ঢাকা, বাংলাদেশ || সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

এলামনাই সিস্টারহুড থেকে অস্ট্রেলিয়াজুড়ে পরিবর্তনের পথে ভিএঅস

অনলাইন ডেস্ক

  ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪:১০ পিএম
ছবি সংগৃহীত

ভিকারুন্নিসা অ্যালামনাই অস্ট্রেলিয়া (ভিএঅস) একটি অলাভজনক সংগঠন, যা অস্ট্রেলিয়ার আটটি প্রাদেশিক অঞ্চলে বসবাসরত প্রবাসী কমিউনিটির জন্য বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। স্কুলজীবনের বন্ধনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা সংগঠনটি সময়ের সঙ্গে নারীর ক্ষমতায়ন, শিশুদের সহায়তা, স্বাস্থ্যসুরক্ষা, কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজের পরিধি বাড়িয়েছে।

বুলেটিন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

ছোটবেলায় সবাই বড় হওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করত। কিন্তু স্কুলের শেষ দিনটি যতই এগিয়ে আসত, সেই উত্তেজনা ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে যেত। বছরের পর বছর একই শ্রেণিকক্ষ, করিডোর, খেলার মাঠ, হাসি-ঠাট্টা ও ছোট ছোট মুহূর্ত ভাগ করে নেওয়ার পর প্রত্যেকে যখন ভিন্ন পথে পা বাড়াত, তখন সবকিছুই মুহূর্তে স্মৃতিতে পরিণত হতো। থেকে যেত একটি প্রশ্ন—চেনা মুখগুলোর সঙ্গে আবার কবে দেখা হবে?

ভিকারুন্নিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একই শ্রেণিকক্ষে পড়া প্রাক্তনীদের বন্ধুত্ব অবশ্য সেখানেই থেমে থাকেনি। অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে বসবাস করেও সেই বন্ধন তাদের একসঙ্গে রেখেছিল। ২০১৬ সালের অক্টোবরে সিডনির একটি রেস্তোরাঁয় বসে কয়েকজন প্রাক্তনী আবার একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সেই ছোট উদ্যোগই ধীরে ধীরে ‘ভিকারুন্নিসা অ্যালামনাই অস্ট্রেলিয়া’ বা ভিএঅসে রূপ নেয়।

সংগঠনটি ২০১৭ সালের মার্চে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে ২০২২ সালে এটি একটি দাতব্য সংস্থা হিসেবে নিবন্ধিত হয়। সময়ের সঙ্গে সংগঠনটির কার্যক্রম অস্ট্রেলিয়ার আটটি প্রাদেশিক অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। তখনই তাদের সামনে আসে নতুন একটি প্রশ্ন—‘আমরা অন্যদের জন্য কী করতে পারি?’

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে নিজেদের গণ্ডির বাইরে তাকাতে শুরু করেন প্রাক্তনীরা। আশপাশের মানুষ কী ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন, সেদিকেও নজর দেন তারা। প্রথম যে বিষয়টি তাদের বেশি ভাবায়, তা হলো ডমেস্টিক ভায়োলেন্স বা পারিবারিক সহিংসতা।

বিদেশে বসবাস করলে অনেক সময় মনে হতে পারে, নারীদের হয়তো তেমন কোনো সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় না। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। কোভিড-১৯ মহামারির সময় বিভিন্ন প্রতিবেদনে নারীদের ওপর ডমেস্টিক ভায়োলেন্স বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি উঠে আসে। তবে ভিএঅসের প্রাক্তনীদের কাছে বিষয়টি শুধু খবর ছিল না। তাদেরই এক সহপাঠী গর্ভবতী অবস্থায় বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে বাধ্য হলে বিষয়টি আরও কাছের হয়ে ওঠে। তার কথা জানার পর সদস্যরা মিলে তাকে সহায়তার জন্য অর্থ সংগ্রহ করেন।

তবে তাকে এবং আরও অনেককে সহায়তা করতে গিয়ে প্রাক্তনীরা বুঝতে পারেন, তাৎক্ষণিক সাহায্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটিই পুরো সমাধান নয়। ভিএঅসের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ও অ্যাডভাইজার ড. সুরঞ্জনা জেনিফার রহমান প্রশ্ন তোলেন, ‘আমরা শুধু ভিকটিমদের সাহায্য করছি। কিন্তু এটাই কি যথেষ্ট? যারা এই শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির কারণ, তাদের নিয়ে কী করব?’

