ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

মাশরুম চাষে বাজিমাত পুষ্টি ও অর্থনীতিতে রাখছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

মন্তোষ চক্রবর্তী

  ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬:২৩ পিএম
মাশরুম চাষে বাজিমাত পুষ্টি ও অর্থনীতিতে রাখছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

বাংলাদেশে বর্তমানে মাশরুম চাষ একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় ও লাভজনক কৃষি খাত হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। স্থানীয় বাজারের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও এর রপ্তানি সম্ভাবনা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বুলেটিন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

অল্প পুঁজি, কম জমি ও স্বল্প সময়ে উৎপাদন করা সম্ভব হওয়ায় তরুণ ও শিক্ষিত নতুন উদ্যোক্তারা মাশরুম চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

​বৈদেশিক বাজারে মাশরুমের আন্তর্জাতিক চাহিদা রয়েছে। ফলে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে এখন বিদেশেও মাশরুম রপ্তানির সুযোগ তৈরি হচ্ছে, যা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে ভূমিকা রাখবেন।

​মাশরুম উন্নয়ন ইনস্টিটিউট এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে চাষীদের গুণগত মানের স্পন (বীজ), আধুনিক প্রযুক্তি এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

​মাশরুমে উচ্চমাত্রার প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান থাকায় এবং কোলেস্টেরল না থাকায় স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের মধ্যে এর ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থা আরও জোরদার করা গেলে মাশরুম খাত দেশের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে বলে একাধিক মাশরুম চাষিও উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন।

ঢাকার কেরানিগজ্ঞের কদমতলী খোলামোড়ার লাবনী আক্তার নামের এক নারী উদ্দোক্তার সাথে কথা হয় তিনি জানান, গত তিন বছর ধরে তিনি মাশরুম নিয়ে কাজ করছেন। এর আগে তিনি মহিলা বিষযক অধিদপ্তরের জিআই প্রকল্পে কাজ করতেন প্রকল্পটি শেষ হওয়ার কারনে তিনি অনেকটাই চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন মা আর একমাত্র ছোট্র সন্তান কে নিয়ে কি করবেন? এর থেকই মুলত তিনি মাশরুম উদ্দোক্তার হওয়ার জন্য কাজ শুরু করেন।

তিনি জানান, মাশরুম নিয়ে কাজ করার আরেকটি প্রধান কারন হলো এই খাবারটি প্রথমত নির্ভেজাল, প্রাকৃতিক ভাবে তৈরি এবং অল্প পুঁজিতে ঘরোয়া পদ্ধতিতেই সহজে চাষাবাদ করা যায়। তার বাসায় নীচতলায় তৈরি করেন মাশরুমের স্পন বা বীজ। তারপর সারাদেশে অনলাইনে এবং অফলাইনে তিনি তা বিক্রি করে সংসার সামলান।

কথা হয় সাভারের রেডিও কলোনির বাসিন্দা ও মাশরুম উদ্যোক্তা, পাপিয়া আক্তারের সঙ্গে তিনি জানান,২০১৩ সালে মাত্র ১০ হাজার টাকা নিয়ে এই ব্যবসা শুরু করেছিলেন। ২০১৪ সালে মাশরুম বানিজ্যিক ভাবে চাষাবাদ শুরু করেন। তিনি জানান মাশরুম চাষ ও বিক্রির আয়ে মেয়েকে চিকিৎসক বানিয়ে এবং ছেলে কে আইন বিষয়ে স্নাতকোত্তর করেছেন।

বর্তমানে তাঁর ‘পাপিয়া মাশরুম খামার’-এর সঙ্গে ৬-৮ জন চাষি যুক্ত। তিনি নিজেই স্পন উৎপাদন, মাশরুম চাষ এবং বাজারজাতকরণের কাজ করেন। মৌসুমভেদে প্রতি মাসে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকার মাশরুম বিক্রি করেন। পাপিয়া বলেন, ‘ঘরের ভেতর, বারান্দা কিংবা পরিত্যক্ত জায়গাতেও মাশরুম চাষ করা যায়। নারীদের জন্য এটি খুবই উপযোগী একটি উদ্যোগ। আমি চাই, আরও বেশি নারী এই খাতে এগিয়ে আসুক।

