
বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে কি না, সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব বাংলাদেশের সরকারের বলে জানিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারত পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে একটি সমাধানে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে শেখ হাসিনাকে নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হওয়া উচিত, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো কোনো নির্দিষ্ট অবস্থান জানায়নি বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
নিউইয়র্কে আয়োজিত এক ‘অন-ব্যাকগ্রাউন্ড’ ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের এই অবস্থান তুলে ধরেন মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা। গত বুধবার নিউইয়র্ক ফরেন প্রেস সেন্টারে ‘স্থিতিশীল, সমৃদ্ধ ও সার্বভৌম দক্ষিণ এশিয়ার প্রতি মার্কিন নীতি’ শীর্ষক ওই ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা অংশ নেন।
ব্রিফিংয়ে শেখ হাসিনাকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান জানতে চান সাংবাদিকরা। জবাবে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা জানান, এ বিষয়ে ওয়াশিংটন এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান নির্ধারণ করেনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় ধরনের বিরোধের কারণ হয়ে উঠেছে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আশা করে ভারত ও বাংলাদেশ নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে এ বিষয়ে একটি সমাধানে পৌঁছাবে। তবে শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো নির্দিষ্ট কোনো অবস্থান জানায়নি।
ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অথবা মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সম্ভাব্য বৈঠক নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ক নিয়েও জানতে চান সাংবাদিকরা।
আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান জানতে চাইলে মার্কিন কর্মকর্তা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য করতে চাননি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে এবং বিএনপির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক বর্তমানে ভালো অবস্থানে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ অব্যাহত রাখতে চায়।




