ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

আ.লীগের সময়ের দুর্নীতি নিয়ে দুদকের কোনো মাথাব্যথা নেই: আসিফ মাহমুদ

অনলাইন ডেস্ক

  ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১:১৫ পিএম

আওয়ামী লীগ আমলের ব্যাপক দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের ঘটনার বিচার বা দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে উল্টো রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করতে দুদককে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। রাজধানীর বাংলামোটরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ করেন।

বুলেটিন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন


সংবাদ সম্মেলনে নিজের বিরুদ্ধে আনা ১১ হাজার কোটি টাকা পাচার ও কমিশন গ্রহণের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে আসিফ মাহমুদ প্রশ্ন তোলেন যে, দীর্ঘ আওয়ামী শাসনামলের চাঞ্চল্যকর দুর্নীতি ও লুণ্ঠনের বিরুদ্ধে বর্তমান প্রশাসনের বা সংশ্লিষ্টদের কোনো সুনির্দিষ্ট মাথাব্যথা বা দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না কেন?


তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী আমলের দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত মূল অপরাধীদের বিরুদ্ধে নামমাত্র মামলা বা কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নতুন রাজনৈতিক শক্তির বিরুদ্ধে একের পর এক ভিত্তিহীন অভিযোগ সাজানো হচ্ছে।


দুদকের বর্তমান কার্যক্রমের কঠোর সমালোচনা করে এনসিপি মুখপাত্র বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের কাঙ্ক্ষিত সংস্কার করা হয়নি এবং এর অধ্যাদেশ বাতিল করে দেওয়ায় এটি যে অতীতে ফ্যাসিবাদের আমলের মতো আবারও রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হবে, তা এখন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।


নিজের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের হয়রানিমূলক তৎপরতা ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তারা আইনগতভাবে লড়াই করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছেন।

বিএনপি নয়, আওয়ামী লীগকে মাফ করতে চেয়েছিল জামায়াত: রিজভী
৫ আগস্টের পর বিএনপি নয়, জামায়াতে ইসলামীই আওয়ামী লীগকে মাফ করে দিতে চেয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। রবিবার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আফসার আহমেদ সিদ্দিকীর ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। রিজভী বলেন, বিএনপি কখনো আওয়ামী লীগকে মাফ করে দেওয়ার কথা বলেনি। বরং যারা বিএনপিকে ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটার অভিযোগ করছে, তারাই আওয়ামী লীগকে মাফ করে দিতে চেয়েছিল। তিনি বলেন, ক্ষমতার জন্য জামায়াত যেকোনো দলের সঙ্গে চলতে পারে। ইতিহাস বলে, তারাই আওয়ামী লীগের পথে হাঁটতে পারে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আরও বলেন, জামায়াত অতীতেও ফ্যাসিবাদী আচরণ করেছে, এখনো সেই পথেই হাঁটছে। কোনো আন্দোলনেই দলটিকে আদর্শিক পথে দেখা যায়নি। রিজভী বলেন, বিএনপিকে জনগণ চেনে। দলটি যে প্রতিশ্রুতি দেয়, তা থেকে বিচ্যুত হয় না। অন্যদিকে জামায়াত অনেক প্রতিশ্রুতি দিলেও কাজ করেছে তার বিপরীত। এ সময় জামায়াতে ইসলামীকে গণতান্ত্রিক চেতনার প্রকাশ ঘটানোর আহ্বান জানান রুহুল কবির রিজভী।
