ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

আজ ‘স্ত্রীর প্রশংসা দিবস: তুমি আছ বলেই জীবন সুন্দর

চৌধুরী তানভীর আহম্মেদ

  ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪:২২ পিএম
আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪:৫৯ পিএম
প্রতীকি ছবি

সংসার একটি সুবিশাল ক্যানভাস, আর সেখানে স্ত্রীর ভূমিকা এক অদৃশ্য অথচ অসামান্য শিল্পীর মতো। প্রতিদিনের ব্যস্ততা, কাজের চাপ এবং জীবনের হাজারো ধকলের মাঝে সবচেয়ে সহজ যে বিষয়টি মানুষ ভুলে যায়, তা হলো নিকটতম মানুষটিকে একটু ধন্যবাদ জানানো। সম্পর্কের এই স্বাভাবিক নিয়মকে নতুন করে মনে করিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই উদ্যাপিত হয় ‘স্ত্রীর প্রশংসা দিবস’ (Wife Appreciation Day)। প্রতি বছর সেপ্টেম্বরের তৃতীয় রবিবার বিশ্বজুড়ে এই দিনটি বিশেষ ভালোবাসায় ও শ্রদ্ধায় পালিত হয়ে আসছে।

বুলেটিন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

সংসার শুধু দায়িত্ব আর ব্যস্ততার নাম নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে ভালোবাসা, যত্ন, ত্যাগ ও একসঙ্গে পথচলার গল্প। পরিবারের সবার যত্ন নেওয়া থেকে শুরু করে কঠিন সময়ে পাশে থাকা—একজন স্ত্রীর অনেক অবদানই প্রতিদিনের ব্যস্ততায় আলাদা করে বলা হয়ে ওঠে না। তাই প্রিয় মানুষটিকে থেমে গিয়ে বলা—‘তুমি আমার জীবনে খুব গুরুত্বপূর্ণ’—হতে পারে ভালোবাসার অনন্য প্রকাশ। সেই উপলক্ষই ‘স্ত্রীর প্রশংসা দিবস’, যা মনে করিয়ে দেয়—ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার প্রকাশ শুধু একদিন নয়, প্রতিদিনই হওয়া উচিত। ​দৈনন্দিন জীবনের একঘেয়েমি কাটিয়ে একজন স্ত্রীর অমূল্য অবদান, অফুরন্ত ভালোবাসা এবং নিরবচ্ছিন্ন আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোই এই দিবসের মূল মন্ত্র। ২০০৬ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাত্রা শুরু হলেও আজ বিশ্বজুড়ে এই উদযাপনের পরিধি বিস্তৃত।


​স্ত্রীর প্রশংসা দিবসের ইতিহাস ও পটভূমি:
​২০০৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে ‘স্ত্রীর প্রশংসা দিবস’ পালনের সূচনা হয়। দিবসটি নির্দিষ্ট কোনো একক ব্যক্তি বা ব্র্যান্ডের মাধ্যমে শুরু হয়নি; বরং এটি সমাজের মনস্তাত্ত্বিক ও পারিবারিক চাহিদার ফল হিসেবে গড়ে ওঠে। আধুনিক যুগে কর্মক্ষেত্র এবং গৃহস্থালি—উভয় ক্ষেত্রেই একজন নারী যেভাবে সামঞ্জস্য বজায় রেখে কাজ করেন, সেটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মান জানানোর একটি মাধ্যম প্রয়োজন ছিল।


​মে দিবস বা মা দিবসের মতো অনেক আন্তর্জাতিক দিন থাকলেও, শুধুমাত্র জীবনসঙ্গিনী বা স্ত্রীর অনন্য অবদানের ওপর আলোকপাত করার সুযোগ তুলনামূলক কম ছিল। সেই শূন্যতা পূরণ করতেই সেপ্টেম্বরের তৃতীয় রবিবারকে এই বিশেষ উদযাপনের জন্য বেছে নেওয়া হয়। সময়ের সাথে সাথে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিশ্বায়নের কল্যাণে এই ভাবনা ছড়িয়ে পড়েছে পৃথিবীর নানা প্রান্তে।
​সংসার জীবনে স্ত্রীর অবদান: এক অদৃশ্য চালিকাশক্তি


​একটি পরিবারকে গুছিয়ে রাখা, সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখা এবং পরিবারের প্রতিটি সদস্যের মানসিক ও শারীরিক যত্ন নেওয়ার ক্ষেত্রে স্ত্রীর অবদান অপরিসীম। সমাজে প্রায়শই স্ত্রীর এই কাজগুলোকে "দায়িত্ব" হিসেবে গণ্য করে স্বাভাবিক বলে ধরে নেওয়া হয়, যা মানসিক ও সামাজিকভাবে অনুচিত।


