ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

কেন হঠাৎ কাউকে দেখতে ইচ্ছে করে

চৌধুরী তানভীর আহম্মেদ

  ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:৫১ পিএম
আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬:০০ পিএম
প্রতীকি ছবি

একটি পুরনো সড়ক, কিছু পাখির ডাক, পুবালী বাতাস আর বেঙ্গল গ্যালারির এক কাপ চা—কখনো কখনো একটি সম্পর্কের পুরো ইতিহাস লুকিয়ে থাকে সামান্য কিছু স্মৃতির ভেতর। মানুষ চলে যায়, শহর বদলায়, রাস্তার চেহারা পাল্টে যায়; কিন্তু কিছু বিকেল থেকে যায় ঠিক আগের মতো। সেইসব বিকেলের কাছে ফিরে গিয়ে আজও কেউ হয়তো নিঃশব্দে বলে—আজ তোমাকে ভীষণ দেখতে ইচ্ছে করছে, ‘তোমার কি একটু সময় হবে?’

বুলেটিন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

কিছু ইচ্ছের কোনো যুক্তি থাকে না। থাকে না কোনো বিশেষ উপলক্ষও। তারা হঠাৎ এসে দরজায় দাঁড়ায়। একেবারে বিনা নোটিশে।

কোনো এক বৃহস্পতিবারের বিকেলে, জানালার পাশে বসে থাকতে থাকতে হয়তো মনে হলো—আজ তোমাকে খুব দেখতে ইচ্ছে করছে।

‘খুব’ শব্দটাও যেন যথেষ্ট নয়। ভীষণ। ভীষণ ভীষণ দেখতে ইচ্ছে করছে। কেন?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে মানুষ অনেক দূর চলে যেতে পারে। স্মৃতির অলিগলি পেরিয়ে, পুরনো দিনের ভাঁজ খুলে, ভুলে যাওয়া কোনো বিকেলের দরজায় গিয়ে দাঁড়াতে পারে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হয়তো কোনো উত্তরই পাওয়া যায় না। শুধু মনে হয়, কিছু মানুষকে দেখার ইচ্ছা আসলে মানুষটিকে দেখার ইচ্ছা নয়; তার সঙ্গে কাটানো সময়টুকুকে আরেকবার ছুঁয়ে দেখার আকাঙ্ক্ষা।

তাই আজ শুধু একটা প্রশ্ন—তোমার কি একটু সময় হবে? অনেকটা সময় নয়। পুরো একটি দিনও নয়। হয়তো এক বিকেল। কিংবা তারও কম। শুধু দেখা হবে। কোনো হিসাবের খাতা খুলব না। পুরনো অভিমানগুলো গুনব না। কে কাকে কতটা কষ্ট দিয়েছিল, কে আগে দূরে সরে গিয়েছিল—সেসব নিয়ে কোনো বিচারসভাও বসবে না। শুধু দেখা হবে। ঠিক সেই জায়গায়, যেখানে একদিন আমাদের প্রথম দেখা হয়েছিল। পুরনো সেই সড়কটি কি তোমার মনে আছে? সময়ের সঙ্গে শহরের অনেক রাস্তা বদলে যায়। কোথাও নতুন ভবন ওঠে, কোথাও ফুটপাত চওড়া হয়, কোথাও পুরনো গাছ কেটে তৈরি হয় নতুন পথ। তবু মানুষের স্মৃতির ভেতরের রাস্তা বদলায় না। সেই রাস্তাটিও হয়তো আজ আর আগের মতো নেই। কিন্তু স্মৃতিতে? সেখানে এখনো পাখিরা ডাকে। কিচিরমিচির শব্দে ভরে থাকে চারপাশ। পুবালী বাতাস এসে অকারণে ছুঁয়ে যায় মুখ। আর সেই বাতাসে কোথা থেকে যেন ভেসে আসে তোমার চুলের ঘ্রাণ। অদ্ভুত ব্যাপার হলো, মানুষের স্মৃতি চোখের চেয়ে নাক আর কানকে অনেক বেশি বিশ্বাস করে। একটি গন্ধ, একটি গান, একটি শব্দ—হঠাৎ বহু বছর আগের কোনো দুপুরকে বর্তমানের ঘরে এনে বসিয়ে দিতে পারে। তোমার চুলের সেই ঘ্রাণও হয়তো তেমনই একটি স্মৃতি। আর তোমার হাত? সেই সামান্য উষ্ণ পরশটুকু কি মনে আছে? হয়তো তোমার কাছে সেটি ছিল একেবারেই স্বাভাবিক একটি মুহূর্ত। হয়তো হাত ছুঁয়ে যাওয়ার সেই ক্ষণটিকে তুমি আলাদা করে মনে রাখোনি। কিন্তু কিছু স্পর্শ মানুষের জীবনে অদ্ভুতভাবে থেকে যায়। সময় তাকে মুছে দিতে পারে না। বরং সময় যত যায়, সেই স্পর্শের অর্থ যেন তত বাড়তে থাকে।