বিএনপি নয়, আওয়ামী লীগকে মাফ করতে চেয়েছিল জামায়াত: রিজভী
পুলিশের অনুমতি না পাওয়ায় আমির হামজার মাহফিল স্থগিত
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট ইসলামী বক্তা মুফতি আমির হামজার তাফসির মাহফিল শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। পুলিশের প্রতিবেদন বা নিরাপত্তা ছাড়পত্র না পাওয়ায় গোদাগাড়ী উপজেলা প্রশাসন এই মাহফিলের অনুমতি দেয়নি। সোমবার (১৯ অক্টোবর) গোদাগাড়ী মহিলা কলেজ মাঠে বিকেল থেকে এই তাফসির মাহফিল শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে প্রশাসনের মৌখিক নির্দেশ পাওয়ার পর আয়োজকরা প্যান্ডেল গুটিয়ে নেন এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের আসার জন্য বারণ করে দেন। ‘মানব কল্যাণ পরিষদ’ নামক একটি সংগঠনের উদ্যোগে গোদাগাড়ী মহিলা কলেজ মাঠে এই তাফসিরুল কুরআন মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছিল। এতে রেলবাজার দারুস সুন্নাহ ইসলামিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবু মুহাম্মদ বজলুর রহমান মাদানী সভাপতিত্ব করার কথা ছিল। মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে নাম ঘোষণা করা হয়েছিল রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামির কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মজিবুর রহমানের।  এছাড়া প্রধান আলোচক হিসেবে পোস্টার ও ব্যানারে নাম ছিল সংসদ সদস্য ও ইসলামী বক্তা মুফতি আমির হামজা এমপির, যিনি গোদাগাড়ীর এই মাহফিলে উপস্থিত থাকতে সম্মতিও দিয়েছিলেন। পাশাপাশি স্থানীয় জামায়াত নেতা ওবাইদুল্লাহকেও মাহফিলে অতিথি করা হয়েছিল। গত ১৩ অক্টোবর গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) বরাবর মাহফিলের অনুমতির জন্য আবেদন করা হয়েছিল। গত শনিবার সকালে আয়োজকরা অনুমতির বিষয়ে ইউএনওর সঙ্গে দেখা করতে গেলে জটিলতা সামনে আসে। আয়োজক সংগঠন মানব কল্যাণ পরিষদের সভাপতি ইসমাইল হক জানান, শনিবার সকালে ইউএনওর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি জানান যে মাহফিলের নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রতিবেদনের জন্য পুলিশকে অনুরোধ করা হয়েছে এবং পুলিশ প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত তিনি অনুমতি দিতে পারবেন না। এমন পরিস্থিতিতে মাহফিল হবে না ধরে নিয়ে অতিথিদের ফোন করে ক্ষমা চাওয়া হয় এবং প্যান্ডেল গুটিয়ে ফেলা হয়। এ বিষয়ে গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান জানান, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ছাড়া এত বড় জনসমাগমের অনুমতি দেওয়ার কোনো নিয়ম নেই। পুলিশ প্রতিবেদনের জন্য লেখার পর প্রতিবেদন হাতে না পাওয়া পর্যন্ত এই বিষয়ে কিছু বলা সম্ভব নয়। অন্যদিকে, রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মামুন অর রশিদ জানান, বিষয়টি তার জানা নেই এবং উপজেলা বা জেলা প্রশাসন থেকে পুলিশের কাছে কোনো প্রতিবেদন চাওয়া হয়ে থাকলে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, মাহফিলকে কেন্দ্র করে গোদাগাড়ীসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলায় ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছিলেন আয়োজকরা এবং বড় প্যান্ডেল তৈরির কাজও চলছিল, তবে শেষ মুহূর্তে প্রশাসনের অনুমতি না পাওয়ায় তাফসির মাহফিলটি স্থগিত করতে বাধ্য হয় আয়োজক কমিটি।