তার মতে, সহিংসতার শিকার নারীদের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি এমন পরিস্থিতি শুরুতেই কীভাবে প্রতিরোধ করা যায়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

এই ভাবনা থেকেই শুরু হয় ‘চেঞ্জ দ্য স্টোরি: মেন অ্যাজ চ্যাম্পিয়নস’ উদ্যোগ। এর মাধ্যমে পুরুষদের ডমেস্টিক ভায়োলেন্স নিয়ে খোলামেলা কথা বলা, এর প্রভাব বোঝা এবং নিরাপদ সমাজ গঠনে পুরুষরা কী ভূমিকা রাখতে পারেন—এসব বিষয়ে ভাবার সুযোগ তৈরি করা হয়।

তবে শুধু নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করাই যথেষ্ট নয়। যারা এমন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছেন, তাদের নতুন করে জীবন শুরু করার সুযোগ দেওয়াও জরুরি। এই ভাবনা থেকেই তৈরি হয় ‘হার বিজনেস’ উদ্যোগ। নতুন করে অস্ট্রেলিয়ায় আসা এবং ডমেস্টিক ভায়োলেন্সের শিকার নারীদের দক্ষতা অর্জন ও আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে সহায়তা করে এই উদ্যোগ।

ভিএঅসের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ও অ্যাডভাইজার ড. মাহবুবা খানম মুক্তা বলেন, ‘নারীদের নিজেদের স্বাবলম্বী হতে এবং একটি ভালো ভবিষ্যৎ গড়তে প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস থাকা জরুরি।’

আটটি ওয়ার্কশপের মাধ্যমে ১২ জন নারী সেলাই ও হোম বিজনেসের মতো কাজে প্রশিক্ষণ নেন। বর্তমানে তারা সবাই কর্মরত আছেন। এ ছাড়া ডমেস্টিক ভায়োলেন্সের শিকার নারীদের আশ্রয়কেন্দ্রের বিভিন্ন সুবিধা উন্নয়নের জন্য ভিএঅসের প্রাক্তনীরা ৬ হাজার অস্ট্রেলীয় ডলার সংগ্রহ করেন। নারীদের নতুন করে জীবন গড়ার পথেও এটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে কাজ করেছে।

কাজ এগিয়ে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রাক্তনীরা বুঝতে শুরু করেন, সাহায্যের প্রয়োজন সব সময় বড় কোনো সমস্যা ঘিরে হয় না। অনেক সময় ছোট ছোট দৈনন্দিন প্রয়োজনও মানুষের জীবনে বড় প্রভাব ফেলে। এর মধ্যে অন্যতম মাসিককালীন স্বাস্থ্যবিধি। মাসিক নারীজীবনের স্বাভাবিক একটি অংশ হলেও আর্থিক সমস্যায় থাকা নারী ও মেয়েরা সব সময় প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহ করতে পারেন না।

ভিএঅসের জেনারেল সেক্রেটারি রিফায়াত রোনাক ইকো বলেন, ‘মাসিককালীন সামগ্রী একটি মৌলিক প্রয়োজন। কোনো নারীর তা কেনার সামর্থ্য নেই বলে তার স্বাস্থ্যবিধির সঙ্গে আপস করতে হবে না।’

এই ভাবনা থেকেই ভিএঅস ‘শেয়ার দ্য ডিগনিটি’ উদ্যোগকে সমর্থন করে। এর মাধ্যমে স্কুল, পাবলিক টয়লেট ও কেয়ার হ্যাম্পারের মাধ্যমে নারীদের মাসিককালীন সামগ্রী সরবরাহের জন্য অর্থ সংগ্রহ করা হয়।

মৌলিক চাহিদার বিষয়টি শিশুদের ক্ষেত্রেও গুরুত্ব পায়। এ ভাবনা থেকেই শুরু হয় ‘ইট আপ’ উদ্যোগ। পরিবারের আর্থিক সমস্যার কারণে যেসব শিশু দুপুরের খাবার নিয়ে স্কুলে যেতে পারে না, তাদের জন্য টিফিনের ব্যবস্থা করাই ছিল এ উদ্যোগের লক্ষ্য।

ভিএঅসের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘আমরা অনুভব করলাম, কোনো শিশু যেন ক্ষুধার্ত অবস্থায় স্কুলে না যায়, তা নিশ্চিত করার জন্য আমাদের কিছু একটা করতে হবে।’

২০২৪ সালের মার্চে ভিএঅস একটি ‘মর্নিং টি’ আয়োজন করে ২ হাজার ৫০০ অস্ট্রেলীয় ডলার সংগ্রহ করে। পরে ২০ জন স্বেচ্ছাসেবক মাত্র ৮০ মিনিটে দুটি সরকারি স্কুলের জন্য ১ হাজার ৮৭টি স্যান্ডউইচ তৈরি করেন। সেগুলো সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।