শহরের ভেতর একটি বিকেল: শহর আসলে মানুষের স্মৃতির সবচেয়ে বড় ভাণ্ডার। একটি মোড় মানে কারও কাছে অফিসে যাওয়ার পথ, অন্য কারও কাছে প্রথম দেখা। কোনো রেস্তোরাঁ কারও কাছে নিছক খাবারের জায়গা, আবার কারও কাছে সেখানে রেখে আসা একটি সম্পর্কের শেষ অধ্যায়। তেমনই বেঙ্গল গ্যালারি। তোমার কি বেঙ্গল গ্যালারির কথা মনে আছে? সেখানে আমরা কত বই দেখেছি! বইয়ের তাকের সামনে দাঁড়িয়ে কতবার যে সময়ের কথা ভুলে গেছি, তার হিসাব নেই। তুমি কোনো বই হাতে নিয়ে পাতা উল্টাতে, আমি হয়তো তোমার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকতাম। কোনো কোনো বই কেনা হতো, কোনো কোনো বই শুধু দেখা হতো। কিন্তু বইয়ের চেয়েও বড় হয়ে উঠত আমাদের গল্প। বইয়ের পাতায় লেখা গল্প শেষ হয়ে যেত। আমাদের গল্প শেষ হতো না। চা আসত। এক কাপ, দুই কাপ। তারপর আরও কত কিছু। খাবারের তালিকা হয়তো আজ আর মনে নেই। মনে নেই কোন দিনে কী খেয়েছিলাম। কিন্তু মনে আছে পাশাপাশি বসে থাকার সেই অনুভূতিটুকু।

মানুষ বোধহয় খাবারের স্বাদ ভুলে যায়, কিন্তু কার সঙ্গে বসে খেয়েছিল—সেটা ভুলতে পারে না। আজ এতদিন পরও বেঙ্গল গ্যালারির নাম শুনলে হয়তো কোনো বইয়ের প্রচ্ছদ মনে পড়ে না। মনে পড়ে তোমাকে। মনে পড়ে তোমার কথা বলার ভঙ্গি। মনে পড়ে চায়ের কাপের ওপর দিয়ে তাকানো চোখ। মনে পড়ে, কোনো একটা কথা শুনে তোমার হেসে ওঠা। এবং মনে পড়ে—সেদিন সময় কত দ্রুত চলে গিয়েছিল।

কিছু সম্পর্কের কোনো নাম থাকে না: জীবনে এমন কিছু সম্পর্ক আসে, যাদের পরিচয় নির্ধারণ করা কঠিন। তাদের বন্ধু বলা যায়, আবার শুধু বন্ধু বললেও যেন কম বলা হয়। ভালোবাসা বলা যায়, আবার ভালোবাসার প্রচলিত সংজ্ঞায় তাদের আটকে রাখা যায় না।

কিছু সম্পর্কের সবচেয়ে সুন্দর দিক হয়তো এটাই—তাদের কোনো নামের প্রয়োজন হয় না। তারা থাকে। একসঙ্গে হাঁটায়, চায়ের টেবিলে বসায়, বইয়ের দোকানে নিয়ে যায়, বিকেলের আলোয় দাঁড় করায়। তারপর কোনো একদিন হঠাৎ দূরত্ব এসে মাঝখানে বসে পড়ে। মানুষ ভাবে, পরে কথা হবে। পরে দেখা হবে। পরে অনেক কথা বলা যাবে। কিন্তু সেই ‘পরে’ কখনো কখনো আর আসে না। জীবন তার নিজের গতিতে এগিয়ে যায়। ব্যস্ততা বাড়ে। ফোনবুক বদলায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত মানুষের সংখ্যা বাড়ে, অথচ পরিচিত মুখের ভিড়ে কোনো একজনের অনুপস্থিতি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তখনই হয়তো মনে হয়— একবার যদি দেখা হতো! শুধু একবার।

ফিরে আসার কোনো বয়স নেই: আমরা বড় হতে হতে একটা ভুল শিখে ফেলি—ভাবি, অতীত মানেই শেষ হয়ে যাওয়া। আসলে তা নয়। অতীত কখনো শেষ হয় না। আমরা শুধু তার দরজা বন্ধ করে রাখি। কোনো একদিন পুরনো কোনো গান সেই দরজা খুলে দেয়। কোনো পুরনো বই, কোনো পরিচিত গন্ধ, কোনো রাস্তা কিংবা কোনো একটি নাম দরজায় কড়া নাড়ে। তখন মনে হয়, এতদিন পরও মানুষটি কেন এত কাছে? কেন এখনো মনে হয়, সে যদি সামনে এসে দাঁড়ায়, কথা শুরু করতে খুব বেশি সময় লাগবে না? হয়তো প্রথমে দুজনেই চুপ থাকবে। তারপর কেউ একজন বলবে— ‘কেমন আছ?’ এই দুটি শব্দের মধ্যেই কখনো কখনো বছরের পর বছর জমে থাকা গল্প লুকিয়ে থাকে।

