ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

এনসিপি থেকে কেন্দ্রীয় নেতার পদত্যাগ!

নিজস্ব প্রতিবেদক

  ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:১০ পিএম

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির কেন্দ্রীয় সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) মো. আব্দুর রহমান। রাতে দলের আহ্বায়ক বরাবর পদত্যাগপত্র পাঠান তিনি। পরে সেটি নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করেন।

বুলেটিন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

পদত্যাগপত্রে আব্দুর রহমান জানান, গণতন্ত্র, সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা নিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় তিনি এনসিপিতে যুক্ত হয়েছিলেন।

তবে দলের নির্বাচনী ও নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক অবস্থান, সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং রাজনৈতিক জোট ও আদর্শের প্রশ্নে দলটির অবস্থান নিয়ে তিনি হতাশ। দলের অভ্যন্তরে আদর্শিক ও রাজনৈতিক বিভ্রান্তি এবং সংগঠনের একাংশের কর্মকাণ্ড নিয়েও মতপার্থক্যের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

এসব কারণে এনসিপির সঙ্গে পথচলা শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে পদত্যাগপত্রে জানান আব্দুর রহমান। তবে ভবিষ্যতে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় ঐতিহাসিক ভূমিকা রাখতে এনসিপির প্রতি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরীয়তপুর-১ (পালং-জাজিরা) আসনে এনসিপির সংসদ সদস্য প্রার্থী ছিলেন আব্দুর রহমান।

আগের স্বৈরাচারের পথেই হাঁটছে বিএনপি সরকার: জামায়াত আমির
বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘এতদিন বলতাম, আমরা সরকারকে সহযোগিতা করব; আজ থেকে ঘোষণা দিচ্ছি, ১৮ কোটি মানুষকে সহযোগিতা করব। এই সরকার আমাদের সহযোগিতা নিতে ব্যর্থ; বিরোধী দলের সহযোগিতা নেওয়ার মতো যোগ্যতা তাদের নেই।’ রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির উদ্যোগে আয়োজিত ‘জুলাই সনদের ১ বছর: প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশার সালতামামি’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির। এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা বক্তব্য রাখেন। জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা বিএনপি সরকারের পতন চাইনি, চেয়েছিলাম তাদের সফলতা। কারণ তাদের সফলতা মানে দেশের সফলতা। সম্প্রতি লোডশেডিংয়ে যখন জনজীবন অতিষ্ঠ, আমরা সংসদে নোটিশ দিয়ে আলোচনা করে প্রস্তাব দিয়েছিলাম- এই সংকট নিরসনে আমরা ভূমিকা রাখতে চাই। আমাদেরকেও এ দেশের মানুষ ম্যান্ডেট দিয়ে এখানে পাঠিয়েছে। আমরা সংসদীয় কমিটি গঠনের কথা বলিনি, আমরা বলেছিলাম- আমাদের একটি টেকনিক্যাল এক্সপার্ট টিম আছে, সেই টিমকে সরকারের মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করার অনুমতি দেওয়া হোক। কিন্তু তারা সাহস করে তা কবুল করেনি। কীভাবে করবে? এর আগে যেসব দুর্নীতি করা হয়েছে, তা তো ফাঁস হয়ে যাবে! এর মধ্য দিয়ে তারা প্রমাণ করেছে—তারা ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ বললেও প্রকৃতপক্ষে তাদের কাছে সবার আগে বাংলাদেশ নয়; সবার আগে তারা নিজে, তাদের পরিবার, সন্তান, ভাগ্নে, ভাতিজা, শ্বশুর ও স্ত্রী।’ ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘৫ আগস্ট দুপুরের আগ পর্যন্ত বিএনপি আমাদের মতোই একটি মজলুম দল ছিল। কিন্তু এর পর থেকেই বিএনপি রাতারাতি তাদের অতীত ভুলে গেছে। তারা জুলাই সনদের কিছু কিছু বিষয়ে ভিন্নমত প্রকাশ করলেও গণভোটের ব্যাপারে কোনো ভিন্নমত প্রকাশ করেনি। তবে একটি জায়গায় ভিন্নতা ছিল—আমরা চেয়েছিলাম গণভোটটি আগেই হোক। তারা তা চায়নি; তারা জোর করে একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট করার দাবি জানায়। সে অনুযায়ী একই দিনে গণভোট ও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন কমিশন থেকে জানানো হয় যে, একই দিনে দুটি শপথ অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু আমরা দুটিরই শপথ নিলেও বিএনপি নিয়েছে মাত্র একটির।’ তিনি আরও বলেন, ‘অতীতে ঐতিহ্য ছিল—একই দিনে একদিকে বিরোধী দল দাঁড়াবে, অন্যদিকে সরকারি দল দাঁড়াবে এবং শপথ অনুষ্ঠান একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু তারা এবার চালাকি করে আলাদা শপথের কথা বলল। অর্থাৎ গোড়া থেকেই জাতির বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র শুরু হয়ে গেল। এরপর তারা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে আর শপথ নেননি। এভাবে তারা জাতির সঙ্গে ষড়যন্ত্র ও বিশ্বাসঘাতকতা শুরু করে, যার ধারা এখনো অব্যাহত আছে।’ তিনি বলেন, ‘এখন তারা কায়দা করে ইনিয়ে-বিনিয়ে বিভিন্ন পোষা লোকের মাধ্যমে প্রশ্ন উত্থাপন করছেন—এত আগে কেন বিরোধী দল আন্দোলনে? আমরা তো আন্দোলন চাইনি। আমরা চেয়েছিলাম, জাতি ভোট দিয়ে একটি সরকার গঠন করেছে পাঁচ বছর চালানোর জন্য এবং আরেকটি ভোট দিয়েছে রাষ্ট্র মেরামতের জন্য। এই দুটি ভোটের মূল্যায়ন যদি বিএনপি করত, তবে আমাদের এক সেকেন্ডের জন্যও সংসদের বাইরে আপাতত আন্দোলন করার প্রয়োজন হতো না। তারাই তো আমাদেরকে আন্দোলনের পথে ঠেলে দিয়েছে। তারা ইতোমধ্যে বহু জায়গায় তাদের ওয়াদা লঙ্ঘন করেছে।’ তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘প্রত্যেকটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে তারা হাত দিয়েছে। ছাত্ররা মেধার অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে রাজপথে নেমে এসেছিল। কিন্তু একটির পর একটি প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করার পর এখন পিএসসির (সরকারি কর্ম কমিশন) ওপর হাত পড়েছে। একজন মন্ত্রী পিএসসি সদস্যদের ডেকে নিয়ে চায়ের টেবিলে পদত্যাগের কথা বলে বলছেন—‘বুঝেনই তো, এখন তো রাজনৈতিক সরকার; সরকারের ইচ্ছা অনুযায়ী চলতে হবে।’ পিএসসি একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। কোনো মন্ত্রীর এটি পারিবারিক ব্যবসা নয় এবং পিএসসির কোনো মেম্বারকে এভাবে কথা বলার কোনো অধিকার মন্ত্রীর নেই। তার মানে, সরকারি চাকরির আসল জায়গাটি এখন তারা পুরোপুরি দলীয় ক্যাডারদের দিয়ে পূর্ণ করতে চায়। এজন্য মাঝেমধ্যে তারা বলেও ফেলছেন—‘এই জিনিস বা ওই জিনিস শুধুমাত্র বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের জন্য; ওই এলাকায় কোনো কাজ করা যাবে না, যে এলাকার মানুষ আমাদের ভোট দেয়নি বা দেবে না।’ এখানে চিফ হুইপের কথা বলেছেন হাসনাত আবদুল্লাহ এমপি। এর আগে তো বর্তমান প্রেসিডেন্ট রংপুরে গিয়ে একই কথা বলে এসেছেন। আবু সাঈদের এলাকায় গিয়ে বলে আসলেন—‘ভোট দেবেন জামায়াতকে, জাতীয় পার্টিকে; আর উন্নয়ন চাইবেন বিএনপির কাছে? এটা কি বিএনপির বাবার তহবিলের টাকা দিয়ে উন্নয়ন হবে?’ না, তা হবে না।’ ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "রাষ্ট্রের রাজকোষে আজ জন্ম নেওয়া শিশু থেকে শুরু করে বয়োজ্যেষ্ঠ—সব পেশা ও শ্রেণীর মানুষের অবদান আছে। কেউ সরাসরি, কেউ পরোক্ষভাবে ট্যাক্স দেয়। গরিবের টাকা আলাদা করে রাখা হয় না, সবই এক জায়গায় জমা হয়। সুতরাং এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া শুধু অশালীনতা নয়, এটি একটি রাষ্ট্রীয় অপরাধ। অথচ অনেকে অবলীলায় এই অপরাধ করে চলেছেন।" তিনি আরও বলেন, ‘সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের আসনে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, অথচ বিরোধী দলের একজন এমপিকেও তা দেওয়া হয়নি। এই বৈষম্যের জন্যই কি এতগুলো তাজা প্রাণ গেল? এটার জন্যই কি চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল? চব্বিশ ছিল আমূল পরিবর্তনের জন্য। ওই বস্তাপচা রাজনীতির কবর রচনা করে নতুন রাজনীতির সূচনা হবে—জনগণ সেটাই আশা করেছিল। কিন্তু দেশটাকে আবার সেই পুরনো জায়গায় ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, শেষ পর্যন্ত মহিষের ওপরও ট্যাক্স বসানো হচ্ছে; মহিষের ঘাস খাওয়ার জন্যও চাঁদা না দিলে তাকে মেরে ফেলা হচ্ছে। কোথায় গিয়ে নেমেছে এরা!’ জামায়াত আমির বলেন, ‘তারা বলছে—বিরোধী দল সরকারকে সহযোগিতা না করে এত আগেই আন্দোলনের ডাক দিয়েছে, নানা কথা বলছে। কিছু সুশীল ও বুদ্ধিজীবীও একই কথা বলার চেষ্টা করছেন। কিন্তু গত সাত মাসের মধ্যে রাষ্ট্রের সমস্ত প্রতিষ্ঠানকে জবাই করা হয়েছে। আগের স্বৈরাচার যে পথে হেঁটেছিল, বর্তমান সরকারও হুবহু সেই পথেই হাঁটছে। এমন পরিস্থিতিতে বিরোধী দল কি আঙুল চুষে বসে থাকবে? না! শত ইঞ্জিনিয়ারিং ও কারচুপির পর জনগণ আমাদেরকে যে কয়টি আসন দিয়েছে, সেই আসনের ৮৯ জন এমপি সারা দেশের ১৮ কোটি মানুষের পাহারাদার হিসেবে কাজ করবে, ইনশাআল্লাহ।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা কথা দিচ্ছি—বিএনপি বদলে গেলেও আমরা আমাদের দেওয়া কথা পরিবর্তন করব না। জুলাই সনদ ও গণভোটের গণরায় ইনশাআল্লাহ আমরা আদায় করেই ছাড়ব। ইনিয়ে-বিনিয়ে আমাদের বহু প্রলোভন দেখানো হয়েছে; আমরা সেগুলোর দিকে ফিরেও তাকাইনি, ঘৃণা ভরে প্রত্যাখ্যান করেছি। কেউ তার ইচ্ছামতো জাতির সঙ্গে প্রতারণা করলেও বিরোধী দল ইনশাআল্লাহ হিমালয় পর্বতের মতো অটল থেকে নিজ লক্ষ্যে এগিয়ে যাবে।’ বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো সিন্ডিকেটের হাতে প্রিয় বাংলাদেশকে সঁপে দেব না। সেই দিন শেষ! যুবসমাজ জেগে উঠেছে; পূর্ণ মুক্তি না আসা পর্যন্ত তারা শান্ত হবে না। আর আমরা যুবকদের পাশে থেকে তাদের চেয়েও শক্তিশালী শক্তি হয়ে কাজ করে যাব, ইনশাআল্লাহ।’
আগের স্বৈরাচারের পথেই হাঁটছে বিএনপি সরকার: জামায়াত আমির
‘শেখ হাসিনার সঙ্গে প্রায়ই কথা বলা’ শহিদুল ডিবির হাতে গ্রেপ্তার
চট্টগ্রামে দেশবিরোধী চক্রান্তে জড়িত থাকার অভিযোগে শহিদুল ইসলাম ওরফে রুবেল (৩৭) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার প্রায়ই কথা হয়- প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি এমন স্বীকারোক্তি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। শনিবার (১৭ অক্টোবর) দিনগত রাত ৮টায় নগরীর হালিশহর থানাধীন আই-ব্লক এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে নগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি টিম। গ্রেপ্তার শহিদুল ফেনী সদর থানাধীন ফরহাদাবাদ ইউনিয়নের দক্ষিণ ফরহাদনগর গ্রামের কামাল পাশার ছেলে। বর্তমানে তিনি নগরীর খুলশী থানাধীন জালালাবাদ হাউজিং সোসাইটির একটি ভবনে থাকতেন। তিনি নিজেকে ‘শেখ হাসিনা ঐক্য পরিষদ’ নামের একটি টেলিগ্রাম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে দাবি করেন। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার রুবেল ‘শেখ হাসিনা ঐক্য পরিষদ’ নামের একটি টেলিগ্রাম গ্রুপ এবং ‘চট্টগ্রাম দক্ষিণ, শেখ হাসিনা ঐক্য পরিষদ’, ‘চট্টগ্রাম উত্তর, শেখ হাসিনা ঐক্য পরিষদ’, ‘ফেনী জেলা- শেখ হাসিনা ঐক্য পরিষদ’সহ আরও ১০ থেকে ১২টি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের অ্যাডমিন হিসেবে যুক্ত ছিলেন। এছাড়া তিনি নিজের ‘Mohammad Sahidul Islam’ নামের ফেসবুক আইডি থেকেও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন মন্ডল জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হালিশহর এলাকায় অভিযান চালিয়ে শহিদুল ইসলাম ওরফে রুবেলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাষ্ট্র ও সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রমূলক ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচার করে আসছিলেন। হালিশহরসহ নগরীর বিভিন্ন থানা এলাকায় সরকারবিরোধী মিছিল-মিটিং পরিচালনা করে আসছিলেন। রুবেলের বিরুদ্ধে হালিশহর থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের দুটি মামলা রয়েছে বলেও জানান ওসি জয়নাল।
‘শেখ হাসিনার সঙ্গে প্রায়ই কথা বলা’ শহিদুল ডিবির হাতে গ্রেপ্তার
ধীতপুর ইউপি নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী বিএনপির ৪, জামায়াতের ১