​১. অদৃশ্য গৃহস্থালি শ্রম:
​সংসার পরিচালনার পেছনে এমন হাজারো ছোট ছোট কাজ থাকে যা চোখে পড়ে না, অথচ না করলে পুরো পরিবার স্থবির হয়ে পড়ে। সকালের খাবার প্রস্তুত করা থেকে শুরু করে ঘর গুছিয়ে রাখা, সন্তানদের লালন-পালন, প্রবীণ সদস্যদের যত্ন এবং পরিবারের প্রতি মাসের বাজেট সামলানো—এই সবকিছুতেই একজন স্ত্রীর হাতের ছোঁয়া থাকে।


​২. মানসিক নীরব ভার:
​নারীরা শুধু শারীরিক কাজই করেন না, পরিবার পরিচালনার মানসিক পরিকল্পনাও একা বহন করেন। কাকে কখন ডাক্তারের কাছে নিতে হবে, কার কী ওষুধ লাগবে, গৃহস্থালির কী কেনাকাটা বাকি—এই অদৃশ্য মানসিক চাপ একজন নারী প্রতিনিয়ত বহন করে চলেন।


​৩. জীবন ও পেশাগত সমঝোতা:
​অনেক নারীই সংসারের প্রয়োজনে বা সন্তানদের সুস্বাস্থ্যের কথা ভেবে নিজের সম্ভাবনাময় ক্যারিয়ার, স্বপ্ন কিংবা ব্যক্তিগত শখ বিসর্জন দেন। আবার যারা পেশাগত জীবনে সমানভাবে সক্রিয়, তারা ঘরে-বাইরে ডাবল শিফটে কাজ করেন। এই ত্যাগ ও পরিশ্রমের সঠিক মূল্য দেওয়া প্রতিটি স্বামীর মৌলিক দায়িত্ব।


​মনোবিজ্ঞানীদের মতে, যেকোনো স্থায়ী ও সুস্থ সম্পর্কের মূল ভিত্তি হলো পারস্পরিক সম্মান ও প্রশংসা। দীর্ঘ বিবাহিত জীবনে কাজের একঘেয়েমি এবং বোঝাপড়ার অভাব অনেক সময় দূরত্বের সৃষ্টি করে।


​আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি: নিয়মিত প্রশংসায় একজন মানুষ নিজেকে মূল্যায়ন করতে শেখেন। যখন একজন স্ত্রী জানতে পারেন যে তার পরিশ্রম ও যত্নের মূল্য দেওয়া হচ্ছে, তখন তার মানসিক তৃপ্তি বহুগুণ বেড়ে যায়।


​মানসিক সুরক্ষা: বৈবাহিক সম্পর্কে মানসিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশংসার চেয়ে বড় কোনো প্রতিষেধক নেই। প্রশংসা সম্পর্কের ভেতরে জমে থাকা জমে থাকা ক্ষোভ ও অবসাদ দূর করতে সাহায্য করে।


​সম্পর্কের স্থায়িত্ব: গবেষণে দেখা গেছে, যেসব দম্পতি পরস্পরের কাজের প্রশংসা করেন এবং ছোট ছোট বিষয়েও ধন্যবাদ জানান, তাদের দাম্পত্য জীবনের স্থায়িত্ব ও সুখের মাত্রা অন্য অনেকের চেয়ে বেশি।


​স্ত্রীর প্রশংসা দিবসে ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ:
​স্ত্রীর প্রশংসা দিবস মানেই অনেক বড় আয়োজন বা মূল্যবান উপহার দিতে হবে—এমন নয়। অনুভূতির আন্তরিক প্রকাশই এই দিনের মূল চালিকাশক্তি। ব্যস্ত জীবনের মাঝেও কীভাবে স্ত্রীর জন্য এই দিনটিকে স্মরণীয় করে তোলা যায়, তার কয়েকটি চমৎকার উপায় নিচে তুলে ধরা হলো:


​১. মুখে বলা ও চিঠি লেখা:
​ধন্যবাদ জানান: চোখ দেখে একটি আন্তরিক "ধন্যবাদ" বা "তুমি আছ বলেই আমার জীবনটা এত সুন্দর" বলা অনেক দামী উপহারের চেয়েও শক্তিশালী। ​একটি চিঠি লিখুন: ডিজিটাল যুগে হাতে লেখা চিঠির আবেদন আলাদা। তার প্রতি আপনার অনুভূতি, ভালোবাসার স্মৃতি এবং তার ত্যাগের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে একটি ছোট চিঠি লিখতে পারেন।


​২. কাজের বোঝা ভাগ করে নেওয়া:
​রান্নাঘরে সাহায্য: এই একটি দিন বা ছুটির দিনগুলোতে স্ত্রীর জায়গায় দাঁড়িয়ে আপনি নিজে রান্না করতে পারেন অথবা তাকে তার প্রিয় খাবার কোনো রেস্তোরাঁ থেকে এনে উপহার দিতে পারেন। ​গৃহস্থালি দায়িত্ব নিজের কাঁধে নেওয়া: ঘর পরিষ্কার করা, সন্তানদের সামলানো বা অন্যান্য কাজ নিজে করে স্ত্রীকে সম্পূর্ণ বিশ্রামের সুযোগ দিন।