পুলিশের অনুমতি না পাওয়ায় আমির হামজার মাহফিল স্থগিত
ইশরাকের পিস্তল উঁচিয়ে ধরাকে ‘ত্রাসের রাজত্বের বহিঃপ্রকাশ’ বলল জামায়াত
ঢাকার গেন্ডারিয়া এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানের সময় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেনের পিস্তল উঁচিয়ে ধরার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এ ঘটনাকে ‘ত্রাসের রাজত্বের বহিঃপ্রকাশ’ বলে মন্তব্য করেছেন। রোববার (১৮ অক্টোবর) দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান। বিবৃতিতে জুবায়ের অভিযোগ করেন, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশে মাদকের বিস্তার ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। সরকারের ব্যর্থতা আড়াল করতে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা জনদৃষ্টি ভিন্ন দিকে নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও দাবি করেন তিনি। এর অংশ হিসেবেই ১৭ অক্টোবর শনিবার গেন্ডারিয়া এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানের সময় প্রতিমন্ত্রীর পিস্তল উঁচিয়ে ধরার ঘটনা ঘটেছে বলে মন্তব্য করেন জামায়াতের এই নেতা। তিনি বলেন, দেশের প্রচলিত অস্ত্র আইনে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার প্রয়োজন ছাড়া বৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করার সুযোগ নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসন থাকা সত্ত্বেও একজন প্রতিমন্ত্রীর অস্ত্র উঁচিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া এবং তাঁর দেহরক্ষীদের আগ্রাসী আচরণ অনাকাঙ্ক্ষিত ও আইনবিরোধী। এ ঘটনায় সরকারের দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান জুবায়ের। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও সক্রিয় করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি। বিবৃতিতে জামায়াত নেতা আরও অভিযোগ করেন, ইশরাক হোসেন নিজের কর্মকাণ্ডের ভিডিও ফেসবুকে প্রকাশ করে মানুষের মধ্যে ভীতি ছড়িয়েছেন। তাঁর মতে, এ ধরনের আচরণ দায়িত্ব পালনের শপথের পরিপন্থী এবং অপরাধীদের উৎসাহিত করতে পারে। জনগণও এমন কর্মকাণ্ডকে ইতিবাচকভাবে নেবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। বিবৃতির শেষাংশে জুবায়ের সরকারের সব পর্যায়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং জনবান্ধব পদ্ধতিতে মাদকসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
ইশরাকের পিস্তল উঁচিয়ে ধরাকে ‘ত্রাসের রাজত্বের বহিঃপ্রকাশ’ বলল জামায়াত
আগের স্বৈরাচারের পথেই হাঁটছে বিএনপি সরকার: জামায়াত আমির
বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘এতদিন বলতাম, আমরা সরকারকে সহযোগিতা করব; আজ থেকে ঘোষণা দিচ্ছি, ১৮ কোটি মানুষকে সহযোগিতা করব। এই সরকার আমাদের সহযোগিতা নিতে ব্যর্থ; বিরোধী দলের সহযোগিতা নেওয়ার মতো যোগ্যতা তাদের নেই।’ রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির উদ্যোগে আয়োজিত ‘জুলাই সনদের ১ বছর: প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশার সালতামামি’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির। এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা বক্তব্য রাখেন। জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা বিএনপি সরকারের পতন চাইনি, চেয়েছিলাম তাদের সফলতা। কারণ তাদের সফলতা মানে দেশের সফলতা। সম্প্রতি লোডশেডিংয়ে যখন জনজীবন অতিষ্ঠ, আমরা সংসদে নোটিশ দিয়ে আলোচনা করে প্রস্তাব দিয়েছিলাম- এই সংকট নিরসনে আমরা ভূমিকা রাখতে চাই। আমাদেরকেও এ দেশের মানুষ ম্যান্ডেট দিয়ে এখানে পাঠিয়েছে। আমরা সংসদীয় কমিটি গঠনের কথা বলিনি, আমরা বলেছিলাম- আমাদের একটি টেকনিক্যাল এক্সপার্ট টিম আছে, সেই টিমকে সরকারের মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করার অনুমতি দেওয়া হোক। কিন্তু তারা সাহস করে তা কবুল করেনি। কীভাবে করবে? এর আগে যেসব দুর্নীতি করা হয়েছে, তা তো ফাঁস হয়ে যাবে! এর মধ্য দিয়ে তারা প্রমাণ করেছে—তারা ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ বললেও প্রকৃতপক্ষে তাদের কাছে সবার আগে বাংলাদেশ নয়; সবার আগে তারা নিজে, তাদের পরিবার, সন্তান, ভাগ্নে, ভাতিজা, শ্বশুর ও স্ত্রী।’ ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘৫ আগস্ট দুপুরের আগ পর্যন্ত বিএনপি আমাদের মতোই একটি মজলুম দল ছিল। কিন্তু এর পর থেকেই বিএনপি রাতারাতি তাদের অতীত ভুলে গেছে। তারা জুলাই সনদের কিছু কিছু বিষয়ে ভিন্নমত প্রকাশ করলেও গণভোটের ব্যাপারে কোনো ভিন্নমত প্রকাশ করেনি। তবে একটি জায়গায় ভিন্নতা ছিল—আমরা চেয়েছিলাম গণভোটটি আগেই হোক। তারা তা চায়নি; তারা জোর করে একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট করার দাবি জানায়। সে অনুযায়ী একই দিনে গণভোট ও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন কমিশন থেকে জানানো হয় যে, একই দিনে দুটি শপথ অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু আমরা দুটিরই শপথ নিলেও বিএনপি নিয়েছে মাত্র একটির।’ তিনি আরও বলেন, ‘অতীতে ঐতিহ্য ছিল—একই দিনে একদিকে বিরোধী দল দাঁড়াবে, অন্যদিকে সরকারি দল দাঁড়াবে এবং শপথ অনুষ্ঠান একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু তারা এবার চালাকি করে আলাদা শপথের কথা বলল। অর্থাৎ গোড়া থেকেই জাতির বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র শুরু হয়ে গেল। এরপর তারা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে আর শপথ নেননি। এভাবে তারা জাতির সঙ্গে ষড়যন্ত্র ও বিশ্বাসঘাতকতা শুরু করে, যার ধারা এখনো অব্যাহত আছে।’ তিনি বলেন, ‘এখন তারা কায়দা করে ইনিয়ে-বিনিয়ে বিভিন্ন পোষা লোকের মাধ্যমে প্রশ্ন উত্থাপন করছেন—এত আগে কেন বিরোধী দল আন্দোলনে? আমরা তো আন্দোলন চাইনি। আমরা চেয়েছিলাম, জাতি ভোট দিয়ে একটি সরকার গঠন করেছে পাঁচ বছর চালানোর জন্য এবং আরেকটি ভোট দিয়েছে রাষ্ট্র মেরামতের জন্য। এই দুটি ভোটের মূল্যায়ন যদি বিএনপি করত, তবে আমাদের এক সেকেন্ডের জন্যও সংসদের বাইরে আপাতত আন্দোলন করার প্রয়োজন হতো না। তারাই তো আমাদেরকে আন্দোলনের পথে ঠেলে দিয়েছে। তারা ইতোমধ্যে বহু জায়গায় তাদের ওয়াদা লঙ্ঘন করেছে।’ তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘প্রত্যেকটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে তারা হাত দিয়েছে। ছাত্ররা মেধার অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে রাজপথে নেমে এসেছিল। কিন্তু একটির পর একটি প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করার পর এখন পিএসসির (সরকারি কর্ম কমিশন) ওপর হাত পড়েছে। একজন মন্ত্রী পিএসসি সদস্যদের ডেকে নিয়ে চায়ের টেবিলে পদত্যাগের কথা বলে বলছেন—‘বুঝেনই তো, এখন তো রাজনৈতিক সরকার; সরকারের ইচ্ছা অনুযায়ী চলতে হবে।’ পিএসসি একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। কোনো মন্ত্রীর এটি পারিবারিক ব্যবসা নয় এবং পিএসসির কোনো মেম্বারকে এভাবে কথা বলার কোনো অধিকার মন্ত্রীর নেই। তার মানে, সরকারি চাকরির আসল জায়গাটি এখন তারা পুরোপুরি দলীয় ক্যাডারদের দিয়ে পূর্ণ করতে চায়। এজন্য মাঝেমধ্যে তারা বলেও ফেলছেন—‘এই জিনিস বা ওই জিনিস শুধুমাত্র বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের জন্য; ওই এলাকায় কোনো কাজ করা যাবে না, যে এলাকার মানুষ আমাদের ভোট দেয়নি বা দেবে না।’ এখানে চিফ হুইপের কথা বলেছেন হাসনাত আবদুল্লাহ এমপি। এর আগে তো বর্তমান প্রেসিডেন্ট রংপুরে গিয়ে একই কথা বলে এসেছেন। আবু সাঈদের এলাকায় গিয়ে বলে আসলেন—‘ভোট দেবেন জামায়াতকে, জাতীয় পার্টিকে; আর উন্নয়ন চাইবেন বিএনপির কাছে? এটা কি বিএনপির বাবার তহবিলের টাকা দিয়ে উন্নয়ন হবে?’ না, তা হবে না।’ ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "রাষ্ট্রের রাজকোষে আজ জন্ম নেওয়া শিশু থেকে শুরু করে বয়োজ্যেষ্ঠ—সব পেশা ও শ্রেণীর মানুষের অবদান আছে। কেউ সরাসরি, কেউ পরোক্ষভাবে ট্যাক্স দেয়। গরিবের টাকা আলাদা করে রাখা হয় না, সবই এক জায়গায় জমা হয়। সুতরাং এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া শুধু অশালীনতা নয়, এটি একটি রাষ্ট্রীয় অপরাধ। অথচ অনেকে অবলীলায় এই অপরাধ করে চলেছেন।" তিনি আরও বলেন, ‘সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের আসনে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, অথচ বিরোধী দলের একজন এমপিকেও তা দেওয়া হয়নি। এই বৈষম্যের জন্যই কি এতগুলো তাজা প্রাণ গেল? এটার জন্যই কি চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল? চব্বিশ ছিল আমূল পরিবর্তনের জন্য। ওই বস্তাপচা রাজনীতির কবর রচনা করে নতুন রাজনীতির সূচনা হবে—জনগণ সেটাই আশা করেছিল। কিন্তু দেশটাকে আবার সেই পুরনো জায়গায় ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, শেষ পর্যন্ত মহিষের ওপরও ট্যাক্স বসানো হচ্ছে; মহিষের ঘাস খাওয়ার জন্যও চাঁদা না দিলে তাকে মেরে ফেলা হচ্ছে। কোথায় গিয়ে নেমেছে এরা!’ জামায়াত আমির বলেন, ‘তারা বলছে—বিরোধী দল সরকারকে সহযোগিতা না করে এত আগেই আন্দোলনের ডাক দিয়েছে, নানা কথা বলছে। কিছু সুশীল ও বুদ্ধিজীবীও একই কথা বলার চেষ্টা করছেন। কিন্তু গত সাত মাসের মধ্যে রাষ্ট্রের সমস্ত প্রতিষ্ঠানকে জবাই করা হয়েছে। আগের স্বৈরাচার যে পথে হেঁটেছিল, বর্তমান সরকারও হুবহু সেই পথেই হাঁটছে। এমন পরিস্থিতিতে বিরোধী দল কি আঙুল চুষে বসে থাকবে? না! শত ইঞ্জিনিয়ারিং ও কারচুপির পর জনগণ আমাদেরকে যে কয়টি আসন দিয়েছে, সেই আসনের ৮৯ জন এমপি সারা দেশের ১৮ কোটি মানুষের পাহারাদার হিসেবে কাজ করবে, ইনশাআল্লাহ।