বছরের পর বছর নারী ও শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর পর প্রাক্তনীরা এবার তাদের বেড়ে ওঠার দেশ বাংলাদেশ নিয়েও ভাবতে শুরু করেন। যে বন্ধন তাদের একসঙ্গে রেখেছে, সেই বন্ধন বাংলাদেশের মানুষের জন্যও কাজে লাগানো যায় কি না—বিশেষ করে সুযোগ থেকে বঞ্চিত মানুষের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করা যায় কি না—তা নিয়ে ভাবেন তারা।

এই ভাবনা নতুন রূপ পায় যখন ভিএঅসের বর্তমান প্রেসিডেন্ট মারিয়াম শামস ‘মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়া’ সিজন ১৩-এর দ্বিতীয় রানারআপ কিশোয়ার চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কিশোয়ারেরও একই ধরনের একটি ভাবনা ছিল। ওয়ার্ল্ড ভিশন অস্ট্রেলিয়ার অ্যাম্বাসেডর হিসেবে তিনি করাইল বস্তি সফর করেছিলেন। সেখানে শিশুরা তাকে প্রশ্ন করেছিল, ‘আমরা কি আপনার মতো হতে পারি?’

শিশুদের সেই প্রশ্ন মারিয়ামের মনে দাগ কাটে। সীমিত সুযোগ কীভাবে তরুণদের নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবনাকে প্রভাবিত করতে পারে, তা তাকে ভাবায়।

মারিয়াম বলেন, ‘আমরা আমাদের বাংলাদেশি কিশোর-তরুণদের কাছে পৌঁছাতে এবং তাদের জন্য কিছু করতে চেয়েছিলাম, এমনকি যদি তা পরোক্ষভাবেও হয়।’

এই ভাবনা থেকেই ভিএঅস ‘কেসিসি উইংস’কে ৫ হাজার অস্ট্রেলীয় ডলার অনুদান দেয়। এই অর্থ করাইলের ১০ জন তরুণকে কুলিনারি প্রশিক্ষণ, পরামর্শ, ইংরেজি শিক্ষা এবং কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত হতে সহায়তা করে।

এই উদ্যোগের কথা বলতে গিয়ে মারিয়াম বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, স্কুলের সম্পর্ক ছাড়িয়ে কমিউনিটিকে বদলে দেওয়ার যে স্বপ্ন নিয়ে আমরা ভিএঅস শুরু করেছিলাম, তা আমাদের কাজের মাধ্যমে এবং আমরা যাদের সাহায্য করেছি, তাদের মধ্য দিয়ে বেঁচে থাকবে।’

বাংলাদেশের সঙ্গে ভিএঅসের এই সংযোগ এখানেই শেষ নয়। ২০২৪ সালে বন্যাদুর্গত এলাকায় এবং ২০২৫ সালে এইম স্কুল ফাউন্ডেশনের শিক্ষার্থীদের জন্য বেঞ্চ সরবরাহে সহায়তা করে সংগঠনটি। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে ভিএঅস এইম ফাউন্ডেশনের ‘স্পনসর এ চাইল্ড’ প্রকল্পে সহায়তা করছে। এর মাধ্যমে শিশুদের বই, কলম, পেন্সিলসহ প্রয়োজনীয় শিক্ষাসামগ্রী দেওয়া হচ্ছে।

সংগঠনটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে ভিএঅস অস্ট্রেলিয়ার কমিউনিটিতে ৯২ হাজার অস্ট্রেলীয় ডলার অনুদান সংগ্রহ করেছে। এই অর্থ ডমেস্টিক ভায়োলেন্সের শিকার নারীদের শারীরিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সহায়তা, নারীদের স্বাস্থ্যসুরক্ষা, কর্মসংস্থান এবং আর্থিক ক্ষমতায়নের বিভিন্ন উদ্যোগে ব্যয় হয়েছে।

তাৎক্ষণিক সহায়তা থেকে শুরু করে শিক্ষা, দক্ষতা ও নতুন সুযোগ তৈরি করা পর্যন্ত ভিএঅসের কাজ ধীরে ধীরে আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে পড়েছে। এর পেছনে রয়েছে সেই একই বন্ধন, যা একসময় স্কুলের কয়েকজন বন্ধু, সিনিয়র ও জুনিয়রকে আবার একসঙ্গে করেছিল।