আজ শুধু দেখা করতে ইচ্ছে করছে: আজ তাই কোনো অভিযোগ নেই। কোনো প্রত্যাশাও নেই। তোমাকে ফিরে পেতে চাই—এমন দাবিও নেই। শুধু দেখতে ইচ্ছে করছে।দেখতে ইচ্ছে করছে, সময় তোমাকে কতটা বদলেছে। জানতে ইচ্ছে করছে, তুমি এখনো বইয়ের পাতায় হারিয়ে যাও কি না। চায়ের কাপ হাতে নিয়ে আগের মতো দীর্ঘ গল্প করো কি না। পুবালী বাতাসে চুল এলোমেলো হলে বিরক্ত হও কি না। আর সবচেয়ে বেশি জানতে ইচ্ছে করছে—তোমারও কি কখনো সেই পুরনো দিনগুলোর কথা মনে পড়ে? হয়তো পড়ে। হয়তো পড়ে না। তার উত্তর জানার জন্যও কোনো তাড়া নেই। তবু যদি কোনো একদিন সময় হয়, এসো। ঠিক সেই পুরনো সড়কে। যদি রাস্তা বদলে গিয়ে থাকে, তবু সমস্যা নেই। আমরা স্মৃতির রাস্তা ধরে হাঁটব। পাখিরা যদি আগের মতো না ডাকে, তবু সমস্যা নেই। আমরা নিজেদের নীরবতা শুনব। পুবালী বাতাস যদি আর তোমার চুলের গন্ধ না বয়ে আনে, তবু কিছু যায় আসে না। কারণ কিছু গন্ধ সময়ের সঙ্গে মুছে যায় না। তারপর চাইলে বেঙ্গল গ্যালারিতে যাওয়া যাবে। আবার বই দেখা যাবে।কোনো একটা বই হয়তো তুমি হাতে তুলে নেবে। আমি হয়তো জিজ্ঞেস করব—‘কিনবে?’ তুমি হয়তো হাসবে। তারপর এক কাপ চা। হয়তো এবার কথার চেয়ে নীরবতা বেশি হবে। হয়তো আমাদের দুজনের জীবনেই এমন অনেক অধ্যায় এসেছে, যেগুলো একে অপরকে বলা হয়ে ওঠেনি। হয়তো আমরা দুজনেই বদলে গেছি। হয়তো আগের সেই মানুষ দুজন আর নেই। তবু একটি বিকেল তো ধার করা যায়। অতীত থেকে নয়—বর্তমান থেকে। শুধু একবার পাশাপাশি বসার জন্য।

স্মৃতিরও কি কোনো ঠিকানা থাকে? থাকে। একটি পুরনো সড়ক। একটি বইয়ের তাক। একটি চায়ের কাপ। কোনো এক বিকেলের পুবালী বাতাস। আর একজন মানুষ, যাকে অনেক দিন দেখা হয়নি। আমাদের জীবন যত আধুনিক হচ্ছে, যোগাযোগের মাধ্যম তত বাড়ছে। এক মুহূর্তে পৃথিবীর অন্য প্রান্তের মানুষের সঙ্গে কথা বলা যায়। ছবি পাঠানো যায়, ভিডিও কলে মুখ দেখা যায়, পুরনো স্মৃতি কয়েক সেকেন্ডে ফিরে আসে। তবুও দেখা করার আকাঙ্ক্ষা কমে না। কারণ স্ক্রিনে মানুষকে দেখা যায়, কিন্তু তার পাশে বসা যায় না। একটি ছবিতে হাসি দেখা যায়, কিন্তু সেই হাসির শব্দ শোনা যায় না। ভিডিও কলে মুখ দেখা যায়, কিন্তু হাতের উষ্ণতা অনুভব করা যায় না। তাই হয়তো আজও কোনো এক মানুষ অন্য একজনকে লিখতে চায়— ‘আজ তোমাকে খুব দেখতে ইচ্ছে করছে।’ তারপর নিজেই থেমে যায়। বার্তাটি পাঠাবে কি না, তা নিয়ে দ্বিধায় থাকে। কারণ কিছু অনুভূতি বলা হয়ে গেলে ছোট হয়ে যায়। না বললে তারা নিজের ভেতরেই একটি পূর্ণ পৃথিবী হয়ে থাকে।

