ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

প্রকৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় জনপদ সিলেট

খায়রুল আলম (সুমন)

  ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:৫০ পিএম
প্রকৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় জনপদ সিলেট

বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত সিলেট যেন প্রকৃতির নিজ হাতে আঁকা এক অপরূপ ছবি। সবুজে ঘেরা চা-বাগান, পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে চলা ঝরনা, স্বচ্ছ জলের নদী, বিস্তীর্ণ হাওর আর শতাব্দীপ্রাচীন আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য—সব মিলিয়ে সিলেটের রয়েছে স্বতন্ত্র পরিচয়। শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নয়, ইতিহাস, সংস্কৃতি, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও প্রবাসী জনগোষ্ঠীর অবদানও এ অঞ্চলকে বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জনপদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

বুলেটিন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

সিলেটের নাম উচ্চারিত হলেই অনেকের চোখে ভেসে ওঠে সবুজ চা-বাগানের ছবি। আবার কারও মনে পড়ে জাফলংয়ের পাথরঘেরা নদী, রাতারগুলের জলাবন কিংবা হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা আধ্যাত্মিক পরিবেশ। এই বৈচিত্র্যই সিলেটকে দিয়েছে আলাদা সৌন্দর্য ও পরিচিতি।

চা-বাগানের সবুজে সিলেটের পরিচয়:
সিলেটের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ এর বিস্তীর্ণ চা-বাগান। সারি সারি চা-গাছের সবুজ গালিচা, আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ এবং শ্রমিকদের কর্মব্যস্ততা এ অঞ্চলের অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র তুলে ধরে। চা শুধু সিলেটের সৌন্দর্যের অংশ নয়; এটি কর্মসংস্থান, শিল্প ও বাণিজ্যের সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত।

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলসহ সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় চা-বাগান পর্যটকদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করে। চা-শিল্পের পাশাপাশি এসব বাগানকে কেন্দ্র করে পর্যটন, স্থানীয় ব্যবসা এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের বিকাশের সুযোগও রয়েছে।

তবে এই শিল্পের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করে উৎপাদন বৃদ্ধি, শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন এবং পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনার ওপর। চা-শ্রমিকদের অবদানকে যথাযথ মূল্যায়ন করাও এ অঞ্চলের ঐতিহ্য ও অর্থনীতির প্রতি দায়িত্বের অংশ।

জাফলং, বিছনাকান্দি ও লালাখাল প্রকৃতির অপার বিস্ময়:
সিলেটের পর্যটন পরিচিতির বড় একটি অংশজুড়ে রয়েছে পাথর, পাহাড় ও স্বচ্ছ পানির মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। গোয়াইনঘাটের জাফলংয়ে পাহাড়ি পরিবেশ, নদী ও পাথরের সমন্বয় পর্যটকদের মুগ্ধ করে। বিছনাকান্দিতে পাহাড় থেকে নেমে আসা পানির প্রবাহ এবং পাথুরে ভূদৃশ্য তৈরি করে ভিন্নধর্মী সৌন্দর্য।

অন্যদিকে লালাখালের নীলাভ-সবুজ পানির দৃশ্য ও নদীপথের সৌন্দর্য ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয়। বর্ষা ও শুষ্ক মৌসুমে এসব স্থানের রূপে পরিবর্তন আসে। ফলে ঋতুভেদে সিলেটের প্রকৃতিকে নতুনভাবে উপভোগ করার সুযোগ তৈরি হয়।

তবে এসব পর্যটনকেন্দ্রের সৌন্দর্য রক্ষা করতে হলে নদী ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। পর্যটকদের অসচেতনতা, প্লাস্টিক বর্জ্য এবং প্রাকৃতিক সম্পদের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে দীর্ঘমেয়াদে পর্যটনশিল্পই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

