
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) থেকে শুরু হচ্ছে টানা পাঁচ দিনের ছুটি। আগামী ২৪ অক্টোবর (শনিবার) পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ ছুটি উপভোগ করবেন।
এ সময় সরকারি ছুটির আওতায় বন্ধ থাকবে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, শেয়ারবাজার ও আদালত। তবে জরুরি পরিষেবা, হাসপাতাল, চিকিৎসাসেবা এবং জরুরি কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও কর্মীরা এ ছুটির আওতার বাইরে থাকবেন।
সেই হিসাবে আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) ছুটির আগে শেষ কর্মদিবস। সোমবার সকাল থেকে সচিবালয়ের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ঘুরে দেখা গেছে, দীর্ঘ ছুটির আগের শেষ কর্মদিবসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বাভাবিক উপস্থিতি রয়েছে। স্বাভাবিকভাবে চলছে অন্যান্য কার্যক্রমও। সকাল ৯টায় সচিবালয়ে উপস্থিত হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর তিনি ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যান।
টানা পাঁচ দিনের ছুটি উপলক্ষে সোমবার বিকেল থেকে বাস, রেলস্টেশন ও লঞ্চ টার্মিনালে যাত্রীদের ভিড় বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গত ৭ অক্টোবর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দুদিনের সাপ্তাহিক ছুটি।
পূজার ছুটি ও সাপ্তাহিক ছুটির মাঝখানে থাকা ২২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) ছুটি ঘোষণা করায় টানা পাঁচ দিনের ছুটির সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে এর আগে ১৭ অক্টোবর শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে অফিস খোলা ছিল।
গত সোমবার (৫ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে সাধারণ ছুটি ও নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটির তারিখ পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।
২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর (মঙ্গলবার) মহানবমী উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে এবং ২১ অক্টোবর (বুধবার) বিজয়া দশমী উপলক্ষে সাধারণ ছুটি রয়েছে। ২২ অক্টোবর অফিস খোলা ছিল। ওই দিনও নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণার প্রস্তাব অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। ফলে পূজার তিন দিনের ছুটির পর ২৩ ও ২৪ অক্টোবর শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় টানা পাঁচ দিনের ছুটি কাটানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
ছুটি ঘোষণার প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬ উপলক্ষে ২০ থেকে ২২ অক্টোবর যথাক্রমে মঙ্গলবার, বুধবার ও বৃহস্পতিবার ছুটি থাকবে। এরপর ২৩ ও ২৪ অক্টোবর (শুক্র ও শনিবার) সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের ছুটি কাটানো যাবে।
ছুটির আওতার বাইরে থাকবেন যারা
১. জরুরি পরিষেবা: বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দরগুলোর কার্যক্রম, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট, ডাক সেবা এবং এসব সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যানবাহন ও কর্মীরা এ ছুটির আওতার বাইরে থাকবেন।
২. হাসপাতাল ও জরুরি সেবা: হাসপাতাল, জরুরি সেবা এবং এসব সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মীরা ছুটির আওতার বাইরে থাকবেন।
৩. চিকিৎসাসেবা: চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক ও কর্মীরা এবং ওষুধসহ চিকিৎসা সরঞ্জাম বহনকারী যানবাহন ও কর্মীরা এ ছুটির আওতার বাইরে থাকবেন।
৪. জরুরি দাপ্তরিক কার্যক্রম: জরুরি কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত অফিসগুলো এ ছুটির আওতার বাইরে থাকবে।
৫. ব্যাংক ও আদালত: ব্যাংক কার্যক্রম চালু রাখার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে। আদালতের কার্যক্রমের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে।
৬. বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও কলকারখানা: বেসরকারি খাতের শিল্পপ্রতিষ্ঠান, কলকারখানা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের জন্য সাধারণ ছুটি ঘোষণার ক্ষেত্রে ‘বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬’ অনুযায়ী শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।