শেষ পর্যন্ত যা থেকে যায়: জীবনের সব সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত আমাদের সঙ্গে থাকে না। কেউ দূরে চলে যায়। কেউ অন্য শহরে, অন্য জীবনে। কেউ যোগাযোগের বাইরে চলে যায়। কেউ আবার খুব কাছে থেকেও অচেনা হয়ে যায়। কিন্তু স্মৃতি? স্মৃতি কোনো পাসপোর্ট চায় না। কোনো ভিসা লাগে না। সে যখন-তখন ফিরে আসতে পারে। একটি পুরনো বিকেলের মতো। একটি পাখির ডাকের মতো। একটি চায়ের কাপের মতো। অথবা তোমার মতো।

তাই আজও মনে হয়, যদি কখনো তোমার হাতে একটু সময় থাকে, এসো। কোনো বড় আয়োজন নয়। কোনো প্রতিশ্রুতি নয়। কোনো পুরনো সম্পর্ককে নতুন নামে ডাকার চেষ্টাও নয়। শুধু দেখা হবে। হয়তো কয়েক মিনিট। হয়তো একটি বিকেল। হয়তো শুধু এক কাপ চা। আর সেই পুরনো সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে মনে হবে—সময় আসলে আমাদের এতটা দূরে নিয়ে যেতে পারেনি। কারণ কিছু মানুষ দূরে চলে গেলেও তাদের জন্য মনের ভেতর একটি দরজা খোলা থাকে। সেই দরজার ওপাশে এখনো পাখিরা ডাকে। পুবালী বাতাস বয়ে যায়। একটি পুরনো শহর নিঃশব্দে অপেক্ষা করে। আর কেউ একজন খুব আস্তে বলে— ‘আজ তোমাকে খুব দেখতে ইচ্ছে করছে। খুব বললে ভুল হবে— ভীষণ ভীষণ দেখতে ইচ্ছে করছে। তোমার কি একটু সময় হবে?’