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিভিন্ন ধাপের তারিখ ঘোষণার পর ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ধীতপুর ইউনিয়নে বইতে শুরু করেছে নির্বাচনি হাওয়া। চায়ের দোকান, হাটবাজার থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লা—সবখানেই এখন আলোচনার কেন্দ্রে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। কেউ সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়ে নিজের অবস্থান জানান দিচ্ছেন, আবার কেউ ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন। আসন্ন ধীতপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিএনপির চারজন এবং জামায়াতে ইসলামীর একজন সম্ভাব্য প্রার্থীকে ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন—ভালুকা উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক রকিবুল হাসান খান রাসেল, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য ও ধীতপুর ইউনিয়ন পরিষদের দুইবারের সাবেক সদস্য সারোয়ার আলম, ধীতপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের নির্বাচিত সাবেক সভাপতি মো. আরমান মীর এবং ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলম। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন দলটির ধীতপুর ইউনিয়ন শাখার সভাপতি খন্দকার খুররম। সম্ভাব্য প্রার্থীরা যা বলছেন রকিবুল হাসান খান রাসেল: ধীতপুর ইউনিয়নের উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়ে রকিবুল হাসান খান রাসেল বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছি। ধীতপুর ইউনিয়নের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করতে চাই। দল আমাকে মনোনয়ন দিলে এবং জনগণ ভোট দিয়ে নির্বাচিত করলে সড়ক যোগাযোগের উন্নয়ন, নাগরিক সেবার মান বৃদ্ধি, তরুণদের কর্মসংস্থান ও খেলাধুলার সুযোগ তৈরিতে গুরুত্ব দেব। আমি চাই, ইউনিয়ন পরিষদ হবে সাধারণ মানুষের আস্থার জায়গা, যেখানে সবাই সহজে তাঁদের সমস্যার কথা বলতে পারবেন।” সারোয়ার আলম: ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে সারোয়ার আলম বলেন, “জনগণের সেবা করার লক্ষ্য নিয়েই আমি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত আছি। ধীতপুর ইউনিয়নের যেসব সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে মানুষের ভোগান্তির কারণ হয়ে আছে, সেগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নিতে চাই। দলীয় মনোনয়ন পেলে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব। জনগণের সমর্থন পেলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করে ইউনিয়নের উন্নয়ন এবং অসহায় মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করব।” মো. আরমান মীর: তরুণদের অংশগ্রহণ ও কর্মসংস্থানের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মো. আরমান মীর বলেন, “ধীতপুর ইউনিয়নের তরুণদের নিয়ে আমার অনেক পরিকল্পনা রয়েছে। খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন। পাশাপাশি মাদক থেকে তরুণদের দূরে রাখতে সামাজিক উদ্যোগ জোরদার করতে হবে। দল আমাকে মনোনয়ন দিলে নির্বাচনে অংশ নিতে চাই। জনগণের সমর্থন পেলে তরুণদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে ইউনিয়নের উন্নয়নে কাজ করব।” মো. জাহাঙ্গীর আলম: সাধারণ মানুষের পাশে থাকা ও নাগরিক সেবা সহজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আমি মানুষের সঙ্গে থেকে তাঁদের সুখ-দুঃখের অংশীদার হতে চাই। ইউনিয়ন পরিষদের সেবা যেন সাধারণ মানুষ সহজে পান, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে গ্রামীণ সড়কের উন্নয়ন, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা এবং এলাকার সামাজিক সমস্যাগুলো সমাধানে কাজ করতে চাই। দলীয় মনোনয়ন ও জনগণের সমর্থন পেলে মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।” খন্দকার খুররম: জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাব্য প্রার্থী খন্দকার খুররম বলেন, “ধীতপুর ইউনিয়নকে একটি উন্নত, পরিচ্ছন্ন ও জনবান্ধব ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলা প্রয়োজন। জনগণের সেবা এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়নকে গুরুত্ব দিতে চাই। নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পেলে সবার মতামত নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করব। ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা, দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং নাগরিক সেবা সহজ করাকে অগ্রাধিকার দেব।” ভোটারদের প্রত্যাশা উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চেয়ারম্যান নির্বাচনের ক্ষেত্রে দলীয় পরিচয়ের পাশাপাশি প্রার্থীর যোগ্যতা, সততা ও মানুষের পাশে থাকার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিতে চান তাঁরা। বিশেষ করে সড়কের বেহাল দশা, বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ এবং নাগরিক সেবার মান নিয়ে তাঁদের প্রত্যাশা রয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, নির্বাচনের সময় অনেক প্রার্থী উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু নির্বাচনের পর তাঁদের অনেককে আর কাছে পাওয়া যায় না। তাঁরা এমন একজন চেয়ারম্যান চান, যিনি নিয়মিত মানুষের খোঁজখবর নেবেন এবং এলাকার সমস্যাগুলো সমাধানে আন্তরিক থাকবেন। স্থানীয় তরুণদের প্রত্যাশা, ইউনিয়নে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি তরুণদের কর্মসংস্থানের বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হবে। তাঁদের মতে, নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পাশাপাশি সারা বছর মানুষের পাশে থাকাটাই একজন জনপ্রতিনিধির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। মনোনয়ন ঘিরে রাজনৈতিক আলোচনা স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিএনপির একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী থাকায় দলীয় মনোনয়ন নিয়ে আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাব্য একজন প্রার্থীকে ঘিরেও চলছে আলোচনা। তবে শেষ পর্যন্ত কারা নির্বাচনে অংশ নেবেন, কোন দল কাকে মনোনয়ন দেবে এবং ভোটারদের সমর্থন কোন দিকে যাবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। সব মিলিয়ে ধীতপুর ইউনিয়নে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ঘিরে নির্বাচনি আলোচনা শুরু হয়েছে। আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা ও দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার পর নির্বাচনি মাঠের পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
ধীতপুর ইউপি নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী বিএনপির ৪, জামায়াতের ১
বিএনপির প্রার্থী হারলে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নে উন্নয়নকাজ করব না: চিফ হুইপ
নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জয়ী না হলে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নে কোনো উন্নয়নকাজ করবেন না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বরগুনা-২ (বামনা-পাথরঘাটা) আসনের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম মনি। তাঁর এ বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর বরগুনার বামনা উপজেলাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যেও এ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বামনা আসমাতুন্নেসা বালিকা বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা বিএনপি আয়োজিত কর্মিসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, দলীয় মনোনীত প্রার্থী জয়ী না হলে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নে কোনো উন্নয়নকাজ করবেন না। অন্য কেউ নির্বাচিত হলে তাঁর কাছে গিয়ে উন্নয়নকাজ চেয়েও লাভ হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। চিফ হুইপের এ বক্তব্যের বিষয়ে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান সবুজসহ আগামী ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নেওয়া আরও দুই সম্ভাব্য প্রার্থীর সঙ্গে কথা হয়। তবে ওই দুজন তাঁদের নাম প্রকাশ করতে চাননি। সম্ভাব্য