ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

“হাসিনার লাঞ্চের খরচ ছিল সাড়ে ১০ লাখ, তারেক রহমান ১৫০ টাকায় খান”

নিজস্ব প্রতিবেদক

  ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২১:৪৯ পিএম

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম মণি বলেছেন, যে অফিস থেকে হাসিনা প্রত্যেকদিন দুপুরের সময় সাড়ে ১০ লাখ টাকা, বছরে ৩৫ কোটি টাকা খরচ করেছেন। সেখানে তারেক রহমান ১৫০ টাকায় খান। তিনি কিছুদিন আগে বলেছেন, “দেশের একটা পয়সাও আমার হাত দিয়ে নষ্ট হবে না, আমি যতদিন আছি।”

বুলেটিন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

আজ বুধবার (১৪ অক্টোবর) ৮ দিনের সফরে বরগুনায় এসে বরগুনার সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি এসব কথা বলেন।

চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মণি বলেন, কেয়ামতের মাঠে আল্লাহ আপনার হৃদয় দেখে বিচার করবেন। আপনি মোটা ছিলেন না শুকনা ছিলেন, কালো ছিলেন না ফর্সা ছিলেন, লম্বা ছিলেন না খাটো ছিলেন—তা দেখবেন না। আপনার হৃদয় দেখবেন। আল্লাহর প্রতি আপনার ঈমান আছে কি-না, বিশ্বাস নিয়ে আপনি মারা গেছেন কি-না, তা দেখেই হাশরের ময়দানে বিচার করবেন। আপনারাও তারেক রহমানের হৃদয় দেখবেন। মোটা কাপড়, সিম্পল জীবনযাপন করেন। গত পরশুদিন দুপুরে ডেরস ভাজি, কুমড়া ভর্তা ও ডাল দিয়ে তার (তারেক রহমান) সঙ্গে খেয়ে এসেছি।

তিনি আরও বলেন, ভাগ্য বাংলাদেশের যে তারেক রহমানের মতো একজন মানুষ দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। কাজেই এইরকম ভাগ্য যদি আমরা নষ্ট করি, ধরুন তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী থাকলেন না অন্য কেউ একজন প্রধানমন্ত্রী হলেন। তাইলে তার থেকে কি সে ভালো চালাবে?

চিফ হুইপ বলেন, তারেক রহমান পার্লামেন্টের স্পেশাল একটি সভায় খুব কঠোর ও কঠিনভাবে কিছু কথা বলেছেন। তারেক রহমান ওই সভায় বলেছেন বলে উল্লেখ করেন, “আপনারা এমপি হয়েছেন, সম্মানিত হয়েছেন। কিন্তু আপনারা যদি কর্মীবান্ধব না হন, কর্মীদের নিয়ে যদি না চলেন, তাহলে আমি কারে নিয়ে চলব? আমার কর্মীরাই সব, ১৭ বছর যুদ্ধ করে আমাকে এখানে বসিয়েছে। আপনাদের বাসাইছে, আপনারা এমপি হয়েছেন। এখন কর্মীদের দেখবে কে?”

তিনি (তারেক রহমান) শক্তভাবে বলেছেন, “কোনো চাঁদাবাজির জায়গা নেই। নো চাঁদাবাজি, নো দখল এবং নো সন্ত্রাসী। এগুলো যদি হয় তাহলে কঠোর ব্যবস্থা হবে।”