​৩. গুণমানসম্পন্ন সময়:
​একান্তে সময় কাটানো: দৈনন্দিন সংসারের আলোচনা, সন্তান বা কাজের কথা দূরে সরিয়ে রেখে কেবল নিজেদের জন্য কিছুটা সময় বের করুন। ​হাঁটা বা ভ্রমণ: কাছাকাছি কোথাও ঘুরতে যাওয়া, পার্ক বা কোনো শান্ত জায়গায় হেঁটে পুরোনো স্মৃতি রোমন্থন করা সম্পর্কের রসায়নকে নতুন করে সতেজ করে তোলে।


​৪. শখ ও ব্যক্তিগত স্বপ্নকে গুরুত্ব দেওয়া:
​প্রতিটি মানুষেরই নিজস্ব শখ বা ইচ্ছা থাকে যা সংসারের চাপে হারিয়ে যায়। স্ত্রীর সেরকম কোনো ইচ্ছে বা শখ (যেমন: বই পড়া, ছবি আঁকা, গান শেখা বা কোনো কোর্স করা) পূরণে তাকে উৎসাহিত করুন ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিন।


​আমাদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে দাম্পত্য সম্পর্কের মাধুর্য নিয়ে আলোচনার সুযোগ অনেক সময় কমে যায়। অথচ বাঙালি সংস্কৃতিতে পরিবারব্যবস্থার মূল স্তম্ভই হলেন নারী। প্রাচ্যের পরিবারগুলোতে স্ত্রীর ভূমিকা কেবল একজন সঙ্গীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, তিনি পুরো পরিবারের আত্মাস্বরূপ। ​ধর্মীয় দৃষ্টি থেকেও স্ত্রীকে সম্মান দেওয়া ও তার প্রশংসা করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
​ইসলামিক দৃষ্টিভঙ্গি: ইসলাম ধর্মে স্ত্রীর সঙ্গে সর্বোত্তম আচরণের ওপর অত্যন্ত জোর দেওয়া হয়েছে। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, "তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই উত্তম, যে তার স্ত্রীর কাছে উত্তম।" দাম্পত্য জীবনে স্ত্রীর অবদানকে স্বীকার করা এবং তাকে ভালোবাসা প্রকাশ করা সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত।

বর্তমান সমাজে পুরুষরা ধীরে ধীরে তাদের ঐতিহ্যগত দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বেরিয়ে আসছেন। ঘরে স্ত্রীর কাজে সাহায্য করা বা প্রকাশ্যে স্ত্রীর প্রশংসা করাকে এখন আর দুর্বলতা নয়, বরং একজন প্রবুদ্ধ ও আধুনিক পুরুষের গুণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।


​একদিনের উদযাপন বনাম প্রতিদিনের অভ্যাস:
​‘স্ত্রীর প্রশংসা দিবস’ উদযাপনের একটি চমৎকার দিক হলো এটি আমাদের একটি স্মারক বা স্মরণিকা হিসেবে কাজ করে। তবে বছরের একটি মাত্র নির্দিষ্ট দিনে সীমাবদ্ধ থাকলে এই দিবসের প্রকৃত উদ্দেশ্য অর্জিত হয় না।


​সেপ্টেম্বরের এই বিশেষ রবিবারটি হতে পারে একটি নতুন অভ্যাসের সূচনা। এই দিনটিতে যে ভালোবাসার অঙ্গীকার করা হবে, তা যেন বছরের বাকি ৩৬৪ দিনেও বজায় থাকে। ​"প্রশংসা হলো সেই বাতাস, যা সম্পর্কের ভালোবাসার প্রদীপকে প্রতিনিয়ত জ্বলতে সাহায্য করে।" ​প্রতিদিনের জীবনে ছোট ছোট কিছু কাজ নিয়মিত করা যেতে পারে:
১. কাজের মাঝে হঠাৎ একটি সংক্ষিপ্ত বার্তা পাঠানো ("তোমার কথা মনে পড়ছে")।
২. নতুন পোশাক পরলে বা সুন্দর সাজলে তার প্রশংসা করা।
৩. দিনশেষে সে কেমন ছিল তা জানতে চাওয়া এবং মন দিয়ে তার কথা শোনা।

পরিশেষে বলা যায়, ​একটি সফল দাম্পত্য জীবন কোনো অলৌকিক বিষয় নয়; এটি দুটি মানুষের পারস্পরিক যত্ন, সহমর্মিতা এবং ভালোবাসার ফসল। ব্যস্ত এই পৃথিবীতে সম্পর্কের সুতাগুলো অনেক সময়ই আলগা হয়ে পড়ে। 'স্ত্রীর প্রশংসা দিবস' সেই সুতাগুলোকে আবার শক্ত করে বাঁধার একটি দারুণ সুযোগ এনে দেয়।