ঢাকায় বৃষ্টি ঝরবে কিনা, জানাল আবহাওয়া অধিদপ্তর
রাজধানী ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আকাশ আজ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। একইসঙ্গে আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে এসময়ে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হবে কি না, তা নিয়ে কোনো পূর্বাভাস দেওয়া হয়নি। রোববার (১৮ অক্টোবর) সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আকাশ আজ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। একই সঙ্গে আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। এছাড়া উত্তর-উত্তর পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৮ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে বাতাস বয়ে যেতে পারে। এদিকে, আজ সকাল ৬টায় ঢাকার তাপমাত্রা ছিল ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এসময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৭৫ শতাংশ। আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত সন্ধ্যা ৫টা ৩০ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ভোর ৫টা ৫৮ মিনিটে।
ঢাকায় বৃষ্টি ঝরবে কিনা, জানাল আবহাওয়া অধিদপ্তর
স্বজন, সুহৃদ ও বন্ধুদের মিলনমেলা গ্রামের বাড়ি এবং সি শেল পার্ক অ্যান্ড রিসোর্টে
শেকড়ের টানে গ্রামে ফেরা, প্রিয়জনদের সঙ্গে স্মৃতিময় সময় কাটানো আর প্রকৃতির সান্নিধ্যে এক আনন্দঘন দিন স্বজনের টান, সুহৃদের ভালোবাসা আর বন্ধুদের আন্তরিকতা যখন এক সুতোয় গাঁথা হয়, তখন সাধারণ একটি দিনও হয়ে ওঠে অসাধারণ। ব্যস্ত জীবনের নানা ব্যস্ততা, কাজের চাপ আর নাগরিক কোলাহল পেছনে ফেলে একসঙ্গে কিছু সময় কাটানোর আনন্দই আলাদা। সেই আনন্দকে সঙ্গী করে স্বজন, সুহৃদ ও বন্ধুদের নিয়ে ১৬ অক্টোবর আয়োজন করা হয়েছিল এক আনন্দময় পারিবারিক ভ্রমণ। রূপগঞ্জের ‘গ্রামের বাড়ি পার্কে’ গ্রামীণ পরিবেশে কিছুটা সময় কাটানো, পার্কে ঘুরে বেড়ানো, সি শেল পার্ক অ্যান্ড রিসোর্টে আনন্দঘন মুহূর্ত উপভোগ করা এবং সবশেষে পূর্বচলের নীল মার্কেটে হাঁসের মাংস দিয়ে ভূড়িভোজের মধ্য দিয়ে দিনটি হয়ে ওঠে স্মরণীয়। শেকড়ের টানে গ্রামের বাড়ি পার্ক ভ্রমণের শুরুতেই ছিল ‘গ্রামের বাড়ি পার্কে’ যাওয়ার আনন্দ। শহরের ব্যস্ততা থেকে দূরে গ্রামের পথে পা রাখতেই যেন বদলে যায় চারপাশের চেনা দৃশ্যপট। গ্রামের নির্মল পরিবেশ, সবুজ প্রকৃতি, পরিচিত পথঘাট আর শৈশবের স্মৃতিমাখা আবহ মনকে নিয়ে যায় অন্য এক জগতে। গ্রামের বাড়ি পার্ক মানেই শুধু একটি ঠিকানা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে শেকড়ের টান, পারিবারিক ঐতিহ্য, প্রিয়জনদের স্মৃতি এবং হৃদয়ের গভীরে জমে থাকা অসংখ্য অনুভূতি। স্বজন, সুহৃদ ও বন্ধুদের একসঙ্গে গ্রামের বাড়িতে যাওয়া যেন সেই আবেগকে আরও গভীর করে তোলে। একদিকে পারিবারিক বন্ধনের উষ্ণতা, অন্যদিকে পুরোনো স্মৃতির হাতছানি। গল্প, হাসি আর খুনসুটিতে সময় কাটতে থাকে আপন ছন্দে। কেউ স্মৃতির ঝাঁপি খুলে বসেন, কেউ পুরোনো দিনের কথা মনে করিয়ে দেন, আবার কেউ বন্ধুদের সঙ্গে ভাগ করে নেন জীবনের নানা অভিজ্ঞতা। গ্রামের বাড়ি পার্কে এমন একসঙ্গে সময় কাটানোর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হলো আপনজনদের আরও কাছ থেকে অনুভব করা। সম্পর্কের ব্যস্ততা ও দূরত্বের মাঝে যে আন্তরিকতার জায়গাটি কখনো কখনো আড়ালে পড়ে যায়, এমন আয়োজন তাকে আবারও উজ্জ্বল করে তোলে। পার্কে ঘোরাঘুরি, আনন্দ আর আড্ডা গ্রামের বাড়ি পার্কে ভ্রমণের আনন্দ আরও বাড়িয়ে দেয় পার্কে ঘুরে বেড়ানো, পরিচিত গণ্ডির বাইরে খোলা পরিবেশে সবার সঙ্গে সময় কাটানো, একসঙ্গে হাঁটাহাঁটি করা, ছবি তোলা আর হাসি-আড্ডায় মেতে ওঠার মধ্য দিয়ে তৈরি হয় আনন্দের নতুন উপলক্ষ। এ ধরনের ভ্রমণে গন্তব্য যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে সঙ্গীদের উপস্থিতি। একই দৃশ্য কারও কাছে প্রকৃতির সৌন্দর্য, কারও কাছে ছবি তোলার উপলক্ষ, আবার কারও কাছে বন্ধুদের সঙ্গে কিছু নির্ভার সময় কাটানোর সুযোগ। সবার ভাবনা ও অনুভূতি মিলেমিশে ভ্রমণকে করে তোলে প্রাণবন্ত। কর্মব্যস্ত জীবনে মানুষ অনেক সময় কাছের মানুষদের সঙ্গে মন খুলে কথা