কুমিল্লায় যুবদল নেতাকে প্রকাশ্যে কু'পিয়ে হ'ত্যা
কুমিল্লায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মো. কাউছার আলম নামে এক যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।  আজ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে জেলার আদর্শ সদর উপজেলার পাঁচথুবী ইউনিয়নের ছত্রখিল এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত কাউছার (৩৮) নগরীর ৪নং ওয়ার্ড যুবদল নেতা এবং তার বড় ভাই কবির হোসেনও বিএনপি নেতা।  পুলিশ এবং স্থানীয়রা জানায়, বৃহস্পতিবার ছত্রখিল এলাকায় বিরোধপূর্ণ একটি জমি নিয়ে সালিশ হয়। ওই জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুপক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। কোনো পক্ষের নাম জানা যায়নি। কাউছার তাদের একটি পক্ষের লোক। আজ শুক্রবার সকালে কাউছার বিরোধপূর্ণ জমির কাছে গেলে দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ সময় প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে মাথায় এবং ঘাড়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা ট্রমা হাসপাতালে নেয়। সেখানে দুপুরে চিকিৎসাধীন তার মৃত্যু হয়।  হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ এবং ডিবি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।  কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান চলছে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।
মশিউর অর্ণব
‘আমি যতদিন বেঁচে আছি, আমার হিন্দু ভাই-বোনেরা বুক উঁচু করে চলবেন’
হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও নাটোর-২ (সদর-নলডাঙ্গা) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নাটোর সদর ও নলডাঙ্গা উপজেলার মন্দিরগুলোতে সরকারি অনুদানের চাল বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান। দুলু বলেন, ‘আমি যত দিন বেঁচে আছি, আমার হিন্দু ভাই-বোনেরা বুক উঁচু করে চলবেন। কেউ বাঁকা চোখে তাকালে কিংবা হুমকি-ধমকি দিলে আমাকে টেলিফোন করবেন। আমি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেব।’ তিনি বলেন, হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে অতীতে কোনো বিভেদ বা বৈষম্য ছিল না। ঈদ ও পূজা ছিল সবার সম্মিলিত উৎসব। একে অপরের বাড়িতে যাওয়া-আসা এবং আনন্দ ভাগাভাগি করার মধ্য দিয়ে সামাজিক সম্প্রীতি বজায় থাকত। সেই ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। হুইপ বলেন, নাটোর ও নলডাঙ্গা তাঁর নির্বাচনী এলাকা। এ এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ যেন নিরাপদে ও সম্মানের সঙ্গে বসবাস করতে পারেন, সে বিষয়ে তিনি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন। অনুষ্ঠানে নাটোর সদর উপজেলার ৮২টি এবং নলডাঙ্গা উপজেলার ৫৯টি মন্দিরে সরকারি অনুদানের চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রতিটি মন্দিরের জন্য ৬০০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহিম নেওয়াজ, নাটোর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজাহার আলী, বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শাহীন ও সাইফুল ইসলাম আফতাবসহ দলীয় নেতাকর্মীরা।
মশিউর অর্ণব
শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে তরুণ প্রজন্মকে শক্তিশালী করতে চায় সরকার: এ্যানি
পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে তরুণ প্রজন্মকে শক্তিশালী করা এবং তাদের লক্ষ্য অর্জনে সহযোগিতা বাড়ানোর দিকে বর্তমান সরকার নজর দিচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারীকরণের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সে সময় লক্ষ্মীপুরের বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও সরকারীকরণের আওতায় আসে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও শিক্ষার প্রসারে আন্দোলন, অবৈতনিক শিক্ষাব্যবস্থা চালু এবং শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি প্রদানের বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, তাঁরা দুজন আজ বেঁচে না থাকলেও তাঁদের সন্তান তারেক রহমান শিক্ষার উন্নয়ন ও নতুন প্রজন্মকে শক্তিশালী করার বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। জুলাই আন্দোলনে আত্মত্যাগের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারের আন্দোলনে অনেকে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, শহীদ হয়েছেন এবং অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়েছে। এসব পরিবারের প্রতি শুধু সমবেদনা জানানোই নয়, কীভাবে তাঁদের পাশে দাঁড়ানো যায়, সে বিষয়েও বিশেষ নজর রয়েছে। লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. ইউসুফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসান ও পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. হাছিবুর রহমান, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের কুমিল্লা অঞ্চলের পরিচালক অধ্যাপক মো. শহিদ উল্লা মজুমদার এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সহসভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী।
শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে তরুণ প্রজন্মকে শক্তিশালী করতে চায় সরকার: এ্যানি
পায়ের নিচে রবীন্দ্রনাথের ছবি, পদ হারালেন ছাত্রদল নেতা
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি পায়ের নিচে রেখে নিজের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করার পর পদ হারিয়েছেন হাসিবুল ইসলাম মারুফ নামে এক ছাত্রদল নেতা। সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে সংগঠনের সব পদ থেকে বহিষ্কার করেছে নোয়াখালী জেলা ছাত্রদল। বহিষ্কৃত হাসিবুল নোয়াখালীর বাঁধেরহাট আবদুল মালেক উকিল ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি । মঙ্গলবার জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এনবিএস রাসেল ও সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান রাহান এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন। একই দিন জেলা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. মহসিন রিয়াজ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বহিষ্কারের বিষয়টি জানানো হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে হাসিবুল ইসলাম মারুফকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সংগঠন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার (১১ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি পায়ের নিচে রেখে নিজের একটি ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেন মারুফ। বিষয়টি জানাজানি হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়। পরে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেয় জেলা ছাত্রদল। বহিষ্কারের পর জেলা ছাত্রদলকে ‘ভারতীয় দালাল দল’ আখ্যা দিয়ে ফেসবুক পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ করেন হাসিবুল ইসলাম মারুফ। তিনি বলেন, চাঁদাবাজি করলে বহিষ্কার হতাম না, অনৈতিক কাজ করলে বহিষ্কার হতাম না, নেশাগ্রস্ত হলে বহিষ্কার হতাম না। ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরোধিতা করায়, রবীন্দ্রনাথের বিরোধিতা করে পোস্ট করায় আমাকে বহিষ্কার করেছে নোয়াখালী জেলা ছাত্রদল। এ বিষয়ে নোয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এনবিএস রাসেল গণমাধ্যমকে বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নিয়ে অবমাননাকর পোস্ট দেওয়ায় মারুফকে প্রথমে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। নোটিশ দেওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যে ফেসবুকে ছাত্রদলকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করায় তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মশিউর অর্ণব
মিষ্টির আসনে কে পাচ্ছে বিএনপির মনোনয়ন, আলোচনায় এগিয়ে যারা
মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে ভাঙচুরের ঘটনার জেরে সাবেক সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগে শূন্য হওয়া জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে কে পাচ্ছেন বিএনপির মনোনয়ন-এ নিয়ে দলটির ভেতরে-বাইরে চলছে নানা আলোচনা। একটি আসনের বিপরীতে অভিজ্ঞ নেত্রী, রাজপথের লড়াকু কর্মী, রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরসূরি থেকে শুরু করে সংস্কৃতি অঙ্গনের পরিচিত মুখ-সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় রয়েছে এক ডজনেরও বেশি নাম। আগামী ১২ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় উপনির্বাচন সামনে রেখে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তৎপরতা যেমন বাড়ছে, তেমনি যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ে অভিজ্ঞতা, ত্যাগ ও গ্রহণযোগ্যতার হিসাব-নিকাশও কষছে দলটির নীতিনির্ধারক মহল। তবে শেষ পর্যন্ত কাকে বেছে নেবে দল, তা নিয়ে এখনো কাটেনি অনিশ্চয়তা। দলীয় সূত্র বলছে, সরকার গঠনের এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই বিতর্কের মুখে এক সংসদ সদস্যের পদত্যাগের ঘটনায় সতর্ক বিএনপি। নতুন প্রার্থী বাছাইয়ে তাই গ্রহণযোগ্যতা, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও দলের প্রতি ত্যাগকে গুরুত্ব দিতে চায় দলটি। পাশাপাশি বিএনপি ও সাবেক ছাত্রদল নেত্রীদের বাইরেও সমমনা জোটের শরিক দলগুলোর যেসব নারী নেত্রী দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন, তাদের কারও কপাল খুলতে পারে এমন আলোচনাও আছে। আলোচনায় এগিয়ে যারা এই আসনের উপনির্বাচনে কাকে বেছে নেবে বিএনপি তা এখনো চূড়ান্ত না হলেও নানা মাধ্যমে বিএনপির জ্যেষ্ঠ ও পরিচিত একাধিক মুখ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। পাশাপাশি বিগত ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় একাধিক নারী নেত্রীর নামও এখন আলোচনায় রয়েছে।  