​স্ত্রী কেবল সংসারের সহধর্মিণী নন, তিনি জীবনের কঠিনতম দিনগুলোর সহযাত্রী, সুখে-দুঃখে পাশে থাকা সবচেয়ে বিশ্বস্ত বন্ধু। আজ এই বিশেষ দিনে সমাজের সকল পুরুষদের উচিত তাদের জীবনসঙ্গিনীর চোখের দিকে তাকিয়ে হৃদয়ের অন্তস্তল থেকে বলা—"তোমার উপস্থিতির জন্য ধন্যবাদ, তুমি আমার জীবনকে সম্পূর্ণ করেছ।" প্রশংসা ও ভালোবাসার এই ছোট পদক্ষেপই একটি পরিবারকে ভরে তুলতে পারে অনাবিল শান্তিতে।

ঢাকায় বৃষ্টি ঝরবে কিনা, জানাল আবহাওয়া অধিদপ্তর
রাজধানী ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আকাশ আজ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। একইসঙ্গে আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে এসময়ে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হবে কি না, তা নিয়ে কোনো পূর্বাভাস দেওয়া হয়নি। রোববার (১৮ অক্টোবর) সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আকাশ আজ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। একই সঙ্গে আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। এছাড়া উত্তর-উত্তর পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৮ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে বাতাস বয়ে যেতে পারে। এদিকে, আজ সকাল ৬টায় ঢাকার তাপমাত্রা ছিল ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এসময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৭৫ শতাংশ। আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত সন্ধ্যা ৫টা ৩০ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ভোর ৫টা ৫৮ মিনিটে।
ঢাকায় বৃষ্টি ঝরবে কিনা, জানাল আবহাওয়া অধিদপ্তর
স্বজন, সুহৃদ ও বন্ধুদের মিলনমেলা গ্রামের বাড়ি এবং সি শেল পার্ক অ্যান্ড রিসোর্টে
শেকড়ের টানে গ্রামে ফেরা, প্রিয়জনদের সঙ্গে স্মৃতিময় সময় কাটানো আর প্রকৃতির সান্নিধ্যে এক আনন্দঘন দিন স্বজনের টান, সুহৃদের ভালোবাসা আর বন্ধুদের আন্তরিকতা যখন এক সুতোয় গাঁথা হয়, তখন সাধারণ একটি দিনও হয়ে ওঠে অসাধারণ। ব্যস্ত জীবনের নানা ব্যস্ততা, কাজের চাপ আর নাগরিক কোলাহল পেছনে ফেলে একসঙ্গে কিছু সময় কাটানোর আনন্দই আলাদা। সেই আনন্দকে সঙ্গী করে স্বজন, সুহৃদ ও বন্ধুদের নিয়ে ১৬ অক্টোবর আয়োজন করা হয়েছিল এক আনন্দময় পারিবারিক ভ্রমণ। রূপগঞ্জের ‘গ্রামের বাড়ি পার্কে’ গ্রামীণ পরিবেশে কিছুটা সময় কাটানো, পার্কে ঘুরে বেড়ানো, সি শেল পার্ক অ্যান্ড রিসোর্টে আনন্দঘন মুহূর্ত উপভোগ করা এবং সবশেষে পূর্বচলের নীল মার্কেটে হাঁসের মাংস দিয়ে ভূড়িভোজের মধ্য দিয়ে দিনটি হয়ে ওঠে স্মরণীয়। শেকড়ের টানে গ্রামের বাড়ি পার্ক ভ্রমণের শুরুতেই ছিল ‘গ্রামের বাড়ি পার্কে’ যাওয়ার আনন্দ। শহরের ব্যস্ততা থেকে দূরে গ্রামের পথে পা রাখতেই যেন বদলে যায় চারপাশের চেনা দৃশ্যপট। গ্রামের নির্মল পরিবেশ, সবুজ প্রকৃতি, পরিচিত পথঘাট আর শৈশবের স্মৃতিমাখা আবহ মনকে নিয়ে যায় অন্য এক জগতে। গ্রামের বাড়ি পার্ক মানেই শুধু একটি ঠিকানা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে শেকড়ের টান, পারিবারিক ঐতিহ্য, প্রিয়জনদের স্মৃতি এবং হৃদয়ের গভীরে জমে থাকা অসংখ্য অনুভূতি। স্বজন, সুহৃদ ও বন্ধুদের একসঙ্গে গ্রামের বাড়িতে যাওয়া যেন সেই আবেগকে আরও গভীর করে তোলে। একদিকে পারিবারিক বন্ধনের উষ্ণতা, অন্যদিকে পুরোনো স্মৃতির হাতছানি। গল্প, হাসি আর খুনসুটিতে সময় কাটতে থাকে আপন ছন্দে। কেউ স্মৃতির ঝাঁপি খুলে বসেন, কেউ পুরোনো দিনের কথা মনে করিয়ে দেন, আবার