রাতারগুল ও হাওর, জল-প্রকৃতির অনন্য জগৎ:
সিলেটের রাতারগুল বাংলাদেশের পরিচিত মিঠাপানির জলাবনগুলোর একটি। বর্ষাকালে পানিতে ডুবে থাকা গাছপালা, নৌকায় চলাচল এবং চারপাশের সবুজ পরিবেশ এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা তৈরি করে। প্রকৃতিপ্রেমী ও আলোকচিত্রীর কাছে রাতারগুল তাই বিশেষ আকর্ষণের জায়গা।

এ ছাড়া সিলেট বিভাগের হাকালুকি হাওর ও সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর জলাভূমির জীববৈচিত্র্য, মৎস্যসম্পদ ও গ্রামীণ জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বর্ষায় বিস্তীর্ণ জলরাশি আর শীতকালে অতিথি পাখির উপস্থিতি এসব এলাকার প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যকে আরও সমৃদ্ধ করে।

হাওর ও জলাবন শুধু ভ্রমণের স্থান নয়; এগুলো স্থানীয় মানুষের জীবিকা, মাছের প্রজনন এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই পর্যটন সম্প্রসারণের পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করতে হবে।

আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ সিলেট:
সিলেটের পরিচয়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর আধ্যাত্মিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্য। হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার দেশের অন্যতম পরিচিত ধর্মীয় স্থান। প্রতিবছর বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অসংখ্য মানুষ এখানে আসেন। তাঁর নাম সিলেটের ইতিহাস, ধর্মীয় সংস্কৃতি ও জনজীবনের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত।

হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজারও এ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক নিদর্শন। এসব স্থানকে ঘিরে মানুষের বিশ্বাস, ইতিহাস এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের দীর্ঘ ঐতিহ্য গড়ে উঠেছে।

সিলেটের পরিচয় কেবল ধর্মীয় স্থাপনায় সীমাবদ্ধ নয়। এ অঞ্চলের লোকসংগীত, আঞ্চলিক ভাষা, লোককথা, খাদ্যসংস্কৃতি ও পারিবারিক ঐতিহ্যও বৃহত্তর বাঙালি সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে। বিশেষ করে সিলেটি ভাষা ও লোকসংগীতের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য এ অঞ্চলের সাংস্কৃতিক পরিচয়কে আলাদা মাত্রা দিয়েছে।

প্রবাসী সিলেট: বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত এক জনপদের পরিচয়:
সিলেটের সঙ্গে প্রবাসজীবনের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত সিলেটি জনগোষ্ঠী পরিবার, সমাজ ও স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ বহু পরিবারের জীবনযাত্রা, শিক্ষা, চিকিৎসা ও আবাসন উন্নয়নে ভূমিকা রাখে।

প্রবাসীদের উদ্যোগে বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়। পাশাপাশি তাঁদের অভিজ্ঞতা ও বিনিয়োগকে উৎপাদনশীল খাতে কাজে লাগানো গেলে স্থানীয় পর্যায়ে আরও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে।

তবে প্রবাসী আয়ের পাশাপাশি সিলেটে দক্ষ জনশক্তি তৈরি, তরুণদের কর্মসংস্থান এবং আধুনিক ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারও গুরুত্বপূর্ণ। এসব ক্ষেত্রে পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া গেলে অঞ্চলটির অর্থনৈতিক সম্ভাবনা আরও বাড়বে।

সিলেটের ঐতিহ্য রক্ষায় প্রয়োজন সচেতনতা:
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ঐতিহাসিক পরিচিতির কারণে সিলেটের পর্যটনশিল্পে রয়েছে ব্যাপক সম্ভাবনা। কিন্তু এই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পর্যটনকেন্দ্রগুলোর পরিচ্ছন্নতা, নিরাপদ যাতায়াত, মানসম্মত সেবা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি।

একই সঙ্গে নদী, পাহাড়, টিলা, চা-বাগান ও জলাভূমি সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ এবং স্থানীয় সংস্কৃতির চর্চা বাড়ানো গেলে সিলেটের ঐতিহ্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আরও সমৃদ্ধভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে।