বিএনপির সহ-মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংরক্ষিত সংসদ সদস্য সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়ার নাম শোনা যাচ্ছে বেশি। নিজ জেলা রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান থাকলেও গত নির্বাচনে তার স্বামী হারুনুর রশিদ পরাজিত হওয়ায় বর্তমানে এই দম্পতির কেউ সংসদে নেই। জানা গেছে, রাজনীতির পাশাপাশি আইন পেশায় নিয়োজিত পাপিয়াকে নিয়ে বেশি আলোচনা আছে। কারণ তার জানাশোনা, সংসদ সদস্য হিসেবে অভিজ্ঞতা অন্যদের তুলনায় অনেকটা এগিয়ে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে টকশো, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একাধিক ‘বিতর্কিত বক্তব্য’ পাপিয়াকে সমালোচনার মুখে ফেলেছে। দলের হাইকমান্ডের এই বিষয়গুলোও নজরে আছে বলে জানা গেছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের স্ত্রী ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাসের নামও শোনা যাচ্ছে। বর্তমানে মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আফরোজা আব্বাসের গ্রহণযোগ্যতাও আছে দলের মধ্যে। তবে তিনি এরআগেই স্পষ্ট করেছেন, সংসদের সংরক্ষিত সদস্য হতে আগ্রহী নন। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সাবেক ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেত্রী অ্যাডভোকেট শাহিনুর বেগম সাগরের নামও শোনা যাচ্ছে। তিনি মিরপুর এলাকার ভোটারও। ২০১৮ সালে নোয়াখালী-৪ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া শাহিনুর বেগম আওয়ামী লীগ আমলে একাধিকবার গ্রেফতার হয়েছেন। তার পরিবারের একাধিক সদস্য হত্যা মামলার আসামিও হয়েছেন। তিনি স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। শাহিনুর বেগম সাগর বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ছাত্রদলের রাজনীতি শুরু করেছি। কেন্দ্রীয় কমিটিতেও দায়িত্ব পালন করেছি। আন্দোলন, সংগ্রামে কখনো রাজপথ থেকে সরে যাইনি। একাধিকবার গ্রেফতার হয়েছি। পরিবারের সদস্যরা আওয়ামী লীগ আমলে মিথ্যা হত্যা মামলার আসামি হয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্য সব দিক দিয়ে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। ২০১৮ সালে বিএনপি আমাকে মনোনয়নও দিয়েছিল। আশা করি দল রাজপথের মতো সংসদেও ভূমিকা রাখার সুযোগ দেবে। মহিলা দলের কেন্দ্রীয় স্বনির্ভরবিষয়ক সহ-সম্পাদক ও সাবেক ছাত্রদল নেত্রী অ্যাডভোকেট আসমা আজিজ গত নির্বাচনে নিজ এলাকা বরগুনা থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী থাকলেও মনোনয়ন পাননি। আওয়ামী লীগের আমলে রাজপথের আন্দোলনে দমনপীড়ন ও একাধিক মামলার আসামি হওয়া আসমা আজিজ দলে পরিচিত মুখ। ফলে উপনির্বাচনে সংরক্ষিত আসন থেকে দল তাকে বেছে নেবে বলে প্রত্যাশা করছেন। আসমা আজিজ বলেন, সংরক্ষিত মহিলা আসনের শূন্য পদ পূরণের জন্য দলের পক্ষ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের আবেদন আহ্বান করা হলে আমি অবশ্যই সেখানে আবেদন করব। দলের মনোনয়ন চাইব। আমার নির্বাচনী এলাকায় বিএনপি প্রার্থী জয়লাভ করতে পারে নাই। আমাকে মনোনয়ন দিলে আমি এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারব। তবে দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। এছাড়াও মহিলা দলের কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হল ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শাহিনুর নার্গিস, বরিশাল মহানগর বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক ছাত্রদল নেত্রী আফরোজা খানম নাসরিন, দিনাজপুর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হাসনাহেনা হীরার নামও শোনা যাচ্ছে। যিনি কাউন্সিলে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হয়ে নেতৃত্বে এসেছেন। এর বাইরেও জাতীয়তাবাদী মহিলা দল ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সভাপতি রুনা লায়লাও আগ্রহী বলে জানা গেছে। বিএনপির বাইরেও আলোচনায় যারা বিএনপির বাইরেও একসময়ের জোটসঙ্গী সাবেক প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফরের মেয়ে জয়া কাজীর নামও রয়েছে আলোচনায়। এর আগে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন চেয়ে আবেদন করে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন তিনি।  এছাড়াও জোটসঙ্গীদের মধ্যেও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল— জেএসডির সহ-সভাপতি ও আ স ম আবদুর রবের স্ত্রী তানিয়া রবের নামও আলোচনায় এসেছে। অন্যদিকে ত্রয়োদশ সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পেতে বেবী নাজনীন, কনকচাঁপা, দিলরুবা খান, রিজিয়া পারভীন, দিঠি আনোয়ার ও রিনা খানসহ সংস্কৃতি অঙ্গনের কয়েকজন তারকা সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন। ওই নির্বাচনে কেউ মনোনয়ন না পেলেও সংরক্ষিত আসনের উপনির্বাচনে দল এদের বেছে নিতে পারে এমন প্রত্যাশাও করছেন কেউ কেউ।
মশিউর অর্ণব
আরও পড়ুন
হয় আপনি থাকবেন, নয়তো চাঁদাবাজেরা থাকবে: পাথরঘাটার ওসিকে চিফ হুইপ
‘আ. লীগের সন্ত্রাসীরা এখন রিকশাচালক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে’
তিন মাসের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে কিশোর গ্যাং উচ্ছেদ হবে: চিফ হুইপ
দেশকে অস্থিতিশীল করার সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না: চিফ হুইপ
X