কেউ বন্ধুদের সঙ্গে ভাগ করে নেন জীবনের নানা অভিজ্ঞতা। গ্রামের বাড়ি পার্কে এমন একসঙ্গে সময় কাটানোর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হলো আপনজনদের আরও কাছ থেকে অনুভব করা। সম্পর্কের ব্যস্ততা ও দূরত্বের মাঝে যে আন্তরিকতার জায়গাটি কখনো কখনো আড়ালে পড়ে যায়, এমন আয়োজন তাকে আবারও উজ্জ্বল করে তোলে। পার্কে ঘোরাঘুরি, আনন্দ আর আড্ডা গ্রামের বাড়ি পার্কে ভ্রমণের আনন্দ আরও বাড়িয়ে দেয় পার্কে ঘুরে বেড়ানো, পরিচিত গণ্ডির বাইরে খোলা পরিবেশে সবার সঙ্গে সময় কাটানো, একসঙ্গে হাঁটাহাঁটি করা, ছবি তোলা আর হাসি-আড্ডায় মেতে ওঠার মধ্য দিয়ে তৈরি হয় আনন্দের নতুন উপলক্ষ। এ ধরনের ভ্রমণে গন্তব্য যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে সঙ্গীদের উপস্থিতি। একই দৃশ্য কারও কাছে প্রকৃতির সৌন্দর্য, কারও কাছে ছবি তোলার উপলক্ষ, আবার কারও কাছে বন্ধুদের সঙ্গে কিছু নির্ভার সময় কাটানোর সুযোগ। সবার ভাবনা ও অনুভূতি মিলেমিশে ভ্রমণকে করে তোলে প্রাণবন্ত। কর্মব্যস্ত জীবনে মানুষ অনেক সময় কাছের মানুষদের সঙ্গে মন খুলে কথা বলার সুযোগ পায় না। পার্কের মতো উন্মুক্ত পরিবেশে সেই সুযোগ তৈরি হয় সহজেই। দৈনন্দিন জীবনের হিসাব-নিকাশ ভুলে সবাই যখন একসঙ্গে আনন্দে মেতে ওঠেন, তখন বয়সের ব্যবধান কিছুক্ষণের জন্য হারিয়ে যায়। সি শেল পার্ক অ্যান্ড রিসোর্টে আনন্দময় সময় ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ ছিল সি শেল পার্ক অ্যান্ড রিসোর্টে যাওয়া। দুটি স্থানে ঘুরে দিনের আনন্দকে আরও বিস্তৃত করতে এই গন্তব্য যোগ করে নতুন মাত্রা। স্বজন, সুহৃদ ও বন্ধুদের সঙ্গে এমন একটি অবকাশযাপনের স্থানে সময় কাটানোর মধ্যে রয়েছে আলাদা রোমাঞ্চ। পরিচিত মানুষদের সঙ্গে নতুন পরিবেশে ঘোরাঘুরি, গল্প করা এবং একসঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলোকে স্মৃতিতে ধরে রাখার সুযোগ তৈরি হয়। রিসোর্টে পৌঁছানোর পর ভ্রমণসঙ্গীদের মধ্যে আনন্দের আমেজ আরও ছড়িয়ে পড়ে। কেউ চারপাশের পরিবেশ উপভোগ করেন, কেউ সঙ্গীদের সঙ্গে গল্পে মেতে ওঠে, আবার কেউ স্মরণীয় মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। একসঙ্গে ছবি তোলা, হাসিমুখে স্মৃতি ধরে রাখা এবং পরস্পরের সঙ্গে সময় ভাগ করে নেওয়ার মধ্য দিয়ে ভ্রমণটি হয়ে ওঠে আরও প্রাণবন্ত। এখানে আসার মূল আনন্দ কেবল একটি বিনোদনকেন্দ্র ঘুরে দেখা নয়; বরং প্রিয় মানুষদের সঙ্গে একই সময়ে, একই জায়গায় উপস্থিত থাকার আনন্দ। দিনের নানা মুহূর্তে তৈরি হওয়া হাসি, গল্প আর আনন্দের স্মৃতিই পরে হয়ে ওঠে একসঙ্গে কাটানো সময়ের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। সম্পর্কের বন্ধন আরও দৃঢ় করার আয়োজন স্বজন, সুহৃদ ও বন্ধুদের এই ভ্রমণ কেবল বেড়ানোর আয়োজন ছিল না; এর মধ্যে ছিল সম্পর্ককে নতুন করে অনুভব করার সুযোগ। আত্মীয়তার বন্ধন মানুষকে শেকড়ের সঙ্গে যুক্ত রাখে, সুহৃদদের আন্তরিকতা কঠিন সময়ে সাহস জোগায়, আর বন্ধুত্ব জীবনের একঘেয়েমির মধ্যে এনে দেয় আনন্দ ও প্রাণচাঞ্চল্য। একটি সফল পারিবারিক মিলনমেলার সৌন্দর্য এখানেই যে, সেখানে সবাই নিজের মতো করে আনন্দ খুঁজে নিতে পারেন। কেউ গল্পে, কেউ আড্ডায়, কেউ প্রকৃতির সান্নিধ্যে, আবার কেউ প্রিয়জনদের সঙ্গে ছবি তোলার মধ্যে খুঁজে পান সুখের মুহূর্ত। কিন্তু সবার আনন্দের কেন্দ্রবিন্দু একটাই একসঙ্গে থাকা। এই ভ্রমণ আরও একবার মনে করিয়ে দিয়েছে, সম্পর্ককে বাঁচিয়ে রাখতে বড় আয়োজনের প্রয়োজন নেই; প্রয়োজন আন্তরিকতা, সময় দেওয়া এবং একে অন্যের পাশে থাকার মানসিকতা।  