
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও বিএনপির ক্ষুদ্র ঋণ বিষয়ক সম্পাদক ড. এম এ কাইয়ুম বলেছেন, শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষকদেরও তাদের প্রতি আরও যত্নশীল হতে হবে। শিক্ষার মানোন্নয়নে যারা উদাসীন থাকবেন, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাড্ডা আলাতুন্নেসা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. এম এ কাইয়ুম কৃতি শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, আগামী দিনে তারা আরও ভালো ফলাফল করবে—এটাই প্রত্যাশা। একই সঙ্গে অর্থের অভাবে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর পড়াশোনা যেন বন্ধ না হয়, সেদিকে সবাইকে নজর দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তায় আব্দুল হাই-রাবেয়া ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে মাসিক এক লাখ টাকা অনুদানের ঘোষণা দেন ড. এম এ কাইয়ুম। এর আগে বাড্ডা হাই স্কুলের দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্যও একই ধরনের সহায়তার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।
বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি এম এ মতিনের স্ভাবাড্পডাতিত্বে অনুষ্ঠানে ড. এম এ কাইয়ুম বলেন, দল-মত নির্বিশেষে শিক্ষার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। একটি শিক্ষিত ও দক্ষ প্রজন্মই দেশের ভবিষ্যৎকে সমৃদ্ধ করতে পারে। তাই শিক্ষার্থীদের জন্য সুন্দর শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে শিক্ষক, অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
বিদ্যালয়ের বাউন্ডারি ও মাঠ সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। এ বিষয়ে প্রধান অতিথির সহযোগিতা কামনা করে বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য শাম্মী আক্তার বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়নে দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য মাসিক এক লাখ টাকা অনুদানের ঘোষণা একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। শিক্ষা প্রসারে এ ধরনের সহযোগিতা শিক্ষার্থীদের এগিয়ে যেতে সহায়তা করবে।
নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণ করে শাম্মী আক্তার বলেন, এ ধরনের আয়োজন ছোটবেলার কথা মনে করিয়ে দেয়। ছোটবেলায় কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা আবৃত্তি করতাম। শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে শিশুদের মেধা ও মনন বিকশিত হয়।
তিনি বলেন, আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাদের মধ্য থেকেই কেউ ডাক্তার, শিক্ষক, রাজনীতিবিদ কিংবা আমলা হয়ে দেশ পরিচালনায় ভূমিকা রাখবে। তাই শিশুদের সঠিক শিক্ষা ও সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব।
বিদ্যালয়ের বাউন্ডারি ও মাঠ সংস্কারের বিষয়ে শাম্মী আক্তার বলেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করবেন। একই সঙ্গে শিক্ষকদের শিক্ষার্থীদের প্রতি আরও যত্নশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
নারী শিক্ষার অগ্রগতির প্রসঙ্গে শাম্মী আক্তার বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শিক্ষানীতির কারণে নারীরা শিক্ষা ব্যবস্থায় এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে। বর্তমানে শিক্ষা ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ভবিষ্যতে নারীরা দেশের নেতৃত্বে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য, অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা শেষে প্রধান অতিথি শাম্মী আক্তার ও প্রধান বক্তা ড. এম এ কাইয়ুম কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার ও সম্মাননা তুলে দেন।