সম্ভাবনার পথে এগিয়ে যাক সিলেট:
সিলেট এমন একটি জনপদ, যেখানে প্রকৃতি, ইতিহাস, সংস্কৃতি, আধ্যাত্মিকতা ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা একই সুতোয় গাঁথা। চা-বাগানের সবুজ থেকে হাওরের বিস্তীর্ণ জলরাশি, পাহাড়ি ঝরনা থেকে ঐতিহাসিক ধর্মীয় স্থাপনা—প্রতিটি উপাদান এ অঞ্চলকে দিয়েছে নিজস্ব পরিচিতি।

এই সম্পদগুলোকে সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগানো গেলে সিলেট দেশের পর্যটন, সংস্কৃতি ও অর্থনীতিতে আরও বড় অবদান রাখতে পারবে। তাই সিলেটকে ভালোবাসার অর্থ শুধু এর সৌন্দর্য উপভোগ করা নয়; এর প্রকৃতি, ঐতিহ্য ও মানুষের জীবনমান রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখাও।

ঢাকায় বৃষ্টি ঝরবে কিনা, জানাল আবহাওয়া অধিদপ্তর
রাজধানী ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আকাশ আজ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। একইসঙ্গে আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে এসময়ে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হবে কি না, তা নিয়ে কোনো পূর্বাভাস দেওয়া হয়নি। রোববার (১৮ অক্টোবর) সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আকাশ আজ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। একই সঙ্গে আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। এছাড়া উত্তর-উত্তর পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৮ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে বাতাস বয়ে যেতে পারে। এদিকে, আজ সকাল ৬টায় ঢাকার তাপমাত্রা ছিল ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এসময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৭৫ শতাংশ। আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত সন্ধ্যা ৫টা ৩০ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ভোর ৫টা ৫৮ মিনিটে।
ঢাকায় বৃষ্টি ঝরবে কিনা, জানাল আবহাওয়া অধিদপ্তর
স্বজন, সুহৃদ ও বন্ধুদের মিলনমেলা গ্রামের বাড়ি এবং সি শেল পার্ক অ্যান্ড রিসোর্টে
শেকড়ের টানে গ্রামে ফেরা, প্রিয়জনদের সঙ্গে স্মৃতিময় সময় কাটানো আর প্রকৃতির সান্নিধ্যে এক আনন্দঘন দিন স্বজনের টান, সুহৃদের ভালোবাসা আর বন্ধুদের আন্তরিকতা যখন এক সুতোয় গাঁথা হয়, তখন সাধারণ একটি দিনও হয়ে ওঠে অসাধারণ। ব্যস্ত জীবনের নানা ব্যস্ততা, কাজের চাপ আর নাগরিক কোলাহল পেছনে ফেলে একসঙ্গে কিছু সময় কাটানোর আনন্দই আলাদা। সেই আনন্দকে সঙ্গী করে স্বজন, সুহৃদ ও বন্ধুদের নিয়ে ১৬ অক্টোবর আয়োজন করা হয়েছিল এক আনন্দময় পারিবারিক ভ্রমণ। রূপগঞ্জের ‘গ্রামের বাড়ি পার্কে’ গ্রামীণ পরিবেশে কিছুটা সময় কাটানো, পার্কে ঘুরে বেড়ানো, সি শেল পার্ক অ্যান্ড রিসোর্টে আনন্দঘন মুহূর্ত উপভোগ করা এবং সবশেষে পূর্বচলের নীল মার্কেটে হাঁসের মাংস দিয়ে ভূড়িভোজের মধ্য দিয়ে দিনটি হয়ে ওঠে স্মরণীয়। শেকড়ের টানে গ্রামের বাড়ি পার্ক ভ্রমণের শুরুতেই