প্রাক্তনীদের সঙ্গে আবার যোগাযোগের ছোট্ট একটি উদ্যোগ থেকে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা আজ একটি বড় কমিউনিটিতে পরিণত হয়েছে। সিডনির একটি ছোট রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে অস্ট্রেলিয়ার আটটি অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা একটি দাতব্য সংগঠনে পরিণত হওয়ার এই গল্প শুধু একটি সংগঠনের বড় হয়ে ওঠার গল্প নয়; এটি স্কুলজীবনে তৈরি হওয়া বন্ধন ও সহমর্মিতা সময়ের সঙ্গে কীভাবে বহু মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি করতে পারে, তারও একটি উদাহরণ।

ঢাকায় বৃষ্টি ঝরবে কিনা, জানাল আবহাওয়া অধিদপ্তর
রাজধানী ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আকাশ আজ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। একইসঙ্গে আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে এসময়ে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হবে কি না, তা নিয়ে কোনো পূর্বাভাস দেওয়া হয়নি। রোববার (১৮ অক্টোবর) সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আকাশ আজ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। একই সঙ্গে আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। এছাড়া উত্তর-উত্তর পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৮ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে বাতাস বয়ে যেতে পারে। এদিকে, আজ সকাল ৬টায় ঢাকার তাপমাত্রা ছিল ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এসময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৭৫ শতাংশ। আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত সন্ধ্যা ৫টা ৩০ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ভোর ৫টা ৫৮ মিনিটে।
ঢাকায় বৃষ্টি ঝরবে কিনা, জানাল আবহাওয়া অধিদপ্তর
স্বজন, সুহৃদ ও বন্ধুদের মিলনমেলা গ্রামের বাড়ি এবং সি শেল পার্ক অ্যান্ড রিসোর্টে
শেকড়ের টানে গ্রামে ফেরা, প্রিয়জনদের সঙ্গে স্মৃতিময় সময় কাটানো আর প্রকৃতির সান্নিধ্যে এক আনন্দঘন দিন স্বজনের টান, সুহৃদের ভালোবাসা আর বন্ধুদের আন্তরিকতা যখন এক সুতোয় গাঁথা হয়, তখন সাধারণ একটি দিনও হয়ে ওঠে অসাধারণ। ব্যস্ত জীবনের নানা ব্যস্ততা, কাজের চাপ আর নাগরিক কোলাহল পেছনে ফেলে একসঙ্গে কিছু সময় কাটানোর আনন্দই আলাদা। সেই আনন্দকে সঙ্গী করে স্বজন, সুহৃদ ও বন্ধুদের নিয়ে ১৬ অক্টোবর আয়োজন করা হয়েছিল এক আনন্দময় পারিবারিক ভ্রমণ। রূপগঞ্জের ‘গ্রামের বাড়ি পার্কে’ গ্রামীণ পরিবেশে কিছুটা সময় কাটানো, পার্কে ঘুরে বেড়ানো, সি শেল পার্ক অ্যান্ড রিসোর্টে আনন্দঘন মুহূর্ত উপভোগ করা এবং সবশেষে পূর্বচলের নীল মার্কেটে হাঁসের মাংস দিয়ে ভূড়িভোজের মধ্য দিয়ে দিনটি হয়ে ওঠে স্মরণীয়। শেকড়ের টানে গ্রামের বাড়ি পার্ক ভ্রমণের শুরুতেই ছিল ‘গ্রামের বাড়ি পার্কে’ যাওয়ার আনন্দ। শহরের ব্যস্ততা থেকে দূরে গ্রামের পথে পা রাখতেই যেন বদলে যায় চারপাশের চেনা দৃশ্যপট। গ্রামের নির্মল পরিবেশ, সবুজ প্রকৃতি, পরিচিত পথঘাট আর শৈশবের স্মৃতিমাখা আবহ মনকে নিয়ে যায় অন্য এক জগতে। গ্রামের বাড়ি পার্ক মানেই শুধু একটি ঠিকানা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে শেকড়ের টান, পারিবারিক ঐতিহ্য, প্রিয়জনদের স্মৃতি এবং হৃদয়ের গভীরে জমে থাকা অসংখ্য অনুভূতি। স্বজন, সুহৃদ ও বন্ধুদের একসঙ্গে গ্রামের বাড়িতে যাওয়া যেন সেই আবেগকে আরও গভীর করে তোলে। একদিকে পারিবারিক