বলার সুযোগ পায় না। পার্কের মতো উন্মুক্ত পরিবেশে সেই সুযোগ তৈরি হয় সহজেই। দৈনন্দিন জীবনের হিসাব-নিকাশ ভুলে সবাই যখন একসঙ্গে আনন্দে মেতে ওঠেন, তখন বয়সের ব্যবধান কিছুক্ষণের জন্য হারিয়ে যায়। সি শেল পার্ক অ্যান্ড রিসোর্টে আনন্দময় সময় ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ ছিল সি শেল পার্ক অ্যান্ড রিসোর্টে যাওয়া। দুটি স্থানে ঘুরে দিনের আনন্দকে আরও বিস্তৃত করতে এই গন্তব্য যোগ করে নতুন মাত্রা। স্বজন, সুহৃদ ও বন্ধুদের সঙ্গে এমন একটি অবকাশযাপনের স্থানে সময় কাটানোর মধ্যে রয়েছে আলাদা রোমাঞ্চ। পরিচিত মানুষদের সঙ্গে নতুন পরিবেশে ঘোরাঘুরি, গল্প করা এবং একসঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলোকে স্মৃতিতে ধরে রাখার সুযোগ তৈরি হয়। রিসোর্টে পৌঁছানোর পর ভ্রমণসঙ্গীদের মধ্যে আনন্দের আমেজ আরও ছড়িয়ে পড়ে। কেউ চারপাশের পরিবেশ উপভোগ করেন, কেউ সঙ্গীদের সঙ্গে গল্পে মেতে ওঠে, আবার কেউ স্মরণীয় মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। একসঙ্গে ছবি তোলা, হাসিমুখে স্মৃতি ধরে রাখা এবং পরস্পরের সঙ্গে সময় ভাগ করে নেওয়ার মধ্য দিয়ে ভ্রমণটি হয়ে ওঠে আরও প্রাণবন্ত। এখানে আসার মূল আনন্দ কেবল একটি বিনোদনকেন্দ্র ঘুরে দেখা নয়; বরং প্রিয় মানুষদের সঙ্গে একই সময়ে, একই জায়গায় উপস্থিত থাকার আনন্দ। দিনের নানা মুহূর্তে তৈরি হওয়া হাসি, গল্প আর আনন্দের স্মৃতিই পরে হয়ে ওঠে একসঙ্গে কাটানো সময়ের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। সম্পর্কের বন্ধন আরও দৃঢ় করার আয়োজন স্বজন, সুহৃদ ও বন্ধুদের এই ভ্রমণ কেবল বেড়ানোর আয়োজন ছিল না; এর মধ্যে ছিল সম্পর্ককে নতুন করে অনুভব করার সুযোগ। আত্মীয়তার বন্ধন মানুষকে শেকড়ের সঙ্গে যুক্ত রাখে, সুহৃদদের আন্তরিকতা কঠিন সময়ে সাহস জোগায়, আর বন্ধুত্ব জীবনের একঘেয়েমির মধ্যে এনে দেয় আনন্দ ও প্রাণচাঞ্চল্য। একটি সফল পারিবারিক মিলনমেলার সৌন্দর্য এখানেই যে, সেখানে সবাই নিজের মতো করে আনন্দ খুঁজে নিতে পারেন। কেউ গল্পে, কেউ আড্ডায়, কেউ প্রকৃতির সান্নিধ্যে, আবার কেউ প্রিয়জনদের সঙ্গে ছবি তোলার মধ্যে খুঁজে পান সুখের মুহূর্ত। কিন্তু সবার আনন্দের কেন্দ্রবিন্দু একটাই একসঙ্গে থাকা। এই ভ্রমণ আরও একবার মনে করিয়ে দিয়েছে, সম্পর্ককে বাঁচিয়ে রাখতে বড় আয়োজনের প্রয়োজন নেই; প্রয়োজন আন্তরিকতা, সময় দেওয়া এবং একে অন্যের পাশে থাকার মানসিকতা।  স্মৃতির পাতায় থেকে যাবে আনন্দময় দিনটি গ্রামের বাড়ি পার্কের  মায়া, পার্কে ঘোরাঘুরি আর সি শেল পার্ক অ্যান্ড রিসোর্টে কাটানো সময়— সব মিলিয়ে স্বজন, সুহৃদ ও বন্ধুদের এই ভ্রমণ হয়ে উঠেছে আনন্দ ও স্মৃতির এক সুন্দর সময়। এরপর চলে নীলা মার্কেটে হাঁসের মাংস আর রুটি খাওয়ার পালা। ছোট ছোট বাচ্চাদের দেয়া হয় উপহার সামগ্রী এবং র‌্যাফেল ড্রতে উপহার পান হাবিব, লিয়ন ও মাসুদ। দিনের শেষে সবাই ফিরে গেছে নিজ নিজ কর্মব্যস্ত জীবনে, কিন্তু সঙ্গে নিয়ে গেছে একসঙ্গে কাটানো সময়ের অমূল্য স্মৃতি। ছবি হয়তো মুহূর্তগুলোকে ধরে রাখবে, কিন্তু সেই মুহূর্তের হাসি, আন্তরিকতা আর ভালোবাসার অনুভূতি থেকে যাবে হৃদয়ের গভীর থেকে গভীরে। ভবিষ্যতে যখন আবারও ব্যস্ততা বাড়বে, তখন এই ভ্রমণের স্মৃতিই হয়তো মনে করিয়ে দেবে—জীবনের প্রকৃত আনন্দ শুধু সাফল্য কিংবা প্রাপ্তিতে নয় বরং প্রিয় মানুষদের সঙ্গে সময় ভাগ করে নেওয়ার মধ্যেই নিহিত। স্বজন, সুহৃদ ও বন্ধুদের এই মিলনমেলা তাই একটি দিনের ভ্রমণেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি সম্পর্কের প্রতি ভালোবাসা, শেকড়ের প্রতি টান এবং একসঙ্গে পথচলার অঙ্গীকারের প্রতীক। এমন আয়োজন বারবার ফিরে আসুক, নতুন আনন্দের উপলক্ষ তৈরি করুক এবং সবার হৃদয়ে ভালোবাসার বন্ধন আরও গভীর করুক। তিনবারে ভোজনে প্রিয় খাবারের মেনুতে ছিল খিচুড়ি, চা, ফ্রাইড রাইস, কোমল পানীয়, হাঁসের মাংস ও রুটি, পানি ইত্যাদি। সুইমিং পুলে সাঁতার কাটা সে এক অন্যরকম আনন্দ। এ মিলনমেলায় অংশগ্রহণ করে জ্যোতিষ সমাদ্দার বাবু, শামীম হোসেন, কবির আহাম্মদ, ওয়াহিদ মুরাদ অপু, লিয়াকত হোসেন সুমন, হাবিবুর রহমান, মাসুদ আলম, জসিম মজুমদার, ইমরান হোসেন টিপু, রিদওয়ান আক্রাম, রাজিব , মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ লিয়ন, অলিদুল রহমান ওলি, আবদুল মোতালেব পলাশ, আমিনুল ইসলাম, বারি দেওয়ান হৃদয়, আব্দুল্লাহ আল মামুন, রেজাউল কবির রাজিব. সায়কা বানু, রেজওয়ানা হোসেন বর্ণা, টিপু সুলতান দিপু, মনসুর আহমেদ এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা। সকাল ৭টায় ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু হয় এবং এর সফল সমাপ্তি ঘটে রাত ৯টায় সবার নিজ নিজ ঘরে ফেরার মধ্য দিয়ে।