ছিল ‘গ্রামের বাড়ি পার্কে’ যাওয়ার আনন্দ। শহরের ব্যস্ততা থেকে দূরে গ্রামের পথে পা রাখতেই যেন বদলে যায় চারপাশের চেনা দৃশ্যপট। গ্রামের নির্মল পরিবেশ, সবুজ প্রকৃতি, পরিচিত পথঘাট আর শৈশবের স্মৃতিমাখা আবহ মনকে নিয়ে যায় অন্য এক জগতে। গ্রামের বাড়ি পার্ক মানেই শুধু একটি ঠিকানা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে শেকড়ের টান, পারিবারিক ঐতিহ্য, প্রিয়জনদের স্মৃতি এবং হৃদয়ের গভীরে জমে থাকা অসংখ্য অনুভূতি। স্বজন, সুহৃদ ও বন্ধুদের একসঙ্গে গ্রামের বাড়িতে যাওয়া যেন সেই আবেগকে আরও গভীর করে তোলে। একদিকে পারিবারিক বন্ধনের উষ্ণতা, অন্যদিকে পুরোনো স্মৃতির হাতছানি। গল্প, হাসি আর খুনসুটিতে সময় কাটতে থাকে আপন ছন্দে। কেউ স্মৃতির ঝাঁপি খুলে বসেন, কেউ পুরোনো দিনের কথা মনে করিয়ে দেন, আবার কেউ বন্ধুদের সঙ্গে ভাগ করে নেন জীবনের নানা অভিজ্ঞতা। গ্রামের বাড়ি পার্কে এমন একসঙ্গে সময় কাটানোর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হলো আপনজনদের আরও কাছ থেকে অনুভব করা। সম্পর্কের ব্যস্ততা ও দূরত্বের মাঝে যে আন্তরিকতার জায়গাটি কখনো কখনো আড়ালে পড়ে যায়, এমন আয়োজন তাকে আবারও উজ্জ্বল করে তোলে। পার্কে ঘোরাঘুরি, আনন্দ আর আড্ডা গ্রামের বাড়ি পার্কে ভ্রমণের আনন্দ আরও বাড়িয়ে দেয় পার্কে ঘুরে বেড়ানো, পরিচিত গণ্ডির বাইরে খোলা পরিবেশে সবার সঙ্গে সময় কাটানো, একসঙ্গে হাঁটাহাঁটি করা, ছবি তোলা আর হাসি-আড্ডায় মেতে ওঠার মধ্য দিয়ে তৈরি হয় আনন্দের নতুন উপলক্ষ। এ ধরনের ভ্রমণে গন্তব্য যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে সঙ্গীদের উপস্থিতি। একই দৃশ্য কারও কাছে প্রকৃতির সৌন্দর্য, কারও কাছে ছবি তোলার উপলক্ষ, আবার কারও কাছে বন্ধুদের সঙ্গে কিছু নির্ভার সময় কাটানোর সুযোগ। সবার ভাবনা ও অনুভূতি মিলেমিশে ভ্রমণকে করে তোলে প্রাণবন্ত। কর্মব্যস্ত জীবনে মানুষ অনেক সময় কাছের মানুষদের সঙ্গে মন খুলে কথা বলার সুযোগ পায় না। পার্কের মতো উন্মুক্ত পরিবেশে সেই সুযোগ তৈরি হয় সহজেই। দৈনন্দিন জীবনের হিসাব-নিকাশ ভুলে সবাই যখন একসঙ্গে আনন্দে মেতে ওঠেন, তখন বয়সের ব্যবধান কিছুক্ষণের জন্য হারিয়ে যায়। সি শেল পার্ক অ্যান্ড রিসোর্টে আনন্দময় সময় ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ ছিল সি শেল পার্ক অ্যান্ড রিসোর্টে যাওয়া। দুটি স্থানে ঘুরে দিনের আনন্দকে আরও বিস্তৃত করতে এই গন্তব্য যোগ করে নতুন মাত্রা। স্বজন, সুহৃদ ও বন্ধুদের সঙ্গে এমন একটি অবকাশযাপনের স্থানে সময় কাটানোর মধ্যে রয়েছে আলাদা রোমাঞ্চ। পরিচিত মানুষদের সঙ্গে নতুন পরিবেশে ঘোরাঘুরি, গল্প করা এবং একসঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলোকে স্মৃতিতে ধরে রাখার সুযোগ তৈরি হয়। রিসোর্টে পৌঁছানোর পর ভ্রমণসঙ্গীদের মধ্যে আনন্দের আমেজ আরও ছড়িয়ে পড়ে। কেউ চারপাশের পরিবেশ উপভোগ করেন, কেউ সঙ্গীদের সঙ্গে গল্পে মেতে ওঠে, আবার কেউ স্মরণীয় মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। একসঙ্গে