বন্ধনের উষ্ণতা, অন্যদিকে পুরোনো স্মৃতির হাতছানি। গল্প, হাসি আর খুনসুটিতে সময় কাটতে থাকে আপন ছন্দে। কেউ স্মৃতির ঝাঁপি খুলে বসেন, কেউ পুরোনো দিনের কথা মনে করিয়ে দেন, আবার কেউ বন্ধুদের সঙ্গে ভাগ করে নেন জীবনের নানা অভিজ্ঞতা। গ্রামের বাড়ি পার্কে এমন একসঙ্গে সময় কাটানোর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হলো আপনজনদের আরও কাছ থেকে অনুভব করা। সম্পর্কের ব্যস্ততা ও দূরত্বের মাঝে যে আন্তরিকতার জায়গাটি কখনো কখনো আড়ালে পড়ে যায়, এমন আয়োজন তাকে আবারও উজ্জ্বল করে তোলে। পার্কে ঘোরাঘুরি, আনন্দ আর আড্ডা গ্রামের বাড়ি পার্কে ভ্রমণের আনন্দ আরও বাড়িয়ে দেয় পার্কে ঘুরে বেড়ানো, পরিচিত গণ্ডির বাইরে খোলা পরিবেশে সবার সঙ্গে সময় কাটানো, একসঙ্গে হাঁটাহাঁটি করা, ছবি তোলা আর হাসি-আড্ডায় মেতে ওঠার মধ্য দিয়ে তৈরি হয় আনন্দের নতুন উপলক্ষ। এ ধরনের ভ্রমণে গন্তব্য যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে সঙ্গীদের উপস্থিতি। একই দৃশ্য কারও কাছে প্রকৃতির সৌন্দর্য, কারও কাছে ছবি তোলার উপলক্ষ, আবার কারও কাছে বন্ধুদের সঙ্গে কিছু নির্ভার সময় কাটানোর সুযোগ। সবার ভাবনা ও অনুভূতি মিলেমিশে ভ্রমণকে করে তোলে প্রাণবন্ত। কর্মব্যস্ত জীবনে মানুষ অনেক সময় কাছের মানুষদের সঙ্গে মন খুলে কথা বলার সুযোগ পায় না। পার্কের মতো উন্মুক্ত পরিবেশে সেই সুযোগ তৈরি হয় সহজেই। দৈনন্দিন জীবনের হিসাব-নিকাশ ভুলে সবাই যখন একসঙ্গে আনন্দে মেতে ওঠেন, তখন বয়সের ব্যবধান কিছুক্ষণের জন্য হারিয়ে যায়। সি শেল পার্ক অ্যান্ড রিসোর্টে আনন্দময় সময় ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ ছিল সি শেল পার্ক অ্যান্ড রিসোর্টে যাওয়া। দুটি স্থানে ঘুরে দিনের আনন্দকে আরও বিস্তৃত করতে এই গন্তব্য যোগ করে নতুন মাত্রা। স্বজন, সুহৃদ ও বন্ধুদের সঙ্গে এমন একটি অবকাশযাপনের স্থানে সময় কাটানোর মধ্যে রয়েছে আলাদা রোমাঞ্চ। পরিচিত মানুষদের সঙ্গে নতুন পরিবেশে ঘোরাঘুরি, গল্প করা এবং একসঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলোকে স্মৃতিতে ধরে রাখার সুযোগ তৈরি হয়। রিসোর্টে পৌঁছানোর পর ভ্রমণসঙ্গীদের মধ্যে আনন্দের আমেজ আরও ছড়িয়ে পড়ে। কেউ চারপাশের পরিবেশ উপভোগ করেন, কেউ সঙ্গীদের সঙ্গে গল্পে মেতে ওঠে, আবার কেউ স্মরণীয় মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। একসঙ্গে ছবি তোলা, হাসিমুখে স্মৃতি ধরে রাখা এবং পরস্পরের সঙ্গে সময় ভাগ করে নেওয়ার মধ্য দিয়ে ভ্রমণটি হয়ে ওঠে আরও প্রাণবন্ত। এখানে আসার মূল আনন্দ কেবল একটি বিনোদনকেন্দ্র ঘুরে দেখা নয়; বরং প্রিয় মানুষদের সঙ্গে একই সময়ে, একই জায়গায় উপস্থিত থাকার আনন্দ। দিনের নানা মুহূর্তে তৈরি হওয়া হাসি, গল্প আর আনন্দের স্মৃতিই পরে হয়ে ওঠে একসঙ্গে কাটানো সময়ের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। সম্পর্কের বন্ধন আরও দৃঢ় করার আয়োজন স্বজন, সুহৃদ ও বন্ধুদের এই ভ্রমণ কেবল বেড়ানোর আয়োজন ছিল না; এর মধ্যে ছিল সম্পর্ককে নতুন করে অনুভব করার সুযোগ। আত্মীয়তার বন্ধন মানুষকে শেকড়ের সঙ্গে যুক্ত রাখে, সুহৃদদের আন্তরিকতা কঠিন সময়ে সাহস জোগায়, আর বন্ধুত্ব জীবনের একঘেয়েমির মধ্যে এনে দেয় আনন্দ ও প্রাণচাঞ্চল্য। একটি সফল পারিবারিক মিলনমেলার সৌন্দর্য এখানেই যে, সেখানে সবাই নিজের মতো করে আনন্দ খুঁজে নিতে পারেন। কেউ গল্পে, কেউ আড্ডায়, কেউ প্রকৃতির সান্নিধ্যে, আবার কেউ প্রিয়জনদের সঙ্গে ছবি তোলার মধ্যে খুঁজে পান সুখের মুহূর্ত। কিন্তু সবার আনন্দের কেন্দ্রবিন্দু একটাই একসঙ্গে থাকা। এই ভ্রমণ আরও একবার মনে করিয়ে দিয়েছে, সম্পর্ককে বাঁচিয়ে রাখতে বড় আয়োজনের প্রয়োজন নেই; প্রয়োজন আন্তরিকতা, সময় দেওয়া এবং একে অন্যের পাশে থাকার মানসিকতা।  