প্রার্থীদের বক্তব্য, দলীয় মনোনয়নের বাইরে কেউ নির্বাচিত হলে উন্নয়নকাজ না করার ঘোষণা নির্বাচনের পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে। তাঁদের ভাষ্য, “আগেই বলে দিলেই হয়—আমরা কেউ নির্বাচন করব না। আমরা নিজেদের স্বার্থে নির্বাচনে আসি না; এলাকার উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে কাজ করার লক্ষ্যেই নির্বাচনে অংশ নিতে চাই।” এ বক্তব্যের পর স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, দলীয় পরিচয়ের বাইরে অন্য কেউ নির্বাচিত হলে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের উন্নয়নকাজ ও নাগরিক সেবা কতটা সমানভাবে নিশ্চিত করা হবে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মতে, নির্বাচনে যে দলের প্রার্থীই জয়ী হোন না কেন, উন্নয়নকাজের সুফল পাওয়া উচিত সংশ্লিষ্ট এলাকার সব মানুষের। এদিকে একই কর্মিসভায় আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন চিফ হুইপ। তাঁদের প্রতি কেউ বিদ্বেষমূলক আচরণ করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। বাংলাদেশে সব নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে উল্লেখ করে তিনি দুর্গাপূজায় সনাতন সম্প্রদায়ের মানুষকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
বিএনপির প্রার্থী হারলে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নে উন্নয়নকাজ করব না: চিফ হুইপ
আমির হামজার মাহফিলে ‘রাজনৈতিক বক্তব্য’ বন্ধে স্মারকলিপি
পাবনার ঈশ্বরদীতে মুফতি আমির হামজার ওয়াজ মাহফিলে রাজনৈতিক ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য এবং ব্যক্তিগত আক্রমণ বন্ধের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। আজ শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে এলাকা বাসীর পক্ষে ছাত্রদল নেতা ইসমাইল হোসেন মহন ঈশ্বরদী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জামাল উদ্দিনের কাছে এ স্মারকলিপি দেওয়া হয়। জানা গেছে, আগামী ২১ অক্টোবর উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের কদিমপাড়া দারুল কুরআন মাদ্রাসা ও এতিমখানার উদ্যোগে তাফসীরুল কুরআন মাহফিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে প্রধান বক্তা হিসেবে কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও ইসলামি বক্তা মুফতি আমির হামজার উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এ ছাড়া প্রধান অতিথি হিসেবে পাবনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডলের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। স্মারকলিপিতে বলা হয়, ধর্মীয় আলোচনা ও সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন ইতিবাচক। তবে ধর্মীয় মঞ্চে রাজনৈতিক বক্তব্য, দলীয় প্রচার ও ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হলে স্থানীয় সামাজিক পরিবেশ উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে মাহফিলে রাজনৈতিক বক্তব্য ও উসকানিমূলক মন্তব্য বন্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। ছাত্রদল নেতা ইসমাইল হোসেন মোহনের দাবি, তাঁরা ওয়াজ মাহফিল বন্ধের পক্ষে নন। বরং ধর্মীয় মঞ্চে যেন রাজনৈতিক বা কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেওয়া না হয়, সেটিই তাঁদের মূল দাবি। এর আগে বিভিন্ন স্থানে ইসলামি মঞ্চে রাজনৈতিক ও আপত্তিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঈশ্বরদীর শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে এবং ধর্মীয় মাহফিলকে রাজনৈতিক বক্তব্য ও ব্যক্তিগত আক্রমণের বাইরে রাখতে প্রশাসনকে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে।
মশিউর অর্ণব
আরও পড়ুন
রিসোর্টে তরুণীকে ধ'র্ষণের অভিযোগে এনসিপি নেতা গ্রেফতার
জামায়াতের আদর্শ বিস্তারের অভিযোগে এনসিপি ছাড়লেন কেন্দ্রীয় সংগঠক
বিদ্যুৎ বিভাগের পরিচালক পদ নিয়ে মন্তব্য, সারজিসকে রাজনীতি ছাড়তে বললেন ফারুক
রাশেদের পোস্টে সারজিস লিখলেন ‘মানুষ আপনাকে দুই টাকারও দাম দেয় না’
X