ছবি তোলা, হাসিমুখে স্মৃতি ধরে রাখা এবং পরস্পরের সঙ্গে সময় ভাগ করে নেওয়ার মধ্য দিয়ে ভ্রমণটি হয়ে ওঠে আরও প্রাণবন্ত। এখানে আসার মূল আনন্দ কেবল একটি বিনোদনকেন্দ্র ঘুরে দেখা নয়; বরং প্রিয় মানুষদের সঙ্গে একই সময়ে, একই জায়গায় উপস্থিত থাকার আনন্দ। দিনের নানা মুহূর্তে তৈরি হওয়া হাসি, গল্প আর আনন্দের স্মৃতিই পরে হয়ে ওঠে একসঙ্গে কাটানো সময়ের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। সম্পর্কের বন্ধন আরও দৃঢ় করার আয়োজন স্বজন, সুহৃদ ও বন্ধুদের এই ভ্রমণ কেবল বেড়ানোর আয়োজন ছিল না; এর মধ্যে ছিল সম্পর্ককে নতুন করে অনুভব করার সুযোগ। আত্মীয়তার বন্ধন মানুষকে শেকড়ের সঙ্গে যুক্ত রাখে, সুহৃদদের আন্তরিকতা কঠিন সময়ে সাহস জোগায়, আর বন্ধুত্ব জীবনের একঘেয়েমির মধ্যে এনে দেয় আনন্দ ও প্রাণচাঞ্চল্য। একটি সফল পারিবারিক মিলনমেলার সৌন্দর্য এখানেই যে, সেখানে সবাই নিজের মতো করে আনন্দ খুঁজে নিতে পারেন। কেউ গল্পে, কেউ আড্ডায়, কেউ প্রকৃতির সান্নিধ্যে, আবার কেউ প্রিয়জনদের সঙ্গে ছবি তোলার মধ্যে খুঁজে পান সুখের মুহূর্ত। কিন্তু সবার আনন্দের কেন্দ্রবিন্দু একটাই একসঙ্গে থাকা। এই ভ্রমণ আরও একবার মনে করিয়ে দিয়েছে, সম্পর্ককে বাঁচিয়ে রাখতে বড় আয়োজনের প্রয়োজন নেই; প্রয়োজন আন্তরিকতা, সময় দেওয়া এবং একে অন্যের পাশে থাকার মানসিকতা।  স্মৃতির পাতায় থেকে যাবে আনন্দময় দিনটি গ্রামের বাড়ি পার্কের  মায়া, পার্কে ঘোরাঘুরি আর সি শেল পার্ক অ্যান্ড রিসোর্টে কাটানো সময়— সব মিলিয়ে স্বজন, সুহৃদ ও বন্ধুদের এই ভ্রমণ হয়ে উঠেছে আনন্দ ও স্মৃতির এক সুন্দর সময়। এরপর চলে নীলা মার্কেটে হাঁসের মাংস আর রুটি খাওয়ার পালা। ছোট ছোট বাচ্চাদের দেয়া হয় উপহার সামগ্রী এবং র‌্যাফেল ড্রতে উপহার পান হাবিব, লিয়ন ও মাসুদ। দিনের শেষে সবাই ফিরে গেছে নিজ নিজ কর্মব্যস্ত জীবনে, কিন্তু সঙ্গে নিয়ে গেছে একসঙ্গে কাটানো সময়ের অমূল্য স্মৃতি। ছবি হয়তো মুহূর্তগুলোকে ধরে রাখবে, কিন্তু সেই মুহূর্তের হাসি, আন্তরিকতা আর ভালোবাসার অনুভূতি থেকে যাবে হৃদয়ের গভীর থেকে গভীরে। ভবিষ্যতে যখন আবারও ব্যস্ততা বাড়বে, তখন এই ভ্রমণের স্মৃতিই হয়তো মনে করিয়ে দেবে—জীবনের প্রকৃত আনন্দ শুধু সাফল্য কিংবা প্রাপ্তিতে নয় বরং প্রিয় মানুষদের সঙ্গে সময় ভাগ করে নেওয়ার মধ্যেই নিহিত। স্বজন, সুহৃদ ও বন্ধুদের এই মিলনমেলা তাই একটি দিনের ভ্রমণেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি সম্পর্কের প্রতি ভালোবাসা, শেকড়ের প্রতি টান এবং একসঙ্গে পথচলার অঙ্গীকারের প্রতীক। এমন আয়োজন বারবার ফিরে আসুক, নতুন আনন্দের উপলক্ষ তৈরি করুক এবং সবার হৃদয়ে ভালোবাসার বন্ধন আরও গভীর করুক। তিনবারে ভোজনে প্রিয় খাবারের মেনুতে ছিল খিচুড়ি, চা, ফ্রাইড রাইস, কোমল পানীয়, হাঁসের মাংস ও রুটি, পানি ইত্যাদি। সুইমিং পুলে সাঁতার কাটা সে এক অন্যরকম আনন্দ। এ মিলনমেলায় অংশগ্রহণ করে জ্যোতিষ সমাদ্দার