স্মৃতির পাতায় থেকে যাবে আনন্দময় দিনটি গ্রামের বাড়ি পার্কের  মায়া, পার্কে ঘোরাঘুরি আর সি শেল পার্ক অ্যান্ড রিসোর্টে কাটানো সময়— সব মিলিয়ে স্বজন, সুহৃদ ও বন্ধুদের এই ভ্রমণ হয়ে উঠেছে আনন্দ ও স্মৃতির এক সুন্দর সময়। এরপর চলে নীলা মার্কেটে হাঁসের মাংস আর রুটি খাওয়ার পালা। ছোট ছোট বাচ্চাদের দেয়া হয় উপহার সামগ্রী এবং র‌্যাফেল ড্রতে উপহার পান হাবিব, লিয়ন ও মাসুদ। দিনের শেষে সবাই ফিরে গেছে নিজ নিজ কর্মব্যস্ত জীবনে, কিন্তু সঙ্গে নিয়ে গেছে একসঙ্গে কাটানো সময়ের অমূল্য স্মৃতি। ছবি হয়তো মুহূর্তগুলোকে ধরে রাখবে, কিন্তু সেই মুহূর্তের হাসি, আন্তরিকতা আর ভালোবাসার অনুভূতি থেকে যাবে হৃদয়ের গভীর থেকে গভীরে। ভবিষ্যতে যখন আবারও ব্যস্ততা বাড়বে, তখন এই ভ্রমণের স্মৃতিই হয়তো মনে করিয়ে দেবে—জীবনের প্রকৃত আনন্দ শুধু সাফল্য কিংবা প্রাপ্তিতে নয় বরং প্রিয় মানুষদের সঙ্গে সময় ভাগ করে নেওয়ার মধ্যেই নিহিত। স্বজন, সুহৃদ ও বন্ধুদের এই মিলনমেলা তাই একটি দিনের ভ্রমণেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি সম্পর্কের প্রতি ভালোবাসা, শেকড়ের প্রতি টান এবং একসঙ্গে পথচলার অঙ্গীকারের প্রতীক। এমন আয়োজন বারবার ফিরে আসুক, নতুন আনন্দের উপলক্ষ তৈরি করুক এবং সবার হৃদয়ে ভালোবাসার বন্ধন আরও গভীর করুক। তিনবারে ভোজনে প্রিয় খাবারের মেনুতে ছিল খিচুড়ি, চা, ফ্রাইড রাইস, কোমল পানীয়, হাঁসের মাংস ও রুটি, পানি ইত্যাদি। সুইমিং পুলে সাঁতার কাটা সে এক অন্যরকম আনন্দ। এ মিলনমেলায় অংশগ্রহণ করে জ্যোতিষ সমাদ্দার বাবু, শামীম হোসেন, কবির আহাম্মদ, ওয়াহিদ মুরাদ অপু, লিয়াকত হোসেন সুমন, হাবিবুর রহমান, মাসুদ আলম, জসিম মজুমদার, ইমরান হোসেন টিপু, রিদওয়ান আক্রাম, রাজিব , মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ লিয়ন, অলিদুল রহমান ওলি, আবদুল মোতালেব পলাশ, আমিনুল ইসলাম, বারি দেওয়ান হৃদয়, আব্দুল্লাহ আল মামুন, রেজাউল কবির রাজিব. সায়কা বানু, রেজওয়ানা হোসেন বর্ণা, টিপু সুলতান দিপু, মনসুর আহমেদ এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা। সকাল ৭টায় ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু হয় এবং এর সফল সমাপ্তি ঘটে রাত ৯টায় সবার নিজ নিজ ঘরে ফেরার মধ্য দিয়ে।
স্বজন, সুহৃদ ও বন্ধুদের মিলনমেলা গ্রামের বাড়ি এবং সি শেল পার্ক অ্যান্ড রিসোর্টে
সব অভিমান ভুলে প্রাক্তনকে ক্ষমা করার দিন আজ
ভালোবাসার সম্পর্ক ভেঙে গেলে পড়ে থাকে কিছু মধুর স্মৃতি, অপূর্ণতা, অভিমান আর না বলা অভিযোগ। কেউ সহজেই অতীত ভুলে নতুন করে জীবন শুরু করতে পারেন, আবার কারও মনে বিচ্ছেদের ক্ষত দীর্ঘদিন দাগ কেটে থাকে। সেই পুরোনো কষ্ট ও তিক্ততা পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা নিয়ে আজ ১৭ অক্টোবর পালিত হচ্ছে ‘ফরগিভ অ্যান এক্স ডে’ বা প্রাক্তনকে ক্ষমা করার দিন। আজ শনিবার (১৭ অক্টোবর) প্রাক্তনকে ক্ষমা করার দিন। প্রতি বছর ১৭ অক্টোবর পালিত হয় এই দিবস। আজকের এই দিনে সারা বিশ্বে পালিত হয় এ বিচিত্র দিবসটি। এর মূল ভাবনা হলো, অতীতের সম্পর্ক ঘিরে জমে থাকা রাগ, ক্ষোভ ও অভিমান থেকে নিজেকে মুক্ত করার চেষ্টা করা। তবে প্রাক্তনকে ক্ষমা করার অর্থ তার কাছে ফিরে যাওয়া নয়; বরং নিজের মানসিক শান্তির জন্য অতীতকে মেনে নেওয়া এবং নতুনভাবে পথচলার সাহস খুঁজে নেওয়া। ২০১৮ সালে ‘ইন্টারন্যাশনাল ফরগিভ অ্যান এক্স ডে’ পালনের প্রচলন শুরু হয়। তবে ঠিক কে এই দিবসের সূচনা করেছিলেন, কোথায় প্রথম