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা কথা দিচ্ছি—বিএনপি বদলে গেলেও আমরা আমাদের দেওয়া কথা পরিবর্তন করব না। জুলাই সনদ ও গণভোটের গণরায় ইনশাআল্লাহ আমরা আদায় করেই ছাড়ব। ইনিয়ে-বিনিয়ে আমাদের বহু প্রলোভন দেখানো হয়েছে; আমরা সেগুলোর দিকে ফিরেও তাকাইনি, ঘৃণা ভরে প্রত্যাখ্যান করেছি। কেউ তার ইচ্ছামতো জাতির সঙ্গে প্রতারণা করলেও বিরোধী দল ইনশাআল্লাহ হিমালয় পর্বতের মতো অটল থেকে নিজ লক্ষ্যে এগিয়ে যাবে।’ বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো সিন্ডিকেটের হাতে প্রিয় বাংলাদেশকে সঁপে দেব না। সেই দিন শেষ! যুবসমাজ জেগে উঠেছে; পূর্ণ মুক্তি না আসা পর্যন্ত তারা শান্ত হবে না। আর আমরা যুবকদের পাশে থেকে তাদের চেয়েও শক্তিশালী শক্তি হয়ে কাজ করে যাব, ইনশাআল্লাহ।’
আগের স্বৈরাচারের পথেই হাঁটছে বিএনপি সরকার: জামায়াত আমির
‘শেখ হাসিনার সঙ্গে প্রায়ই কথা বলা’ শহিদুল ডিবির হাতে গ্রেপ্তার
চট্টগ্রামে দেশবিরোধী চক্রান্তে জড়িত থাকার অভিযোগে শহিদুল ইসলাম ওরফে রুবেল (৩৭) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার প্রায়ই কথা হয়- প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি এমন স্বীকারোক্তি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। শনিবার (১৭ অক্টোবর) দিনগত রাত ৮টায় নগরীর হালিশহর থানাধীন আই-ব্লক এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে নগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি টিম। গ্রেপ্তার শহিদুল ফেনী সদর থানাধীন ফরহাদাবাদ ইউনিয়নের দক্ষিণ ফরহাদনগর গ্রামের কামাল পাশার ছেলে। বর্তমানে তিনি নগরীর খুলশী থানাধীন জালালাবাদ হাউজিং সোসাইটির একটি ভবনে থাকতেন। তিনি নিজেকে ‘শেখ হাসিনা ঐক্য পরিষদ’ নামের একটি টেলিগ্রাম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে দাবি করেন। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার রুবেল ‘শেখ হাসিনা ঐক্য পরিষদ’ নামের একটি টেলিগ্রাম গ্রুপ এবং ‘চট্টগ্রাম দক্ষিণ, শেখ হাসিনা ঐক্য পরিষদ’, ‘চট্টগ্রাম উত্তর, শেখ হাসিনা ঐক্য পরিষদ’, ‘ফেনী জেলা- শেখ হাসিনা ঐক্য পরিষদ’সহ আরও ১০ থেকে ১২টি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের অ্যাডমিন হিসেবে যুক্ত ছিলেন। এছাড়া তিনি নিজের ‘Mohammad Sahidul Islam’ নামের ফেসবুক আইডি থেকেও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন মন্ডল জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হালিশহর এলাকায় অভিযান চালিয়ে শহিদুল ইসলাম ওরফে রুবেলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাষ্ট্র ও সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রমূলক ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচার করে আসছিলেন। হালিশহরসহ নগরীর বিভিন্ন থানা এলাকায় সরকারবিরোধী মিছিল-মিটিং পরিচালনা করে আসছিলেন। রুবেলের বিরুদ্ধে হালিশহর থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের দুটি মামলা রয়েছে বলেও জানান ওসি জয়নাল।
‘শেখ হাসিনার সঙ্গে প্রায়ই কথা বলা’ শহিদুল ডিবির হাতে গ্রেপ্তার
আরও পড়ুন
‘আমরা ভারতবিরোধী নই, বরং ভারতের আধিপত্যবাদ বিরোধী’
নতুন যে দায়িত্বে আসিফ মাহমুদ ও সারজিস আলম 
রায়পুরে দুর্নীতিবিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ
একযোগে ৯৯ বিচারককে বদলি
X