বাবু, শামীম হোসেন, কবির আহাম্মদ, ওয়াহিদ মুরাদ অপু, লিয়াকত হোসেন সুমন, হাবিবুর রহমান, মাসুদ আলম, জসিম মজুমদার, ইমরান হোসেন টিপু, রিদওয়ান আক্রাম, রাজিব , মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ লিয়ন, অলিদুল রহমান ওলি, আবদুল মোতালেব পলাশ, আমিনুল ইসলাম, বারি দেওয়ান হৃদয়, আব্দুল্লাহ আল মামুন, রেজাউল কবির রাজিব. সায়কা বানু, রেজওয়ানা হোসেন বর্ণা, টিপু সুলতান দিপু, মনসুর আহমেদ এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা। সকাল ৭টায় ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু হয় এবং এর সফল সমাপ্তি ঘটে রাত ৯টায় সবার নিজ নিজ ঘরে ফেরার মধ্য দিয়ে।
স্বজন, সুহৃদ ও বন্ধুদের মিলনমেলা গ্রামের বাড়ি এবং সি শেল পার্ক অ্যান্ড রিসোর্টে
সব অভিমান ভুলে প্রাক্তনকে ক্ষমা করার দিন আজ
ভালোবাসার সম্পর্ক ভেঙে গেলে পড়ে থাকে কিছু মধুর স্মৃতি, অপূর্ণতা, অভিমান আর না বলা অভিযোগ। কেউ সহজেই অতীত ভুলে নতুন করে জীবন শুরু করতে পারেন, আবার কারও মনে বিচ্ছেদের ক্ষত দীর্ঘদিন দাগ কেটে থাকে। সেই পুরোনো কষ্ট ও তিক্ততা পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা নিয়ে আজ ১৭ অক্টোবর পালিত হচ্ছে ‘ফরগিভ অ্যান এক্স ডে’ বা প্রাক্তনকে ক্ষমা করার দিন। আজ শনিবার (১৭ অক্টোবর) প্রাক্তনকে ক্ষমা করার দিন। প্রতি বছর ১৭ অক্টোবর পালিত হয় এই দিবস। আজকের এই দিনে সারা বিশ্বে পালিত হয় এ বিচিত্র দিবসটি। এর মূল ভাবনা হলো, অতীতের সম্পর্ক ঘিরে জমে থাকা রাগ, ক্ষোভ ও অভিমান থেকে নিজেকে মুক্ত করার চেষ্টা করা। তবে প্রাক্তনকে ক্ষমা করার অর্থ তার কাছে ফিরে যাওয়া নয়; বরং নিজের মানসিক শান্তির জন্য অতীতকে মেনে নেওয়া এবং নতুনভাবে পথচলার সাহস খুঁজে নেওয়া। ২০১৮ সালে ‘ইন্টারন্যাশনাল ফরগিভ অ্যান এক্স ডে’ পালনের প্রচলন শুরু হয়। তবে ঠিক কে এই দিবসের সূচনা করেছিলেন, কোথায় প্রথম উদযাপন হয়েছিল কিংবা কেন ১৭ অক্টোবর তারিখটি বেছে নেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায় না। যদিও এ দিবসের আনুষ্ঠানিক কোনো স্বীকৃতি নেই। এটি জাতিসংঘের স্বীকৃত কোনো আন্তর্জাতিক দিবস নয়। বরং ইন্টারনেটভিত্তিক বিশেষ দিবসগুলোর মধ্যে একটি, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন ক্যালেন্ডারের মাধ্যমে পরিচিতি পেয়েছে। ফলে দিবসটির নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠাতা বা সূচনাসংক্রান্ত তথ্য নিশ্চিতভাবে উল্লেখ করা কঠিন। কেন প্রাক্তনকে ক্ষমা করার কথা বলা হয়? একটি সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পেছনে থাকতে পারে বিশ্বাসভঙ্গ, ভুল বোঝাবুঝি, মতের অমিল কিংবা জীবনের লক্ষ্য আলাদা হয়ে যাওয়া। বিচ্ছেদের পর অনেকেই পুরোনো ঘটনা বারবার মনে করেন। কখনো মনে জমে থাকে না বলা কথা, কখনো বা উত্তর না পাওয়া প্রশ্ন। এসব স্মৃতি ও ক্ষোভ দীর্ঘদিন বয়ে বেড়ালে তা ব্যক্তির মানসিক স্বস্তি এবং নতুন সম্পর্কের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। প্রাক্তনকে