উদযাপন হয়েছিল কিংবা কেন ১৭ অক্টোবর তারিখটি বেছে নেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায় না। যদিও এ দিবসের আনুষ্ঠানিক কোনো স্বীকৃতি নেই। এটি জাতিসংঘের স্বীকৃত কোনো আন্তর্জাতিক দিবস নয়। বরং ইন্টারনেটভিত্তিক বিশেষ দিবসগুলোর মধ্যে একটি, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন ক্যালেন্ডারের মাধ্যমে পরিচিতি পেয়েছে। ফলে দিবসটির নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠাতা বা সূচনাসংক্রান্ত তথ্য নিশ্চিতভাবে উল্লেখ করা কঠিন। কেন প্রাক্তনকে ক্ষমা করার কথা বলা হয়? একটি সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পেছনে থাকতে পারে বিশ্বাসভঙ্গ, ভুল বোঝাবুঝি, মতের অমিল কিংবা জীবনের লক্ষ্য আলাদা হয়ে যাওয়া। বিচ্ছেদের পর অনেকেই পুরোনো ঘটনা বারবার মনে করেন। কখনো মনে জমে থাকে না বলা কথা, কখনো বা উত্তর না পাওয়া প্রশ্ন। এসব স্মৃতি ও ক্ষোভ দীর্ঘদিন বয়ে বেড়ালে তা ব্যক্তির মানসিক স্বস্তি এবং নতুন সম্পর্কের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। প্রাক্তনকে ক্ষমা করার দিনটি সেই অনুভূতিগুলো নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করে। অতীতের অভিজ্ঞতাকে অস্বীকার না করে তা মেনে নেওয়া এবং ধীরে ধীরে কষ্ট থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য। ক্ষমা করার অর্থ অন্যায়কে সমর্থন করা নয়; বরং সেই অন্যায়ের স্মৃতি যেন বর্তমান জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, সেই চেষ্টা। তবে ক্ষমা করার সিদ্ধান্ত একান্তই ব্যক্তিগত। কেউ দ্রুত অতীতকে মেনে নিতে পারেন, আবার কারও প্রয়োজন হয় দীর্ঘ সময়। কাউকে জোর করে ক্ষমা করতে বলা কিংবা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সব কষ্ট ভুলে যাওয়ার প্রত্যাশা করা এই দিবসের মূল ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সাধারণত দু‘জনের মধ্যে যখন সম্পর্ক গড়ে ওঠে শুরুতে সেই সম্পর্ক আবেগে ভরপুর থাকে। হয়তো কিছুদিন বা দীর্ঘদিন পর সেই সম্পর্কে ফাটল ধরে। এটা অনেক স্বাভাবিকভাবে নিতে পারেন না। পুরোনো স্মৃতিগুলো বার বার তাকে আঘাত করে। এই ভাঙনের ব্যথা অনেকেরে ক্ষেত্রে খুবই দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। তাই প্রাক্তনকে ক্ষমা করা অন্তত তাদের জন্য সহজ কাজ নয়। কিন্তু, ক্ষমা একটি মহৎ গুণ। তাই সবকিছু ভুলে গিয়ে তাকে ক্ষমা করে দেওয়ার মতো মহান কাজ আর দ্বিতীয়টি হতে পারে না। 
মশিউর অর্ণব
এবার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে রাশিয়ায়
রাশিয়ার কামচাতকা উপদ্বীপে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭। ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল রাশিয়ার সুদূর পূর্বাঞ্চলের ভিলিউচিনস্ক শহর থেকে প্রায় ১২৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং এর গভীরতা ছিল ১৪০ কিলোমিটার। স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ৩৫ মিনিটের দিকে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ভূমিকম্পের পর কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সুনামি ওয়ার্নিং সেন্টার জানিয়েছে, এই কম্পনের ফলে কোনো ঝুঁকি নেই। ভূমিকম্পের প্রভাবে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। বিএনও নিউজের তথ্য অনুযায়ী, জাপানের আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ) ভুলবশত ৯.