স্বজন, সুহৃদ ও বন্ধুদের মিলনমেলা গ্রামের বাড়ি এবং সি শেল পার্ক অ্যান্ড রিসোর্টে
সব অভিমান ভুলে প্রাক্তনকে ক্ষমা করার দিন আজ
ভালোবাসার সম্পর্ক ভেঙে গেলে পড়ে থাকে কিছু মধুর স্মৃতি, অপূর্ণতা, অভিমান আর না বলা অভিযোগ। কেউ সহজেই অতীত ভুলে নতুন করে জীবন শুরু করতে পারেন, আবার কারও মনে বিচ্ছেদের ক্ষত দীর্ঘদিন দাগ কেটে থাকে। সেই পুরোনো কষ্ট ও তিক্ততা পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা নিয়ে আজ ১৭ অক্টোবর পালিত হচ্ছে ‘ফরগিভ অ্যান এক্স ডে’ বা প্রাক্তনকে ক্ষমা করার দিন। আজ শনিবার (১৭ অক্টোবর) প্রাক্তনকে ক্ষমা করার দিন। প্রতি বছর ১৭ অক্টোবর পালিত হয় এই দিবস। আজকের এই দিনে সারা বিশ্বে পালিত হয় এ বিচিত্র দিবসটি। এর মূল ভাবনা হলো, অতীতের সম্পর্ক ঘিরে জমে থাকা রাগ, ক্ষোভ ও অভিমান থেকে নিজেকে মুক্ত করার চেষ্টা করা। তবে প্রাক্তনকে ক্ষমা করার অর্থ তার কাছে ফিরে যাওয়া নয়; বরং নিজের মানসিক শান্তির জন্য অতীতকে মেনে নেওয়া এবং নতুনভাবে পথচলার সাহস খুঁজে নেওয়া। ২০১৮ সালে ‘ইন্টারন্যাশনাল ফরগিভ অ্যান এক্স ডে’ পালনের প্রচলন শুরু হয়। তবে ঠিক কে এই দিবসের সূচনা করেছিলেন, কোথায় প্রথম উদযাপন হয়েছিল কিংবা কেন ১৭ অক্টোবর তারিখটি বেছে নেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায় না। যদিও এ দিবসের আনুষ্ঠানিক কোনো স্বীকৃতি নেই। এটি জাতিসংঘের স্বীকৃত কোনো আন্তর্জাতিক দিবস নয়। বরং ইন্টারনেটভিত্তিক বিশেষ দিবসগুলোর মধ্যে একটি, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন ক্যালেন্ডারের মাধ্যমে পরিচিতি পেয়েছে। ফলে দিবসটির নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠাতা বা সূচনাসংক্রান্ত তথ্য নিশ্চিতভাবে উল্লেখ করা কঠিন। কেন প্রাক্তনকে ক্ষমা করার কথা বলা হয়? একটি সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পেছনে থাকতে পারে বিশ্বাসভঙ্গ, ভুল বোঝাবুঝি, মতের অমিল কিংবা জীবনের লক্ষ্য আলাদা হয়ে যাওয়া। বিচ্ছেদের পর অনেকেই পুরোনো ঘটনা বারবার মনে করেন। কখনো মনে জমে থাকে না বলা কথা, কখনো বা উত্তর না পাওয়া প্রশ্ন। এসব স্মৃতি ও ক্ষোভ দীর্ঘদিন বয়ে বেড়ালে তা ব্যক্তির মানসিক স্বস্তি এবং নতুন সম্পর্কের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। প্রাক্তনকে ক্ষমা করার দিনটি সেই অনুভূতিগুলো নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করে। অতীতের অভিজ্ঞতাকে অস্বীকার না করে তা মেনে নেওয়া এবং ধীরে ধীরে কষ্ট থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য। ক্ষমা করার অর্থ অন্যায়কে সমর্থন করা নয়; বরং সেই অন্যায়ের স্মৃতি যেন বর্তমান জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, সেই চেষ্টা। তবে ক্ষমা করার সিদ্ধান্ত একান্তই ব্যক্তিগত। কেউ দ্রুত অতীতকে মেনে নিতে পারেন, আবার কারও প্রয়োজন হয় দীর্ঘ সময়। কাউকে জোর করে ক্ষমা করতে বলা কিংবা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সব কষ্ট ভুলে যাওয়ার প্রত্যাশা করা এই দিবসের মূল ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সাধারণত দু‘জনের মধ্যে যখন সম্পর্ক গড়ে ওঠে শুরুতে সেই সম্পর্ক আবেগে ভরপুর থাকে। হয়তো কিছুদিন বা দীর্ঘদিন পর সেই সম্পর্কে ফাটল ধরে। এটা অনেক স্বাভাবিকভাবে নিতে পারেন না। পুরোনো স্মৃতিগুলো বার বার তাকে আঘাত করে। এই ভাঙনের ব্যথা অনেকেরে ক্ষেত্রে খুবই দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। তাই প্রাক্তনকে ক্ষমা করা অন্তত তাদের জন্য সহজ কাজ নয়। কিন্তু, ক্ষমা একটি মহৎ গুণ। তাই সবকিছু ভুলে গিয়ে তাকে ক্ষমা করে দেওয়ার মতো মহান কাজ আর দ্বিতীয়টি হতে পারে না। 