গাজীপুর জয়দেবপুরের কানাইয়া এলাকার আরেক নারীর উদ্যোক্তা সালমা আক্তার জানান, তিনি একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করতেন বছর খানিক আগে সেই কোম্পানির চাকরি ছেড়ে মাশরুমের উপর ১১ দিনের প্রশিক্ষণ নিয়ে নিয়ে কাজ করতে শুরু করেন। তিনি বলেন মাশরুম দিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির মুখরোচক খাবার তৈরি করে তা বিভিন্ন জায়গায় এবং অফলাইন অনলাইনে বিক্রি করে তার পুরো সংসার চালাচ্ছেন। এবং মাস শেষে তিনি ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার মতো আয় করছেন তিনি সবার সহযোগিতা আরো বড় উদ্যোক্তা হতে চান ।

পাপিয়া আক্তার, লাবন্য বা সালমার মতো আরও অনেকের জীবন মাশরুমে বদলে গেছে। অথচ একসময় মাশরুম ছিল শহরের কিছু রেস্তোরাঁ ও সুপারশপের পরিচিত একটি খাদ্য। এখন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এটি সম্ভাবনাময় কৃষিপণ্য হিসেবে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। মাশরুম চাষে উর্বর জমির প্রয়োজন হয় না, স্বল্প পুঁজিতে শুরু করা যায় এবং মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই উৎপাদন পাওয়া সম্ভব। ফলে নারী, তরুণ এবং শিক্ষিত বেকারদের মধ্যে মাশরুম চাষে আগ্রহ বাড়ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাশরুম চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন ও দারিদ্র্য হ্রাসকরণ প্রকল্পের পরিচালক ড. আখতার জাহান কাঁকন জানান, বর্তমানে দেশের ৩৩টি হর্টিকালচার সেন্টার, মাশরুম উন্নয়ন ইনস্টিটিউট এবং ১৬০টি উপজেলায় এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৬০০ উদ্যোক্তা এবং ১৮ হাজার দলভুক্ত চাষি তৈরি হয়েছে। নতুন ৩৫টি জার্মপ্লাজম সংগ্রহ, ১৮টি উৎপাদন প্রযুক্তি এবং ২৫টির বেশি প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি উদ্ভাবন করা হয়েছে। রয়েছে মান নিয়ন্ত্রণে নিজস্ব ল্যাবও।

আখতার জাহান কাঁকন বলেন, এটি পুষ্টির চাহিদা পূরণ এবং কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরির পথ দেখাচ্ছে। ওয়েস্টার, মিল্কি, কান ও ঋষি (রেইশি) মাশরুমের বাণিজ্যিক উৎপাদন বাড়ছে। অনেক উদ্যোক্তা এখন কৃষি পর্যটন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, টিস্যু কালচার ও রেস্তোরাঁভিত্তিক ব্যবসাও শুরু করেছেন।

আখতার জাহান জানান, প্রকল্প শেষ হলেও বীজ উৎপাদন ও গবেষণা যেন বন্ধ না হয়, সে জন্য ৩৩টি হর্টিকালচার সেন্টারকে মাতৃবীজ উৎপাদনের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। এতে উদ্যোক্তারা ভবিষ্যতেও সহজে মানসম্মত স্পন পাবেন।

এদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুর রহিম বাংলাদেশ বুলেটিন কে বলেন, মাশরুম একটি নিরাপদ খাদ্যে। পাশাপাশি মাশরুম চাষ করতে খুব জায়গা লাগেনা আধো আলো আধো ছায়াতেও চাষ করা যায়। পুষ্টি জোগান বাড়ানো এবং নারী ও তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।