৯ মাত্রার ভূমিকম্পের একটি আগাম সতর্কতা জারি করেছিল। এতে জাপানের বড় একটি অংশে তীব্র কম্পনের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, অথচ তাদের নিজস্ব পরিমাপে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৬.৯। যদি এই সতর্কতা সঠিক হতো, তবে এটি হতো এ পর্যন্ত রেকর্ড করা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। কামচাতকা উপদ্বীপটি ‘রিং অব ফায়ার’ নামক একটি টেকটোনিক বলয়ের ওপর অবস্থিত, যা প্রশান্ত মহাসাগরের অধিকাংশ এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এবং এটি ভূমিকম্পপ্রবণ একটি অঞ্চল। গত বছরের জুলাই মাসে এই অঞ্চলের উপকূলে ৮.৮ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে, যার ফলে সৃষ্ট সুনামিতে একটি উপকূলীয় গ্রামের কিছু অংশ সমুদ্রে তলিয়ে যায়। সূত্র: এনডিটিভি
এবার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে রাশিয়ায়
জানা গেল ঢাকাসহ সারাদেশে কবে থেকে নামবে শীত
নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ নাগাদ রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শীতের আমেজ শুরু হতে পারে। ডিসেম্বরের শেষভাগ থেকে শীতের তীব্রতা বাড়তে পারে, যা জানুয়ারি মাসজুড়ে অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এমনকি ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত শীতের অনুভূতি থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের (বিএমডি) কর্মকর্তা এ কে এম নাজমুল হক জানান, গত চার-পাঁচ বছরের আবহাওয়ার ধরন বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হচ্ছে, এবার ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত শীতের প্রভাব থাকতে পারে। এ সময় রাজধানী ঢাকার তাপমাত্রা ১১ থেকে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে। তিনি বলেন, নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে দেশের অধিকাংশ এলাকায় শীতের আমেজ অনুভূত হতে পারে। তবে দেশের উত্তর-পূর্ব ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই শীতের আগমন ঘটতে পারে। ডিসেম্বর থেকে শীতের প্রকোপ বাড়বে এবং জানুয়ারি মাসে শীতের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি থাকতে পারে।    আবহাওয়াবিদদের মতে, ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ের পর থেকে দিনের তাপমাত্রা আবারও বাড়তে শুরু করতে পারে। তবে এর আগে পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঠান্ডা আবহাওয়া বিরাজ করার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে উত্তরাঞ্চলের পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁওসহ কয়েকটি জেলায় ইতিমধ্যে শীতের হালকা আমেজ অনুভূত হচ্ছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৯ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সেখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অন্যদিকে, মঙ্গলবার রাজধানী ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় উত্তর দিক থেকে বাতাস বইতে শুরু করলেও ঘনবসতি ও নগরায়ণের কারণে শীতের অনুভূতি স্পষ্ট হতে নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
মশিউর অর্ণব
আরও পড়ুন
বগুড়া জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে মন্দির ও পুজা মন্ডপে শুভেচ্ছা উপহার বিতরণ 
স্বামীকে রেখে প্রেমিকের সঙ্গে সংসার করতে চাওয়ায় স্ত্রীকে হ'ত্যা
সাবেক স্ত্রীর ‘আপত্তিকর ভিডিও’ ফাঁস করল রাজু, অতঃপর...
বিয়ের মাস না পেরোতেই নববধূ উধাও, স্ত্রীকে ফেরত পেতে প্রবাসীর সংবাদ সম্মেলন
X