মশিউর অর্ণব
এবার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে রাশিয়ায়
রাশিয়ার কামচাতকা উপদ্বীপে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭। ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল রাশিয়ার সুদূর পূর্বাঞ্চলের ভিলিউচিনস্ক শহর থেকে প্রায় ১২৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং এর গভীরতা ছিল ১৪০ কিলোমিটার। স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ৩৫ মিনিটের দিকে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ভূমিকম্পের পর কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সুনামি ওয়ার্নিং সেন্টার জানিয়েছে, এই কম্পনের ফলে কোনো ঝুঁকি নেই। ভূমিকম্পের প্রভাবে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। বিএনও নিউজের তথ্য অনুযায়ী, জাপানের আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ) ভুলবশত ৯.৯ মাত্রার ভূমিকম্পের একটি আগাম সতর্কতা জারি করেছিল। এতে জাপানের বড় একটি অংশে তীব্র কম্পনের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, অথচ তাদের নিজস্ব পরিমাপে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৬.৯। যদি এই সতর্কতা সঠিক হতো, তবে এটি হতো এ পর্যন্ত রেকর্ড করা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। কামচাতকা উপদ্বীপটি ‘রিং অব ফায়ার’ নামক একটি টেকটোনিক বলয়ের ওপর অবস্থিত, যা প্রশান্ত মহাসাগরের অধিকাংশ এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এবং এটি ভূমিকম্পপ্রবণ একটি অঞ্চল। গত বছরের জুলাই মাসে এই অঞ্চলের উপকূলে ৮.৮ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে, যার ফলে সৃষ্ট সুনামিতে একটি উপকূলীয় গ্রামের কিছু অংশ সমুদ্রে তলিয়ে যায়। সূত্র: এনডিটিভি
এবার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে রাশিয়ায়
জানা গেল ঢাকাসহ সারাদেশে কবে থেকে নামবে শীত
নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ নাগাদ রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শীতের আমেজ শুরু হতে পারে। ডিসেম্বরের শেষভাগ থেকে শীতের তীব্রতা বাড়তে পারে, যা জানুয়ারি মাসজুড়ে অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এমনকি ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত শীতের অনুভূতি থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের (বিএমডি) কর্মকর্তা এ কে এম নাজমুল হক জানান, গত চার-পাঁচ বছরের আবহাওয়ার ধরন বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হচ্ছে, এবার ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত শীতের প্রভাব থাকতে পারে। এ সময় রাজধানী ঢাকার তাপমাত্রা ১১ থেকে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে। তিনি বলেন, নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে দেশের অধিকাংশ এলাকায় শীতের আমেজ অনুভূত হতে পারে। তবে দেশের উত্তর-পূর্ব ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই শীতের আগমন ঘটতে পারে। ডিসেম্বর থেকে শীতের প্রকোপ বাড়বে এবং জানুয়ারি মাসে শীতের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি থাকতে পারে।    আবহাওয়াবিদদের মতে, ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ের পর থেকে দিনের তাপমাত্রা আবারও বাড়তে শুরু করতে পারে। তবে এর আগে পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঠান্ডা আবহাওয়া বিরাজ করার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে উত্তরাঞ্চলের পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁওসহ কয়েকটি জেলায় ইতিমধ্যে শীতের হালকা আমেজ অনুভূত হচ্ছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৯ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সেখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অন্যদিকে, মঙ্গলবার রাজধানী ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় উত্তর দিক থেকে বাতাস বইতে শুরু করলেও ঘনবসতি ও নগরায়ণের কারণে শীতের অনুভূতি স্পষ্ট হতে নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
মশিউর অর্ণব
X