জলবায়ু পরিবর্তনের বর্তমান প্রেক্ষাপটে মাশরুম একটি পরিবেশবান্ধব কৃষি উদ্যোগ। এতে উর্বর জমির প্রয়োজন হয় না, কৃষিজ ও বনজ বর্জ্য ব্যবহার করে উৎপাদন সম্ভব এবং তুলনামূলক কম পানি লাগে। মাশরুমে ঔষধি গুণ রয়েছে পাশাপাশি বর্তমানে বিদেশে রপ্তানি করার সুযোগ রয়েছে আর মাশরুমের অনেক উদ্যোক্তা রয়েছে এইজন্য এই বিষয়টাকে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি।

অভিবাসনবিষয়ক মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড পেলেন ৪ সাংবাদিক
বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি (বিএনডব্লিউএলএ) কর্তৃক আয়োজিত অভিবাসন বিষয়ক "মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড- ২০২৬" প্রদান করা হয়েছে। সিমস-২ (SIMS-II) প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন গণমাধ্যমের ২৫ জন সাংবাদিকের প্রতিবেদন বিবেচনায় নিয়ে ৩ সদস্যের একটি জুরিবোর্ডের মূল্যায়নের ভিত্তিতে এ পুরস্কার দেওয়া হয়। রোববার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেল  আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে এ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। বিএনডব্লিউএলএর সভাপতি সিমা জাহুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংগঠনের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর আশরাফুল হক, প্রতিবেদন বাছাই করা জুরি বোর্ডের সদস্য ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব কাজী আবুল কালাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাইফুল আলম চৌধুরী, বিএমইটি'র পরিচালক মোঃ নাজমুল ইসলাম সরকার, সিমস (SIMS) এর প্রকল্প ব্যবস্থাপক রাফাতুর রহমান রুবা, প্রকল্প সমন্বয়ক সাজ্জিদ আহমেদ, বিএনডব্লিউএল'র সদস্য অ্যাডভোকেট ফেরদৌস নিগার, ডিবিএলএ প্রতিনিধি রিফাত আরা সুলতানা (সিনিয়র সিভিল জজ), চ্যানেল আইয়ের প্রধান বার্তা সম্পাদক মাসরুজ্জামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এবারে এডওয়ার্ড পেলেন চ্যানেল আইয়ের নিজস্ব প্রতিবেদক রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ, সমকালের জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক মো. শাহেরীন আরাফাত, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের মাছুম কামাল, ঢাকা স্ট্রিমের নিজস্ব প্রতিবেদক তৌফিক হাসান। অভিবাসী কর্মীদের অধিকার সুরক্ষা, প্রতারণা প্রতিরোধ এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার পথে বাধাগুলো তুলে ধরতে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার গুরুত্ব বিবেচনায় সিমস-২ (SIMS-II) প্রকল্পের আওতায় বিএনডব্লিউএলএ- এ পুরস্কারের আয়োজন করে ।
অভিবাসনবিষয়ক মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড পেলেন ৪ সাংবাদিক
গাড়ি, কৃষি প্রযুক্তি ও মেরিটাইম প্রদর্শনীতে মুখর আইসিসিবি
রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) একই সময়ে চলছে তিনটি ভিন্ন খাতের প্রদর্শনী। নতুন ও ব্যবহৃত গাড়ি কেনাবেচা থেকে শুরু করে কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং জাহাজ নির্মাণ ও সামুদ্রিক শিল্পের আধুনিক প্রযুক্তি সব মিলিয়ে প্রদর্শনীগুলো ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যস্ত পরিবেশ। ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, ক্রেতা ও শিক্ষার্থীদের পদচারণে মুখর হয়ে উঠেছে প্রদর্শনীস্থল। এসব আয়োজনের মাধ্যমে পণ্য ও প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার পাশাপাশি ব্যবসায়িক যোগাযোগ, নতুন অংশীদারত্ব এবং বিনিয়োগের সম্ভাবনা খুঁজছেন সংশ্লিষ্টরা। আইসিসিবিতে প্রতি শুক্রবার আয়োজিত ‘সুপার সেল কার বাজার’ গতকাল ষষ্ঠ সপ্তাহে পা রেখেছে। নতুন গাড়ির পাশাপাশি রিকন্ডিশন্ড ও ব্যবহৃত গাড়ির সম্ভার দেখতে এবং পছন্দের গাড়ির দাম ও সুযোগ-সুবিধা যাচাই করতে ক্রেতাদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। উইজার্ড শোবিজ ও