স্মৃতির পাতায় থেকে যাবে আনন্দময় দিনটি গ্রামের বাড়ি পার্কের  মায়া, পার্কে ঘোরাঘুরি আর সি শেল পার্ক অ্যান্ড রিসোর্টে কাটানো সময়— সব মিলিয়ে স্বজন, সুহৃদ ও বন্ধুদের এই ভ্রমণ হয়ে উঠেছে আনন্দ ও স্মৃতির এক সুন্দর সময়। এরপর চলে নীলা মার্কেটে হাঁসের মাংস আর রুটি খাওয়ার পালা। ছোট ছোট বাচ্চাদের দেয়া হয় উপহার সামগ্রী এবং র‌্যাফেল ড্রতে উপহার পান হাবিব, লিয়ন ও মাসুদ। দিনের শেষে সবাই ফিরে গেছে নিজ নিজ কর্মব্যস্ত জীবনে, কিন্তু সঙ্গে নিয়ে গেছে একসঙ্গে কাটানো সময়ের অমূল্য স্মৃতি। ছবি হয়তো মুহূর্তগুলোকে ধরে রাখবে, কিন্তু সেই মুহূর্তের হাসি, আন্তরিকতা আর ভালোবাসার অনুভূতি থেকে যাবে হৃদয়ের গভীর থেকে গভীরে। ভবিষ্যতে যখন আবারও ব্যস্ততা বাড়বে, তখন এই ভ্রমণের স্মৃতিই হয়তো মনে করিয়ে দেবে—জীবনের প্রকৃত আনন্দ শুধু সাফল্য কিংবা প্রাপ্তিতে নয় বরং প্রিয় মানুষদের সঙ্গে সময় ভাগ করে নেওয়ার মধ্যেই নিহিত। স্বজন, সুহৃদ ও বন্ধুদের এই মিলনমেলা তাই একটি দিনের ভ্রমণেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি সম্পর্কের প্রতি ভালোবাসা, শেকড়ের প্রতি টান এবং একসঙ্গে পথচলার অঙ্গীকারের প্রতীক। এমন আয়োজন বারবার ফিরে আসুক, নতুন আনন্দের উপলক্ষ তৈরি করুক এবং সবার হৃদয়ে ভালোবাসার বন্ধন আরও গভীর করুক। তিনবারে ভোজনে প্রিয় খাবারের মেনুতে ছিল খিচুড়ি, চা, ফ্রাইড রাইস, কোমল পানীয়, হাঁসের মাংস ও রুটি, পানি ইত্যাদি। সুইমিং পুলে সাঁতার কাটা সে এক অন্যরকম আনন্দ। এ মিলনমেলায় অংশগ্রহণ করে জ্যোতিষ সমাদ্দার বাবু, শামীম হোসেন, কবির আহাম্মদ, ওয়াহিদ মুরাদ অপু, লিয়াকত হোসেন সুমন, হাবিবুর রহমান, মাসুদ আলম, জসিম মজুমদার, ইমরান হোসেন টিপু, রিদওয়ান আক্রাম, রাজিব , মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ লিয়ন, অলিদুল রহমান ওলি, আবদুল মোতালেব পলাশ, আমিনুল ইসলাম, বারি দেওয়ান হৃদয়, আব্দুল্লাহ আল মামুন, রেজাউল কবির রাজিব. সায়কা বানু, রেজওয়ানা হোসেন বর্ণা, টিপু সুলতান দিপু, মনসুর আহমেদ এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা। সকাল ৭টায় ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু হয় এবং এর সফল সমাপ্তি ঘটে রাত ৯টায় সবার নিজ নিজ ঘরে ফেরার মধ্য দিয়ে।
স্বজন, সুহৃদ ও বন্ধুদের মিলনমেলা গ্রামের বাড়ি এবং সি শেল পার্ক অ্যান্ড রিসোর্টে
সব অভিমান ভুলে প্রাক্তনকে ক্ষমা করার দিন আজ
ভালোবাসার সম্পর্ক ভেঙে গেলে পড়ে থাকে কিছু মধুর স্মৃতি, অপূর্ণতা, অভিমান আর না বলা অভিযোগ। কেউ সহজেই অতীত ভুলে নতুন করে জীবন শুরু করতে পারেন, আবার কারও মনে বিচ্ছেদের ক্ষত দীর্ঘদিন দাগ কেটে থাকে। সেই পুরোনো কষ্ট ও তিক্ততা পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা নিয়ে আজ ১৭ অক্টোবর পালিত হচ্ছে ‘ফরগিভ অ্যান এক্স ডে’ বা প্রাক্তনকে ক্ষমা করার দিন। আজ শনিবার (১৭ অক্টোবর) প্রাক্তনকে ক্ষমা করার দিন। প্রতি বছর ১৭ অক্টোবর পালিত হয় এই দিবস। আজকের এই দিনে সারা বিশ্বে পালিত হয় এ বিচিত্র দিবসটি। এর মূল ভাবনা হলো, অতীতের সম্পর্ক ঘিরে জমে থাকা রাগ, ক্ষোভ ও অভিমান থেকে নিজেকে মুক্ত করার চেষ্টা করা। তবে প্রাক্তনকে ক্ষমা করার অর্থ তার কাছে ফিরে যাওয়া নয়; বরং নিজের মানসিক শান্তির জন্য অতীতকে মেনে