ক্ষমা করার দিনটি সেই অনুভূতিগুলো নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করে। অতীতের অভিজ্ঞতাকে অস্বীকার না করে তা মেনে নেওয়া এবং ধীরে ধীরে কষ্ট থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য। ক্ষমা করার অর্থ অন্যায়কে সমর্থন করা নয়; বরং সেই অন্যায়ের স্মৃতি যেন বর্তমান জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, সেই চেষ্টা। তবে ক্ষমা করার সিদ্ধান্ত একান্তই ব্যক্তিগত। কেউ দ্রুত অতীতকে মেনে নিতে পারেন, আবার কারও প্রয়োজন হয় দীর্ঘ সময়। কাউকে জোর করে ক্ষমা করতে বলা কিংবা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সব কষ্ট ভুলে যাওয়ার প্রত্যাশা করা এই দিবসের মূল ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সাধারণত দু‘জনের মধ্যে যখন সম্পর্ক গড়ে ওঠে শুরুতে সেই সম্পর্ক আবেগে ভরপুর থাকে। হয়তো কিছুদিন বা দীর্ঘদিন পর সেই সম্পর্কে ফাটল ধরে। এটা অনেক স্বাভাবিকভাবে নিতে পারেন না। পুরোনো স্মৃতিগুলো বার বার তাকে আঘাত করে। এই ভাঙনের ব্যথা অনেকেরে ক্ষেত্রে খুবই দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। তাই প্রাক্তনকে ক্ষমা করা অন্তত তাদের জন্য সহজ কাজ নয়। কিন্তু, ক্ষমা একটি মহৎ গুণ। তাই সবকিছু ভুলে গিয়ে তাকে ক্ষমা করে দেওয়ার মতো মহান কাজ আর দ্বিতীয়টি হতে পারে না। 
মশিউর অর্ণব
এবার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে রাশিয়ায়
রাশিয়ার কামচাতকা উপদ্বীপে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭। ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল রাশিয়ার সুদূর পূর্বাঞ্চলের ভিলিউচিনস্ক শহর থেকে প্রায় ১২৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং এর গভীরতা ছিল ১৪০ কিলোমিটার। স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ৩৫ মিনিটের দিকে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ভূমিকম্পের পর কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সুনামি ওয়ার্নিং সেন্টার জানিয়েছে, এই কম্পনের ফলে কোনো ঝুঁকি নেই। ভূমিকম্পের প্রভাবে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। বিএনও নিউজের তথ্য অনুযায়ী, জাপানের আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ) ভুলবশত ৯.৯ মাত্রার ভূমিকম্পের একটি আগাম সতর্কতা জারি করেছিল। এতে জাপানের বড় একটি অংশে তীব্র কম্পনের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, অথচ তাদের নিজস্ব পরিমাপে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৬.৯। যদি এই সতর্কতা সঠিক হতো, তবে এটি হতো এ পর্যন্ত রেকর্ড করা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। কামচাতকা উপদ্বীপটি ‘রিং অব ফায়ার’ নামক একটি টেকটোনিক বলয়ের ওপর অবস্থিত, যা প্রশান্ত মহাসাগরের অধিকাংশ এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এবং এটি ভূমিকম্পপ্রবণ একটি অঞ্চল। গত বছরের জুলাই মাসে এই অঞ্চলের উপকূলে ৮.৮ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে, যার ফলে সৃষ্ট সুনামিতে একটি উপকূলীয় গ্রামের কিছু অংশ সমুদ্রে তলিয়ে যায়। সূত্র: এনডিটিভি