আইসিসিবির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই বাজার প্রতিদিন নয়, প্রতি শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলে। প্রবেশপথ পেরোতেই চোখে পড়ে সারিবদ্ধ নানা মডেলের গাড়ি। একদিকে নতুন গাড়ি, অন্যদিকে রিকন্ডিশন্ড গাড়ি; পাশাপাশি রয়েছে ব্যক্তিগত ব্যবহারের পুরোনো গাড়ি। বাজারে আসা ক্রেতাদের কেউ গাড়ির মডেল, দাম ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বিক্রেতাদের কাছ থেকে তথ্য নিচ্ছেন, আবার কেউ একাধিক গাড়ির সুযোগ-সুবিধা মিলিয়ে দেখছেন। ক্রেতা টানতে বিভিন্ন অফারও দিচ্ছেন বিক্রেতারা। প্রদর্শিত গাড়ির মধ্যে জাপানি ও চীনা ব্র্যান্ডের বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি) ছিল উল্লেখযোগ্য। আইসিসিবির ব্র্যান্ড অ্যান্ড মার্কেটিং ম্যানেজার মেহেদী হাসান মোল্লা জানান, গত কয়েক সপ্তাহের আয়োজন থেকে তাঁরা ভালো সাড়া পেয়েছেন। গতকাল বাজারে প্রায় ৩৫০টি গাড়ি এসেছে। আগের সপ্তাহগুলোর তুলনায় এবার ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপস্থিতি ও আগ্রহ বেশি ছিল বলেও জানান তিনি। কৃষি উৎপাদন থেকে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও সংরক্ষণ—পুরো ব্যবস্থার আধুনিক প্রযুক্তি তুলে ধরা হচ্ছে ‘ফার্ম টু ফুড বাংলাদেশ ২০২৬’ প্রদর্শনীতে। আইসিসিবির গুলনকশা ও নবরাত্রি হলে তিন দিনব্যাপী এ আয়োজনের গতকাল ছিল দ্বিতীয় দিন। দিনজুড়ে বিভিন্ন স্টলে দর্শনার্থীদের আনাগোনা দেখা গেছে। প্রদর্শনীতে কৃষি ও খাদ্যশিল্পের যন্ত্রপাতি, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ প্রযুক্তি, প্যাকেজিং সরঞ্জাম, মাংস ও দুগ্ধজাত পণ্য প্রক্রিয়াকরণের যন্ত্র, পশুখাদ্য, সার, কৃষি উপকরণ এবং খাদ্য সংরক্ষণের আধুনিক ব্যবস্থা স্থান পেয়েছে। বিভিন্ন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদেরও স্টল ঘুরে প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি সম্পর্কে খোঁজ নিতে দেখা যায়। আয়োজকদের মতে, কৃষি ও খাদ্যশিল্পে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করা, প্রক্রিয়াকরণ ও প্যাকেজিং খাতের উন্নয়ন এবং কোল্ড চেইন ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এই প্রদর্শনীর অন্যতম লক্ষ্য। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রযুক্তি বিনিময়, ব্যবসায়িক যোগাযোগ এবং নতুন অংশীদারত্ব গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছে আর্ন প্রিমিয়াম অ্যাডিটিভ, ট্র্যাড গ্লোবাল লিমিটেড, হুনান নগিউ মেশিনারি গ্রুপ লিমিটেড, ঝিয়াং শেংকুন কিচেনওয়্যার কোম্পানি লিমিটেড, জিয়াং জিউলিন টেকনোলজি কোম্পানি লিমিটেড, এসিআই অ্যানিমেল হেলথ, এসিআই ফার্টিলাইজার, এসিআই অ্যাগ্রো বিজনেস, মেওয়া টেক সলিউশন, ফুডটেক বাংলাদেশ, ফিশটেক বিডি লিমিটেড ও থার্মো কেয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। জাহাজ নির্মাণ, মেরামত ও সামুদ্রিক শিল্পের প্রযুক্তি দেখতে আইসিসিবিতে ভিড় করছেন সংশ্লিষ্ট খাতের পেশাজীবী, ব্যবসায়ী ও দর্শনার্থীরা। পুষ্পগুচ্ছ ও নবরাত্রি হলে চলছে মেরিটাইম ও অফশোর শিল্পের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ‘৮ম বিমক্স ২০২৬’। গতকাল ছিল তিন দিনব্যাপী এ আয়োজনের দ্বিতীয় দিন। আজ শনিবার প্রদর্শনীর শেষ দিন। সেভর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড আয়োজিত এ প্রদর্শনীতে বাংলাদেশ, নেদারল্যান্ডসসহ সাতটি দেশের ২০০টির বেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। বিভিন্ন স্টলে জাহাজ নির্মাণ ও মেরামতের যন্ত্রপাতি, নেভিগেশন ও যোগাযোগব্যবস্থা, মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সরঞ্জাম এবং অফশোর শিল্পের আধুনিক প্রযুক্তি প্রদর্শন করা হচ্ছে। আয়োজকদের ভাষ্য, দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণের ফলে মেরিটাইম খাতের নতুন প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ব্যবসায়িক