নেওয়া এবং নতুনভাবে পথচলার সাহস খুঁজে নেওয়া। ২০১৮ সালে ‘ইন্টারন্যাশনাল ফরগিভ অ্যান এক্স ডে’ পালনের প্রচলন শুরু হয়। তবে ঠিক কে এই দিবসের সূচনা করেছিলেন, কোথায় প্রথম উদযাপন হয়েছিল কিংবা কেন ১৭ অক্টোবর তারিখটি বেছে নেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায় না। যদিও এ দিবসের আনুষ্ঠানিক কোনো স্বীকৃতি নেই। এটি জাতিসংঘের স্বীকৃত কোনো আন্তর্জাতিক দিবস নয়। বরং ইন্টারনেটভিত্তিক বিশেষ দিবসগুলোর মধ্যে একটি, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন ক্যালেন্ডারের মাধ্যমে পরিচিতি পেয়েছে। ফলে দিবসটির নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠাতা বা সূচনাসংক্রান্ত তথ্য নিশ্চিতভাবে উল্লেখ করা কঠিন। কেন প্রাক্তনকে ক্ষমা করার কথা বলা হয়? একটি সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পেছনে থাকতে পারে বিশ্বাসভঙ্গ, ভুল বোঝাবুঝি, মতের অমিল কিংবা জীবনের লক্ষ্য আলাদা হয়ে যাওয়া। বিচ্ছেদের পর অনেকেই পুরোনো ঘটনা বারবার মনে করেন। কখনো মনে জমে থাকে না বলা কথা, কখনো বা উত্তর না পাওয়া প্রশ্ন। এসব স্মৃতি ও ক্ষোভ দীর্ঘদিন বয়ে বেড়ালে তা ব্যক্তির মানসিক স্বস্তি এবং নতুন সম্পর্কের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। প্রাক্তনকে ক্ষমা করার দিনটি সেই অনুভূতিগুলো নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করে। অতীতের অভিজ্ঞতাকে অস্বীকার না করে তা মেনে নেওয়া এবং ধীরে ধীরে কষ্ট থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য। ক্ষমা করার অর্থ অন্যায়কে সমর্থন করা নয়; বরং সেই অন্যায়ের স্মৃতি যেন বর্তমান জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, সেই চেষ্টা। তবে ক্ষমা করার সিদ্ধান্ত একান্তই ব্যক্তিগত। কেউ দ্রুত অতীতকে মেনে নিতে পারেন, আবার কারও প্রয়োজন হয় দীর্ঘ সময়। কাউকে জোর করে ক্ষমা করতে বলা কিংবা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সব কষ্ট ভুলে যাওয়ার প্রত্যাশা করা এই দিবসের মূল ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সাধারণত দু‘জনের মধ্যে যখন সম্পর্ক গড়ে ওঠে শুরুতে সেই সম্পর্ক আবেগে ভরপুর থাকে। হয়তো কিছুদিন বা দীর্ঘদিন পর সেই সম্পর্কে ফাটল ধরে। এটা অনেক স্বাভাবিকভাবে নিতে পারেন না। পুরোনো স্মৃতিগুলো বার বার তাকে আঘাত করে। এই ভাঙনের ব্যথা অনেকেরে ক্ষেত্রে খুবই দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। তাই প্রাক্তনকে ক্ষমা করা অন্তত তাদের জন্য সহজ কাজ নয়। কিন্তু, ক্ষমা একটি মহৎ গুণ। তাই সবকিছু ভুলে গিয়ে তাকে ক্ষমা করে দেওয়ার মতো মহান কাজ আর দ্বিতীয়টি হতে পারে না। 
মশিউর অর্ণব
এবার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে রাশিয়ায়
রাশিয়ার কামচাতকা উপদ্বীপে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭। ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল রাশিয়ার সুদূর পূর্বাঞ্চলের ভিলিউচিনস্ক শহর থেকে প্রায় ১২৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং এর গভীরতা ছিল ১৪০ কিলোমিটার। স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ৩৫ মিনিটের দিকে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ভূমিকম্পের পর কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সুনামি ওয়ার্নিং সেন্টার জানিয়েছে, এই কম্পনের ফলে কোনো ঝুঁকি নেই। ভূমিকম্পের প্রভাবে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। বিএনও নিউজের তথ্য অনুযায়ী, জাপানের আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ) ভুলবশত ৯.