এবার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে রাশিয়ায়
জানা গেল ঢাকাসহ সারাদেশে কবে থেকে নামবে শীত
নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ নাগাদ রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শীতের আমেজ শুরু হতে পারে। ডিসেম্বরের শেষভাগ থেকে শীতের তীব্রতা বাড়তে পারে, যা জানুয়ারি মাসজুড়ে অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এমনকি ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত শীতের অনুভূতি থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের (বিএমডি) কর্মকর্তা এ কে এম নাজমুল হক জানান, গত চার-পাঁচ বছরের আবহাওয়ার ধরন বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হচ্ছে, এবার ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত শীতের প্রভাব থাকতে পারে। এ সময় রাজধানী ঢাকার তাপমাত্রা ১১ থেকে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে। তিনি বলেন, নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে দেশের অধিকাংশ এলাকায় শীতের আমেজ অনুভূত হতে পারে। তবে দেশের উত্তর-পূর্ব ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই শীতের আগমন ঘটতে পারে। ডিসেম্বর থেকে শীতের প্রকোপ বাড়বে এবং জানুয়ারি মাসে শীতের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি থাকতে পারে।    আবহাওয়াবিদদের মতে, ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ের পর থেকে দিনের তাপমাত্রা আবারও বাড়তে শুরু করতে পারে। তবে এর আগে পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঠান্ডা আবহাওয়া বিরাজ করার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে উত্তরাঞ্চলের পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁওসহ কয়েকটি জেলায় ইতিমধ্যে শীতের হালকা আমেজ অনুভূত হচ্ছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৯ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সেখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অন্যদিকে, মঙ্গলবার রাজধানী ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় উত্তর দিক থেকে বাতাস বইতে শুরু করলেও ঘনবসতি ও নগরায়ণের কারণে শীতের অনুভূতি স্পষ্ট হতে নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
মশিউর অর্ণব
আরও পড়ুন
ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের ছয় লেন প্রকল্পে ধীরগতি
ধর্মীয় সম্প্রীতি আমাদের ঐতিহ্য ও শক্তির জায়গা: সিসিক প্রশাসক 
সিলেটে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় শাবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু
শ্রীমঙ্গলে বই পড়া উৎসবের ফল প্রকাশ
X