যোগাযোগ, প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার পথও প্রসারিত হচ্ছে। প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে ওশিয়ান ইলেকট্রনিক লিমিটেড, গোল্ডেন মেরিটাইম টেকনোলজি, টিএসআই মেরিটাইম, শ্রী বাংলা বোল্ড বিল্ডার্স, অফশোর ও মেরিন ইঞ্জিনিয়ার লিমিটেড, খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড, গ্রুপ নটিকা, এসিআই মেরিন অ্যান্ড রিভারাইন টেকনোলজি লিমিটেড, শিপডাইন লিমিটেড ও মেরিন হাউসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। তিন প্রদর্শনীর বিষয়বস্তু আলাদা হলেও ব্যবসায়িক যোগাযোগ ও আধুনিক প্রযুক্তি পরিচিতির ক্ষেত্রে একটি অভিন্ন ক্ষেত্র তৈরি করেছে আইসিসিবির এই আয়োজনগুলো। গাড়ি, কৃষি-খাদ্য এবং মেরিটাইম শিল্পের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এখানে নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী পণ্য ও প্রযুক্তি দেখার পাশাপাশি সম্ভাব্য ব্যবসায়িক সহযোগিতার সুযোগও খুঁজছেন।##
গাড়ি, কৃষি প্রযুক্তি ও মেরিটাইম প্রদর্শনীতে মুখর আইসিসিবি
চালকদের দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা ও বিনামূল্যে চশমা বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন
জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে চালকদের জন্য বিশেষ দৃষ্টি পরীক্ষা ও বিনামূল্যে চশমা বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।  আজ রোববার বাংলাদেশ সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের মিনি কনফারেন্স রুমে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এমপি।  বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এমপি এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক।  এ সময় ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিশা মাহজাবিন উপস্থিত ছিলেন।  কর্মসূচির আওতায় রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সহ ৩৯টি মন্ত্রণালয়ের প্রায় ৩০০ জন চালকের দৃষ্টি পরীক্ষা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।  জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচি মোট পাঁচ দিনব্যাপী চলবে। ১৮-১৯ অক্টোবর এবং ২৫-২৭ অক্টোবর পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ে এ কর্মসূচির আওতায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও কার্যালয়ের চালকদের দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা করা হবে এবং পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে প্রয়োজন অনুযায়ী বিনামূল্যে চশমা প্রদান করা হবে। কর্মসূচিটি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছে ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশ। সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে চালকদের সুস্পষ্ট দৃষ্টিশক্তির গুরুত্ব তুলে ধরা এবং চালক ও যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে সহায়তা করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। দৃষ্টিশক্তির সমস্যার কারণে সড়কে সম্ভাব্য ঝুঁকি কমানো এবং চালকদের স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধিতেও এ কর্মসূচি ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।  সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চালকদের শারীরিক সক্ষমতা ও সুস্থতার পাশাপাশি দৃষ্টিশক্তির প্রতি যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে চালকদের দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চশমা সরবরাহের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় সড়কে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা আরও জোরদার হবে। 
চালকদের দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা ও বিনামূল্যে চশমা বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন
ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের সঙ্গে সিঙ্গাপুর হাইকমিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সের বৈঠক
ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীর সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত সিঙ্গাপুর হাইকমিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স (ভারপ্রাপ্ত) মি. ফিলিপ অং-এর একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।  আজ রবিবার ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিবেশ, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে মি. ফিলিপ অং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব কর্তৃপক্ষকে (পিপিপি কর্তৃপক্ষ) একীভূত করে ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ গঠনের উদ্যোগের প্রশংসা করেন।  তিনি বলেন, এ ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও সমন্বিত, দ্রুত ও কার্যকর সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক একীভূতকরণ ও সমন্বয়ের এ উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারিত হতে পারে এবং পর্যায়ক্রমে আরও প্রতিষ্ঠানকে এর সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে। তিনি জানান, বিনিয়োগকারীদের জন্য কার্যকর লজিস্টিকস সহায়তা নিশ্চিত করা, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে বিনিয়োগ উৎসাহিত করা, বেসরকারিকরণ কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া, ডিজিটালাইজেশন ত্বরান্বিত করা এবং শিল্পের বিকাশে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। বৈঠকে বাংলাদেশের অবকাঠামো ও লজিস্টিকস খাতে সিঙ্গাপুরের বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। এ সময় সিঙ্গাপুরের বৈশ্বিক বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান পিএসএ ইন্টারন্যাশনালের অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতার প্রসঙ্গ তুলে ধরে বাংলাদেশের টার্মিনাল উন্নয়ন ও পরিচালনায় সম্পৃক্ত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। মি. ফিলিপ অং বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করার এবং দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার আগ্রহ ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে তিনি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধির জন্য নীতিগত ধারাবাহিকতা, স্বচ্ছতা এবং পূর্বানুমানযোগ্য ব্যবসায়িক পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বৈঠকে বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে বিনিয়োগ, অবকাঠামো, লজিস্টিকস এবং শিল্প উন্নয়ন খাতে সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টির বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের সঙ্গে সিঙ্গাপুর হাইকমিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সের বৈঠক
পাট খাতের উন্নয়নে অর্থের চেয়ে চীনের প্রযুক্তি বেশি প্রয়োজন: বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী
বাংলাদেশের পাট খাতের উন্নয়নে আর্থিক বিনিয়োগের চেয়ে উন্নত প্রযুক্তি ও গবেষণা সহযোগিতা বেশি প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের নিজস্ব বিনিয়োগ সক্ষমতা রয়েছে। তবে পাটের বীজ উৎপাদন, আঁশের ফলন বৃদ্ধি এবং উচ্চমূল্যের বহুমুখী পণ্য তৈরিতে চীনের আধুনিক প্রযুক্তি ও গবেষণা সহায়তা প্রয়োজন। রোববার (১৮ অক্টোবর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার (জেডিপিসি) ও চীনের জিয়াংনান ইউনিভার্সিটির মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।  অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মোঃ শরীফুল আলম উপস্থিত ছিলেন। কাঁচা পাট রপ্তানির পরিবর্তে উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদনে জোর, জেডিপিসি ও জিয়াংনান ইউনিভার্সিটির সমঝোতা স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়। সমঝোতা স্মারকে বাংলাদেশের পক্ষে স্বাক্ষর করেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মোঃ জাহিদ হোসেন এবং চীনের পক্ষে স্বাক্ষর করেন জিয়াংনান বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন অধ্যাপক মা পিবো। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ শুধু কাঁচা পাট কিংবা সুতা রপ্তানির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না। পাটের প্রক্রিয়াজাতকরণ ও মূল্য সংযোজনের প্রতিটি ধাপে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক উচ্চমূল্যের পণ্য রপ্তানিই সরকারের লক্ষ্য। তিনি আরও বলেন, পাটের সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে হলে বীজ উৎপাদন থেকে শুরু করে উন্নত আঁশ, আধুনিক কাপড় ও বহুমুখী পণ্য উদ্ভাবনে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এ ক্ষেত্রে চীনের গবেষণাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সমঝোতা স্মারকের আওতায় পাটের বহুমুখী ব্যবহার সম্প্রসারণ, উন্নত বীজ উৎপাদন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং বস্ত্র খাতে গবেষণালব্ধ প্রযুক্তির প্রয়োগে যৌথভাবে কাজ করবে জেডিপিসি ও জিয়াংনান ইউনিভার্সিটি। অনুষ্ঠানে জিয়াংনান ইউনিভার্সিটির টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুলের ডিন বাংলাদেশের পাট ও বস্ত্র খাতের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশ সফর করে মাঠপর্যায়ের চাহিদা ও শিল্প খাতের বাস্তব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন। গবেষণার ফল শিল্প খাতে কার্যকরভাবে প্রয়োগের লক্ষ্যে যৌথ গবেষণাগার (জয়েন্ট ল্যাব) প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়সহ (বুটেক্স) দেশের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বিত গবেষণা প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার আগ্রহ প্রকাশ করে চীনা প্রতিনিধিদল। এর মাধ্যমে পাট ও তৈরি পোশাক খাতে নতুন ধরনের পণ্য উদ্ভাবন এবং আধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তির প্রসার ঘটানো সম্ভব হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিজেআরআই) ও জেডিপিসিকে জিয়াংনান ইউনিভার্সিটির গবেষণাগারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে দুই দেশের গবেষক ও প্রযুক্তিবিদদের মধ্যে জ্ঞান ও প্রযুক্তি বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে। বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মোঃ শরীফুল আলম বলেন, পাটের বহুমুখীকরণে গবেষণালব্ধ প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া জরুরি। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের আধুনিক উৎপাদন পদ্ধতি, পণ্যের নকশা ও মান নিয়ন্ত্রণে প্রশিক্ষণ এবং কারিগরি সহায়তা দেওয়া গেলে আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য তৈরির সক্ষমতা বাড়বে। এ ক্ষেত্রে জিয়াংনান বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সহযোগিতা দেশের পাটপণ্য উৎপাদক ও কারিগরদের দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ সহযোগিতার মাধ্যমে পাটভিত্তিক বিকল্প ফাইবার, উন্নতমানের কাপড় ও বহুমুখী টেক্সটাইল পণ্য উদ্ভাবনের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে কাঁচামালনির্ভর রপ্তানি থেকে উচ্চমূল্য সংযোজিত পণ্য উৎপাদনের দিকে অগ্রসর হওয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পাট খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে।
পাট খাতের উন্নয়নে অর্থের চেয়ে চীনের প্রযুক্তি বেশি প্রয়োজন: বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী
আরও পড়ুন
অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন রবার্ট হল ও মাইকেল উডফোর্ড
পোশাক খাতের সবুজ রূপান্তরে বিশ্বব্যাংকের সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান বিজিএমইএর
তিন দফা কমার পর আবার বাড়ল স্বর্ণের দাম
অর্থনীতির পুনরুত্থানে চীনের বন্ধুত্ব বাংলাদেশের অগ্রাধিকার: জহির উদ্দিন স্বপন
X