৩৪ শতাংশ জমি ক্রোকের আদেশ দেয় আদালত। জমিটির দলিলমূল্য ১৭ লাখ ৬৪ হাজার টাকা বলে দুদকের আবেদনে উল্লেখ করা হয়। শেখ হাসিনা সরকারের সময় ২০২১ সালের ১২ জুন বিমান বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন শেখ আব্দুল হান্নান। ২০২৪ সালের ১১ জুন তিনি অবসরে যান।
বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান আব্দুল হান্নান কাতারে গ্রেপ্তার
চালকদের দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা ও বিনামূল্যে চশমা বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন
জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে চালকদের জন্য বিশেষ দৃষ্টি পরীক্ষা ও বিনামূল্যে চশমা বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।  আজ রোববার বাংলাদেশ সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের মিনি কনফারেন্স রুমে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এমপি।  বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এমপি এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক।  এ সময় ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিশা মাহজাবিন উপস্থিত ছিলেন।  কর্মসূচির আওতায় রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সহ ৩৯টি মন্ত্রণালয়ের প্রায় ৩০০ জন চালকের দৃষ্টি পরীক্ষা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।  জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচি মোট পাঁচ দিনব্যাপী চলবে। ১৮-১৯ অক্টোবর এবং ২৫-২৭ অক্টোবর পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ে এ কর্মসূচির আওতায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও কার্যালয়ের চালকদের দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা করা হবে এবং পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে প্রয়োজন অনুযায়ী বিনামূল্যে চশমা প্রদান করা হবে। কর্মসূচিটি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছে ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশ। সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে চালকদের সুস্পষ্ট দৃষ্টিশক্তির গুরুত্ব তুলে ধরা এবং চালক ও যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে সহায়তা করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। দৃষ্টিশক্তির সমস্যার কারণে সড়কে সম্ভাব্য ঝুঁকি কমানো এবং চালকদের স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধিতেও এ কর্মসূচি ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।  সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চালকদের শারীরিক সক্ষমতা ও সুস্থতার পাশাপাশি দৃষ্টিশক্তির প্রতি যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে চালকদের দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চশমা সরবরাহের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় সড়কে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা আরও জোরদার হবে। 
চালকদের দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা ও বিনামূল্যে চশমা বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন
ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের সঙ্গে সিঙ্গাপুর হাইকমিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সের বৈঠক
ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীর সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত সিঙ্গাপুর হাইকমিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স (ভারপ্রাপ্ত) মি. ফিলিপ অং-এর একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।  আজ রবিবার ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিবেশ, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে মি. ফিলিপ অং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব কর্তৃপক্ষকে (পিপিপি কর্তৃপক্ষ) একীভূত করে ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ গঠনের উদ্যোগের প্রশংসা করেন।  তিনি বলেন, এ ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও সমন্বিত, দ্রুত ও কার্যকর সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক একীভূতকরণ ও সমন্বয়ের এ উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারিত হতে পারে এবং পর্যায়ক্রমে আরও প্রতিষ্ঠানকে এর সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে। তিনি জানান, বিনিয়োগকারীদের জন্য কার্যকর লজিস্টিকস সহায়তা নিশ্চিত করা, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে বিনিয়োগ উৎসাহিত করা, বেসরকারিকরণ কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া, ডিজিটালাইজেশন ত্বরান্বিত করা এবং শিল্পের বিকাশে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। বৈঠকে বাংলাদেশের অবকাঠামো ও লজিস্টিকস খাতে সিঙ্গাপুরের বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। এ সময় সিঙ্গাপুরের বৈশ্বিক বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান পিএসএ ইন্টারন্যাশনালের অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতার প্রসঙ্গ তুলে ধরে বাংলাদেশের টার্মিনাল উন্নয়ন ও পরিচালনায় সম্পৃক্ত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। মি. ফিলিপ অং বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করার এবং দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার আগ্রহ ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে তিনি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধির জন্য নীতিগত ধারাবাহিকতা, স্বচ্ছতা এবং পূর্বানুমানযোগ্য ব্যবসায়িক পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বৈঠকে বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে বিনিয়োগ, অবকাঠামো, লজিস্টিকস এবং শিল্প উন্নয়ন খাতে সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টির বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের সঙ্গে সিঙ্গাপুর হাইকমিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সের বৈঠক
আরও পড়ুন
সেনাবাহিনীর ৭টি ইউনিটকে জাতীয় পতাকা প্রদান করলেন প্রধানমন্ত্রী
যে কারণে চার ঘণ্টায় রাজধানীর ১৩ স্পটে আকস্মিক পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী
শিশু হাসপাতালে চিকিৎসকের কক্ষে ধূমপান, বরখাস্তের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
সকালে উঠে নাশতা তৈরি করি, থালাবাসনও ধুই: জাপানের প্রধানমন্ত্রী
X