৯ মাত্রার ভূমিকম্পের একটি আগাম সতর্কতা জারি করেছিল। এতে জাপানের বড় একটি অংশে তীব্র কম্পনের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, অথচ তাদের নিজস্ব পরিমাপে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৬.৯। যদি এই সতর্কতা সঠিক হতো, তবে এটি হতো এ পর্যন্ত রেকর্ড করা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। কামচাতকা উপদ্বীপটি ‘রিং অব ফায়ার’ নামক একটি টেকটোনিক বলয়ের ওপর অবস্থিত, যা প্রশান্ত মহাসাগরের অধিকাংশ এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এবং এটি ভূমিকম্পপ্রবণ একটি অঞ্চল। গত বছরের জুলাই মাসে এই অঞ্চলের উপকূলে ৮.৮ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে, যার ফলে সৃষ্ট সুনামিতে একটি উপকূলীয় গ্রামের কিছু অংশ সমুদ্রে তলিয়ে যায়। সূত্র: এনডিটিভি
এবার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে রাশিয়ায়
জানা গেল ঢাকাসহ সারাদেশে কবে থেকে নামবে শীত
নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ নাগাদ রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শীতের আমেজ শুরু হতে পারে। ডিসেম্বরের শেষভাগ থেকে শীতের তীব্রতা বাড়তে পারে, যা জানুয়ারি মাসজুড়ে অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এমনকি ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত শীতের অনুভূতি থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের (বিএমডি) কর্মকর্তা এ কে এম নাজমুল হক জানান, গত চার-পাঁচ বছরের আবহাওয়ার ধরন বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হচ্ছে, এবার ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত শীতের প্রভাব থাকতে পারে। এ সময় রাজধানী ঢাকার তাপমাত্রা ১১ থেকে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে। তিনি বলেন, নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে দেশের অধিকাংশ এলাকায় শীতের আমেজ অনুভূত হতে পারে। তবে দেশের উত্তর-পূর্ব ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই শীতের আগমন ঘটতে পারে। ডিসেম্বর থেকে শীতের প্রকোপ বাড়বে এবং জানুয়ারি মাসে শীতের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি থাকতে পারে।    আবহাওয়াবিদদের মতে, ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ের পর থেকে দিনের তাপমাত্রা আবারও বাড়তে শুরু করতে পারে। তবে এর আগে পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঠান্ডা আবহাওয়া বিরাজ করার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে উত্তরাঞ্চলের পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁওসহ কয়েকটি জেলায় ইতিমধ্যে শীতের হালকা আমেজ অনুভূত হচ্ছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৯ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সেখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অন্যদিকে, মঙ্গলবার রাজধানী ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় উত্তর দিক থেকে বাতাস বইতে শুরু করলেও ঘনবসতি ও নগরায়ণের কারণে শীতের অনুভূতি স্পষ্ট হতে নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
মশিউর অর্ণব
আরও পড়ুন
‘শেষ’ লেখা থেকে খুলল ৮০ বছরের রহস্যের জট
দর্শনার মেয়ে এলিজা অস্ট্রেলিয়ার ক্যামডেনের ডেপুটি মেয়র, গর্বিত চুয়াডাঙ্গাবাসী
X